কস্টার্জিত জয় ইস্টবেঙ্গলের

কন্যাশ্রী কাপে খেলার একটা মুহূর্ত। মঙ্গলবার।
অশ্বিন বলছেন, এখনও দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার ছিল রোহিত, বিরাটের

টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচশোর উপর উইকেট। প্রায় একই সঙ্গে টেস্ট কেরিয়ার শুরু রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলিদের সঙ্গে কত সাফল্য ভাগ করে নিয়েছেন। ব্যর্থতাও পিছু ছাড়েনি। কিন্তু সাফল্যের ছবি বেশি দেখেছেন। তাই রোহিত ও বিরাটের অবসর মন থেকে মেনে নিয়ে পারছেন না। গতবছর অস্ট্রেলিয়ার মাঠে হঠাৎ করে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন অশ্বিন। একদিন রোহিতের পাশে বসে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে এসে অশ্বিন জানিয়ে দিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর নয়। লোকাল ক্রিকেট ও আইপিএল খেলবেন। কিন্তু এর বেশি নয়। সেই অশ্বিন আশা করেছিলেন, ভারতীয় দলের আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজে রোহিত দলকে নেতৃত্ব দেবেন। মিডলঅর্ডারের দায়িত্ব সামলাবেন বিরাট। কিন্তু তাঁদের অবসরে অনেকের মতো অবাক অশ্বিনও। বলছেন, ২০ জুন লিডসে ভারতীয় দল প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে। সেদিনের লাইন আপে রোহিত ও বিরাটকে দেখতে পাওয়া যাবে না। সবাই মিস করবে। একটা অনভিজ্ঞ দল নিয়ে ভারত খেলতে নামবে। আমি এখনও বিশ্বাস করি, রোহিতের কম্পোজার এবং বিরাটের এনার্জি দলকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যেত। ওদের এখনও দেশকে অনেক কিছু দেওয়ার ছিল। ওরা হারিয়ে যায়নি। কিন্তু হঠাৎ করে অবসর নিয়ে নিজেদের সরিয়ে নিল। গত দশ-বারো বছর ধরে দেখে আসছি বিরাট ও রোহিত কীভাবে দলকে টেনে নিয়ে এসেছে। প্রথমে বিরাট অধিনায়ক ছিল। কত সাফল্য আমরা পেয়েছি। তরপর রোহিত আসার পর সাফল্য আমাদের ছেড়ে যায়নি। অভিজ্ঞতা একদিনে আসে না। কোথাও কিনতে পাওয়া যায় ন। তাই ইংল্যান্ড সিরিজে ওকে খুব দরকার ছিল। তারপর না হয় অন্য কিছু ভাবা যেত। যাক, সে আর হল কোথায়! এখন নতুনদের নিয়ে চলতে হবে। রোহিতের পর এবার দলকে কে নেতৃত্ব দেবেন! এই প্রশ্ন উঠেছে। তবে কি বুমরা। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মাঠে পারথ টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারপর শেষ টেস্টে রোহিতের অবর্তমানে বুমরার কাঁধে দলের নেতৃত্বের ভার ওঠে। এবর কি তাহলে বুমরা! অনিল কুম্বলে, হরভজন সিংর এ ব্যাপারে বুমরাকি এগিয়ে রেখেছেন। অশ্বিন উল্টোপথে হাঁটলেন না। তিনি বলছেন, এই দলের মধ্যে সিনিয়র ক্রিকেটার বুমরা। ওর উচিত দলকে নেতৃত্ব দেওয়া। