দুরন্ত দীপেশ আর সাহিল; ইউনাইটেড স্পোর্টসের তিন গোলে জয়েও ‘অদৃশ্য নায়ক’ তারক হেমব্রম!

সুদীপ পাকড়াশীঃ রেলওয়ে এফসি-র ম্যাচ ছিল না বুধবার নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে। খেলল মহামেডান স্পোর্টিং আর ইউনাইটেড স্পোর্টস। তিন গোলে জিতল ইউনিটেড স্পোর্টস। সৌজন্যে আবার দুরন্ত সাহিল হরিজন। জোড়া গোল করলেন। তাকে যোগ্য সঙ্গত দীপেশ মুর্মুর আর একটি গোল করে। ইউনাইটেড স্পোর্টসের কোচ লালকমল ভৌমিক মুগ্ধ সাহিলের খেলায়, “দারুণ ধারাবাহিকতা। ভীষণ প্রতিভাবান। একবার জাতীয় দলে ঢুকতে পারলে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলার হয়ে উঠবে। শুধু মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতে হবে। আজও অহেতুক একটা হলুদ কার্ড দেখে বসল।” তারপরও বুধবারের স্টেডিয়ামের অদৃশ্য নায়কের নাম তারক হেমব্রম। তার দল এই মরশুমে রেলওয়ে এফসি। সম্প্রতি চাকরি পাওয়ার সুবাদে। আগের ম্যাচেই মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গুরুতর হাঁটুর চোটে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বুধবার ছাড়া পেয়েছেন, কিন্তু আপাতত দেড় মাস মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। তাতে কী হল? তারক হেমব্রমের গায়ে এখনও ইউনাইটেড স্পোর্টসেরই গন্ধ! ছোটবেলা থেকে এই ক্লাবের জার্সিতে এই মিডফিল্ডার খেলেছেন প্রায় এক দশক! সুখে, দুঃখে ইউনাইটেড স্পোর্টসই তার পাশে থেকেছে। এখনও থাকে আগের মতই। বুধবার বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামও সেই ছবি আবার দেখল। গ্যালারিতে, দলের সমর্থকদের হাতে ব্যানার। ‘তারকদা তুমি তাড়াতাড়ি সেরে মাঠে ফেরো।’ ম্যাচ খেলতে নামার আগে, ইউনাইটেড স্পোর্টসের সমস্ত ফুটবলার, কোচেরা, এবং ক্লাবকর্তারা একসঙ্গে এই ব্যানার নিয়েই মাঠে দাঁড়ালেন। লালকমল বলছেন, “ঠিকই করেছিলাম আজ ম্যাচটা জিতলে তারককেই উৎসর্গ করব। এত বছর এই দলের হয়ে ও ঘাম ঝরিয়েছে। ক্লাবের অনেক সাফল্যেও তারকের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা ছিল। তাই ম্যাচটা জিতে উদ্দেশ্য পূরণ হওইয়ায় আমি খুব খুশি।” আর তারক হেমব্রম? আবেগে ভাষাহীন মিডফিল্ডার! “এত ভালবাসা পাব ভাবতে পারিনি। আমার ফুটবলার হয়ে ওঠার পেছনে ইউনাইটেড স্পোর্টসের অবদান? কয়েকটা বাক্যে সেটা প্রকাশ করা কঠিন,” তারক আর কিছু বলতে চাইলেন না।
রিম্পার লক্ষ্য এশিয়ান কাপের মূল পর্বেও জাতীয় দলের জায়গা ধরে রাখা

