নাটকীয় ম্যাচে লড়াই করেও হার আফগানিস্তানের

নাটকীয় ম্যাচ। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। গুরবাজের আফশোস। শেষপর্যন্ত লড়াই করেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরেই গেল আফগানিস্তান(Afghanistan)। ম্যাচ শেষে জনাথন ট্রটের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কেন গুরবাজকে না পাঠিয়ে নবিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। গুরবাজ ছয় বল খেলার সুযোগ পেলে, আফগানিস্তান টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটন ঘটাতেই পারত। জোড়া সুপারওভার। শেষপর্যন্ত প্রোটিয়া বাহিনীর কাছে হার মেনে নিল আফগানরা(Afghanistan)। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে এমন ঘটনার নজির নেই। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র। প্রথম সুপার ওভারও ড্র। দ্বিতীয় সুপার ওভারে গিয়ে শেষপর্যন্ত ম্যাচের নিস্পত্তি। এদিন ম্যাচের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ছিল একের পর এক নাটক। প্রোটিয়া ব্যাটাররা যেমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তেমনই পাল্টা আফগান ব্যাটাররাও ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। বিশেষ করে রহমনুল্লাহ গুরবাজ। টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আফগান অধিনায়ক। মার্করাম ব্যর্থ হলেও, কুইন্টন ডিকক এবং রিকলটনের হাত ধরে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ডিকক করেন ৫৯ রান। রিকলটন ফেরেন ৬১ রানে। রিকলটন যখন ফেরেন তখনই প্রোটিয়াদের বড় রানের রাস্তাটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। শেষ মুহূর্তে মিলার এবং য়্যানসেনের ঝোরো রানে ভর করে ১৮৪ রানে পৌঁছয় দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে নেমে পাল্টা আক্রমণাত্মক ছিলেন রহমনুল্লাহ গুরবাজও। যদিও তাঁকে সেভাবে সঙ্গ দিতে পারছিলেন না কেউই। নাইব, আতাল এবং জারদানরা বড় রানের গন্ডী পর্যন্তই পৌঁছতে পারেননি। তবে রহমনুল্লাহ ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। শেষের দিকে টেল এন্ডারদের দাপটে আফগানিস্তানও ১৮৪ রানেই থামে। এরপরই সুপার ওভার। সেখানে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান করে ১৭। দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপেও ফেলে দিয়েছিল তারা। কিন্তু শেষ বলে ছয় হাঁকিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও ১৭ রানে পৌঁছে যায়। ফলে আবারও একবার সুপার ওভারে। সেখানেও গুরবাজ বিধ্বংসী ফর্মে থাকলেও শেষপর্যন্ত জিততে পারল না আফগানিস্তান।
আফ্রিদিই নাকি ৩৫০ আফগান পরিবারের দেখভাল করেন! ক্ষুব্ধ রশিদদের বয়কটে

পাকিস্তানের বোমারু বিমানের আঘাতে তিন আফগান ক্রিকেটারের মৃত্যুতে আফগানিস্তানের আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজ বয়কটের সিদ্ধান্তকে তীব্র সমালোচনা করলেন শাহিদ আফ্রিদি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আফ্রিদি জানিয়েছেন, কীভাবে বছরের পর বছর ধরে আফগানিস্তানের মানুষদের সাহায্য করছে পাকিস্তান। বলেছেন, “আমি এটা আশা করিনি। গত ৫০-৬০ বছর ধরে আমরা আফগানিস্তানের মানুষদের সাহায্য করছি। আমিই করাচিতে ৩৫০ আফগান পরিবারের দেখভাল করি!” আফ্রিদির মতে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মানুষদের একসঙ্গে থাকা উচিত। কোনও ভাবেই ব্যবধান থাকা উচিত নয়। আফ্রিদি বলেন, “আমার বিশ্বাস, দু’দেশের মানুষদের মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক থাকা উচিত। আমাদের মধ্যে বিভেদ থাকা উচিত নয়।” সেই কারণেই আফগানিস্তানের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছেন না আফ্রিদি। তাঁর মতে, আফগানিস্তানের মানুষদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আপনাদের উচিত ছিল আমাদের সঙ্গে আলোচনা করা। তা না করে আপনারা এমন লোকদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন যাঁরা পাকিস্তানে দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। আমরা বরাবর আপনাদের আশ্রয় দিয়েছি। আপনারা আমাদের দেশে ব্যবসা করেছেন। তার পর আপনাদের এ সব করা উচিত নয়।” তবে ত্রিদেশীয় সিরিজ় থেকে আফগানিস্তান নাম তুলে নিলেও সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। রশিদদের বদলে জ়িম্বাবোয়ে তৃতীয় দল হিসাবে খেলবে। বাকি দুই দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ১৭ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত হবে সেই প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর থেকে উঠে ভারতের হয়ে খেলা ক্রিকেটার পারভেজ় রসুল সোমবার অবসর নিলেন। বিজবেহেরায় জন্ম নেওয়া ৩৬ বছরের অলরাউন্ডার ১৭ বছর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলে ৫৬৪৮ রান এবং ৩৫২টি উইকেট নেওয়ার পর ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারতের হয়ে মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলেছেন রসুল। একটি এক দিনের ম্যাচ এবং একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
পাক বোমারু বিমানের গোলায় নিহত ৩ আফগান ক্রিকেটার; ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নাম প্রত্যাহার আফগানিস্তানের

