চোট আর মাঠে ফেরা নিয়ে নিজেই আপডেট দিলেন শ্রেয়স

প্লিহায় রক্তক্ষরণের জেরে এখনও শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) সিডনির (Sydney) হাসপাতালে ভর্তি। তবে সুস্থ হয়ে উঠছেন টিম ইন্ডিয়ার একদিনের ম্যাচের সহ-অধিনায়ক। হাসপাতাল থেকে নিজেই শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানালেন শ্রেয়স। সোশাল মিডিয়া পোস্টে পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক বললেন, “আমি এই মুহূর্তে চিকিৎসার মধ্যে রয়েছি। তবে প্রতিদিনই শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আপনারা যেভাবে এই কঠিন সময়ে আমাকে সমর্থন করছেন, আমার আরোগ্য কামনা করে একের পর এক বার্তা পাঠাচ্ছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে নিয়ে প্রার্থনা করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।” জানা গিয়েছে শ্রেয়স এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে এখনই দেশে ফেরানো হচ্ছে না তাঁকে। যতদিন না বিমানের ধকলের জন্য তাঁর শরীর তৈরি হচ্ছে, ততদিন তাঁকে সিডনিতেই থাকতে হবে তাঁকে। সিডনিতে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ নিতে গিয়ে ভয়ানক চোট পেয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। তড়িঘড়ি তাঁকে সিডনির হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার সকালে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও উদ্বেগ কাটিয়ে আইসিইউ থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শারীরিক অবস্থারও দ্রুত উন্নতি হচ্ছে তাঁর। প্লীহার ক্ষত ঠিক করতে বিশেষ এক পদ্ধতি অবলম্বন করে তাঁর চিকিৎসা করেছেন চিকিৎসকরা। বোর্ড সূত্রের খবর, শ্রেয়সের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে। টিম ইন্ডিয়ার এক চিকিৎসক সিডনিতেই রয়েছেন। তাঁর পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে আরও ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। যার অর্থ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তাঁকে পাওয়া যাবে না। বিসিসিআই (BCCI) সূত্র বলছে, জানুয়ারিতে তিনি ফিট হয়ে যেতে পারেন।
আইসিইউ থেকে বেরোলেন শ্রেয়সঃ আরও দু’দিন থাকতে হবে হাসপাতালে

তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই চোটের জেরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল শ্রেয়স আয়ারকে (Shreyas Iyer)। প্রথমে আইসিইউতে ভর্তি করানো হলেও সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ব্যাটারকে। জানা গিয়েছে, শ্রেয়সের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়েছে। ক্রিকবাযে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী শ্রেয়স আপাতত বিপন্মুক্ত। মাটিতে সজোরে ধাক্কা খাওয়ার জন্যই রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। বোর্ডের (BCCI) চিকিৎসক রিজ়ওয়ান খান সবসময় রয়েছেন শ্রেয়সের পাশে। বাকি দল ক্যানবেরায় চলে গিয়েছে। শ্রেয়সের চিকিৎসা নিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শ্রেয়সের পাশে থাকার জন্য তাঁর কিছু বন্ধুও সিডনির (Sydney) হাসপাতালে পৌঁছেছেন। ভিসা সমস্যা মিটলে তাঁর পরিবারেরও দ্রুত সিডনি পৌঁছে যাওয়ার কথা। নতুন সপ্তাহ সবে শুরু হওয়ায় ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে তাঁদের। সোমবার পর্যন্ত ঠিক নেই শ্রেয়স কবে দেশে ফিরবেন। বোর্ড, দল পরিচালন সমিতি, শ্রেয়সের পরিবার— কেউই দ্রুত দেশে ফেরাতে রাজি নন। তাই আগামী কয়েক দিন তাঁকে সিডনিতেই রাখা হতে পারে। আগামী অন্তত দু’দিন হাসপাতালে থাকবেন। পুরোপুরি সুস্থ হলে তবেই দেশের বিমান ধরবেন তিনি। ছেলের পাশে থাকতে চাইছেন বাবা সন্তোষ আয়ার এবং মা রোহিনী আয়ার। তাঁরা জরুরি ভিসার আবেদন করেছেন। বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘ওঁদের যত দ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সব চেষ্টা করা হচ্ছে। বাবা-মা দু’জনেই যেতে পারবেন কিনা, এখনও নিশ্চিত নয়। তবে হাসপাতালে শ্রেয়সের কাছে পরিবারের কারও এক জনের থাকা প্রয়োজন। রবিবারই শ্রেয়সের বোনের সিডনি যাওয়ার কথা ছিল। কাগজপত্রের কাজও সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শ্রেয়সের বাবা-মায়ের এক জন তাঁর সঙ্গে যাবেন। তাই শ্রেয়সের বোন রবিবার যেতে পারেননি।’’ উল্লেখ্য, তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারের ক্যাচ ধরতে গিয়ে পাঁজরে লাগে শ্রেয়সের। মাঠে কিছু ক্ষণ চিকিৎসা হয়েছিল শ্রেয়সের। তার পর হেঁটেই সাজঘরে ফেরেন শ্রেয়স। কিন্তু তার পরে তাঁর শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ভারতীয় দলের চিকিৎসক এবং ফিজিয়ো কোনও ঝুঁকি নেননি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এক দিনের দলের সহ-অধিনায়ককে। তার পর থেকে আইসিইউ-তেই রয়েছেন শ্রেয়স।