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। এখন এটা পুরোপুরি নির্ভর করবে নির্বাচকদের উপর। শুনছি, শুভমন গিলকে নাকি অধিনায়ক রর হবে। ঋষভ পন্থ সহ অধিনায়ক। বুমরা চোটের কারনে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। বুমরা সরে দাঁড়ালে অন্য কথা। নির্বাচকরা না চাইলে আলদা। তবে আমর ভোট বুমরার দিকে থাকবে। েখন দেখার ব্যাপার, কাকে অধিনায়ক করা হয়। শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, ভারতীয় দলের শেষ ইংল্যান্ড সফরে রেহিতের অধিনায়কত্বে ভারত সিরিজ ২-১ করেচিল। শেষ টেস্টে রোহিত চোটের কারনে সরে দাঁড়ান। তখন বোর্ডের পছন্দের তালিকায় থাকা বুমরা অধিনায়ক হন। তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন। ভারত অবশ্য সেই ম্যাচ হারে। সিরিজ ২-২ হয়। তাই অভিজ্ঞতা বুমরা আছে। এখন দেখার ব্যাপার অভিজ্ঞতা তারুন্যের কাছে হার মানে কিনা।
জকোভিচ-মারে সম্পর্কের ইতি

কোচ হিসেবে মারের পরামর্শ নিচ্ছেন জকোভিচ। যা এখন অতীত।
রাসেলদের নিয়ে চিন্তায় নেই কেকেআর, নিশ্চিন্তে গুজরাটও

শনিবার থেকে আবার শুরু হয়ে যাচ্ছে আইপিএল। এক সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড জানিয়ে দিয়েছে ১৭মে থেকে আইপিএল শুরু হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিভিন্ন দশ দলের কর্তারা নিজেদের আবার গোছাতে শুরু করেছে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে তাঁদের মাথাব্যথা নেই। তাঁরা তাকিয়ে বিদেশি ক্রিকেটারদের দিকে। কারন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য অনেক বিদেশি ক্রিকেটার আইপিএলে আসতে রাজি হচ্ছে না। তবে সেদিক থেকে কেকেআরের চিন্তা নেই। নিশ্চিন্তে গুজরাট টাইটান্সও। কেকেআর ইতিমধ্যে ভারতীয় ক্রিকেটরদের নিয়ে প্র্যাকটিস শুরু করে দিয়েছে। বিদেশি বলতে রাসেল, নারাইন, পাওয়েল, গুরবাজরা নেই। তবে তাঁদের দলে পেতে খুব একটা অসুবিধা হবে না। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে কেকেআর কর্তাদের। তিন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার ভারত ছেড়ে গেলেও তাঁরা দেশে যাননি। এই মুহূর্তে দুবাইয়ে আছেন। শোনা যাচ্ছে বুধবার তাঁরা দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। গুরবাজ এখন কাবুলে। তিনিও কাবুল থেকে দুবাই এসে রাসেলদের সঙ্গে ভারতে আসার ব্যাপারে কথা বলে নিয়েছেন। এবারের আইপিএলে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের অবস্থান ভাল নয়। ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা লিগ টেবিলে ছয় নম্বরে। এখন প্লে অফের কথা ভাবতে হলে পরের দুটি ম্যাচ জেতা ছাড়াও অন্যদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। সেখানেও মনে হয় না তারা কিছু করতে পারবে। কারন বাকি দুটি ম্যাচ জিতলে কেকেআর ১৫ পয়েন্টে দাঁড়াবে। এই পয়েন্টে প্লে অফে জায়গা পাওয়া কঠিন। তবু কেকেআর হাল ছাড়তে নারাজ। তারা মনে করছে আগে ১৫ পয়েন্টে পা দেওয়া য়াক। তারপর দেখা যাবে। এদিকে গুজরাট টাইটান্স আইপিএলে বা জায়গায়। তারা এক নম্বরে আছে। ১১ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে প্লে অফ খেলার দিকে এগিয়ে গিয়েছে। লিগে তাদের আরও তিনটি ম্যাচ খেলতে হবে। মনে হয় শেষপর্যন্ত টেবিলে এক বা দুয়ে জায়গা করে প্লে অফে যাবে। তাদের দলের দুই ক্রিকেটার জস বাটলার ও কোয়েতজার ভারত ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তবে গুজরাট কর্তাদের টেনশনে রাখছেন না বাটলাররা। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, খুব তাড়াতাড়ি ভারতে এসে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তাই নিশ্চিন্তে গুজরাট টাইটান্স।
