মায়ের অশৌচ পালনের মধ্যেও মঙ্গলবার ম্যাচের সেরা অর্ণব! ডার্বির আগে হার ইস্টবেঙ্গলের

ডার্বির আগে শেষ ম্যাচে, মঙ্গলবার মামনি পাঠচক্রের বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে ১ গোলে হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে মামনি পাঠচক্রের হয়ে জয়সূচক গোল ডেভিড মটলার। কিন্তু ম্যাচের স্কোরলাইনের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ ধরাকাছা ছেড়ে ম্যাচ খেলতে আসা পাঠচক্রের গোলকিপার অর্ণব দাসের ম্যান-অফ-দ্য-ম্যাচ হওয়া! বাবা-র পর মা-ও চলে গিয়েছেন। ম্যাচের আগে তার খাবার ছিল সাবু! ম্যাচের সেরা হওয়ার পরের খাবার সাবু আর ফল। কে বলল মা চলে গিয়েছেন! ভীষণভাবে আছেন তিনি এখনও! তার আশীর্বাদেই তো মঙ্গলবার অর্ণবের নিখঁত খেলে ম্যাচের সেরা হওয়া! অর্ণবের ক্লাবও যে একইভাবে তার পাশে। মঙ্গলবার ম্যাচের পর সেই ছবি দেখা গেল। ক্লাবের স্পনসরের প্রধান শেখ নাসিম আখতার দলের জয়ে একটা উপহার দিতে চেয়েছিলেন ফুটবলারদের। দাদা-বৌদির হোটেলে বিরিয়ানি খাওয়ার আমন্ত্রণ। ফুটবলাররা জানালো বিরিয়ানির প্রয়োজন নেই! বরং তিনি যেন বিরিয়ানির টাকাটা অর্ণবের মায়ের কাজের জন্যে দিয়ে দেন! এবং সেটাই হল। দিনের শেষে দল নয়, ফুটবলের জয়! মঙ্গলবার প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগের অন্য ম্যাচে জর্জ টেলিগ্রাফ ৩ গোলে জিতল কালিঘাট স্পোর্টস লাভার্স অ্যাসোশিয়েশনের বিরুদ্ধে। বিএসএস স্পোর্টিঙ্গের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জিতল নিউ আলিপুর সুরুচি সঙ্ঘ। অন্যদিকে, তেলেঙ্গানার হায়দ্রাবাদে আগামী ২৭ থেকে ২৯ সে জুলাই এ আই এফ এফ- ফিফা ট্যালেন্ট অ্যাকাডেমি তে ট্রায়ালের জন্য বাংলা থেকে কুড়ি জন ফুটবলার ডাক পেয়েছেন। এরা হলেন ময়ূখ হালদার,দিশাম রাজ হাঁসদা, উইলসন লাকরা, আর্জমান কেডিয়া, জয়ন্ত মন্ডল, কৈলাস মল্লিক, হিরন রায়, আহান হালদার, দেবরাজ গায়েন, ভোলা রাজোয়ার, জিয়ন হাঁসদা, রাজ মুদি,, নিরব রায়, সিদু সোরেন কিংশুক সরকার, বিভাস গিরি,সুদীপ মুর্মু অংশু সর্দার,রাজেশ মুর্মু, ও আরিফ মন্ডল। এই ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হবে হায়দরাবাদের গাচ্চিবৌলি স্টেডিয়ামে।
নতুন মরশুমে চার নতুন বিদেশিকে নিয়ে নতুন আশায় লাল-হলুদ