সুদীপ পাকড়াশীঃ নদীয়ার হাসপুকুর গ্রাম অপেক্ষা করে আছে। কবে তাদের সোনার মেয়ে বাড়ি ফিরবে। দেশের হয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জাতীয় সিনিয়র মহিলা ফুটবল দলের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার এখনও নয়াদিল্লিতে। বৃহস্পতিবার সেখানে তার চাকরির পরীক্ষা। ফুটবলারের চাকরির পরীক্ষা মানে তো আবার মাঠে নামা, আবার ফুটবল খেলা। প্রায় ৫০০ জন পরীক্ষার্থী! রিম্পা ছাড়াও সিনিয়র জাতীয় দলের আরও দুই ফুটবলার আছেন পরীক্ষার্থীর তালিকায়। এছাড়াও মাঠে নামবেন, মৌসুমী মুর্মুর মত একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলার। তাই হয়ত, দিল্লি থেকে বুধবার ফোনে কথা বলার সময় রিম্পার মধ্যে টেনশনের ছোঁয়া। “কালকের ট্রায়াল নিয়েই ভাবছি।” তাইল্যান্ডে যে সিনিয়র মহিলা ফুটবলাররা ভারতকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে নিয়ে গেলেন তাদের মধ্যে বাংলার দু’জন। কল্যাণীর সঙ্গীতা বাসফোর আর নদীয়ার হাসপুকুর গ্রামের রিম্পা হালদার। গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে তাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে ইতিমধ্যে নায়ক সঙ্গীতা বাসফোর। রিম্পার সামনেও সুযোগ এসেছিল গোল করে নায়ক হওয়ার। “ইরাক ম্যাচে গোলের সুযোগ নষ্ট করেছি। যাই হোক, ম্যাচটায় ভাল খেলেছিলাম। কোচের প্রশংসা পেয়েছিলাম। সেটাও কম প্রাপ্তি নয়,” বললেন রিম্পা। কোচ ক্রিসপিন ছেত্রীর কথা আলাদাভাবে রিম্পার মুখে। “ফুটবলারদের মানসিকতা বোঝার ক্ষমতা চমৎকার। কার বিশ্রামের প্রয়োজন, কাকে কোন পজিশনে খেলাতে হবে, ফুটবলারদের মোটিভেট করার স্টাইল-সবই সহজভাবে করতে পারেন। পুরো টুর্নামেন্টে আমরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে খেলতে পেরেছি,” রিম্পা বলছেন। ১৮-বছরের ফুটবলারের এখন লক্ষ্য একটাই, ২২ বছর পর আগামি বছর মার্চে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলবে ভারতের মেয়েরা। সেই দলেও জায়গা যেন ধরে রাখা যায়। “অনুশীলন বাড়াতে হবে। শুধু বল নিয়ে নয়, আরও ফিট হতে হবে। শারীরিক সক্ষমতা আরও জোরদার করতে হবে,” রিম্পার উপলব্ধি। আপাতত, রিম্পার ভাবনায় চাকরি পাওয়ার ট্রায়াল। ছোট থেকে দেখে আসছেন বাবা-মা-র লড়াই। মনে পড়ছে ২০১৯-এ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত দল থেকে বাদ গিয়ে প্রবল্ভাবে হতাশ হয়ে পড়ার সময় গ্রামের কোচ অভীক বিশ্বাসের উৎসাহের কথা। এই ছবিগুলোই বৃহস্পতিবার আবার মাঠে নামার আগে রিম্পার অনুপ্রেরণা, মনের শক্তি। দেশের হয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবার জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পালা। তার গ্রামও সেই অপেক্ষায় রয়েছে যে ফিরে রিম্পা বলবেন ‘চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি…’
ফ্লুমিনেজের কাছে বিশ্বাসঘাতক পেদ্রো !

জোড়া গোল করা ব্রাজিলিয়ান নায়কে নিয়ে চেলসির সতীর্থদের উল্লাস। বুধবার আমেরিকায়।
আবার বিতর্কে আরসিবি; যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এফআইআর যশ দয়ালের বিরুদ্ধে

