এশিয়ান যোগ্যতা নির্ণয়ের জন্য রাঁচি স্টেডিয়াম বাতিল এএফসির

এশিয়ান কাপ(Asian Cup) যোগ্যতা নির্ণয়ের ম্যাচে নামার আগে বড়সড় ধাক্কা ভারতের। রাঁচির মাঠকে বাতিল করে দিল এএফসি(AFC)। আগামী ৩১ মার্চ রাঁচি স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিরুদ্ধে নামার কথা ছিল ভারতের(India Football Team)। তারই পর্যবেক্ষণের জন্য এদিন এএফসির(AFC) পর্যবেক্ষক দল এসেছিলেন। কিন্তু রাঁচি স্টেডিয়াম তাদের নজর কাড়তে পারেনি। স্টেডিয়ামের অবস্থা খতিয়ে দেখার পরই এই ম্যাচের জন্য স্টেডিয়াম বাতিল করে দিয়েছে এএফসি। আর তাতেই কিন্তু বেশ চিন্তায় পড়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। এই ম্যাচ আয়োজনের জন্য এখন একমাত্র ভেন্যু হিসাবে কেরালা রয়েছে তাদের হাতে। সেই ভেন্যু এএফসির(AFC) পর্যবেক্ষকদের পছন্দ হয় কিনা সেটাই দেখার। এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা নির্ণয়ের আশা আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে ভারতের। হংকংয়ের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে এই ম্যাচ তাদের কাছে নেহাতই নিয়মরক্ষার। কিন্তু সেই ম্যাচ খেলার আগেও দেখা দিয়েছে জোর জল্পনা। বিশেষ করে কোথায় খেলবে ভারতীয় দল। কারণ যে মাঠে তাদের খেলার কথা ছিল তা তো দেখা মাত্রই বাতিল করে দিয়েছে এশিয়ান ফুটবল কাউন্সিল। মাঠের পরিস্থিতি থেকে পরিকাঠামো কিছুই নাকি তাদের পছন্দ হয়নি। আর তাতেই তো এখন চিন্তার পাহাড় জমেছে ফেডারেশন(AIFF) কর্তাদের মাথায়। যদিও তাদের হাতে এখনও সময় রয়েছে। আগামী ৩১ মার্চ হংকংয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার কথা ভারতীয় দলের। কিন্তু কোন মাঠে খেলবেন খালিদ জামিলের ফুটবলাররা। সেটা নিয়েই তো চলছে জোর জল্পনা।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনেই নতুন সংবিধান প্রণয়ন ফেডারেশনের

সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) নির্দেশ মেনে সোমবার বিশেষ সাধারণ সভায়(SGM) নতুন সংবিধান প্রণয়ন হয়ে গেল। অর্থাৎ এদিনই সর্ব সম্মতিক্রমে আর্টিকেল 25.3(C) এবং (D) নিজেদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্তি করল ফেডারেশন। সোমবার ভার্চুয়ালি প্রতিটি সংস্থা এবং রাজ্য সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন ফেডারেশনের(AIFF) কর্তারা। সেখানেই এই নতুন সংবিধানের প্রণয়ন হয়ে যায়। কয়েকটি সংবিধান তাদের ভোট বিপক্ষে দিলেও, বেশীরভাগে ভোট গিয়েছে ফে়ডারেশনের পক্ষেই। বিশেষ করে এদিন ফেডারেশনের(AIFF) বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল একসঙ্গে দুই সংস্থায় কেউ থাকতে পারবে কিনা। অর্থাৎ নতুন সংবিধান অনুযায়ী কেউ যদি ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটিতে থাকেন, সেই ব্যক্তি রাজ্য সংস্থায় থাকতে পারবেন না। এই নিয়েই একটা সমস্যা চলছিল। সেখানেই ৩৩টি রাজ্য সংস্থার মধ্যে ৩০টি সংস্থা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু তিনটি সংস্থা বিপক্ষে গিয়েছে। তাদের মধ্যেই রয়েছে বাংলার আইএফএ-ও(IFA)। তদের মধ্যে ওড়িশা আবার একটি সময় নিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা এবং নাগেশ্বর রাওয়ের রেকমেন্ডেশন অনুযায়ী এই সংবিধান এদিনের বৈঠকে প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকরী হবে এই নতুন সংবিধান। অন্যদিকে আইএসএল নিয়ে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় মন্ত্রনালয়ের দিকেই আবার তাকিয়ে রয়েছে ফেডারেশন(AIFF)। বিডিংয়ে ফেডারেশনের তরফ থেকে বলা হয়েছিল যে সংস্থা বিডিং করবে তাদের ৩৭.৫ কোটি টাকা দিতে হবে। তবেই ফেডারেশন আইএসএল করতে পারবে। যদিও ফেডারেশনের আইএসএলের পাশাপাশি আরও বাকি লিগ গুলো করতে বেশ কিছু বেশি অর্থেরই প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই টাকাটা পেলে, বাকিটা ফেডারেশন নিজেদের মতো করে গুছিয়ে নিতে পারবে বলেই মনে করছে।
হল না বৈঠক, ফেডারেশনের ওপর ক্রমশই বিরক্ত হয়ে পড়ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলো

ফেডারেশনের(AIFF) ওপর ক্রমশই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন ক্লাব কর্তারা। আইএসএল(ISL) কবে হবে তা এখন বিশ বাও জলে। ভারতের সেরা লিগ আদৌ ভোরের আলো দেখতে পাবে কিনা তা নিয়েই দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতেই এবার ক্লাবগুলো ক্রমশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছে ফেডারেশনের ওপর। মঙ্গলবার নাগেশ্বর রাওয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য দিল্লি গিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারা(ISL Clubs)। বৈঠক আয়োজন করা হলেও, সেই বৈঠকেই এলেন না খোদ নাগেশ্বর রাও। ফেডারেশনের(AIFF) নতুন সংবিধান হচ্ছে। আর সেখানেই দেখা দিয়েছে সমস্যা। কার্যত ফেডারেশনের সঙ্গে সমস্যা বেড়েছিল এফএসডিএলের। ফে়ারেশনের ডাকা বিডে অংশগ্রহন করেনি কেউই। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে আইএসএল হওয়া ঘিরে জট। এমন পরিস্থিতিতেই প্রতিটি ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছিল ফেডারেশন। সেখানেই মূল উপস্থিত থাকার কথা ছিল নাগেশ্বর রাওয়ের। কিন্তু সেটাই এদিন হল না। সমস্ত ক্লাব না গেলেও, বেশিরভাগ ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তারাই সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও শেষপর্যন্ত তা বাতিলই হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতিই বিরক্তি বাড়ছে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্জাইজি কর্তাদের। শোনাযাচ্ছে এফসি গোয়ার কর্তারা নাকি গোয়া ফুটব অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করেছিল। তারা যে ফেডারেশনের ওপর ক্রমশই আশা হারাচ্ছে এবং বিরক্ত হয়ে পড়ছে সেই কথাই জানিয়েছে। আইএসএল আদৌ হবে কিনা তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত অন্ধকারে তারা সকলেই। শেষপর্যন্ত কোনওরকম সমাধন সূত্র বেড়োয় কিনা সেটাই দেখার।
ইস্টবেঙ্গলের আবেদন নাকোচ ফেডারেশনের, এই সপ্তাহেও মাঠের বাইরে গিল, ক্রেসপো

ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) আবেদন নাকোচ করে দিল ফেডারেশন(AIFF)। সুপার কাপের(Super Cup) সেমিফাইনালের দিন বদলাচ্ছে না। তবে বদলাচ্ছে লাল-হলুদের(Eastbengal) সেমিফাইনালে নামার সময়। কারণ এই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে ফলাফল না হলে, খেলা গড়াতে পারে টাই ব্রেকারে। সেই কারণেই বদলে যেতে পারে ইস্টবেঙ্গল বনাম পঞ্জাব(EBvPFC) ম্যাচের সময়। ইস্টবেঙ্গল ফ্লাড লাইটে খেলতে চেয়ে ফেডারেশনের কাছে তাদের ম্যাচ একদিন আগে এগোনর আবেদন করেছিল। কিন্তু ব্রডকাস্টিং সংস্থার সমস্যার জেরেই, লাল-হলুদের সেই আবেদন নাকোচ করে দেওয়া হয়েছে। এরফলে ৪ ডিসেম্বরই সেমিফাইনালের ম্যাচে নামতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে(Eastbengal)। অন্যদিকে সেমিফাইনালের প্রস্তুতি আরও ভালোভাবে নেওয়ার জন্য আগামী সপ্তাহেই গোয়ার উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। সেখানকার পরিবেশ থেকে আবহাওয়ার সঙ্গে আরও একটু ভালো ভাবে নিজেদের মানিয়ে নিতে চায় তারা। সেই কারণে হাতে বেশ কয়েকটা দিন রেখেই গোয়ায় পৌঁছে যেতে চলেছে লাল-হলুদ টিম ম্যানেজমেন্ট। সুপার কাপের সেমিফাইনালের আগে কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ তারা। তবে ক্রেসপো(Saul Crespo) এবং গিলকে(Prabhsukhan Gill) নিয়ে কিন্তু সমস্যা কাটছে না ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) শিবিরের অন্দরে। গত সোমবার থেকে লাল-হলুদ শিবিরে তারা যোগ দিয়ে দিলেও, এখনও পর্যন্ত প্রস্তুতিতে নামতে পারননি। কারণ তারা পুরোপুরি নাকি সুস্থ নন। চলতি সপ্তাহটা তারা মাঠের বাইরে ফিজিক্যাল ট্রেনারের সঙ্গেই কাটাবেন। সবকিছু ঠাকঠাক চললে একেবারে আগামী সপ্তাহ থেকেই ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) অনুশীলনে যোগ দেবেন তারা। আর সেটা একেবারে গোয়াতেই হতে চলেছে। অন্যদিকে এদিনও ক্লোজডোর অনুশীলনই সারলেন অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। বাইরের কাউকেই এদিনও অনুশীলনের কাছেও যেতে দেওয়া হয়নি। তাঁর কৌশল থেকে পরিকল্পনা যাতে একেবারেই বাইরে না আসে সেদিকেই অত্যন্ত সতর্ক ইস্টবেঙ্গলের হেডস্যার।
ফেডারেশনকে চিঠি ২০ রাজ্য সংস্থার

সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ফেডারেশনের(AIFF)। একদিকে আইএসএল হওয়া নিয়ে যেমন দিশাহীন অবস্থা। অন্যদিকে এবার ফেডারেশনের(AIFF) প্রতিনিধিত্বের নিয়মে নতুন সংবিধান মানতে নারাজ রাজ্য ফুটবল সংস্থা গুলো। ৩৩টি রাজ্য সংস্থার মধ্যে ২০টি রাজ্য সংস্থাই ফেডারেশনের এই নতুন সংবিধানের প্রতিনিধি বিষয়ক নতুন নিয়ম না মানার কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আর তাতেই বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় ফুটবল সংস্থা। সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর থেকে তিন সপ্তাহ পেয়েছিল ফেডারেশন, নতুন সংবিধান কার্যকর করার জন্য। সেখানেই প্রতিটি রাজ্য সংস্থার তরফ থেকে সম্মতি পেলে তবেই বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন সংবিধান পাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু রাজ্য সংস্থাগুলো এবার বেঁকে বসায় বেশ বেকায়দায় ফেডারেশনের কর্তারা। এই নতুন সংবিধান অনুযায়ী স্বার্থ সংঘাত এড়াতে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। সেখানে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে একসঙ্গে দুই জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করা যাবে না। অর্থাৎ ফেডারেশনের কার্যকরি কমিটিতে কোনও ব্যক্তি থাকলে তিনি রাজ্য সংস্থার কোনওরকম দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। আর তাতেই দেখা দিয়েছে জট। ৩৩টির মধ্যে ২০টি রাজ্য সংস্থাই এই নিয়ম মানতে চাইছে না। তারা সেই কথা ইতিমধ্যে ফে়ডারেশনকে জানিয়েও দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ নভেম্বর একটি বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই নতুন সংবিধান ও তার নিয়ম কার্যকরী করার জন্য নির্বাচন করা হবে। এরপরই হয়ত হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
ভারতয়ী ফুটবলে স্পনসর বিসিসিআই!

ঘোর অন্ধকারে ভারতীয় ফুটবল(Indian Football)। দেশের এক নম্বর লিগ আইএসএল(ISL) হবে কিনা সেটা নিয়েই এখন দেখা দিয়েছে সংশয়। ফেডারেশনের(AIFF) গ্লোবাল টেন্ডারে সাড়া দেয়নি কোনও সংস্থা। এমনকি এফএসডিএলও কোনওরকম আগ্রহ দেখায়নি। আর তাতেই ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিঁদূরে মেঘ দেখতে শুরু করে দিয়েছেন অনেকে। সেই পরিস্থিতিতেই হঠাৎ করে উঠে আসছে বিসিসিআইয়ের নাম। ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচাতে বিসিসিআইকেই(BCCI) স্পনসর চাওয়া হচ্ছে! না ফেডারেশন(AIFF) এখনও পর্যন্ত এই ধরনের কোনও কথাই বলেনি। এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থায় বিসিসিআইকে(BCCI) ভারতীয় ফুটবলকে স্পনসর করার আবেদন করেছেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। অন্তত আগামী চার থেকে পাঁচ বছর ভারতীয় ফুটবলের দায়িত্ব নেওয়ারই আবেদন করছেন ইস্টবেঙ্গলের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটা তো সময়ই বলবে। সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থায় দেবব্রত সরকার জানিয়েছেন, যদি বিসিসিআই অন্তত চার থেকে বাঁচ বছর দায়িত্ব নেয় তবে ভারতীয় ফুটবলে এক বিশাল পার্থক্য লক্ষ করা যাবে। কারণ তাদের কাছে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকা সত্যিই বড় কোনও ব্যপার নয়। যদি বিসিসিআই দায়িত্ব নেয়, তবে ভারতীয় ফুটবল অনেকটাই এগিয়ে যেতে পারবে। একটিও সংস্থা বিডে আগ্রহ না দেখানোয় ভারতীয় ফুটবলের প্রধান লিগই এখন অনিশ্চয়তায়। সেইসঙ্গে ঘোর অন্ধকারে ভারতীয় ফুটবলের ক্লাব গুলোও। ইতিমধ্যেই মোহনবাগান তদের ফুটবলের যাবতীয় প্রস্তুতি শিবির বাতিল করে দিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলও সুপার কাপের পর তেমনই সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে চলেছে। ভারতীয় ফুটবল ঘিরে দেখা দিয়েছে দোলাচল। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটা তো সময়ই বলবে।
আইএসএলের বিড জমা পড়ল না, সংকটে দেশের একনম্বর লিগ!

আইএসএলের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে। এখনও পর্যন্ত কোনও বিড জমা পড়েনি। প্রাথমিকভাবে বিড করার শেষ দিন ছিল ৫নভেম্বর। কিন্তু কোনও দরপত্র জমা না পড়ায় সেটা আরও দু’দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে কোনও সংস্থা বিড করেনি। ভাবা হয়েছিল শেষপর্যন্ত এফএসডিএল বিড জমা দেবে। শুক্রবার বিড করার শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু কোনও বিডই জমা পড়েনি। বেশ কয়েকদিন ধরেই আইএসএল (ISL) নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। চলতি ডিসেম্বরেই এফএসডিএলের (FSDL) সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে ফেডারেশনের (AIFF)। আইএসএলের জন্য টেন্ডার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডারেশন। সেই মতো টেন্ডার ছাড়াও হয়। বিডে অংশ নেওয়ার আগে ফেডারেশনের কাছে ফেডারেশনের টেন্ডার কমিটির কাছে ২৩৪টি প্রশ্ন লিখিত আকারে পাঠিয়েছিল এফএসডিএল। সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে টেন্ডার কমিটি। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে টেন্ডার কমিটি। এফএসডিএলে যে প্রশ্নগুলি মূলত ছিল, সেগুলিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে আইএসএলের টেন্ডার কমিটি। যেমন বছরে ৩৭.৫ কোটি দেওয়ার প্রসঙ্গে জানিয়েছে, সেটা দিতেই হবে। অবনমন নিয়ে এফএসডিএল প্রশ্ন তুললে সেই প্রসঙ্গেও টেন্ডার কমিটি তাদের উত্তরে জানিয়ে দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত নির্দেশে দেয়, দেশের এক নম্বর লিগে চ্যাম্পিয়নশিপ এবং রেলিগেশন দু’টোই থাকবে। এতদিন স্বাধীনভাবে আইএসএল পরিচালনা করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। কিন্তু এবার নতুনভাবে যে সংস্থা যুক্ত হবে, তাঁদের সামনে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। যা মানতে নারাজ তাঁরা। এফএসডিএলের কাছে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে নতুন চুক্তিতে। ভাবা হচ্ছে, সেই কারণেই আগ্রহ প্রকাশ করছে না তাঁরা। নতুন বিডাররাও আগ্রহ হারিয়েছে। এখন নভেম্বরের শেষের দিকেও যদি কারও হাতে কোনওভাবে আইএসএল চালানোর দায়িত্ব আসে, তাহলেও জানুয়ারির শেষ কিংবা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকের আগে লিগ শুরু করা প্রায় অসম্ভব।
ভারতীয় ফুটবলে আবার নজীরবিহীন ঘটনাঃ চার্চিলের অস্বীকারে নতুন আই লিগ ট্রফি তৈরি করে ইন্টার কাশীকে দিল এআইএফএফ!

ভারতীয় ফুটবলে এখন সবই সম্ভব! শনিবার আরও এক কীর্তি করলেন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তারা। গোয়ায় সুপার কাপে, বাম্বোলিমে জামশেদপুর এফসি আর ইন্টার কাশীর ম্যাচের পর ইন্টার কাশীর অধিনায়ক ও গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যের হাতে নতুন আই লিগ ট্রফি ও এক কোটি টাকার চেক তুলে দিলেন তারা। নতুন আই লিগ ট্রফিটি তৈরি করা হয়েছে! কারণ এবছর এপ্রিল থেকে আই লিগের আসল ট্রফি চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে। ভারতীয় ফুটবলে নজীরবিহীন এই ঘটনা নিয়ে নিউজ ৯ স্পোর্টসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেডারেশনের এক কর্তা বলেছেন, “চার্চিল ট্রফি ফেরত দেয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের নতুন ট্রফির ব্যবস্থা করতে হল।” এপ্রিল মাসের এক রবিবার চার্চিল ব্রাদার্সকে গোয়ায় গিয়ে এআইএফএফ সচিব ২০২৪-২৫-এর আই লিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে কাবের প্রেসিডেন্টের হাতে আই লিগের ট্রফি দিয়ে এসেছিল। এপ্রিল থেকে নভেম্বর। আই লিগে অনেক জল গড়িয়েছে। মাঠের গণ্ডী পেরিয়ে লিগের গুরুত্বপূর্ণ খেলা হয়েছে কোর্টে। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ করে সুইৎজারল্যান্ডের কোর্ট অফ আর্বিট্রেশন অফ স্পোর্টে (ক্যাস)ইন্টার কাশী দুটো মামলা জেতার পর, নিজেদের কমিটির ওপর ভরসা না রাখা এআইএফএফ আবার ইন্টার কাশীকে আই লিগ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে ফেলে! ক্যাসের নির্দেশ পাওয়ার পর ফেডারেশনের দু’জনের একটি কমিটি সেই নির্দেশকেই মান্যতা দিয়ে দেয়! কিন্তু ট্রফি তো সেই এপ্রিল মাস থেকে চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে। ট্রফি ফেরত পাওয়ার একাধিক ই-মেল পাওয়ার পরও তারা ট্রফি ফেরত দেয়নি। বরং তারা আবার ইন্টার কাশীর আই-লিগ খেতাবজয় নিয়ে এআইএফএফের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। এমনকী, চার্চিল ব্রাদার্স তাদের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এ-ও জানিয়েছে যে, ক্যাস তাদের আজ পর্যন্ত লিখিতভাবে ট্রফি ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে চার্চিল লিখেছে, ক্যাসের চূড়ান্ত নির্দেশের অপেক্ষায় তারা রয়েছে এবং সুবিচার না পেলে তারা সুইস ফেডারাল ট্রাইবুনালেও আবেদন করবে। আর ইন্টার কাশী? তাদের এক কর্তা নিউজ ৯ স্পোর্টসকে জানিয়েছে, “আমাদের কাছেই আসল ট্রফিটা এল। চার্চিলের কাছে রয়েছে এর রেপ্লিকা!”
যুবভারতীতে সেমিফাইনাল খেলবে ইস্টবেঙ্গল!

মোহনবাগানের(MBSG) সঙ্গে ডার্বি ড্র। চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের সুপার কাপ থেকে ছিটকে দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। কিন্তু সেমিফাইনাল কোথায় খেলবে লাল-হুদ ব্রিগেড? সবকিছু ঠিকঠাক চললে যুবভারতীতেই সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নামতে পারে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। ইতিমধ্যে ফেডারেশনের(AIFF) সঙ্গে সেই কথাবার্তাও হয়ে গিয়েছ। শুরু হয়ে গিয়েছে বাজেট প্রস্তুতির কাজ। খরচ ঠিকঠাক থাকলেই সুপার কাপের সেমিফাইনালে যুবভারতী স্টেডিয়ামে(Yuvabharati Stadium) নামবে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলেও, কবে সেমিফাইনাল এবং ফাইনাল ম্যাচ হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত দিন ঠিক করেনি ফেডারেশন(AIFF)। তবে শোনা যাচ্ছে ২৯ কিংবা ৩০ নভেম্বর সেমিফাইনাল হতে পারে সেই মতো নাকি প্রস্তুতিও চলছে। এরইমাঝে এবার ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল খেলার আবেদন ইস্টবেঙ্গলের। ঘরের মাঠে সমর্থকদের অ্যাডভান্টেজটা কাজে লাগানোর জন্যই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। ডার্বিত মোহনবাগানের(MBSG) সঙ্গে ড্রয়ের পরই নাকি ইস্টবেঙ্গলের তরফে সেই আবেদন করা হয়ে গিয়েছ ফেডারেশনের কাছে। ফেডারেশনও যে খুব একটা গররাজি তা কিন্তু নয়। তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে এমনটা যদি করতে হয় তবে সম্পূর্ণ খরচ বইতে হবে ইস্টবেঙ্গলকেও(Eastbengal)। একপ্রকার ইস্টবেঙ্গলও রাজি। সেই মতো ম্যানেজমেন্ট বাজেট করাও শুরু করে দিয়েছে। যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তবে যুবভারতী স্টেডিয়ামেই সেমিফাইনালের আয়োজন হতে পারে। সেই মতো চেষ্টাই শুরু করে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট। একইসঙ্গে আগামী ২৯ কিংবা ৩০ নভেম্বর হতে পারে সেই এবারের সুপার কাপের সেমিফাইনাল। ঘরের মাঠে যদি সত্যিই সেমিফাইনাল হয়, সেটা যে ইস্টবেঙ্গলের কাছে একটা বড় পাওনা হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
একা এফএসডিএল নয়, আগ্রহী আরও তিন কোম্পানিও

সুদীপ পাকড়াশীঃ আইএসএলের কমার্শিয়াল পার্টনার হওয়ার দৌড়ে বিডিং-য়ের আগে অনলাইনে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেছিল চার কোম্পানির প্রতিনিধি। এফএসডিএল, যারা গত ১৫ বছর সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কমার্শিয়াল পার্টনার ছিল, আর তার সঙ্গে স্পোর্টা টেকনোলজি, রাক অ্যাডভাইসরি, এবং সুপারসাব ম্যানেজমেন্ট। ফেডারেশন সূত্রে জানা যাচ্ছে সুপারসাব ম্যানেজমেন্টের নেপথ্যে রয়েছে একটি বিদেশি কনসর্টিয়াম। এদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে ছিলেন কেপিএমজি, ফেডারেশনের প্রতিনিধি এবং সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারপতি নাগেশ্বর রাও। যার পর্যবক্ষণে আইএসএলের টেন্ডার-প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। আগামি ৫ নভেম্বরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে, ফেডারেশনের নতুন কমার্শিয়াল পার্টনার নির্ধারিত হওয়ার কথা যাদের হাতে আগামিদিনে আইএসএল চলবে। ফেডারেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভার্চুয়াল বৈঠকে বসা চার কোম্পানির প্রতিনিধিরাই বিডের শর্ত নিয়ে জিজ্ঞেস করেছেন ফেডারেশন এবং কেপিএমজি-র প্রতিনিধিদের। এফএসডিএলের প্রশ্নের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। নতুন চুক্তি এবং বিড ডকুমেন্ট নিয়ে তারা প্রায় ১০০টি প্রশ্ন করেছেন। বিড ডকুমেন্ট অনুযায়ী সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে তাদের নতুন কমার্শিয়াল পার্টনার প্রত্যেক বছর ন্যনুতম ৩৭.৫ কোটি অথবা গ্রস রেভেনিউয়ের ন্যনুতম ৫ শতাংশ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে। ফেডারেশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শনিবারের ভার্চুয়াল বৈঠকে এফএসডিএলের নতুনভাবে বিড ডকুমেন্ট যাচাই করার প্রচেষ্টায় সন্তুষ্ট হননি কেপিএমজি এবং ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা। বরং, বাকি তিন কোম্পানির প্রতিনিধিদের আইএসএলের স্বত্ব কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখে তারাও উৎসাহিত। তবে, শুধু এই চারটি কোম্পানি নয়, সরাসরি দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ অন্যান্য আগ্রহী কোম্পানিদেরও আগামি কয়েকদিনে আছে। গত দু’মরসুম আইএসএল কোনও টাইটেল স্পনসর পায়নি। অথচ, জিন্দাল স্টিলকে ওমান পেশাদার লিগ পেয়ে গেল তার টাইটেল স্পনসর হিসেবে। লিগটি এখন থেকে ওমান জিন্দাল লিগ নামে পরিচিত হবে। অন্যদিকে, এবার থেকে সর্বভারতীয় ইউথ লিগগুলিতে প্রত্যেক দলকে সর্বাধিক দু’জন পিআইও বা ওসিআই ফুটবলারকে রেজিস্ট্রেশন করানো ও খেলানোর অনুমতি দিয়েছে এআইএফএফ। এই নতুন নিয়মকে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডে পিআইও বা ওসিআই ফুটবলারদের জন্য ট্রায়ালের আয়োজন করেছে রঞ্জিত বাজাজের মিনার্ভা অ্যাকাডেমি। অনুর্দ্ধ-১৪, অনুর্দ্ধ-১৬ ও অনুর্দ্ধ-১৮ বিভাগে ফুটবলারদের জন্য এফসি খালসার সহযোগিতায় আগামী ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর, ইংল্যান্ডের রেডব্রিজ, হ্যারো ও লেস্টারে ট্রায়ালের আয়োজন করেছে মিনার্ভা অ্যাকাডেমি। এখান থেকে বাছাইকৃত ফুটবলাররা এমআইসি কাপে ও এআইএফএফ ইউথ লিগে খেলার সুযোগ পাবেন।