ব্রাজিলের মিগুয়েল ফিগুয়েরা। প্যালেস্তাইনের মহম্মদ রশিদ। মরোক্কোর হামিদ আহাদাদ এবং আর্জেন্তিনার ডিফেন্ডার কেভিন সিবিল্লে। এই চার নতুন বিদেশিকে সই করিয়ে নতুন আশা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকর্তাদের, কোচেদের এবং সমর্থকদের। দলের সাফল্য গত পাঁচ বছরে দূরবীণ দিয়ে দেখতে হবে। আইএসএলে, প্লে-অফে তো ওঠা দূর অস্ত, ২০২৪-২৫ মরশুমে নবম স্থানে শেষ করাই গত পাঁচ মরশুমের আইএসএলে সেরা প্রাপ্তি ক্লাবের কাছে! প্রদীপের মত জ্বলছে ২০২৪-এ সুপার কাপ জয় আর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ কোয়ালিফায়ার্সে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছনো। যে চার বিদেশীর ওপর ভরসা রেখে লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্ট গত মরশুমের শেষে ব্যর্থতাকে বরণ করে নিয়েছিল সেই মেসি বোউলি, হিজাজি মাহের, মাদি তালাল এবং হেক্টর ইউস্তেকে ক্লাব এই ইতিমধ্যে রিলিজ করে দিয়েছে। নতুন এই চার বিদেশী ফুটবলারের মধ্যে ব্রাজিলের মিগুয়েল ফিগুয়েরার ইস্টবেঙ্গলে আসা কোচ অস্কার ব্রুজোর উদ্যোগে। স্প্যানিশ কোচের কোচিংয়েই টানা তিন মরশুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ জেতা বসুন্ধরা কিংসের অন্যতম প্রধান স্ট্রাইকার ছিলেন মিগুয়েরা। প্যালেস্তাইনের মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদ গতবছর তার দেশকে প্রথমবার এএফসি এশিয়ান কাপের শেষ ১৬-য় পৌঁছনোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। আর রক্ষণ জমাট করতে হিজাজি মাহেরের পরিবর্তে আর্জেন্তিনার কেভিন সিবিল্লে। আর্জেন্তিনার বিখ্যাত ক্লাব রিভারপ্লেটের যুব দল থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার স্পেনের একটি তৃতীয় ডিভিশন দলের হয়ে খেললেও তার সাম্প্রতিক ম্যাচের ভিডিও-ক্লিপিংস দেখে খুশি হয়েছেন কোচ ব্রুজো এবং ফুটবল ডিরেক্টর থাংবই সিংটো বলে জানা গিয়েছে। আর একদিকে এফসি গোয়া-র জয় গুপ্তের সঙ্গে দুই মরশুমের চুক্তিও সম্পন্ন করল ইস্টবেঙ্গল। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন এই চার বিদেশীরই ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে কলকাতায় পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনা। ম্যানেজমেন্ট এবং কোচ, ফুটবল ডিরেক্টরদের ইচ্ছে ডুরান্ড কাপে বিদেশীদের খেলিয়ে দেখে নেওয়া। যদিও ফুটবলারদের সুস্থতার পরীক্ষার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শুধু নতুন বিদেশী ফুটবলার নয়. ইস্টবেঙ্গল মাঠকেও এই মরশুমে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। বসানো হচ্ছে আধুনিক বারমুডা ঘাস। কলকাতায় যা একমাত্র যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রয়েছে। মাঠের চারপাশ জুড়ে বসানো হবে জল দেওয়ার একাধিক স্প্রিঙ্কলার। ফ্লাডলাইটেরও সংস্কার কাজ হবে এবং প্র্যাক্টিসের জন্য মূল মাঠের পাসে কৃত্রিম ঘাসও বসানোর পরিকল্পনা আছে।
লর্ডসে ‘সৌরভের গেঞ্জি’ ওড়ানোর দৃশ্যে অনুপ্রাণিত হয়েই আর্চারের আগুনে বোলিং!

