মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ধুন্ধুমার কান্ড! চেলসির ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপ রিক্ত হল পিএসজি-র প্রহারে!

ডোনাল্ড ট্রাম্প কি দেখলেন? নিশ্চয়ই দেখেছেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবার ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপের ফাইনালের প্রধান অতিথি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গোটা ম্যাচটা গ্যালারিতে ছিলেন। পিএসজি-কে ৩ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ম্যাচ শেষ হতেই তিনি পুরষ্কার বিতরণী মঞ্চে। তার আগেই তো ঘটে গেল দুর্ঘটনাটা। মাঠেই, সাইডলাইনের ধারে। চেলসির তৃতীয় গোল করা, ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার হোয়াও পেড্রোকে মাটিতে ফেলে পেটাচ্ছেন পিএসজি-র সাপোর্ট-স্টাফেরা! তাদের মধ্যে ফুটবলারও রয়েছেন। আরও একজন ছিলেন। মার্কিন মিডিয়া ভাবতে পারেনি, তার আগ্রাসনের পরিমাণ সৌজন্য, ভদ্রতা ছাপিয়ে যাবে। তিনি পিএসজি-র কোচ লুই এনরিকে। তার ঘুষিতেই পপাতধরণী তলে পেড্রো! শেষপর্যন্ত, পিএসজি-র অন্য সহকারী কোচেরা এনরিকে-কে টেনে নিয়ে যান, শান্ত করেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাংবাদিকরা বলছেন, ঘটনার শুরু ম্যাচের শেষ হওয়ার আগেই। পেড্রো আর আন্দ্রে স্যান্তোসের সঙ্গে পিএসজি-র আশ্রাফ হাকিমি-র ঝগড়া দিয়ে। সেই ঝগড়ায় হাকিমির দুটো হাতও উত্তেজিত হয়ে নাড়াতে দেখা যায় চেলস্যার দুই ফুটবলারের মুখের সামনে। তারই প্রতিফলন ম্যাচ শেষ হওয়ার পরের কিছুক্ষণ। চেলসির কোচ মারেসকাকেও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে এনরিকের সঙ্গে ঝগড়া করতে দেখা যায়। সেই ঝগড়াও প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। শেষপর্যন্ত দু’জনকেই সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মঞ্চে উঠে চেলসির উৎসবে ফুটবলারদের উল্লাসে বিশেষ ভাটা পড়েনি। জোড়া গোল করে ম্যাচের অন্যতম নায়ক কোল পামার বলেছেন, “আনন্দটা একটু বেশিই হচ্ছে। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমাদের ডার্ক-হর্স বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেটাই আমাদের লড়াইকে শক্তিশালী করেছিল। ড্রেসিংরুমে আমরা নিজেদের বলতাম যে, ফেভারিটের মত খেলে চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।”
বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা সাইনা নেহওয়াল আর পারুপল্লি কাশ্যপের

রবিবার বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানালেন ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা সাইনা নেহওয়াল। পারুপাল্লি কাশ্যপের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। কাশ্যপও ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় এবং দুজনেই পুল্লেলা গোপিচাঁদের অ্যাকাডেমিতে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে ট্রেনিং করেছেন। ইনস্টাগ্রামে বিবাহবিচ্ছেদের খবর জানিয়ে সাইনা লেখেন, “মাঝে মাঝে জীবন আমাদের ভিন্ন পথে নিয়ে যায়। অনেক কিছু ভেবে পারুপাল্লি কাশ্যপ এবং আমি বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিজেদের জন্য এবং পরস্পরের জন্য আমরা শান্তি, বৃদ্ধি এবং নিরাময়কে বেছে নিয়েছি। যে স্মৃতিগুলো রয়েছে তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আশা করি সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এর বেশি কিছু চাই না। আমাদের বোঝার জন্য এবং গোপনীয়তাকে সম্মান জানানোর জন্য ধন্যবাদ।” ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর বিয়ে হয়েছিল সাইনা এবং কাশ্যপের। তারও প্রায় তিন বছর আগে থেকে দু’জনের সম্পর্ক ছিল। সাইনার অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। একটা সময় তিনি বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় ছিলেন। কাশ্যপ কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছেন।
ফরাসি ওপেনের মধুর প্রতিশোধ! উইম্বল্ডনে শেষ হাসি সিনারের

আলকারাজ়কে হারিয়ে প্রথমবার উইম্বলডন জিতলেন ইয়ানিক সিনার। ফরাসি ওপেনে আলকারাজের কাছেই হারের মধুর প্রতিশোধ নিলেন। উইম্বল্ডনও চ্যাম্পিয়ন হলেন এই প্রথম কোনও ইতালিয়ান খেলোয়াড়। সিনার জিতেছেন জিতেছেন ৪-৬, ৬-৪, ৬-৪, ৬-৪ ফলে। লড়াই চলল তিন ঘণ্টা চার মিনিট ধরে। ৪০-০ এগিয়ে থেকে একটি পয়েন্ট খুইয়েছিলেন আলকারাজ়ের কাছে। কিন্তু এমন একটা ‘এস’ সার্ভিস মারলেন যার কোনও জবাব ছিল না আলকারাজ়ের কাছে। দু’হাত দু’পাশে ছড়িয়ে কিছুক্ষণ দর্শকদের অভিবাদন গ্রহণ করেন সিনার। এর পর হাঁটু মুড়ে র্যাকেটে মাথা ভর দিয়ে কোর্টেই কিছু ক্ষণ বসে থাকেন। দু’বার হাতের তালু দিয়ে কোর্টের ঘাস চাপড়েই চলে যান গ্যালারিতে কোচেদের কাছে। ২০০৬-২০০৮, টানা তিন বছর ফরাসি ওপেন এবং উইম্বলডন ফাইনাল খেলেছিলেন রজার ফেডেরার এবং রাফায়েল নাদাল। এর মধ্যে ২০০৮-এর উইম্বলডন ফাইনালকে শতাব্দীর সেরা টেনিস ম্যাচ হিসাবে ধরা হয়। সুরকির কোর্টের রাজা নাদাল হারিয়ে দিয়েছিলেন ঘাসের কোর্টের রাজা ফেডেরারকে। আলকারাজ় নিজেও এখনকার সুরকির কোর্টের রাজা। তবে সিনার ঘাসের কোর্ট নন, বরং স্বচ্ছন্দ হার্ডকোর্টে খেলতে। তাঁর তিনটে গ্র্যান্ড স্ল্যামের তিনটেই হার্ডকোর্টে। ফরাসি ওপেনের ফাইনালে উঠে হেরেছেন। তবে উইম্বলডনে সেই ভুল করলেন না। ভবিষ্যতে ফেডেরার বা জোকোভিচের জায়গা নেবেন কি না, তা সময় বলবে। তবে রবিবার সিনারের আগ্রাসন এবং কৌশলী টেনিস বুঝিয়ে দিল, আলকারাজ় হয়তো আর উইম্বলডনে একচ্ছত্র দাপট দেখাতে পারবেন না। উইম্বলডনে আলকারাজ়ের টানা ২৪টি ম্যাচ জেতার দৌড়ও এ দিন থেমে গেল।