জাতীয় কোচের আবেদন করার দিন শেষ হল; এআইএফএফ এখনই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে না!

সিনিয়র জাতীয় দলে নতুন কোচের পদের জন্য আবেদন নেওয়ার দিন শেষ হল রবিবার। এআইএফএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় শ’খানেক কোচের আবদন জমা পড়েছিল। কিন্তু জনা সাতেক কোচকে তাদের মধ্যে থেকে বাছা হয়েছে। যাদের ভারতীয় কোচ দু’জন। সঞ্জয় সেন এবং খালিদ জামিল। বাকিরা বিদেশি। তাদের মধ্যে আন্তোনিও হাবাস, স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনের মত হেভিওয়েট নামও আছে। কোচ ঠিক করার একটা পদ্ধতি ফেডারেশনের খাতায় লেখা আছে। সেই পদ্ধতি অনুযায়ী, আগামি সপ্তাহে আবেদনপত্রগুলো ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তারা নিজেদের মধ্যে কোচ নির্বাচন করে ফেডারেশনের এগজিকিউটিভ কমিটির কাছে পাঠাবেন। তারপর সেই কমিটির লিখিত অনুমোদনে নতুন কোচের নির্বাচন চূড়ান্ত হবে। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে নতুন কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই পদ্ধতিতেই কাজ হবে। নতুন কোচের নামও চুড়ান্ত হবে। এক্ষেত্রে ভারতীয় কোচেরই জাতীয় দলের কোচ হয়ে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। সেই দৌড়ে খালিদ জামিল এগিয়ে থাকলেও ফেডারেশনের এক সূত্র জানাল, খালিদ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু সময় চেয়েছেন। ফেডারেশনের কর্তারাও এখন সময় চাইছেন। আগামি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টে শুনানি। ফেডারেশনের শীর্ষকর্তারাও চাইছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফেডারেশনের এক কর্তা রবিবার ফোনে বললেন, “সুপ্রিম কোর্ট যদি বলে, সংবিধান সংশোধন, নির্বাচন করতে হবে, তাহলে শুধু কোচ নির্বাচন নয়, অনেক কিছুই হবে না। জাতীয় পুরুষ এবং মহিলা দলের এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়াও অনিশ্চিত হয়ে যাবে। আমাদের আশা সুপ্রিম কোর্ট এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে ভারতীয় ফুটবলের চলাটা থেমে যায়।”
লর্ডসে উত্তেজনা, ইংরেজ ব্যাটারদের ‘ঢিলেমি’তে ক্ষুব্ধ গিল!

কে বলেছে বিরাট জমানার আগ্রাসন নেই ভারতীয় ক্রিকেটে! কে বলেছে অধিনায়ক হিসাবে ‘দুর্বল’ চরিত্রের শুভমান গিল! শনিবার, লর্ডসে ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের শেষে তিনি যে কাণ্ডটি ঘটালেন তাতে গিলকে ‘দুর্বল’ বলা যাবে না। ইংরেজ ব্যাটারদের রীতিমতো মারকাটারি মেজাজে তেড়ে গেলেন ভারত অধিনায়ক। এমনকী, দুই ইংরেজ ওপেনারকে গালাগালও করতে শোনা গেল তাঁকে! প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার পর যেটুকু সময় বাকি ছিল তাতে অন্তত দু’ওভার বল করার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ভারতীয় শিবিরের। দিনের শেষদিকে নতুন বলের সুইং সামলানোটা যে কোনও ব্যাটসম্যানের পক্ষেই চাপের। তাই বেন ডাকেট, জ্যাক ক্রলিরা নিশ্চিত করতে চাইছিলেন যেন কোনওভাবে দ্বিতীয় ওভার বল করার সময় ভারত আর না পায়। নানা আছিলায় সময় নষ্টের চেষ্টা করছিলেন তাঁরা। তাতেই রেগে যান ভারত অধিনায়ক। ক্রলি সময় নষ্টের চেষ্টা করলে তাঁর দিকে রীতিমতো মারমুখী ভঙ্গিতে তেড়ে যান গিল। আসরে নামেন ডাকেট। তিনি ভারত অধিনায়কের আগ্রাসনের প্রতিবাদ করেন। ইংরেজদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেন ভারত অধিনায়ক। এগিয়ে যান কে এল রাহুল-সহ অন্য সতীর্থরাও। এই বচসার মধ্যে গালাগাল দিতেও শোনা যায় ভারত অধিনায়ককে। ম্যাচের শেষ ওভারের এই ঘটনা চতুর্থ দিন নামার আগে কিছুটা হলেও তাতাবে দুই দলকে। সুনীল গাভাসকার অবশ্য এই ঘটনায় আইপিএল-যোগ দেখছেন। তার মনে হয়েছে, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটারদের আইপিএলে না খেলাই গিলের রাগের উৎস। আসলে প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের ৩৮৭ রানের জবাবে ভারতের ইনিংসও শেষ হয় একই রানে। একটা সময় মনে হয়েছিল, সহজেই ইংল্যান্ডের রান পেরিয়ে যাবে ‘গিল বাহিনী’। একটা সময় ভারতের রান ছিল ৬ উইকেটে ৩৭৬। সেখান থেকে মাত্র ১১ রানে চার উইকেট খুইয়ে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়। তাতে কিছুটা হয়তো বিরক্ত ছিলেন অধিনায়ক গিল।
ছক্কার নজির পন্থের!

