বিরাট, সচিনদের পিছনে ফেলে বিশ্বরেকর্ডের মালিক শাই হোপ

নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী সেঞ্চুরি। দল হারলেও ন্যাপিয়ারে ক বিরাট রেকর্ডের মালিক হলেন শাই হোপ(Shai Hope)। যে কাজ সচিন(Sachin Tendulkar), দ্রাবিড় এবং বিরাট কোহলির(Virat Kohli) মতো ক্রিকেটাররাও করতে পারেননি, সেটাই করে দেখালেন ক্যরিবিয়ান অদিনায়ক শাই হোপ(Shai Hope)। প্রথম ক্রিকেটার হিসাবে বিশ্ব ক্রিকেটের ১২ টি টেস্ট খেলা দেশের বিরুদ্ধেই সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। তাঁর পিছনে রয়েছেন ভারতের একমাক্র রাহুল দ্রাবিড়। নিউ জিল্যান্ডের(New Zealand) বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজ(West Indies) জিততে পারেনি ঠিকই। কিন্তু দুরন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন শাই হোপ। কার্যত তাঁর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে ভর করেই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খানিকটা ভদ্রস্থ জায়গায় পৌঁছতে পেরেছিল ক্যরিবিয়ান ব্রিগেড। সেখানেই শাই হোপের অসাধারণ সেঞ্চুরি ইনিংস। ১০৯ রানের ইনিংস খেলে ব্রায়ান লারার রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেললেন হোপ(Shai Hope)। এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওডিআই ফর্ম্যাটে ১৯টি সেঞ্চুরিও করে ফেললেন তিনি। তাদের সামনে রয়েছেন শুধুমাত্র ক্রিস গেইল। নিউ জিল্যান্ডের ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধেই খেলতে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুটা ভালোভাবে করতে বা পারলেও, শাই হোপ মাঠে আসার পরই বদলে গিয়েছিল চিত্রটা। তাঁর একের পর এক বড় শটে ভর করেই খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ওয়েস্ট ই্ন্ডিজ। যদিও ক্যারিবিয়ান ব্রিগেড জিততে পারেননি সেই ম্যাচ। কিন্তু সেখানেই ৬৯ রানে ১০৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন শাই হোপ। তাঁর গোটা ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৩টি চার এবং ৪টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বৃষ্টি বিঘ্নিত এই ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পরই বিরাট, সচিনদের টপকে নতুন রেকর্ডের মালিক শাই হোপ।
বিশ্বকাপ জয়ের পরই শেফালির মুখে সচিন স্তুতি

বিশ্বকাপটা খেলার কথাই ছিল না তাঁর। কিন্তু সেই শেফালি বর্মাই(Shafali Verma) মহিলাদের বিশ্বকাপের ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ম্যাচ শেষে শেফালি(Shafali Verma) যে আপ্লুত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেইসঙ্গে তাঁর মুখে সচিনের নামই শোনা গেল। সচিন তেন্ডুলকরকে(Sachin Tendulkar) দেখেই নাকি অনুপ্রানিত হয়েছেন। আর সেটাই যে তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কথাই শোনা গেল শেফালির মুখেও। প্রতিকা রাওয়ালের পা ভেঙে যাওয়ায় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আসে শেফালির(Shafali Verma) সামনে। সেই সময় থেকেই তিনি জানতেন কিছু একটা ভাল করার জন্যই নাকি এই সুযোগ পেয়েছেন। সেমিফাইনালে ব্যর্থ। কিন্তু ফাইনালেই সেই শেফালি হয়ে উঠল ভারতের প্রধান অস্ত্র। সর্বোচ্চ ৮৭ রান যেমন তিনি করলেন, তেমনই আবার তিনটি উইকেটও তুললেন। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন তিনি। আর ম্যাচ শেষে শেফালির মুখে সচিনের কথা। সচিনকে দেখেই পেয়েছিলেন অনুপ্রেরণা। মাস্টার ব্লাস্টারের কথাই তাঁকে জুগিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। ম্যাচ শেষে শেফালি বর্মা জানান, “আমি শুরুতেই বলেছিলাম যে ভগবান ভালো কিছু করার জন্যই আমাকে বোধহয় এখানে পাঠিয়েছিল। আর সেটা এই ম্যাচেই প্রমাণিত হল। আমি যখন ফাইনালের দিন সচিন তেন্ডুলকরকে সামনে দেখলাম, সেই মুহূর্তটাই আমাকে শক্তি যুগিয়েছিল। আমি তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত কথা বলেছলাম, সেটাই আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছিল আমাকে। তিনি ক্রিকেটের মাস্টার। আর সেটা আমাদের সকলের কাছেই ছিল অনুপ্রেরণা”। ফাইনালের দিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন শেফালি বর্মা। একের পর এক বড় শটে কার্যত নাজেহাল করে দিয়েছিলেন প্রোটিয়া বাহিনীকে। ৮৭ রানের ইনিংস যেমন খেলেছিলেন। তেমনই বল হাতেও হয়েছিলেন সফল। তুলে নিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের তিনটি উইকেট।
সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে ব্র্যাডম্যানের তালিকায় যশস্বী

ওয়েস্ট ইন্ডজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টেই ফর্মে ফিরলেন ভারতীয় দলের তরুণ তারকা যশস্বী জয়সওয়াল(Yashasvi Jaiswal)। সেইসঙ্গেই গড়লেন এক বিরাট নজিরও। ডন ব্র্যাডম্যান(Don Bradman), সচিন তেন্ডুলকরদের(Sachin Tendulkar) সঙ্গে এক তালিকায় নাম তুললেন ভারতীয় দলের এই তরুণ ক্রিকেটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসেই দুরন্ত সেঞ্চুরি করলেন তিনি। সেটাও আবার একেবারেই যশস্বী জয়সওয়ালের(Yashasvi Jaiswal) নিজস্ব স্টাইলে। তাঁক সেঞ্চুরি নিয়েই এখন শোরগোল ভারতীয় ক্রিকেট মহলে। শেষবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওভাল টেস্টে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন যশস্বী জয়সওয়াল(Yashasvi Jaiswal)। সেই পারফরম্যান্সের পর থেকেই গ্রাফটা খানিকটা পড়তে শুরু করেছি যশস্বী। এমনকি সম্প্রতি টেস্ট ব্যাটারদের ক্রিম তালিকায় নিজের জায়গাও হারিয়েছিলেন যশস্বী। পাঁচ নম্বর থেকে সাত নম্বরে নেমে গিয়েছিলেন তিনি। একের পর এক ব্যর্থতার জন্যই এমনটা হয়েছিল। অবশেষে ফর্মে ফিরলেন ভারতীয় দলের এই তরুণ তারকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে নেমেই সেঞ্চুরি ইনিংস খেললেন তিনি। তাও আবার ১৪৫ বল খেলেই সেঞ্চুরি করার নজির গড়লেন তিনি। এই সেঞ্চুরির সঙ্গেই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের তালিকায় নিজের নাম তুললেন