ভক্তদের থেকে রেহাই পেলেন না কোহলি

বৃন্দাবনে সস্ত্রীক কোহলি আশীর্বাদ নিচ্ছেন গুরুজির কাছে।
অফস্ট্যাম্পের বাইরে বল কোহলির টেস্ট কেরিয়র থামিয়ে দিল: মঞ্জেরেকর

ইদানীং ভারতীয় ক্রিকেটে সঞ্জয় মঞ্জেরেকরকে বড় সমালোচক বলা হয়। ক্রিকেটাররা তাঁর মন্তব্যে খুশি হতে পারেন না। সেটা শচীন জমানা থেকে চলছে। কাউকেই তিনি ছেড়ে কথা বলেন না। তাই বিরাট কোহলির হঠাৎ অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে সঞ্জয় কিছু বলবেন না! এটা হয় নাকি। প্রায় চব্বিশ ঘন্টা পর জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার সকলের সামনে এলেন। বললেন, অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেটের কেরিয়রকে ছোট করে দিল। বলতে পারেন তাড়াতাড়ি থামিয়ে দিল। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে কোহলি বারবার আউট হচ্ছেন। গতবছরের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ৯ বারের মধ্যে কোহলি আউট হয়েছেন ৮ বার। সঞ্জয় বলছেন, আউট হয়ে ফিরে আসার সময় ওকে হতাশ হতে দেখেছি। ওর ব্যর্থতা দেখে ক্রিকেট ফ্যানরা যতটা না হতাশ হয়েছিলেন, তার থেকে বেশি ভেঙ্গে পড়েছেন অবসরের খবর পাওয়ার পর। কেরিয়র ঠিক করতে নিজেকে অনেক সময় দিয়েছে প্র্যাকটিসে। চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভুল শুধরে নেওয়া গেল না। আমি জানি কোনও ক্রিকেটারের অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয় না। নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করতে হয়। সে পারবে নাকি পারবে না। উত্তর হঠাৎ করে আসেও না। সময় দিতে হয়। তারপর মন বললে সে সরে যাবে, নইলে খেলা চালিয়ে যাবে। কোহলিও নিশ্চয় নিজেকে নিয়ে এমন অনেক প্রশ্ন করেছে। উত্তরে সাড়া পেয়ে সরে দাঁড়িয়েছে। তাই এই সিদ্ধান্ত। ব্যাটসম্যান কোহলির মতো অধিনায়ক কোহলিও নজর কেড়েছে। ২০১৪ থেকে ২০২২, এই আটবছরে টেস্টে জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৬৮ ম্যাচের মধ্যে জিতেছে ৪০টিতে। সাফল্যের হার প্রায় ৫৮ শতাংশ। টেস্ট ক্রিকেটে দেশকে একনম্বরে নিয়ে গিয়েছিল। এর থেকে ভাল ট্র্যাকরেকর্ড আর কি হতে পারে অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে কোহলির আউট হওয়ার ঘটনা প্রথম ধর পড়ে ২০১৪ সালে ইংল্যান্ডের মাঠে টেস্ট সিরিজে। সেবার অ্যন্ডারসন কোহলির দুর্বলতা খুঁজে পেয়েছিল। অ্যান্ডারসনের বোলিংয়ে বারবার ভুল করতে দেখা যায় কোহলিকে। কিন্তু দেশে ফিরে এসে নিজেকে শুধরে নেয়। সেই সময় অনেকের কাছে জানতে চেয়েছিল কী করে এই ভুল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে। তারপর ইংল্যান্ডের মাঠে জবাব দেয়। ২০১৮ ও ২০২১ সালে আমরা অনয বিরাটকে দেখেছি। যার ব্যাটে শুধু রান এসেছে। কিন্তু গতবছর থেকে আবর এক ভুল। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলকে মারার চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের উইকেট দিয়ে এসেছেন। আসলে নিজের ডিফেন্স ঠিক হচ্ছিল না। দেশে ফিরে মুম্বইয়ের মাঠে আবার প্র্যাকটিস। ভেবেছিলেন ইংল্যান্ড সিরিজে গিয়ে ব্যর্থতার জবাব দেবেন। কিন্তু সেটা হল কোথায়।
