এজবাস্টনের অন্যতম নায়ক আকাশদীপ ম্যাচ জেতালেও মানসিক দিক দিয়ে তিনি বিধ্বস্ত। ম্যাচের পরেই মিডিয়ার সামনে বিধ্বস্ত পরিস্থিতির কারণ তুলে ধরেছিলেন। বুঝিয়ে ছিলেন তঁার দিদি জ্যোতি সিং ক্যান্সারে আক্রান্ত। লখনউতে থাকেন তঁার দিদি। সুযোগ পেলেই তিনি দিদির সঙ্গে দেখা করতে ছুটে যান। দিদি জ্যোতি সিং-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভাই অন্ত প্রাণ। আকাশদীপের খেলা তিনি সচক্ষে দেখেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার দরুন দেখতে অনেকটা দুর্বল হয়ে গিয়েছেন। কিন্তু ভাইয়ের দু-ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেওয়ার খবরে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে তিনি ভেসেছেন।
“এবার লখনউ সুপার জায়ান্টের হয়ে আইএসএল খেলার সময় আমার কোলনে ক্যান্সার ধরা পড়ে। তৃতীয় স্তরে চলে গিয়েছে এই ক্যান্সার। সেই সময় অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন ছিল। লখনউতে থাকলে রোজ আসতো আমার সঙ্গে হাসপাতালে দেখা করতে। তখন দেখেছিলাম, আমাকে নিয়ে কী নিদারুন চিন্তা করত।” ৩৬ বছরের জ্যোতি সিং কথাগুলো বলছিলেন। স্বামীর সঙ্গে এখন তিনি লখনউতে থাকেন। বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি করেন তঁার স্বামী। তাই এজবাস্টনে টেস্ট জেতার পর দিদিকে তিনি তঁার ১০ উইকেট নেওয়ার মুহূর্তকে উত্্স্বর্গ করেছিলেন। সেদিন চেতেশ্বর পুজারাকে দেওয়া সাক্ষাতকারের সময় এমনও জানিয়ে ছিলেন আকাশদীপ, বোন আমরা তোর পাশেই আছি। চিন্তা করবি না। আকাশদীপের টেস্ট অভিষেক হয় ২০২৪ সালে জুলাই মাসে। তার ঠিক কয়েক মাস আগে তঁার বাবা ও বড় দাদা মারা যান। “শিক্ষক ছিলেন আমার বাবা। তাই সবসময় চাইতেন আকাশ পড়াশোনা করুক। পাশাপাশি খেলতে চাইলে খেলুক। কিন্তু আকাশদীপের লক্ষ্য ছিল একটাই, ক্রিকেট খেলা। ও ক্রিকেট ছাড়া আর কিছু বুঝতো না। ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল প্রগাঢ়।” বলছিলেন জ্যোতি। তিনি এমনও বলেন, “টুর্নামেন্ট খেলতে গেলে আমাদের জানিয়ে দিত। আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যেত ক্রিকেট খেলতে। জিতে এলে সেই টাকা ফেরতও দিয়ে দিত। আসলে সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিহারের রনজি খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তাই বাধ্য হয়ে বাংলায় চলে যায় আকাশ। যেখানে স্থানীয় ম্যাচ খেলে নিজের খরচ চালাতো।” বলছিলেন জ্যোতি।
আকাশদীপের মা লাডোমা দেবী ভুলতে পারেননা ছেলের সেই অবর্ণনীয় পরিস্থিতির কথা। নানান ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে যেখানে তঁার ছেলেকে এগোতে হয়েছে। অথচ কোনওদিন সেই দুঃখ-কষ্টকে বড় করে দেখতে চায়নি। বোঝাতে চায়নি তার সেই বেদনাদায়ক মুহূর্তগুলোর মধ্যে তার কতটা দুঃখ রয়েছে। রবিবার আকাশের পরিবার টিভির সামনে বসে খেলা দেখেছেন। সকলে সেই দিনটাকে খুব উপভোগ করেন। “রঁাচিতে তার অভিষেক ম্যাচে নিয়েছিল তিনটে উইকেট। দারুন খেলেছিল সেদিন। তার টেকনিক দেখে আমি খুব আনন্দ পেয়েছিলাম। খেলার শেষে আমাকে ফোন করে। আমি সেদিন তাকে ফোনে বলেছিলাম এইভাবে তোকে খেলতে হবে। এইভাবে খেলে দেশকে গর্বিত করার চেষ্টা কর।” উচ্ছ্বাসের স্বর যেন ধরা পড়ছিল আকাশদীপের মা লাডোমা দেবীর কন্ঠে। কোটি কোটি ভারতবাসীর মতো তিনিও যে আকাশদীপের জন্য গর্বিত।