এই তারকা ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৪ বছর বয়সের আগেই সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় নিজের নাম তুললেন তিনি। এখনও পর্যন্ত এই তালিকায় ১২ সেঞ্চুরি করে শীর্ষস্থানে রয়েছেন ডন ব্র্যাডম্যান। তাঁরপরই ১১টি সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সচিন তেন্ডুলকর। তিন নম্বরেই নিজের জায়গা করে নিলেন ভারতীয় দলের এই তরুণ সেনসেশন। টেস্ট কেরিয়ারে সাতটি সেঞ্চুরি করে ফেললেন যশস্বী জয়সওয়াল। তাঁর সঙ্গে একই তালিকায় রয়েছেন অ্যালেস্টার কুক, কেন উইলিয়ামসনদের মতো তারকা ক্রিকেটাররাও। ক্রিজে অপরাজিতই রয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল। দেড়শো রানের গন্ডী ইতিমধ্যেই পার করে ফেলেছেন তিনি। যশস্বীকে নিয়ে এখন সকলে দ্বিশতরানের আশাতেই রয়েছে।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে গিলের মুখে বিরাট, সচিনের কথা

মাঝে আর একটা দিন। এরপরই এশিয়া কাপের(Asia Cup) গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে চির প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামছে ভারতীয় দল। সেই ম্যাচেই আবার সহ অধিনায়কের দায়িত্ব রয়েছে শুভমন গিলের(Shubman Gill) কাঁধে। দায়িত্ব যে তাঁর কাঁধে অনেকটাই বেশি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামার আগে গিলের মুখে তাঁর দুই অনুপ্রেরণার কথা। সচিন তেন্ডুলকর(Sachin Tendulkar) এবং বিরাট কোহলির(Virat Kohli) কথা মাথায় রেখেই নাকি পাক বধের ছক কষছেন শুভমন গিল(Shubman Gill)। পহেলগাম(Pahelgam) ঘটনার পর এই প্রথমবার ক্রিকেটের বাইশগজে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান(INDvPAK)। ম্যাচ ঘিরে যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঠের বাইরের পর এবার বাইশ গজেও ভারতীয় দল অপারেশন সিঁদুর করতে পারে কিনা সেটা তো সময়ই বলবে। তবে তার আগে শুভমন গিল(Shubman Gill) দুজনের কথা মাথায় রেখেই নিজেকে প্রস্তুত করছেন। সচিন তেন্ডুলকর ছোট থেকেই শুভমন গিলের(Shubman Gill) কাছে অনুপ্রেরণা। ট্যাকটিকাল জিনিস এবং মানসিক পরিকল্পনায় যেমন সচিন তেন্ডুলকরের খেলা তাঁকে সাহায্য করেছেন। তেমনই আবার ক্রিকেটের বাইশগজে রান পাওয়ার যে খিদেটা রয়েছে, সেটা বিরাট কোহলির থেকেই শিখেছেন তিনি। একটি পডকাস্ট শো-এ শুভমন গিল(Shubman Gill) জানিয়েছেন, “আমার অনুপ্রেরণা দুজন। প্রথম জন হলেন সচিন তেন্ডুলকর। তিনি আমার বাবার প্রিয় ক্রিকেটার। তাঁকে দেখেই কার্যত আমার ক্রিকেট খেলতে আসা। সচিন তেন্ডুলকরের থেকে যতটা শিখেছি সেটা হল মানসিক শক্তি এবং নানান ট্যাকটিকাল জিনিস”। তিনি আরও জানান, “বিরাট কোহলিকে যখন দেখতে শুরু করেছিলাম, সেই সময় থেকেই তাঁর মধ্যে খেলার যে খিদে, দৃড়তা সেগুলোই শিখতে শুরু করেছিলাম”। এই এশিয়া কাপে(Asia Cup), বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাটিং লাইনআপে যে ভারতীয় দলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র