বাটলার, সল্টের আইপিএল খেলা সংশয়ে

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা।
বোর্ডের উচিত ছিল কোহলিকে অধিনায়কত্ব দেওয়া : কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত

টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলির অবসর নেওয়ার পর নানা প্রশ্ন, নানা মত, নানা বিতর্ক উঠে আসছে। হঠাৎ করে কেন কোহলি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়েও আলোচনা তুঙ্গে। প্রাক্তন ক্রিকেটাররা নিজের মত করে মতামত দিচ্ছেন। এরই মধ্যে বোর্ডের দিকে তির ছুঁড়লেন কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত। চিকা বলেন, “বিরাট কোহলি হল টেস্ট ক্রিকেটের মশাল বাহক। প্যাশন আর আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে খেলেছে। এটাই ওর গ্রেটনেস। নির্বাচকদের উচিত ছিল আবার ওকে অধিনায়কত্ব দেওয়া। আরও ২-৩ বছর ওর খেলা উচিত ছিল। “ এখানেই না থেমে নির্বাচকমণ্ডলীর প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত আরও বলেন, আমি যদি এখন নির্বাচক প্রধান থাকতাম, তাহলে কেহলিকে বলতাম “বস, আবার দলকে নেতৃত্ব দাও এবং টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের গৌরবকে ফিরিয়ে নিয়ে এস। তারপর অবসর নাও।“ তিনি এও মনে করেন তিনি কোহলিকে রাজি করাতে পারতেন। এবং বর্তমান নির্বাচকদেরও উচিত ছিল কোহলিক রাজি করানো। কোহলির অবসরের পর অনেকেই তাঁকে সচিন তেন্ডুলকরের পাশে রেখে নতুন করে তুলনা শুরু করছেন। এ ব্যপারে মুখ খুলেছেন মার্ক বাউচার। তিনি বলেন, “ বিরাট কোহলি ও সচিন তেন্ডুলকরের মধ্যে তুলনা করা একেবারেই ঠিক নয়। আমি মনে করি সচিন তেন্ডুলকর একজনই হয়। আবার বিরাট কোহলিও একজনই হয়। দু’জনেই ক্রিকেটের কিংবদন্তি। “ একই সঙ্গে টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে গেলেন রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এরপর ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন কে? প্রবলভাবে আলোচনায় আছেন জসপ্রীত বুমরা ও শুভমন গিল। সুনীল গাভাসকরের ভোট অবশ্য বুমরার দিকে। সানি বলেন, “ কারও ওয়ার্কলোডের ব্যাপারটা তাঁর নিজের চেয়ে ভাল আর কে জানবে? যদি অন্য কেউ অধিনায়ক হয়, সে সব সময় বুমরার থেকে আরএ এক ওভার চাইবে। আর যদি বুমরা নিজে অধিনায়ক হয়, তাহলে ও জানবে কখন বল করবে, কখন বিশ্রাম নিতে হবে। তাই বুমরাকেই টেস্টের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত।“ কোহলি-রোহিত যুগের পর নতুন করে যাত্রা শুরু হল ভারতীয় টেস্ট দলের।
বিশ্বকাপ দূরঅস্ত, একদিনের ক্রিকেটেও বেশিদিন নেই রোকো