ছক্কার নজির গড়লেন ঋষভ পন্থ। আঙুলে চোট নিয়ে যে ইনিংসটি তিনি উপহার দিলেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর ৭৪ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৮টি চার এবং ২টি ছক্কা দিয়ে। আর ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ছাপিয়ে গেলেন কিংবদন্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটার স্যার ভিভ রিচার্ডসকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৬টি টেস্ট খেলেছেন রিচার্ডস। এর মধ্যে ছক্কা হাঁকিয়েছেন ৩৪টি। ৫৯তম ওভারের শেষ বলে বেন স্টোকসকে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে প্রাক্তন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারকে টপকে যান পন্থ। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছেন টিম ইন্ডিয়ার সহ-অধিনায়ক। আর তাতেই রিচার্ডসকে টপকে গিয়ে পন্থের ঝুলিতে এখন ৩৫টি ছয়ের ভান্ডার! তাছাড়াও রোহিত শর্মাকেও ছুঁয়ে ফেলেছেন পন্থ। টেস্টে টিম ইন্ডিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি ছয় মারার তালিকায় ‘হিটম্যানে’র সঙ্গে যুগ্মভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক। দুই ব্যাটারই টেস্টে ছয় মেরেছেন ৮৮টি। পন্থ ৪৬টি টেস্টে এই নজির গড়েছেন। রোহিত খেলেছেন ৬৭ টেস্ট। প্রথম স্থানে রয়েছেন বীরেন্দ্র শেহওয়াগ (৯০)। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড সফরে ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ রানের নজিরও গড়েছেন পন্থ। লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে উইকেটকিপিং করার সময় আঙুলে চোট পেয়েছিলেন। ভারতীয় উইকেটকিপার ব্যাট করতে নামবেন কি না, সেই সংশয় ছিল। পন্থ অবশ্য সব সংশয় উড়িয়ে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন। ইংল্যান্ডের বোলাররাও তার শরীর লক্ষ্য করে শর্ট-পিচ ডেলিভারি করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পন্থের মনোবলে চিড় ধরানো যায়নি।
উইম্বলডনের নতুন রানি সোয়াইতেক, স্পর্শ করলেন ১১৪ বছরের পুরনো নজির

উইম্বলডনের নতুন রানি ইগা সোয়াইতেক। রেকর্ড গড়ে তিনি পরাস্ত করলেন অ্যামান্ডা আনিসিমোভাকে। তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ১১৪ বছরের পুরনো নজির। একই সঙ্গে স্পর্শ করলেন কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফের ৩৭ বছরের পুরনো রেকর্ডও। শনিবার মহিলাদের সিঙ্গলস ফাইনালে মার্কিন তারকা আনিসিমোভাকে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে দিয়েছেন ২৪ বছর বয়সি পোল্যান্ডের এই ‘টেনিস সেনসেশন’। খেলার ফলাফল ৬-০, ৬-০। আনিসিমোভাকে হারাতে মাত্র ৫৭ মিনিট সময় নেন সোয়াইতেক। তাঁর সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন আনিসিমোভা। উইম্বলডনের ফাইনালে প্রতিপক্ষকে ডাবল বাগেল ‘উপহার’ দিয়েছেন পোলিশ তারকা। এমন স্কোরলাইন প্রথমবার দেখা গিয়েছিল ১৯১১ সালে। সেবার উইম্বলডনের ফাইনালে ডোরা বুথবিকে ৬-০, ৬-০ গেমে হারিয়েছিলেন ডরোথি ল্যাম্বার্ট-চ্যাম্বার্স। ১১৪ বছরের ‘বিরল’ রেকর্ডও স্পর্শ করলেন অষ্টম বাছাই এই টেনিস তারকা। এরপর ১৯৮৮ সালে নাতাশা জভেরেভার বিরুদ্ধে একই স্কোরলাইনে পরাস্ত করে ফরাসি ওপেন জিতেছিলেন স্টেফি গ্রাফ। অন্যদিকে, গোটা প্রতিযোগিতায় দুর্দান্তভাবে নিজেকে মেলে ধরলেও ফাইনালে কেমন যেন খেই হারিয়ে ফেললেন আনিসিমোভা। হয়তো চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে হল ২৩ বছরের এই তারকাকে। ক্রমতালিকায় ১৩ নম্বরে রয়েছেন তিনি। প্রথমবার কোনও গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি। সেমিফাইনালে তিনি সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন। তাই ফাইনালে তাঁর দিকে নজর ছিল সবার।