শুভমন গিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কার্যত তাঁর কাঁধেই থাকছে রান করার গুরু দায়িত্ব। গ্রুপের সবচেয়ে হাই ভোল্টেজ ম্যাচে নামার আগে সেই শুভমন গিলের মুখে বারবারই সচিন তেন্ডুলকর এবং বিরাট কোহলির কথা। তাদের কথা মাথায় রেখেই হয়ত পাক বধের ছক কষছেন তিনি। ১৪ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামছে ভারত। সেখানেই অভিষেক শর্মার সঙ্গে ওপেনিংয়ে থাকছেন শুভমন গিল। পহেলগাম ঘটনার পর এই ম্যাচের গুরুত্ব যে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইতিমধ্যে ম্যাচ বয়কটের ডাক দিতে শুরু করেছেন অনেকে। ভারত মাঠে পাকিস্তানকে এবার কড়া জবাবটা দিতে পারে কিনা সেটাই দেখার।
ওয়াংখেড়েতে বঞ্চিত কেন শাস্ত্রী? প্রশ্ন তুলে চিঠি এমসিএ প্রেসিডেন্টকে

সচিন তেন্ডুলকর, রোহিত শর্মা, অজিত আগরকর, শরদ পাওয়াররা নানাভাবে সম্মানিত হয়েছেন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। কিন্তু রবি শাস্ত্রী উপেক্ষিত। কেন এই প্রশ্ন তুলে এমসিএ প্রেসিডেন্ট অজিঙ্ক নায়েককে চিঠি দিলেন মুম্বইয়ের প্রাক্তন অধিনায়ক শিশির হাত্তারাঙ্গি। তিনি বিশদে জানিয়েছেন, শাস্ত্রী শুধু স্যর গ্যারি সোবার্সের মত ৬ বলে ৬ ছক্কাই হাঁকাননি, ক্রিকেটার হিসাবে তাঁর উজ্জ্বল কেরিয়ার, কোচ হিসাবে ভারতকে আরও আধুনিক করে তোলা, দুর্দান্ত ধারাভাষ্যকার – সব উল্লেখ করে ভারতীয় ক্রিকেটে তাঁর প্রভাবকে ব্যাখ্যা করেন। প্রসঙ্গত গত ১৬ মে ওয়াংখেড়েতে রোহিত শর্মা, অজিত ওয়াদেকর ও শরদ পাওয়ারের নামে স্ট্যান্ডের নামকরণ হয়েছে। আগে সুনীল গাভাসকর, সচিন তেন্ডুলকর ও দিলীপ বেঙ্গসরকারের নামেও স্ট্যান্ড হয়েছে। কিন্তু বিস্ময়করভাবে বাদ রবি শাস্ত্রী। এমসিএ প্রেসিডেন্টকে লেখা চিঠিতে হাত্তারাঙ্গি লিখেছেন, স্যর আমি শিধি একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের জন্য লিখছি না, বলতে চাইছি এমন একজনের জন্য, যিনি এক দশকেরও বেশি সময় মুম্বই ক্রিকেটের সেবা করেছেন। তিনি আশা করেছেন মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই ব্যাপারটা নতুনভাবে পর্যালোচনা করে দেখবে। পাশাপাশি তিনি এ কথাও জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর এই বক্তব্য কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। রবি শাস্ত্রী দেশের হয়ে ৮০টি টেস্ট ও ১৫০টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন। ১৯৮৩-র বিশ্বজয় ও ১৯৮৫-র চ্যাম্পিয়ন অফ চ্যাম্পিয়নস খেতাব জিতেছিলেন। তাছাড়া মুম্বইয়ের হয়ে রয়েছে বিশাল অবদান। এখন হাত্তারাঙ্গির চিঠির পর এমসিএ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই দেখার।
শচীনের পাশে বিরাট, আইপিএল থেকে সরলেও আফসোস থাকবে না: শেহবাগ

বাদিকে আইপিএল ট্রফি হাতে বিরাট। ডানদিকে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর শচিন তেন্ডুলকর।
বেঙ্গালুরুর ট্র্যাজেডিতে বাকরুদ্ধ, মর্মাহত দেশের ক্রিকেট মহল

