আরসিবির জয় দেখতে কর্নাটকে থেমে গেল বিয়ে

এমন ঘটনাও ঘটে! যে ভিডিও সামনে এল, তারপর অন্য কিছু ভাবার কারন নেই। হ্যাঁ, এটাই ঘটনা যে বিরাটদের জয় দেখতে কর্নাটকে এক বিয়ের আসরে হঠাৎ করে থামিয়ে দেওয়া হল বিয়ে। মঙ্গলবার রাতে কর্নাটকের কলাবুগারিতে এক বিয়ের আসর বসেছিল। সেই আসরে ক্রিকেটও ঢুকে পড়ে। অনুষ্টান বাড়িতে জায়ান্ট স্ত্রিনে আাইপিএল ফাইনাল চলছিল। অনেকেই সেই স্ত্রিনে খেলা দেখছিলেন। অন্যদিকে বিয়ের সব কিছু কাজ চলছিল। এমন সময় শুরু হয়ে গেল চিৎকার। সবাই অবাক। কি হল! খোঁজ নিতে গিয়ে জানতে পারলেন ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান এবার হতে চলেছে। আইপিএল জিততে চলেছে আরসিবি। ব্যস, আর কে শোনে কার কথা। হুড়মুড় করে সবাই অনুষ্ঠান বাড়িতে জায়ান্ট স্ত্রিনের সামনে এসে হাজির। এই অবস্থায় থেমে গেল বিয়ে। বিয়ের নিমন্ত্রিত অতিথিরাই শুধু নন, জায়ান্ট স্ত্রিনের সামনে চলে আসেন বর ও বউ। তারাও চান না বিরল এই মুহুর্তের সাক্ষী হতে না পারলে অনেক কিছুই হাতের বাইরে চলে যাবে। ম্যাচ শেষ হোক। আরসিবির হাতে কাপ উঠুক। তারপর বিয়ে হবে। সেটা তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না। তাই হল। জায়ান্ট স্ত্রিনের সামনে বর, বউয়ের সঙ্গে অনু্ষ্টানের অ্তিথিরা এক সঙ্গে বসে খলা দেখলেন। দেখলেন আরসিবির জয়। তারপর বিরাটের হাতে ট্রফি ওঠার পর তারা আবার বিয়ের মঞ্চে চলে গেলেন। বিয়ে মানেই খুশির আবহাওয়া। তার সঙ্গে ডবল পাওয়া আরসিবির ট্রফি জয়। এটাই কম কিসের। সেই আনন্দের আবহে বিয়ে হল। এই ভিডিও ভাইরাল হতে দেরি হল না। কারন এমন ঘটনা যে বড় একটা ঘটে না। তাই বিরাটদের আইপিএল জয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলল থেমে যাওয়া বিয়ের অনুষ্টানও।
এই ট্রফি শুধু আমাদের নয়, আপনাদের সকলের: বিরাট

যে কোনও উৎসবকে হার মানিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল। আরসিবির আইপিএল জয় নিয়ে যে কান্ড বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে ঘটে গেল, তাকে কার সঙ্গে তুলনা করা যায়! একটা বা দুটো বছর নয়, দীর্ঘ ১৮ বছর অপেক্ষা করেছেন আরসিবি ফ্যানরা। অবশেষে অপেক্ষার অবসান। বিরাটদের হাতে উঠল আইপিএল ট্রফি। মঙ্গলবার রাত ট্রফি জয়ের পর ২৪ ঘন্টাও কাটল না। তার আগে বেঙ্গালুরুতে ঢুকে পড়লেন আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানতে উপস্থিত ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী শিবরামকুমার। আরসিবির পতাকা হাতে তিনি বিমানের সামনে চলে যান। বিরাট বিমান থেকে নেমে আসার পর তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় আরসিবি পতাকা। সেখান থেকে শুরু হয়ে যায় চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে উৎসব। বিমানবন্দর থেকে ক্রিকেটাররা চলে আসেন হোটেলে। সেখানেও চমক। তাদের স্বাগত জানতে হোটেল কর্তৃপক্ষ আইপিএলের আদলে একটি বিশাল কেক আগে থেকে তৈরি করে রেখেছিলেন। বিরাট সেই কেক কেটে হোটেলের রুমে চলে যান। ঠিক ছিল, ক্রিকেটাররা হোটেলে কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পর তাঁদের হুডখোলা বাসে নিয়ে যাওয়া হবে স্টেডিয়ামে। কিন্তু পুলিশের অনুমতি না মেলায় সেই ভাবনা শুরুতেই বাতিল হয়ে যায়। এর কারনও ছিল। বিরাটদের দেখতে গোটা শহর এদিন রাস্তায় নেমে আসে। চিন্নাস্বামীর বাইরে পদপৃষ্টে সাত জন প্রান হারান। আহত প্রায় শতাধিক। চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে কতজনের বসার ব্যবস্থা আছে। সবাই স্টেডিয়ামে ঢুকতে পারে না। তারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন টিম বাসে আসা বিরাটদের একঝলক দেখবেন বলে। কিন্তু নায়কদের দেখতে গিয়ে যে এভাবে অনেকের প্রান হারাতে হবে, আহত হতে হবে, তা আগে কে জানতেন। কেউ গাছে উঠে পড়েছিলেন, কেউ স্টেডিয়ামের বাইরে উঁচু পাঁচিলে উঠে বিরাটদের এক ঝলক দেখার অপেক্ষায়। এই সব করতে গিয়ে পদপৃষ্টে গোল বাধে। স্টেডিয়ামের ভিতরে থাকা ক্রিকেটাররা এই খবর তখনও জানতে পারেননি। জানলে অনুষ্টান হত কিনা সন্দেহ আছে। তো বিরাটদের জন্য তৈরি মঞ্চে একে একে ক্রিকেটাররা উঠে এলেন। গোট স্টেডিয়াম তখন আরসিবি করে চিৎকার করছে। দলের সবাইকে দেখার জন্য তাঁদের আগ্রহ তেমন ছিল না। সবাই বিরাটকে দেখার জন্য মুখিয়ে। সেই বিরাট মইক্রোফোন হাতে নিয়ে সামনে আসতে চিৎকারে স্টেডিয়াম যেন ভেঙ্গে পড়ে। আর বিরাটের কথা শোনার পর তাঁরা কি করবেন তা বুঝে উঠতে পারলেন না। বিরাট শুরুতেই বললেন, আমার এই ট্রফি জয়ের জন্য কত বছর অপেক্ষা করেছি। সবাই মাঠে একশো শতাংশ দিয়েও শেষে সাফল্য হতে পারিনি। এবার সেই কাজটা আমরা করতে পেরেছি। আমরা ট্রফি জিতেছি। ই সালা ট্রফি নাম দু, আপনাদের স্লোগান এবার হয়তো সার্থক হয়েছে। আমরা ট্রফি জিতে শহরে আসতে পেরেছি। তবে এই ট্রফি শুধু আমাদের নয়, আপনাদের সকলের। আপনারা এতদিন যেভাবে আমাদের সঙ্গে থেকেছেন, সেটাই আমাদের ভাল খেলতে উদ্ধুদ্ধ করেছে। ফাফ ডুপ্লেসি দল ছেড়ে যাওয়ার পর আরসিবি ম্যানেজমেন্ট প্রথমে বিরাটকে অধিনায়ক হওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু বিরাট রাজি হন না। তাঁরই পরামর্শে রজত পাতিধারকে অধিনায়ক করে আরসিবি। এবং রজতের অধিনায়কত্বে ট্রফি ঘরে এল। সেই রজতকে নিয়ে বিরাট বলেন, ও এবার দলকে দারুন নেতৃত্ব দিয়েছে। আপনারা ওকে সাপোর্ট করে যাবেন। আরসিবিকে বেশ কয়েক বছর রজত নেতৃত্ব দেবে। আশা করি এভাবে সাফল্যের সঙ্গে দলকে টেনে নিয়ে যাবে। আমরা চেষ্টা করব, আরসিবি যেন এভাবে সাফল্যের সঙ্গে ছুটতে পারে।