টি২০ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেটের দুই তারকার অবসর নিয়ে কথা হয়নি। কেন সরে গেলেন, এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব ঝড় তোলেনি। বাকি দুটি ফরম্যাটে আরও বেশি করে মন দিতে পারবেন বলে রোকো সরে গেলেন, এটাই সবাই ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ক্রিকেটে যে পালাবদল শুরু হয়ে গেল, তারপর ক্রিকেট বিশ্ব থেমে থাকেনি। হ্যাঁ, প্রথমে রোহিত সরে দাঁড়ালেন। পাঁচদিনের মধ্যে বিরাট কোহলি। এবার শুধু ঝড় নয়, সাইক্লোন শুরু হয়ে গেল। ভারতীয় ক্রিকেটে রোকো বলতে সবাই রোহিত শর্মা, ও বিরাট কোহলিকে জানেন। সেই রোকোকে এখন থেকে সাদা জার্সিতে খেলতে দেখা যাবে না। কেন তাঁরা অবসর নিলেন, এর ব্যাখ্যা কোথাও নেই। একটা রহস্য তৈরি করে তাঁরা সরে গেলেন। এটা ঘটনা যে টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকরা এর পিছনে কলকাঠি নেড়েছেন। তাঁদের সঙ্গে সহমত বোর্ড কর্তাদের। কেউ একজন এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে হয়তো এত কিছু ভারতীয় ক্রিকেটে হত না। কিন্তু সবাই হাত গুটিয়ে নিলেন। সব থেকে অবাক লাগে এটা দেখে যে দুই ক্রিকেটরের অবসরের পর তাঁরা টুইট করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। একজনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কেউ কিছু জানেন না বলে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছেন। সব থেকে ভাল জায়গায় নিজেদের দাঁড় করাবার চেষ্টা করেছেন বোর্ড কর্তারা। তাঁর বলছেন, কোনও ক্রিকেটার অবসর নিতে চাইলে বোর্ড বাধা দেয় ন। কারন অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর নিজের উপর নির্ভর করে। একথা সবাই নিশ্চয় মেনে নিতে শুরু করেছেন যে কে বা কাঁরা এই কলকাঠি নেড়েছেন। এটা আর বলা যেতে পারে ওপেন সিক্রেট। আলাদা করে বলার দরকার নেই। ফলে তাঁদের জমানায় ২০২৭ একদিনের বিশ্বকাপে রোকো-কে খেলতে দেখা যাবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। বড় জোর একবছর তাঁরা একদিনের ক্রিকেটে থাকবেন। তারপর তাঁদের দল থেকে বেরিয়ে যেতে হবে। তখনও হয়তো এভাবেই তাঁরা নীরবে সরে দাঁড়াবেন। এর কারন কেউ জানতেও পারবেন না। জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর এ প্রসঙ্গে বলছেন, আমার মনে হয় না ২০২৭ একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপে রোহিত বিরাটকে খেলতে দেখা যাবে। রোহিতের বয়স এখন ৩৮। বিরাট আগামি নভেম্বরে ৩৭ বছরে পা দেবে। তার অর্থ ২০২৭ বিশ্বকাপের সময় রোহিত ৪০ এ পা দেবে। বিরাট ৩৮ পার করবে। এই বয়সে নিজেদের ধরে রাখা সহজ হবে না। এটা করতে গেলে আগামি বছর একদিনের ক্রিকেটে সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করে যেতে হবে। সেট সম্ভব হবে কিনা বলতে পারব না। তাই আমার কাছে পুরো ব্যাপারটি অনিশ্চয়তায় ঘেরা মেঘ বলে মনে হচ্ছে। গাভাসকরের কথায় পরিস্কার, আগামি একদিনের বিশ্বকাপে তিনি রোহিত ও বিরাটকে দেখছেন না। আরও একটি কারন আছে। আগস্টে সম্ভবত বাংলদেশের বিরুদ্ধে ভারতীয় দল একদিনের ক্রিকেট সিরিজ খেলবে। সেখানে ব্যাটে রান না এলে