আরসিবি ট্র্যাজেডির পর একদিকে চলছে বিতর্ক। দায় কার, তা নিয়ে জোর আলোচনা। পাশাপাশি বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসছে শোকবার্তা। মর্মাহত, বাকরুদ্ধ গোটা বিশ্বের ক্রিকেট মহল। হতবাক দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। ৮৩-র বিশ্বজয়ী তারকা সৈয়দ কিরমানি বলেন, তাঁদের সময়ে এত বেশি টিভি চ্যানেল ছিল না। এত বেশি হাইপ উঠত না। তাই এখন এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বাড়ে। নিরাপত্তার সব দিক খতিয়ে দেখে নেওয়া উচিত ছিল। সচিন তেন্ডুলকর জানান, বিরাট বড় ট্র্যাজেডি। ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারকে হৃদয় থেকে সমবেদনা জানিয়েছেন মাস্টার ব্লাস্টার। অনিল কুম্বলে পোস্ট করেছেন, ক্রিকেটের জন্য দুঃখের দিন। গভীর সমবেদনা জানাই। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। মদনলাল রীতিমত ক্ষিপ্ত। আরসিবি ম্যানেজমেন্টের খারাপ পরিকল্পনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেন, পরের দিনই তাড়াহুড়ো করে এমন অনুষ্ঠান করার কী দরকার ছিল? যুবরাজ সিং, ইরফান পাঠান, মনোজ তিওয়ারিরাও সমবেদনা জানিয়ে পোস্ট করেছেন। আরসিবির কিংবদন্তি দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার এবি ডিভিলিয়ার্সও জানিয়েছেন এমন মর্মান্তিক ঘটনায় তাঁর হৃদয় কাঁদছে। কিরমানি, মদনলালরা একেবারে ঠিক জায়গাটাতেই আলা ফেলেছেন। এত তাড়াহুড়ো করার কী দরকার ছিল একটু সময় নিয়ে সব পরিকল্পনা ঠিকমত করেই তো এই অনুষ্ঠান করা যেত। এ কারণেই অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বকাপ জিতে আসার পর মুম্বইয়ে তো অনেক বড় অনুষ্ঠান হয়েছিল! তখন তো কোনও সমস্যা হয়নি! তাই অনেকেরই তির এই ব্যাপারটার দিকে।
কোহলির অবসরে আবেগঘন সচিন-শাস্ত্রী-গম্ভীররা, বিস্মিত মদনলাল-হরভজন

টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন বিরাট কোহলি। আ্রর তাঁর এই সিদ্ধান্তে কেউ বিস্মিত, কেউ আবেগপ্রবণ। বিসিসিআই সচিব জয় শাহ থেকে সচিন তেন্ডুলকর, রবি শাস্ত্রী, গৌতম গম্ভীর – সকলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন পোস্ট করেছেন। অন্যদিকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন মদনলাল, হরভজন সিংরা। সচিন তেন্ডুলকর, কোহলির আইডল। কোহলির অবসরের সিদ্ধান্ত জানার পর মাস্টার ব্লাস্টার পোস্ট করেছেন, “আমার মনে পড়ছে ১২ বছর আগে আমার শেষ টেস্টে তুমি তোমার বাবার কাছ থেকে যে উপহার আমাকে দিয়েছিলে, সেটা কখনও ভুলব না। তোমাকে দেওয়ার মত তেমন উপহার আমার কাছে নেই, তবে তোমার জন্য আমার শুভেচ্ছা, শুভকামনা থাকবে চিরকাল।তোমার লেগাসি পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।“ ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর কোহলির সঙ্গে দিল্লি টিমে ও জাতীয় দলে খেলেছেন। কোহলির অবসরের মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় গম্ভীর পোস্ট করেছেন, “সিংহহৃদয়! তোমাকে মিস করব চিকস।“ এতটাই আবেগে ভেসেছেন, কোহলিকে তাঁর ডাক নামে ডেকে বেশ অবাকই করেছেন ভারতীয় দলের কোচ। রবি শাস্ত্রী তাঁর প্রিয় ক্রিকেটারের অবসরের মুহূর্তে লিখেছেন, “তুমি যা করেছো, তা বিশ্বাস করা যায় না। তুমি আধুনিক ক্রিকেটের দৈত্য। এবং টেস্ট ক্রিকেটের দুর্দান্ত অ্যাম্বাস্যাডর। সুখস্মৃতিগুলোর জন্য ধন্যবাদ। এগিয়ে যাও চ্যাম্পিয়ন“ বিসিসিআই সচিব জয় শাহ পোস্ট করেছেন, “দুর্দান্ত টেস্ট কেরিয়ারের জন্য অভিনন্দন বিরাট। টি টোয়েন্টির যুগেও টেস্ট ক্রিকেটের জন্য তুমি যা করেছো, তার জন্য ধন্যবাদ। অসাধারণ শৃঙ্খলা, ফিটনেস ও দায়বদ্ধতার উদাহরণ তুলে ধরেছো। হৃদয় দিয়ে আবেগের সঙ্গে খেলেছো টেস্ট ক্রিকেটটা।“ কোহলির ছোটবেলার কোচ রাজকুমার শর্মা জানিয়েছেন, তিনি কোহলির সঙ্গে কথা বলবেন, তবে এটা কোহলির নিজের সিদ্ধান্ত। তিনি মনে করেন সেরা ফর্মে থেকে অবসর নিয়ে দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন কোহলি। আমাদের বেশিরভাগ ক্রিকেটার সঠিক সময়ে অবসর নিতে পারেন না, এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন কোহলির কোচ। তিনি আরও বলেন, “এটা কোহলির স্টাইল। বিরাটের অধিনায়কত্ব ওর লেগাসি।“ “তবে কোহলির সিদ্ধান্তে বেশ অবাক বেশ কিছু প্রাক্তন ক্রিকেটার। তাঁরা মনে করছেন একটু তাড়াহুড়ো করে ফেললেন কোহলি। যেমন ১৯৮৩-র বিশ্বজয়ী ক্রিকেটার মদনলাল জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড সফর পর্য়ন্ত অপেক্ষা করতে পারতেন কোহলি। হরভজন সিং প্রশ্ন তুলেছেন, কেন হঠাৎ অবসর? খুবই অবাক ভাজ্জি। প্রায় একই সময়ে রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় শেষ হল একটা বর্ণময় যুগের।
ইংল্যান্ডে সফল নয় বিরাট, তা হলে শচীনকে দিয়ে জোর করার চেষ্টা কেন!

এটা ঘটনা। ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজে সাফল্য নেই বিরাট কোহলির। তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দাপটের সঙ্গে ব্যাটিং করেছেন। তবে গতবছরের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট সিরিজে তিনি রান পাননি। শুরুটা ( একটা সেঞ্চুরি) দারুন করেও হারিয়ে যান। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে বারবর আউট হয়েছেন। এমন পারফরম্যান্সে বিরক্ত হয়ে নিজেই সতীর্থদের বলেছিলেন, আর নয়। আমি আর টেস্ট সিরিজ খেলব না। তাঁর কথা শুনে সতীর্থরা ভেবেছিলেন, বিরাট বুঝি মজা করছেন। দেশে ফিরে এ নিয়ে আর কথা হয়নি। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সকলে ভুলে গিয়েছিলেন টেস্ট সিরিজ নিয়ে বিরাটের পুরনো কথা। এরই মাঝে ইংল্যান্ড সিরিজ চলে এল। তখনও নিজেকে নিয়ে সেভাবে ভাবেননি। রোহিত অধিনায়ক হয়ে ইংল্যান্ড যাবেন। এটা যেমন রোহিত ভেবেছিলেন, তেমনই বিরাটের মনে হয়েছিল এই সিরিজে নিজেকে যাচাই করা। কিন্তু সব কিছু গোলমাল হয়ে গেল। নির্বাচকদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসে টিম ম্যানেজমেন্ট ঠিক করে রোহিতকে অধিনায়ক করা হবে না। এবার নতুন একজন অধিনায়ককে দরকার। তরুন ক্রিকেটার হলে ভাল হয়। আগামিদিনে