বুধবার ৪৮ ঘন্টার সংঘর্ষ-বিরতি ঘোষিত হয়েছিল, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের গত কয়েক সপ্তাহের অবিরাম বোমাবর্ষণের। শুক্রবার সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই পাক বোমারু বিমানের হানায় নিহত ৮জনের মধ্যে আফগানিস্তানের তিন ক্রিকেটার! এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী নভেম্বরের ত্রিদেশীয় সিরিজ় থেকে দল তুলে নিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি)। সিরিজ়ে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাদের খেলার কথা ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তারা না-খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিন ক্রিকেটারের নাম এবং ছবি প্রকাশ করেছে বোর্ড। নিহতেরা হলেন কবীর, শিবঘাতুল্লা এবং হারুন। এসিবি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘পাকতিকা প্রদেশের উরগুন জেলার ক্রিকেটারদের উপর কাপুরুষোচিত হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তাঁরা শহিদ হয়েছেন। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত। উরগুন জেলার তিন ক্রিকেটার এবং আরও পাঁচ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। সাত জন জখম। এই ক্রিকেটারেরা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে এর আগে পাকতিকার রাজধানী শারানায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে উরগুনে ফেরার পরেই তাঁদের নিশানা করা হয়।’’ বোর্ডের তরফে বলা হয়েছে, ‘‘আফগানিস্তানের ক্রীড়াজগতে এটা অপূরণীয় ক্ষতি। ওঁদের পরিবারের প্রতি এবং পাকতিকার মানুষের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী নভেম্বরে পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজ়ে খেলার কথা ছিল আফগানিস্তানের, তাতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগান বোর্ড।’’ আফগানিস্তানের টি-২০ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক রশিদ খান সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের নাগরিকদের মৃত্যুতে আমি গভীর ভাবে শোকাহত। এই হামলায় অনেক মহিলা, শিশুর প্রাণ গিয়েছে। প্রাণ গিয়েছে তরুণ ক্রিকেটারদের, যাঁরা এক দিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এভাবে অসামরিক পরিকাঠামোয় হামলা বর্বরোচিত এবং অনৈতিক। এই হিংস্রতা মানবাধিকারকেও ধ্বংস করে। একে এড়িয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই।’’ বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এরপর রশিদ বলেন, ‘‘এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু হয়েছে। আমি আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে আমি আমাদের দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। দেশের মর্যাদা সবচেয়ে আগে।’’
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য রশিদদের, পঞ্জাবের বন্যাদুর্গতদের পাশে শুভমন

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশ। সোমবার ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৮০০-র বেশি। প্রচুর বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সে দেশের ক্রিকেটারেরা। আর্থিক সাহায্য করেছেন তাঁরা। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই কঠিন সময়ে কুনার প্রদেশের মানুষের পাশে রয়েছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটারেরা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ম্যাচের ফি তাঁরা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের দান করবেন। পাশাপাশি আরও আর্থিক সাহায্য করবেন ক্রিকেটারেরা।” বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে যে লিস্ট-এ প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানকার ক্রিকেটারেরাও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য করবেন। সোমবার খেলা শুরুর আগে আফগানিস্তান ও আমিরশাহির ক্রিকেটারেরা মাঠে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেছেন। ভূমিকম্পে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তাঁরা। ভারতের পঞ্জাবও প্রকৃতির রোষে। বন্যায় এখনও পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ বন্যার কবলে। পঞ্জাবের ২৩টি জেলার মধ্যে ১২টি জলের তলায়। গুরদাসপুর, পঠানকোট, কপূরথলা, হোশিয়ারপুর, অমৃতসরে বন্যার প্রভাব বেশি। শুধুমাত্র অগস্ট মাসে এই রাজ্যে ২৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে ৭৪ শতাংশ বেশি। গত ২৫ বছরে অগস্টে এত বৃষ্টি হয়নি পঞ্জাবে। ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক শুভমন পঞ্জাবের ছেলে। নিজের রাজ্যের মানুষের কষ্টে তাঁর মন ভেঙে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে শুভমন লেখেন, “বন্যায় পঞ্জাবের এই দুর্দশা দেখে মন ভেঙে যাচ্ছে। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের মানুষ মনের জোর ধরে রাখে। আমি জানি, এ বারও এই পরিস্থিতি সকলে কাটিয়ে উঠবে। বন্যাদুর্গতদের জন্য আমি প্রার্থনা করছি। পঞ্জাবের মানুষের পাশে আছি।”
সাউথিকে টপকে আন্তর্জাতিক টি-২০তে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এখন রশিদ খান

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বরেকর্ড আফগানিস্তানের স্পিনার রশিদ খানের। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে তিন উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-২০তে এখন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ছাপিয়ে গেলেন নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার টিম সাউথিকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান তোলে ১৮৮ রান। জবাবে আমিরশাহিকে মাত্র ১৫০ রানে থামিয়ে দেন রশিদরা। আফগান স্পিনার ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট তোলেন। ইথান যার ফলে ৯৮ ম্যাচে ১৬৫ উইকেট হয়ে গেল রশিদের। সেখানে সাউথির উইকেট সংখ্যা ১২৬ ম্যাচে ১৬৪ উইকেট। কিউয়ি পেসার ২০২৪-র শেষে অবসর নিয়েছেন। এই তালিকায় রশিদ ও সাউথির পর আছেন ঈশ সোধি, শাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমানরা। তবে এঁরা প্রত্যেকেই রশিদের থেকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন। ২৬ বছর বয়সি আফগান স্পিনারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট। এখনও পর্যন্ত ১৮টি দেশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রশিদ। যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিরুদ্ধে কোনও উইকেট পাননি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২২, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৩২ ও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৫টি উইকেট রয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকার প্রথম দশে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার নেই।