খেতাবজয়ের উৎসব পালন নিয়ে প্রবল বিতর্কে পড়া রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আবার এক নতুন বিতর্কে পড়ল। দলের অন্যতম প্রধান ক্রিকেটার, বাঁ-হাতি পেসার যশ দয়ালের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গাজিয়াবাদের এক মহিলা অভিযোগ দায়ের করেছেন যৌন হেনস্থা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার। প্রতারণা ও মিথ্যে প্রতিশ্রুতির জন্য ন্যায় সংহিতার ৬৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। এই ধারায় অভিযুক্তের দশ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। গাজিয়াবাদের অভিযোগকারিণী মহিলার বয়ান অনুযায়ী তিনি পাঁচ বছর যশের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। তাঁর দাবি যশ তাঁর পরিবারের সঙ্গেও তাঁর দেখা করা করান এবং যশের পরিবার তাঁকে পুত্রবধূর মতোই স্বাগত করে, যার ফলে তাঁর ভরসা আরও বাড়ে। এফআইআরের বলা হয় এই ঘটনাগুলির গোটটাই মিথ্যে বোঝার পর অভিযোগকারিণী প্রতিবাদ করলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার সম্মুখীন হতে হয়। এর পাশাপাশি অভিযোগকারিণী আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা আরও অভিযোগ করেছেন যে, যশ দয়াল তিনি ছাড়াও আরও অনেক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন এবং তাঁদেরকেও ওই ক্রিকেটার একইরকম আশ্বাস দিয়েছিলেন। যশ দয়ালের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গাজিয়াবাদের এক তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। অনলাইনে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছেও অভিযোগ করেছেন ওই তরুণী। এর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর থেকে গাজিয়াবাদের সার্কেল ইন্সপেক্টরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২১ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় দ্রুত নিষ্পতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগকারিণী তথা আরও মহিলা যারা এই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পড়েন, তাঁদের কথা মাথায় রেখেই গোটটায় দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানানো হয়েছে এফআইআরে। প্রসঙ্গত, এই যশ দয়ালই সেই বোলার, যাঁকে শেষ ওভারে পাঁচ বলে পাঁচ ছক্কা মেরে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন রিঙ্কু সিংহ। তখন তিনি খেলতেন গুজরাত টাইটান্সে।
গিলকে দরাজ সার্টিফিকেট সুনীল গাভাসকারের

শুবমান গিলের অধিনায়কত্ব নিয়ে উচ্ছ্বসিত সুনীল গাভাসকার। এজবাস্টন টেস্টে জিতে ভারতের সিরিজ ১-১ করার পরই শুবমান গিলের অধিনায়কত্বে মজেছেন গাভাসকার। কিংবদন্তি প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার বলছেন, ”গিল ঠাণ্ডা মাথায় সিরিজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রতিটা সিদ্ধান্ত ঠাণ্ডা মাথায় বুঝে নিচ্ছে। এটার জন্য প্রশংসা করতেই হয়। আমি মনে করি ভারতীয় প্লেয়ারদের মধ্য়েও গিলকে অধিনায়ক হিসেবে মেনে নেওয়াটা সহজ হয়েছে। আমি মনে করি ওর কথায় সবার বিশ্বাস করা উচিৎ। গিল যদি এখন কাউকে ১০ তলা থেকে ঝাঁপও দিতে বলে, সেটা নির্দিধায় করা উচিৎ। কারণ গিলের দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা জন্মগত এবং স্বতঃস্ফুর্ত। দারুণ অধিনায়ক হয়ে উঠছে ও। আগামিদিনে আরও পরিণত হয়ে উঠবে ও।” ভারতের তৃতীয় টেস্ট আগামী ১০ তারিখ থেকে শুরু লর্ডসে। লর্ডসকে বিশ্ব ক্রিকেটের মক্কা বলা হয়। ভারতীয় ক্রিকেট দল এই মাঠে এখনও পর্যন্ত মোট ১৯টি ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু জিতেছে মাত্র দুটো। টিম ইন্ডিয়া হেরেছে ১২টিতে, ৫টিতে ড্র। লর্ডসে ভারতের জয়ের শতকরা হার ১০.৫ শতাংশ। লর্ডসে ভারতের শেষ তিনটি ম্যাচে একটিতে হার আর দুটি-তে জয় এসেছিল। ২০১৪-র লর্ডস টেস্টে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির নেতৃত্বে ৯৫ রানে জিতেছিল ভারত। ২০১৮-য় এক ইনিংস ও ১৫৯ রানে হারতে হয় ভারতকে। আবার ২০২১-এ ১৫১ রানে জিতেছিল ভারত। শুবমান গিল এজবাস্টনে আরও এক কীর্তি করেছেন। গাভাসকারের ৪৯ বছরের কীর্তি ভেঙেছেন। সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জিতেছেন। ১৯৭৬-এ গাভাসকার ২৬ বছর বয়সে এই কীর্তি করেছিলেন।