ইদানীং আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর অনেক কিছু প্রায় মিলিয়ে দিচ্ছে। কবে বৃষ্টি হতে পারে! কতক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা! এমন অনেক কিছু সামনে নিয়ে আসছে যা পরে সঠিক হিসেবে প্রমান হচ্ছে। তাই বলে শহরে কবে বৃষ্টি হবে তা ২০ দিন আগে বলা সম্ভব নয়। একটা আভাস দেওয়া যেতে পারে। এর বেশি নয়।
অদ্ভুত ব্যাপার এটাই যে আইপিএল ফাইনাল নিয়ে কিছুদিন আগে থেকে নাটক শুরু হয়ে গিয়েছে। বোর্ডের কাছে খবর, আইপিএল ফাইনাল বৃষ্টিতে ধুয়ে যেতে পারে। কোথা থেকে এমন খবর পেলেন। হয়তো গুগল দেখে নিশ্চিত হয়েছেন। তাই বলে গুগলের কথা একশো শতাংশ নিশ্চিত করে ধরা হচ্ছে কেন! একথাও শোনা যাচ্ছে, ৩ জুন আইপিএল ফাইনালের দিন ৩৪ শতাংশ বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটা অবশ্য আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানায়নি। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বলেন, এত আগে থেকে নিশ্চিত করে কিছু বলা যায় না। পাঁচ বা সাতদিন আগে আবহাওয়া নিয়ে অনেকটাই পাকা খবর দেওয়া যেতে পারে। তার আগে নয়। কিছুটা আন্দাজ করা যেতে পারে। এর বেশি নয়।
আইপিএল ফাইনাল হাতছাড়া হচ্ছে! সঙ্গে প্লে অফের আরও একটি ম্যাচ। এমন আভাস বাংলার ক্রিকেট কর্তারা কিছুদিন আগেই পেয়ে যান। ভারত-পাকিস্তান লড়াই স্থগিত হওয়ার পর আইপিএল নতুন করে শুরু করার পরিকল্পনা করেন বোর্ড কর্তারা। টুর্নামেন্টের দিনক্ষণও জানিয়ে দেন। বলা হয়, ১৭ মে আইপিএল শুরু। কোথায় খেলা হবে! সেই সেন্টারগুলির নামও জানানো হয়। বোর্ড ৬টি সেন্টারে আইপিএলের বাকি ম্যাচ ( ১৭টি ম্যাচ) শেষ করতে চায়। সেই সেন্টারগুলির মধ্যে কলকাতার নেই। এই ১৭টি ম্যাচের মধ্যে কিন্তু ফাইনালও রয়েছে। এর অর্থ, প্লে অফের ম্যাচের সঙ্গে ফাইনালও শহর থেকে চলে যাবে। এখানে আরও একট চালাকি আছে। বলা হয়, বোর্ডের তরফ থেকে বলা হয়, প্লে অফ কোথায় হবে তা পরে জানানো হবে। কিন্তু সেন্টার বাছাইয়ের সময় কলকাতার নাম এল না কেন! কেকেআর প্লে অফ খেলার যোগ্যতা পাবে কিনা তা নিয়ে সবাই সংশয়ে। লিগের বাকি দুটি ম্যাচ জিতলেও প্লে অফ নিশ্চিত নয়। এটা সকলে ধরেই নিয়েছেন। হয়তো বোর্ডও তাই ভেবেছে। সেই কারনেই কি লিগের বাকি ম্যাচের সঙ্গে একটি প্লে অফ ও ফাইনাল ম্যাচে কলকাতার নাম লেখা হল না! হতে পারে। বোর্ড সরকারিভাবে এখনও কিছু জানায়নি। তবে ইশারায় বুঝিয়ে দিয়েছে কলকাতাকে হিসেবের মধ্যে রাখা হচ্ছে না।
কেন! ওই যে শুরুতে বলা হয়েছে, বৃষ্টি হতে পারে। বাংলার ক্রিকেট কর্তারা একশো ভাগ নিশ্চিত হতে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইমেলে প্রশ্ন করা হয় চলতি মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শহরের আবহাওয়া কেমন থাকবে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর মেলের জবাবে জানায় এত আগে থেকে এর উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। অন্তত পাঁচদিন আগে বলা যেতে পারে। এখানেই প্রশ্ন, আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর যেখানে উত্তর দিতে পারছে না, সেখানে বোর্ড ২০ দিন আগে কী করে নিশ্চিত হয়ে গেল। তা হলে কি কলকাতাকে ম্যাচ না দেওয়ার ফন্দি। ফাইনাল সরিয়ে আমেদাবাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। তেমনই তো মনে যাচ্ছে।
কলকাতাকে আটকাতে বোর্ড আবার ব্রডকাস্টারদের সামনে নিয়ে এসেছে। বলা হচ্ছে, টুর্নামেন্ট এক সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে তাদের সমস্যা হয়েছে। এরপর বৃষ্টিতে কোনও ম্যাচ ভেসে গেলে তখন আবার নতুন করে ঝামেলা। কলকাতায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে ম্যাচ বাতিল হতে পারে। তাই এমন জায়গায় ম্যাচ করা হোক, যেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
তা হলে কি দাঁড়াল। বন্দুক ব্রডকাস্টারদের ঘাড়ে রাখা হল। নিজেদের দোষ ঢাকতে এমন চাল চালল বোর্ড। বাংলার ক্রিকেট কর্তারাওও হাত গুটিয়ে নেই। বোর্ডের পাঠনো মেলের জবাবে তাঁরা জানিয়েছেন, ৩ জুন ইডেনে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও ম্যাচ বাতিল হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হবে না। আর ইডেনে বৃষ্টি হলেও ম্যাচ করা সম্ভব। বৃষ্টি থামার ৪৫ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ শুরু করা যাবে। ইডেন ভারতের অন্যতম স্টেডিয়ামের মর্যাদা এমনি পায়নি। সব দিক থেকে ইডেন তৈরি। তা হলে হঠাৎ করে আইপিলের প্লে অফের একটি ম্যাচ ও ফাইনাল সরিয়ে নেওয়ার কথা উঠছে কেন!
বাংলার ক্রিকেট কর্তারা লড়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাঁরাও জানেন এই লড়াইয়ে জেতা কঠিন। বোর্ড যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, তখন সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াবে না। সেই সিদ্ধান্ত অন্যায় হলেও ক্ষতি নেই। আমেদাবাদে ভারতীয় ক্রিকেটের মেগা অনুষ্ঠান করার ভাবনা বোর্ড সচিব জয় শাহর আমল থেকে শুরু হয়েছে। এখন তিনি আইসিসি চেয়ারম্যান হলে কি হয়েছে। তাঁর ইচ্ছে বা ভাবনার কদর তো হারিয়ে যেতে পারে না। বাংলার ক্রিকেট কর্তারা যাই বলুন, বৃষ্টিকে সামনে এনে, ব্রডকাস্টারদের দোহাই দিয়ে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হবে। এতে কার কি করার আছে। ওই যে কথায় আছে- জোর যার, মুলুক তার…! এখানেও তাই।

সঞ্জুর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত রাহুল দ্রাবিড়
Shareসঞ্জু স্যামসন বরাবরই রাহুল দ্রাবিড়ের খুব প্রিয় ক্রিকেটার। সেই সঞ্জুরই(Sanju Samson) এমন সাফল্য দেখার পর উচ্ছ্বসিত প্রাক্তন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ






