দুরন্ত দিমি – থাপা, চেন্নাইকেও হারালেও চিন্তা রয়েই গেল লোবেরার

বহু সুযোগ নষ্ট। প্রথমার্ধের শুরুর দিকে বেশ অগোছালো ফুটবল। যদিও শেষপর্যন্ত ম্যাকলরেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতসের গোলে চেন্নায়িন এফসির বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয় পেল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। সবুজ-মেরুণ ব্রিগেড জয় পেলেও, লোবেরার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কিন্তু বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। সেইসঙ্গে প্রথম ম্যাচের পর এই ম্যাচেও একাধিক সুযোগ নষ্ট মোহনবাগান ফুটবলারদের। কখনও দিমি তো কখনও ম্যাকলরেন, রবসন রবিনহোরা বহু সুযোগই নষ্ট করলেন। যদিও শেষপর্যন্ত যুবভারতী স্টেডিয়াম থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ল লোবেরার দল। প্রথমার্ধের শুরুর অন্তত ২০ মিনিট বড্ড অগোছালো ফুটবল মোহনবাগানের। যদিও সেই সময়ই যে সুযোগ পায়নি তেমনটা নয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। তবে এদিনও নিজের ছন্দেই ছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতস। সেইসঙ্গে এদিন মাঝমাঠে দুরন্ত মেজাজে ছিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। বারবার তাঁর বাড়ানো বল প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছিল। থাপার একটা দূরপাল্লার শট তো একটুর জন্য জালে জড়ায় নি। একইসঙ্গে দিমি এবং রবসন রোবিনহোও ছিলেন বিধ্বংসী ফর্মে। তারা একেবারে নিখুঁত পাস বাড়ালেও কোনও না কোনওভাবে সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিলই। অবশেষে প্রথমার্ধের অন্তিম লগ্নে জেমি ম্যাকলরেনের শটে প্রথম গোল পায় মোহনবাগান। বিরতির পরও মোহনবাগানের আক্রমণই ছিল বেশি। কিন্তু সেই সুযোগ নষ্টের ছবিটা ছিলই। তবে ম্যাচের ৬৫ মিনিটের মাথায় শুভাশিসের বাড়ানো ক্রস, আর সেটা জালে জড়াতে কোনওরকম ভুল করেননি দিমিত্রি পেত্রাতস। এরপরই মাঠের সাইড লাইনে দর্শকদের সামনে গিয়ে দিমির সেই পুরনো সেলিব্রেশন। আর তাতেই মেতে ওঠে সবুজ-মেরুণ সমর্থকরাও। ম্যাচের ভবিষ্যতও তখনই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত ২-০ গোলেই ম্যাচ শেষ হয়। তবে এত সুযোগ নষ্ট কিন্তু লোবেরার চিন্তা বাড়াতেই পারে।
থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামার আগে আবু ধাবির সেই ম্যাচই প্রেরণা সুনীলদের

আগামি ৪ জুন ফিফা ফ্রেন্ডলিতে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারতীয় ফুটবল দল। র্যাঙ্কিংয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছে থাইল্যান্ড, তবে সেটা নিয়ে ভাবতে নারাজ মানালো মার্কুয়েজের ভারত। বরং শেষ দুটি সাক্ষাতে জিতেছিল টিম ইন্ডিয়া, তারমধ্যে ২০১৯-এ আবু ধাবিতে এএফসি এশিয়ান কাপে থাইল্যান্ডকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ছিল ভারত। সেই দুরন্ত জয়টাই এই ম্যাচের আগে প্রেরণা সুনীলদের। সেই ১৯৬২ জাকার্তা এশিয়াডে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেবারও ভারত জেতে ৪-১ গোলে। তারপর অবশ্য সময় বদলেছে। থাইল্যান্ড আমাদের থেকে এগিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ২৬ বার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। থাইল্যান্ড জিতেছে ১২ বার, ভারত জিতেছে ৭ বার এবং ড্র হয়েছে ৭ বার। ২০১৯-এ যে ম্যাচে ভারত ৪-১ গোলে জিতেছিল সেই ম্যাচে সুনীল ছেত্রী দুটি গোল করেছিলেন। সুনীল জানান, “ম্যাচটা বেশ কয়েক বছর আগে হয়েছিল। যতটা মনে করতে পারছি গোটা দল খুব ভাল খেলেছিল। অনিরুদ্ধ থাপা ছিল অসাধারণ। উদান্তা খুব ভাল খেলেছিল। আসিক আমার পাশে ছিল। ভাল খেলেছিল। সেই সময়ও কাগজে কলমে থাইল্যান্ড আমাদের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিল। তবু আমরা শুধু ৪-১ গোলে জিতিনি, যেভাবে দাপট দেখিয়ে ছিলাম, সত্যিই দুর্দান্ত ব্যাপার ছিল।“ সে কারণেই সেই ম্যাচ থেকে প্রেরণা পাচ্ছেন সুনীল। ভারত যেখানে এই মুহূর্তে ১২৭ নম্বরে আছে, থাইল্যান্ড সেখানে আছে ৯৯ নম্বরে। এমন একটা ম্যাচের আগে নিজের মত জানিয়েছেন ছাংতেও। তিনি জানান, “আমরা অনেকবার থাইল্যান্ডর সঙ্গে খেলেছি। খুব ভাল দল। জেতার জন্য ভীষণ ক্ষুধার্ত। ওরা সে রকমই একটা দল, যারা বল নিয়ে খেলতে ভালবাসে, তবে আমরা নিজেদের নিয়েই ভাবছি। আমরা অনুশীলনে যা করেছি ম্যাচে সেটা করতে পারলে থাইল্যান্ড ও হংকং দুটি ম্যচই জিতব। এএফসি এশিয়ান কাপে হংকংয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূরর্ণ ম্যাচে নামার আগে এই থাইল্যান্ড ম্যাচই সুনীলদের স্টেজ রিহার্সাল।