কথা শুরু হয়ে যাবে। পরের সিরিজে একই ঘটনা ঘটলে রোহিতদের জানিয়ে দেওয়া হবে, তেমর জায়গা ছেড়ে দাও। এবং সেটা অনেক অঙ্ক কষে হবে। রোহিত এখনও একদিনর ক্রিকেটে অধিনায়ক। তাঁর হাত থেকে নেতৃত্ব নিয়ে নেওয়া হলে বোঝা যাবে ম্যানেজমেন্ট তাঁকে চাইছে না। রোহিত নিজে সরবেন। যেমন টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরলেন। বিরাটের কাছেও ছবি পরিস্কার হয়ে যাবে। তিনিও হয়তো একই পথে হাঁটবেন। আরও একটি সমস্যা আছে। টি২০ ক্রিকেটে তাঁরা নেই। টেস্ট খেলবেন না। শুধু একদিনের ক্রিকেটে মন লাগানো সহজ হবে না। প্র্যাকটিসের অভাবে নিজেদের ছন্দ নষ্ট হয়ে যাবে। আর তার ছাপ পডবে পঞ্চাশ ওভারের ম্যাচে। তখন কি এই মেজাজে খেলতে পারবেন! তাই ২০২৭ বিশ্বকাপ অনেক দূরের পথ। তার অনেক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাবেন রোকো।
আইপিএল ফাইনাল কলকাতা থেকে সরে যাচ্ছে সম্ভবত আহমেদাবাদে

এক সপ্তাহ স্থগিত থাকার পর আবার ১৭ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে আইপিএল। ভারত-পাকিস্তান উত্তাপের আবহে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়র লিগ। দু পক্ষের সংঘর্ষ বিরতি ঘোষিত হওয়ায় আবার টুর্নামেন্ট শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। তবে বাকি ম্যাচগুলি হবে ৬টি ভেন্যুতে। এগুলি হল বেঙ্গালুরু, জয়পুর, আহমেদাবাদ, দিল্লি, লখনউ ও মুম্বই। ফাইনাল হবে সম্ভবত আহমেদাবাদে। আগের সূচি অনুযায়ী ফাইনাল ও প্লে অফের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়। কিন্তু পরিবর্তিত ভেন্যুর তালিকায় কলকাতা নেই। তাই আহমেদাবাদে এক লক্ষ দর্শকের সামনে ফাইনাল সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা। ২৫ মের পরিবর্তে ফাইনাল হবে ৩ জুন। একটি প্লে অফ হবে সম্ভবত মুম্বইয়ে। ১৭ তারিখ থেকে আবার শুরু হয়ে যাচ্ছে টুর্নামেন্ট। বেঙ্গালুরুতে আরসিবির বিরুদ্ধে খেলবে কেকেআর। ২০ মে রাজস্থান রয়্যালস আর চেন্নাই সুপারকিংসের ম্যাচটি চেন্নাইয়ের বদলে হবে দিল্লিতে। ২৪ মে পঞ্জাব আর দিল্লি ক্যাপিটালসের ম্যাচটি ধরমশালার পরিবর্তে জয়পুরে অনুষ্ঠিত হবে। ২৬ মে পঞ্জাব আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যে ম্যাচটি ধর্মশালার পরিবর্তে হবে জয়পুরে। আর ২৫ মে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ আর কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে ম্যাচটি হায়দ্রাবাদের পরিবর্তে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে বিদেশি ক্রিকেটারদের ডেকে নেওয়ার জন্য, তবে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে একটা সমস্যা আছে. কারণ মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজলউডরা আর আসতে চাইছেন না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকেও ক্রিকেটারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সপ্তাহ খানেক বিরতির পর যুদ্ধ আবহ সরিয়ে আবার আইপিএল মোডে ঢুকে পড়বেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।