দিমি-ম্যাকলরেনদের বহু সুযোগ হাতছাড়া, প্রথম পয়েন্ট নষ্ট বাগানের

আইএসএলের মঞ্চে প্রথম পয়েন্ট খোয়ালো মোহনবাগান সুপাজায়ান্ট(MBSG)। অ্যাওয়ে ম্যাচে বেঙ্গালুরু এফসির(BFC) সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। ম্যাচের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren), দিমিত্রিরা(Dimitri Petratos) চেষ্টা একের পর এক আক্রমণের ঝড় তুললেও, বেঙ্গালুরুর রক্ষণ এবং গুরপ্রীতের দক্ষতায় বারবারই আটকে যায় তারা। যদিও পাল্টা আক্রমণের চাপ বেঙ্গালুরুর তরফেও ছিল। কিন্তু সুনীল, রায়ান উইলিয়ামসরাও ব্যর্থই হয়েছেন। বল পজিশন থেকে শট সমস্ত দিক থেকেই এগিয়ে ছিল মোহনবাগানই। কিন্তু গোলটা আর করতে পারেনি তারা। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই বেশ আক্রমণাত্মক ছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। প্রথম আধ ঘন্টার মধ্যেই দিমিত্রি, ম্যাকলরেন এবং রডরিগেজ বেশ কয়েকটা সুযোগ বের করে ফেলেছিল। কিন্তু কোনও না কোনওভাবে আটকেই গিয়েছিল তাদের শট। সেইসঙ্গে এদিন দুরন্ত ছন্দে ছিলেন শুভাশিস বোসও। তিনিও কিন্তু বেশ কিছু ভালো বল বাড়িয়েছিলেন। বিরতির পরও খেলাটা ছিল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের। মনিরুল থেকে সুনীল ছেত্রীরাও তখন গোল পেতে মরিয়া। একবার তো বক্সের মধ্যে ছেত্রী পরপর দুবার সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু থাপার দক্ষতায় বেঁচে যায় মোহনবাগান। পাল্টা আক্রমণে মোহনবাগানও ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল বেঙ্গালুরু রক্ষণে। ম্যাকলরেনের সুযোগ একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। রডরিগেজের শটও কখনও গুরপ্রীতের হাতে তো কখনও বাইরে। আর শেষের দিকে দিমিত্রি পেত্রাতোস তো একেবারে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও বাইরেই শট নেন। ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই।
ক্লিনশিট নয়, প্রতি ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্টই লক্ষ্য লোবেরার

ওড়িশাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে আইএসএলের লিগ টেবিলে শীর্ষস্খান আরও পাকা করেছে মোহনবাগান। সেখানেই মোহনবাগানের নায়ক এদিন সেই জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। আর দলের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত কোচ সের্জিও লোবেরাও(Sergio Lobera)। তাঁর ছোঁয়ায় এবার যেন সবুজ-মেরুণ ব্রিগেড আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। পাঁচ গোল দিলেও, মোহনবাগানকে অবশ্য একটা গোলও খেতে হয়েছে। কিন্তু বাগান কোচ সের্জিও লোবেরা(Sergio Lobera) গোল হজম নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। তাঁর তো সাফ বার্তা গোল করতে গেলে ঝুঁকি তো নিতেই হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে এসেই সের্জিও লোবেরা বলেন, হ্যাঁ আমরা একটা গোল খেয়েছি ঠিকই। কিন্তু তিন পয়েন্ট তুলতে গেলে এইটুকু ঝুঁকি নিতেই হবে আমাদের। আমার প্রধান লক্ষ্য ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া। তাতে যদি ক্লিনশিট বজায় নাও থাকে তাতে কোনও সমস্যা নেই। প্রঝান হল আমার ফুটবলাররা গোল করতে পারছে কিনা। আর জিততে গেলে এইটুকু ঝুঁকি নিতেই হবে। অন্যদিকে এই ম্যাচেই আবার হ্যাটট্রিক করেছেন জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। তাঁর গোলের সংখ্যাটা অবশ্য এই ম্যাচে চার। যেভাবে ম্যাকলরেন এগোচ্ছে তাতে গোল্ডেন বুট জেতার প্রধান দাবীদার হয়ে উঠছেন। যদিও ম্যাকলরেন তা নিয়ে ভাবছেন না। স্ট্রাইকারের কাজটাই করে যেতে চান তিনি। ম্যাচ শেষে ম্যাকলরেন জানান, আমি একজন স্ট্রাইকার। আমার কাজটাই হল গোল করে যাওয়া। তবে এখনই কতগুলো গোল করব তা নিয়ে কোনওরকম হিসাব নিকাশ করিনি। প্রতি ম্যাচে দলকে জেতাতে চাই। হ্যাঁ অবশ্যই গোল পেতে চাই। এখনও অনেক ম্যাচ বাকি রয়েছে, ধাপে ধাপে এগোতে চাই।
জেমি-দিমির দাপটে ওড়িশাকে নিয়ে ছেলেখেলা মোহনবাগানের

জেমি-দিমি যেদিন একসঙ্গে তান্ডব চালাবেন সেদিন যে প্রতিপক্ষের অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনও উপায় নেই, সেটা শুক্রবারের যুবভারতীতে দেখিয়ে দিল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। দুর্বল ওড়িশা লড়াইটা করল শেষ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু মোহনবাগানকে আটকানোর জন্য তা একেবারেই যথেষ্ট নয়। হ্যাটট্রিক করলেন জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। সেইসঙ্গে ম্যাচে চার গোলের মালিক তিনি। দিমি(Dimitri Petratos) হয়ত গোল পেলেন না, কিন্তু একের পর এক গোলের নেপথ্য কারিগড় তো তিনিই। ৫-১ গোলে ওড়িশা এফসিকে হারিয়ে শীর্ষস্থানটা আরও মজবুত করে ফেলল লোবেরার(Sergio Lobera) সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ম্যাচের ১৪ মিনিট থেকে এদিন তান্ডবটা শুরু করেন জেমি ম্যাকলরেন। সেইসঙ্গে দিমিত্রি পেত্রাতোসের একের পর এক ডিফেন্স চেড়া পাস। জালে জড়াতে কী আর ভুল করেন জেমি ম্যাকলরেনের(Jamie Maclaren) মতো পোর খাওয়া ফুটবলার। রবসন রোবিনহো নেই। অনেকেই নানান আসঙ্কা করছিলেন। কিন্তু এই মোহনবাগান দল নিয়ে যে আশঙ্কার কোনও জায়গাই নেই তা ফের একবার দেখিয়ে দিবেন সের্জিও লোবেরা। ম্যাকলরেনরা তো ফর্মেই ছিল। লোবেরার ছোঁয়ায় দিমি এবার ফের অপ্রতিরোধ্য। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় দিমিত্রির দুরন্ত ব্যাকহিল। সেখান থেকে শুভাশিসের পাস। ম্যাকলরেনের প্রথম গোল। সেই শুরু। ওড়িশা বাহিনী তখন আক্রমণ ভুলে শুধুই নিজেদের ঘর বাঁচাতে ব্যস্ত। কখনও দিমি তো কখনও লিস্টন, কামিন্সদের একের পর এক ভয়ঙ্কর আক্রমণ। দিমি-কামিন্স এবং ম্যাকলরেন ত্রয়ী এদিন যেন ঝড় তুলেছিল মাঠে আক্রমণের। কামিন্সও কয়েকটা সুযোগ মিস না করলে নিজের নামে এদিন গোল রাখতেই পারতেন। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ফের একটা গোল। এবারও সেই জেমি ম্যাকলরেন। আর নেপথ্যে সেই দিমিত্রি পেত্রাতোস। মাঝে অ্যালবার্তো রডরিগেজের একটি গোল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে জেমি ম্যাকলরেনের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ। মাঝে অবশ্য রহিম আলির গোলে ব্যবধান কমিয়েছিল ওড়িশা। বিরতির পর থেকে মোহনবাগান আরও ভয়ঙ্কর। পাস বাড়ানোর পাশাপাশি তখন দিমিত্রি নিজেও যেন গোল পেতে মরিয়া। একের পর এক পাস এবং শট, যদিও সেগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। ম্যাকলরেন, মনবীররাও বারবার বক্সের ভিতর ঢুকলে গোলের মুখে খুলতে পারছিলেন না। অন্যদিকে ওড়িশাও কিন্তু পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছিল। মোহনবাগান রক্ষণে যে এখনও বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে সেটা অবশ্য এদিন ওড়িশা বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কী ম্যাকলরেন, দিমি মাঠে থাকলে কোনও বাধাই কিছু না। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফের গোল মোহনবাগানের। এবারও গোলদাতা সেই ম্যাকলরেন। পাঁচ গোলের মধ্যে চার গোল একাই করলেন। এই মোহনবাগানকে রোখা এবার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে তা বেশ স্পষ্ট।
দুরন্ত দিমি – থাপা, চেন্নাইকেও হারালেও চিন্তা রয়েই গেল লোবেরার

বহু সুযোগ নষ্ট। প্রথমার্ধের শুরুর দিকে বেশ অগোছালো ফুটবল। যদিও শেষপর্যন্ত ম্যাকলরেন এবং দিমিত্রি পেত্রাতসের গোলে চেন্নায়িন এফসির বিরুদ্ধে ২-০ গোলে জয় পেল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। সবুজ-মেরুণ ব্রিগেড জয় পেলেও, লোবেরার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কিন্তু বেশ কিছু প্রশ্ন উঠতেই পারে। সেইসঙ্গে প্রথম ম্যাচের পর এই ম্যাচেও একাধিক সুযোগ নষ্ট মোহনবাগান ফুটবলারদের। কখনও দিমি তো কখনও ম্যাকলরেন, রবসন রবিনহোরা বহু সুযোগই নষ্ট করলেন। যদিও শেষপর্যন্ত যুবভারতী স্টেডিয়াম থেকে ৩ পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ল লোবেরার দল। প্রথমার্ধের শুরুর অন্তত ২০ মিনিট বড্ড অগোছালো ফুটবল মোহনবাগানের। যদিও সেই সময়ই যে সুযোগ পায়নি তেমনটা নয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। তবে এদিনও নিজের ছন্দেই ছিলেন দিমিত্রি পেত্রাতস। সেইসঙ্গে এদিন মাঝমাঠে দুরন্ত মেজাজে ছিলেন অনিরুদ্ধ থাপা। বারবার তাঁর বাড়ানো বল প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছিল। থাপার একটা দূরপাল্লার শট তো একটুর জন্য জালে জড়ায় নি। একইসঙ্গে দিমি এবং রবসন রোবিনহোও ছিলেন বিধ্বংসী ফর্মে। তারা একেবারে নিখুঁত পাস বাড়ালেও কোনও না কোনওভাবে সুযোগ হাতছাড়া হচ্ছিলই। অবশেষে প্রথমার্ধের অন্তিম লগ্নে জেমি ম্যাকলরেনের শটে প্রথম গোল পায় মোহনবাগান। বিরতির পরও মোহনবাগানের আক্রমণই ছিল বেশি। কিন্তু সেই সুযোগ নষ্টের ছবিটা ছিলই। তবে ম্যাচের ৬৫ মিনিটের মাথায় শুভাশিসের বাড়ানো ক্রস, আর সেটা জালে জড়াতে কোনওরকম ভুল করেননি দিমিত্রি পেত্রাতস। এরপরই মাঠের সাইড লাইনে দর্শকদের সামনে গিয়ে দিমির সেই পুরনো সেলিব্রেশন। আর তাতেই মেতে ওঠে সবুজ-মেরুণ সমর্থকরাও। ম্যাচের ভবিষ্যতও তখনই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত ২-০ গোলেই ম্যাচ শেষ হয়। তবে এত সুযোগ নষ্ট কিন্তু লোবেরার চিন্তা বাড়াতেই পারে।
ডার্বি ড্র করেই সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল, বিদায় মোহনবাগানের

সুপার কাপের ডার্বি(Kolkata Tderby) ড্র। আক্রমণের ঝড় তুললেও, গোল করতে ব্যর্থ অস্কারের(Oscar Bruzon) দল। অগোছালো ফুটবল খেলল মোহনবাগানও(MBSG)। রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে লাল-হলুদ উচ্ছ্বাস। মোহনবাগানের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেই সুপার কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছলে গেল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলেও, এত সুযোগ নষ্ট কিন্তু অস্কারের(Oscar Bruzon) চিন্তা খানিকটা হলেও রেখেই দিল। অন্যদিকে হোসে মোলিনার প্রথম একাদশ বাছা নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন উঠতেই পারে। শিল্ড জয়ের পর সুপার কাপ পাখির চোখ হলেও, ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) কাছেই আটকে গেল মোহনবাগানের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন। অন্যদিকে মরসুমের প্রথম ট্রফি জয়ের থেকে আর মাত্র দু ম্যাচ দূরে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গল। এদিন গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকেই নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। তাদের প্রয়োজন ছিল একটা ড্রয়ের। অন্যদিকে মোহনবাগানকে জিততেই হত। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকে ছিল ইস্টবেঙ্গলেরই ভয়ঙ্কর আক্রমণ। দুই উইং দিয়ে মহেশ(Naorem Mahesh), বিপিনের(Bipin Singh) পারফরম্যান্স বারবারই সমস্যায় ফেলছিল মোহনবাগানকে(MBSG)। প্রথম ২৭ মিনিটের মধ্যেই দুটো সুবর্ন সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু মোহনবাগানের জালে জড়াতে পারেনি। মিগুয়েলের(Miguel) বাড়ানো বল বিপিন মাথায় ছোঁয়ালেও, তা বারে লেগেই ব্যর্থ হয়। মোহনবাগানের(MBSG) মাঝমাঠ সেভাবে আক্রমণের বিল্ডআপটাই করতে পারেনি। বরং বারবার ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ সামাল দিতেই ব্যস্ত ছিলেন অলড্রেড, রডরিগেজরা। যে লিস্টন(Liston Colaco) মোহনবাগানের উইংয়ে প্রধান ভারসা। প্রথমার্ধে বারবারই ব্যর্থ হতে দেখা গেল তাঁকে। ম্যাকলরেনও(Jamie Maclaren) সেভাবে কোনওরকম প্রভাব দেখাতে পারেননি। বরং উল্টো দিকে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) বারবারই হানা দিচ্ছিল মোহনবাগান বক্সে। মহেশ, হামিদ,মিগুয়েলরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে প্রথমার্ধে এগিয়ে যেতেই পারত। বিরতির পর থেকেই ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা ছিল মোহনবাগান। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের দাপটই ছিল বেশি। ম্যাচের বয়স যখন এক ঘন্টা সেই সময় থেকেই মোহনবাগান পরপর কামিন্স, দিমিত্রিদের মাঠা পাঠাতে শুরু করে। ইস্টবেঙ্গল শিবিরে তারা চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, বারবারই আটকে যাচ্ছিল। তবে রবসন রোবিনহো নামার পর মোহনবাগান দুটো ভালো সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু জালে জড়াতে পারেনি। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের পাল্টা আক্রমণও ছিল দেখার মতো। হামিদের শট কাইথের হাতে। কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্ণার থেকে জয় গুপ্তার জোড়ালো হেড, কিন্তু সেটাও আটকে দিলেন বিশাল কাইথ। তারই মাঝে হিরোশি এবং বিষ্ণুকে মাঠে নামিয়ে দিয়োছিলেন অস্কার। হিরোশির বাড়ানো বল বিষ্ণু যদি কাজে লাগাতে পারতেন, ডার্বির মঞ্চে একমাত্র গোলদাতা হিসাবে থাকতেই পারতেন তিনি। শেষ কিছুক্ষণ ইস্টবেঙ্গলের সময় নষ্টের খেলা। রেফারির বাঁশি বাজতেই সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাকলরেনের জোড়া গোলে যাত্রা শুরু মোহনবাগানের

জেমি ম্যাকলরেনের(Jamie Maclaren) জোড়া গোল। চেন্নাইয়িন এফসিকে(Chennaiyin Fc) হারিয়ে সুপার কাপে(Super Cup) দাপটের সঙ্গেই শুরুটা করল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। চেন্নাইয়িন এফসিকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিল হোসে মোলিনার(Jose Molina) দল। তাও আবার তিন বিদেশি নামিয়েও বাজিমাত করলেন তিনি। প্রথম একাদশে এদিন তিন বিদেশি রেখেই দল সাজিয়েছিলেন মোলিনা। চোট সারিয়ে ফিরে মনবীর(Manvir Singh) যেমন দুরন্ত ফর্মে। তেমনই শুভাশিস, থাপারাও ছিলেন নিজেদের সেরা ফর্মে। শুরুর দিকে চেন্নাইয়িন এফসি কয়েকটা আক্রমণ করার চেষ্টা করলেও, সময় যত গড়ায় ততই ম্যাচ নিজেদের দখলে নিতে থাকে মোহনবাগান(MBSG)। ম্যাচের ১৬ মিনিটের মাথাতেই লিস্টনের(Liston Colaco) ফ্রিকিক থেকে সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন অলড্রেড। তবে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। ২১ মিনিটের মাথায় সাহাল লিস্টনের বাড়ানো বল কাজে লাগাতে পারলে তখনই এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। কিন্তু বৃষ্টি ভেজা মাঠে কিছু কিছিু হিসাব নিকাশ বারবারই গন্ডোগোল হয়ে যাচ্ছিল মোহনবাগানের। তবে প্রথম গোল পেতে বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। ৩৮ মিনিটের মাথায় সেই লিস্টনেরই বাড়ানো বল। এবার আর কোনও ভুল করেননি জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। তাঁর দুরন্ত শট জড়িয়ে দেন জালে। Two goals. Clean sheet. Perfect start. ✅#MBSG #JoyMohunBagan #আমরাসবুজমেরুন #AIFFSuperCup #MBSGCFC pic.twitter.com/p2tXCjokmo — Mohun Bagan Super Giant (@mohunbagansg) October 25, 2025 এরপরও অবশ্য কয়েকটা সুযোগ পেয়েছিল মোহনবাগান(MBSG), তবে কাজে লাগাতে পারেনি। তবে প্রবল বৃষ্টিতে ভেজা মাঠ এদিন খানিকটা সমস্যায় ফেলেছিল মোলিনার দলকে। বারবারই বল বাড়াতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল তাদের। বিরতির পরও মোহনবাগনের আক্রমণই ছিল বেশি। মনবীর, শুভাশিস এবং লিস্টনদের হাত ধরে বারবার চেন্নাইয়ের ডিফেন্সকে পরীক্ষায় ফেলছিল মোহনবাগান। প্রীতম কোটালকে বাদ দিয়ে কেউই এদিন সেভাবে মোহনবাগানের আক্রমণকে আটকাতে পারছিলেন না। মনবীরেরই বাড়ানো পাস থেকে আবারও সেই ম্যাকলরেনেরই গোল। ম্যাচের বয়স তখন ৬৭ মিনিট। এরপরই ম্যাকলরেনকে(Jamie Maclaren) তুলে নিয়ে কামিন্সকে মাঠে পাঠান মোলিনা। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে কামিন্সও সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাঁচিয়ে দেন গোলকিপার। গোলের ব্যবধান এরপর আর মোহনবাগান বাড়াতে পারেনি ঠিকই। কিন্তু শুরুতেই যে অনেকটা এগিয়ে গেল তারা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রোবিনহো-ম্যাকলরেন-রডরিগেজ ত্রয়ীতে বিধ্বস্ত গোকুলাম, বিরাট জয় মোহনবাগানের

দুর্ধর্ষ রবসন রোবিনহো(Robson Robinho)। গোল করলেন, এবং গোল করালেনও। আইএফএ শিল্ডের(IFA Shield) প্রথম ম্যাচে গোকুলাম এফসিক ৫-১ গোলে উড়িয়ে যাত্রা শুরু করল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। ম্যাচের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত ছিল মোহনবাগানের দাপট। সেখানেই জোড়া গোল জেমি ম্যাকলারেন(Jamie Maclaren) এবং অ্যালবার্তো রডরিগেজের(Alberto Rodriguez)। আর বেশিরভাগ গোলেরই নেপথ্য নায়ক ব্রাজিলিয়ান তারকা রবসন রোবিনহো(Robson Robinho)। ম্যাচের ১০ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল মোহনবাগানের(MBSG)। অ্যালবার্তো রডরিগেজের(Alberto Rodriguez) পা থেকেই আসে প্রথম সাফল্যটা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের আক্রমণ। রবসন রবোনিহোর(Robson Robinho) সাজানো বল, সেখানেই জেমি ম্যাকলরেনের দুর্ধর্ষ ভলি। ২৭ মিনিটের মধ্যেই ২ গোলে এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কিন্তু তাদের আক্রমণের ঝাঁঝ একেবারেই কমেনি। রবসনের(Robson Robinho) একের পর এক বাড়ানো দুরন্ত পাস, তবে কিয়ান, মনবীর(Manvir Singh), ম্যাকলারেনরা(Jamie Maclaren) তা কাজে লাগাতে পারেনি। সেগুলো গোল হলে যে প্রথমার্ধেই মোহনবাগান(MBSG) ব্যাবধানটা বাড়িয়ে নিতে পারত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিরতির পর কিছুক্ষণ গোকুলামের দাপট। তবে সেটা ছিল প্রথম দশ মিনিট। ফের মাঠে শুরু সবুজ-মেরুন ঝড়। তারই মধ্যে অবশ্য আপুইয়ার আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান কমায় গোকুলাম। কিন্তু সেই সুখ তাদের বেশিক্ষণ ছিল না। রক্ষণের পাশাপাশি আক্রমণেও এদিন বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন রডরিগেজ। তাঁর গোলেই বিরতিরও এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এর কিছুক্ষণের মধ্যে অবশেষে সাফল্য রবসন রোবিনহোর। একের পর এক গোল করানোর পরে দুরন্ত শটে গোল পেলেন ব্রাজিলিয় তারকা। এরপর থেকে আর গোকুলাম ম্যাচে ফেরার কোনওরকম সুযোগই পায়নি। একটা দুটো আক্রমণ তারা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তা গোল করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। বারবারই মোহনবাগানের রক্ষণের পাঁচিলের কাছে আটকে যেতে হয় গোকুলাম ফুটবলারদের। বরং ৭৫ মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে পাঁচ গোলের বৃত্ত সম্পূর্ণ করে দেন ম্যাকলারেন। ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে গোকুলাম একটা সুযোগ পেয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই অ্যালবার্তো রডরিগেজের কাছেই আটকে যায় গোকুলাম। এরপর মাসুদ কর্ণার থেকে চেষ্টা করলেও সেটাও ব্যর্থ। এরপরই রেফারির ফাইনাল বাঁশি। শিল্ডের শুরুটা যে মোহনবাগান বেশ ভালোভাবেই করল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
অনুশীলনে অনুপস্থিত ম্যাকলরেন, কামিন্স, তুলোধনা মানস ভট্টাচার্যের

ঐতিহ্যের আইএফএ শিল্ড(IFA Shield)। এই শিল্ডের গুরুত্ব অন্যান্য যেকোনও ক্লাবের থেকে মোহনবাগানের(MBSG) কাছে অনেক বেশি। আগামী ৯ অক্টোবর প্রথম ম্যাচে নামবে তারা। কিন্তু সেখানেই অনুশীলনে অনুপস্থিত মোহনবাগানের দুই তারকা ফুটবলার জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren) এবং জেসন কামিন্স(Jason Cummins)। ফেরার বিমান ধরতে পারেননি তারা। আর তাতেই কার্যত ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্য। দুই ফুটবলারেরই পেশাদায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন এই প্রাক্তন তারকা ফুটবলার। দীর্ঘ টাল বাহানার পর মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট নামছে আইএফএ শিল্ডের(IFA Shield) ম্যাচে। আগামী ৯ অক্টোবর তাদের প্রথম ম্যাচ। হোসে মোলিনার কোচিংয়ে সোমবার থেকে তারই প্রস্তুতিতে নেমে পড়ল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কিন্তু সেখানেই যোগ দিলেন না জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren) এবং জেসন কামিন্স(Jason Cummins)। এই মুহূর্তে মোহনবাগানের সেরা দুই ফুটবলার তারাই। কেন তারা আসেননি সেই খোঁজ নিতেই কার্যত সকলে হতবাক। দলের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভিয়েতনাম থেকে ফিরতে পারলেন না কামিন্স ও ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। দক্ষিণ কোরিয়ায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন দুই তারকা ফুটবলার। শোনা যাচ্চে ফেরার বিমান নাকি মিস করেছেন তারা। এর ফলেই পিছিয়ে গিয়েছে তাদের ফেরার সময়। এমন কথা শোনার পরই দুই ফুটবলারের পেশাদায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন মানস ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মানস ভট্টাচার্য জানান, “এমনটা কী করে করে তারা। পেশাদার ফুটবলারদের থেকে এমনটা আশা করা যায় না। তারা তো জানত যে অনুশীলনের সূচি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আর কী করা যাবে, ৯ তারিখ ম্যাচ, আগামীকালই হয়ত তারা চলে আসতে পারবেন”। আইএফএ শিল্ড ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই মোহনবাগান প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে। এবার শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার।
বিদেশিহীন আহালের কাছে বড় ধাক্কা মোলিনার মোহনবাগানের

দ্বিতীয়ার্ধে রবসন(Robson Robinho), ম্যাকলরেনকে(Jamie Maclaren) একসঙ্গে খেলিয়েও গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থই হল মোহনবাগান(MBSG) সুপারজায়ান্ট। বিদেশিহীন আহাল এফকের(Ahal FK) কাছে ঘরের মাঠে ১-০ গোলে হারতে হল হোসে মোলিনার(Jose Molina) মোহনবাগানকে(MBSG)। ঘরের মাঠের সুযোগ সেভাবে কাজে লাগাতেই পারল না মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট। বরং একের পর এক সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। আহালের ১৭ নম্বর জার্সিধারি যে ফুটবলারকে নিয়েই এবার সবচেয়ে বেশি চর্চা হয়েছিল, তাঁর গোলেই হারতে হল মোহববাগানকে। এই ম্যাচের আগে রবসন রোবিনহোর(Robson Robinho) দিকে সবচেয়ে বেশি নজর ছিল সকলের। হবে নাই বা কেন ম্যাচের আগে তাকে যে কোচ দশে দশ নম্বর দিয়েছিলেন। কিন্তু রবসনকে প্রথম একাদশে রাখেননি তিনি। হয়ত রবসনকে নিয়ে শেষ মুহূর্তে চমক দেওয়ারই একটা পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে রবসনকে নামিয়েছিলেন এই মোলিনা। রবসনের শটটা মিস না হলে ম্যাচের ভবিষ্যত পাল্টাতেও পারত। কিন্তু সেটা হয়নি। শেষপর্যন্ত যুবভারতীতে তিন পয়েন্ট খুইয়েই মাঠ ছাড়তে হল মোলিনার(Jose Molina) ব্রিগেডকে। এদিন প্রথমার্ধের থেকে দ্বিতীয়ার্ধে বারবার চাপ তৈরি করলেও, বহু সুযোগ নষ্টের খেসারতই দিতে হল সবুজ-মেরুণ ব্রিগেডকে। প্রথমার্ধের শুরু থেকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল মোহনবাগান। কিন্তু সেভাবে সুযোগ তারা তৈরি করতে পারেননি। কিয়ান নাসিরির একটা সুযোগ এবং লিস্টন কোলাসোর আক্রমণ ছাড়া সেভাবে চোখে পড়েনি মোহনবাগানের আক্রমণ। বরং আহাল কয়েকবার বেশ চাপে ফেলে দিয়েছিল মোহনবাগানকে। এদিনের ম্যাচে কয়েকবার তো বিশালের জন্যও বেঁচেছে মোহনবাগান। বিরতির পর ছক বদল মোহনবাগানের। আক্রমণে ঝাঁজও বেড়েছিল। কিন্তু বারবারই আটকে যাচ্ছিল তারা। পাল্টা আক্রমণও কিন্তু চালিয়ে যাচ্ছিল আহাল এফকে। মোহনবাগানকে নিয়ে যে তারা ভালোভাবেই প্রস্তুত হয়ে এসেছিল, তা বারবারই এদিনের ম্যাচে বোঝা যাচ্ছিল। একের পর এক সুযোগ নষ্টের চাপ বাড়াতে পরপর ম্যাকলরেন এবং রবসনকে মাঠে পাঠিয়ে দেন কোচ মোলিনা। রবসন রোবিনহো সুযোগ পেয়েও গিয়েছিলেন। তাঁর শট পোস্টে না লাগলে ফলাফল অন্যরকম হতেই পারত। কিন্তু শেষপর্যন্ত তা হয়নি। ম্যাচের বয়স যখন ৮৩ মিনিট সেই সময় এনওয়ের আনায়ের গোলেই এগিয়ে যায় আহাল এফকে। মোহনবাগান আর ফিরে আসতে পারেনি ম্যাচে। প্রথম পর্বের ম্যাচে হেরে সবুজ-মেরুন যে খানিকটা চাপে পড়ে গেল তা বলাই যায়।