সে দলকে টেনে নিয়ে যাবে। এই খবর বাইরে আসার পর রোহিত বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে নিজের ভবিষ্যত পড়ে নিতে চান। বুঝে যান এ ব্যাপারে বোর্ড হাত গুটিয়ে থাকছে। আর তখনই অবসরের সিদ্ধান্ত। এটা সবাই এতদিনে জেনে গিয়েছেন। বিরাটের ক্ষেত্রেও ঘটনা অনেকটা একইরকম। নির্বাচকরা চাইছিলেন, ইংল্যান্ড সিরিজে বিরাটকে দেখে নেওয়া হবে। রান পেলে ভাল, নইলে ইংল্যান্ড সিরিজের পর জানিয়ে দেওয়া হবে তাঁকে নিয়ে কিছু ভাবা হচ্ছে না। রোহিতের সঙ্গে কথা বলার পর পর্দার আড়ালে থাকা অনেক কিছু বিরাটের সামনে আসে। তিনিও ঠিক করেন, এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। টেস্ট ক্রিকেট খেলার দরকার নেই। তারপর ইমেল করে বোর্ডকে সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দেন। এই মেল পাওয়ার পর টনক নড়ে বোর্ডের। রোহিত বেরিয়ে গিয়েছেন। বিরাটও চলে গেলে দল চাপে পড়বে। মিডলঅর্ডারে দলের হল ধরবেন কে! তরুন ক্রিকেটারদের উপর কতটা ভরসা করা যায়! তাই বিরাটকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বলা হয়। নতুন করে ভাবতে বলা হয়। এটাও শোনা যায়, বিরাটকে রাজি করাতে বোর্ড একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের সাহায্য নিতে চলেছে। যাঁর কথা শুনে বিরাট নতুন করে ভাবতে বসবেন। তিনি কে! হ্যাঁ, শচীন তেন্ডুলকরকে এই কাজে লাগাবার কথা ভাবেন বোর্ড কর্তারা। সেটা কি সম্ভব হবে! শচীনের কথা শুনে বিরাট আবার নিজেকে নিয়ে ভাবতে বসবেন! মনে হয় না। সিদ্ধান্ত বদলাতে হলে বিরাটকে একবার বললে তিনি দেশের কথা ভেবে একটা সিরিজ খেলে দিতেন। কিন্তু কেন তিনি খেলবেন। নির্বাচকদের মিটিংয়ে যখন বিরাট নিয়ে অন্য ভাবনায় তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন, তখন তো একবার কথা বলে নিতে পারতেন। বলতেই পারতেন বিরাট তোমাকে নিয়ে আমরা এমন ভাবনা ভেবে রেখেছি। তোমার কি মত আমাদের জানাও। সেটা তাঁরা করেননি। কিন্তু ক্রিকেটারদের নিয়ে মিটিংয়ের কথা বাইরে আসতে দেরি হয়নি। এখন কেন তাঁকে নিয়ে টানাটানি! রোহিতকে যে কারনে সরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়, সেই একই কারনে বিরাটকেও বাইরে রাখা যায়। ইংল্যান্ডের মাঠে বিরাট এখনও পর্যন্ত খেলেছেন ১৭টি ম্যাচ। রান করেছেন ১০৯৬। গড় ৩৩.২১। দুটি সেঞ্চুরি, পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি। সেরা ইনিংস ১৪৯। শেষ সিরিজে (২০২১) বিরাট পাঁচ ম্যাচে করেছেন ২৪৯ রান। গড় ২৩.৬৬। পরিসংখ্যান বলছে, ইংল্যান্ডে বিরাটকে দারুন সফল ক্রিকেটার বলা যায় না। তা হলে তাঁকে নিয়ে এত টানাটানি কেন! নির্বাচকদের সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্ট সামনে তাকাতে চান। সেটাই তাঁরা করুন। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে নিয়ে নিজেদের উপরও চাপ বাড়াবার দরকার নেই। তরুনদের সামনে ছাতা চাঁরা নিজেরা ঘোরাতে পারবেন। তাই এখন বিরাটকে দলে নিতে এত জোরাজুরি কেন! এর তো কোনও কারন দেখা যাচ্ছে না।