লর্ডসে ভারতকে হারানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল আর্চারের। সোমবার লর্ডসে টেস্টের পঞ্চম দিনে খেলতে নামার আগে লর্ডসের ব্যালকনিতে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জার্সি খুলে ঘোরানোর ভিডিও দেখেছিলেন তিনি। গোপন কথা ফাঁস করলেন অধিনায়ক বেন স্টোকস। সোমবার ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে স্টোকস বলেন, “খেলার আগে আর্চার সৌরভের জার্সি খুলে ঘোরানোর ভিডিয়ো দেখছিল। ও ভেবেছিল, বিশ্বকাপের ফাইনালে ওটা হয়েছিল। আমি ওকে বললাম, না। ওটা ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে হয়েছিল। বিশ্বকাপ ফাইনালে আমরা জিতেছিলাম।” ২০০২-এ ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে নাসের হুসেনের ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলেন সৌরভেরা। ফাইনালে মহম্মদ কাইফ এবং যুবরাজ সিংহের জুটি দলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছিল। তুমুল উত্তেজনার ম্যাচ জয়ের পর ব্রিটিশ ক্রিকেটের ট্র্যাডিশন ভেঙে লর্ডস দেখেছিল তার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সৌরভের জয়ের ঐতিহাসিক উৎসব পালন, গায়ের জার্সি খুলে ওড়ানো! বেন স্টোকস বলছেন সেই ভিডিয়ো দেখেই অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন আর্চার। যার প্রতিফলন মাঠে নেমে তার আগুনে বোলিং! এবং ইংল্যান্ডের জয়ের ভিত গড়া। ছ’বছর আগে ১৪ জুলাই এই লর্ডসেই বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেই ম্যাচেও বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন আর্চার। সোমবার সকালে আর্চারের সঙ্গে পরিকল্পনা সেরেছিলেন বলে জানিয়েছেন স্টোকস। তিনি বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠেই ছ’বছর আগের দিনটার কথা মনে পড়েছিল। আমি সোজা আর্চারের কাছে গেলাম। বিশ্বকাপ ফাইনালে আমাদের জয়ে আর্চারের বড় অবদান ছিল। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিল। এই ম্যাচটা আমরা কী ভাবে জিততে পারি, সেটা নিয়ে ওর সঙ্গে কথা বললাম। আরও এক বার নিজের কাজ করল আর্চার।’’ স্টোকস মেনে নিয়েছেন ভারতের প্রথম ইনিংসে পন্থের রান আউট ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ইংল্যান্ড অধিনায়ক বলেছেন, ‘‘খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় পন্থকে আমরা আউট করতে পেরেছি। ও একটু দ্বিধায় ছিল। সেটা দেখেই উইকেটে বল ছুড়েছিলাম। হাত থেকে বল বেরিয়ে যাওয়ার পরই বুঝতে পারি, উইকেট ভাঙবে। ওটাই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিল।’’
১১৪ বছর বয়সে চলে গেলেন পাঞ্জাবের ‘টার্বান্ড টর্নেডো’

দৌড়ের ময়দানে তিনি থামেননি। কাবু করতে পারেনি অসুস্থতাও। শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল ১১৪ বছর বয়সি ম্যারাথন রানার ফৌজা সিংয়ের। মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত দিব্যি হেঁটে-চলে বেড়িয়েছেন তিনি। নেশামুক্ত সমাজ গড়তেও সচেতনতামূলক প্রচার করেছেন। শেষ পর্যন্ত পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত হলেন তিনি। পাঞ্জাবের জলন্ধরে ১৯১১ সালের পয়লা এপ্রিল জন্ম হয় ফৌজার। তবে বৃদ্ধ বয়সে এসে দৌড়নো শুরু করেন তিনি। ৮৯ বছর বয়সে প্রথম তিনি নামেন রেসের ট্র্যাকে। লন্ডন ম্যারাথনে দৌড়েছিলেন ২০০০ সালে। তারপর একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ৪২ কিলোমিটার ম্যারাথনে নানা দেশে গিয়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। লন্ডনের পর টরন্টো এবং নিউ ইয়র্কেও ম্যারাথনে নেমেছেন। টরন্টোয় ৪২ কিলোমিটার দৌড় শেষ করেছেন ৫ ঘণ্টা ৪০ মিনিট ৪ সেকেণ্ডে, সেটাই তাঁর সেরা সময়। শুধু তাই নয়, ২০০৪ আথেন্স এবং ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের মশালবাহকও ছিলেন ফৌজা। কয়েকবছর আগে ডেভিড বেকহ্যাম এবং মহম্মদ আলির সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনও করেছিলেন। সম্প্রতি পাঞ্জাবের নেশামুক্তি অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। দুইদিনব্যাপী পদযাত্রা আয়োজন করেছিলেন নেশামুক্ত পাঞ্জাব গড়ে তোলার লক্ষ্যে। সেখানে হাজির ছিলেন পাঞ্জাবের রাজ্যপাল গুলাব চাঁদ কাটারিয়াও। ১১৪ বছর বয়সে এসেও সুস্থ সবল ফৌজার মৃত্যু হল দুর্ঘটনায়। সোমবার দুপুরে জলন্ধর-পাঠানকোট হাইওয়েতে আচমকাই একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে তাঁকে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীনই ফৌজার মৃত্যু হয়। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন পাঞ্জাবের রাজ্যপাল। ফৌজার সন্তানরা সকলেই দেশের বাইরে থাকেন। তাঁরা ফিরলে দৌড়বিদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। অ্যাথলেটিক মহলে তাঁর পরিচিতি ছিল টার্বান্ড টর্নেডো নামে। ১০২ বছর বয়সে প্রতিযোগিতামূলক দৌড় থেকে অবসর নিয়েছিলেন। কিন্তু সমাজকল্যাণমূলক কাজে তারপরেও দৌড়তে দেখা গিয়েছে ফৌজাকে।
দাবার বিশ্ব ‘আইপিএলে’ আনন্দের টিমের একমাত্র বাঙালি সদস্যের এখনও ঘোর কাটেনি কিংবদন্তির সংস্পর্শের!

সুদীপ পাকড়াশীঃ নাম সর্বার্থ মানি। বয়স ৯ বছর। সাউথ পয়েন্ট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার। জর্জিয়ার বাটুমি থেকে অনূর্ধ্ব-১০-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে সম্প্রতি ফিরেছে। সোমবার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস একই টুর্নামেন্টে রুপোজয়ী ঐশিক মণ্ডলের সঙ্গে সর্বার্থকেও সম্বর্ধিত করলেন। সর্বার্থ খুব খুশি এই স্বীকৃতিতে। কিন্তু স্বীকৃতি তো তার কাছে নতুন নয়। ২০২৩-এ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত তার ঝুলিতে ১৩টা আন্তর্জাতিক পদক! যার মধ্যে রয়েছে কমনওয়েলথ দাবায় সোনা, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও ৫টা পদক। জর্জিয়ায় বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এলো-রেটিংয়ে সর্বার্থ পৌঁছে যাবে ১৯৫০-এ। কিন্তু এর থেকেও গুরুত্বপূর্ণ খবর আছে। সাম্প্রতিককালে বাংলার দাবায় হয়ত সবচেয়ে বড় খবর! এক মাস আগে লন্ডনে দাবার আইপিএল হয়ে গেল। ফিডে-র বিশ্ব র্যাপিড এবং ব্লিৎজ টুর্নামেন্টে দলগত লড়াইয়ে ফিডে-র সিইও এবং বিখ্যাত গ্র্যান্ডমাস্টার এমিল সুটোষ্কি একটি দল কিনেছেন। তার নাম ফ্রিডম। ৬-জনের সেই দলে একমাত্র বাঙালি ও সর্কনিষ্ঠ দাবাড়ু হয়ে সুযোগ পেয়েছে সর্বার্থ। আর ‘ফ্রিডমের অধিনায়ক কে ছিলেন জানেন? বিশ্বনাথন আনন্দ! সর্বার্থর সঙ্গে কথা বলে মনে হল পদকগুলো নয়, একমাস হয়ে গেল, ও এখনও আচ্ছন্ন বিশ্বনাথন আনন্দে! দিব্যেন্দু বড়ুয়া অ্যাকাডেমির সঙ্গে যুক্ত হওয়া এই খুদে প্রতিভা ফোনে বলছে, “আনন্দ স্যার যে পরামর্শগুলো দিতেন লন্ডনে থাকার সময়, সেগুলোই আমি পরে এই বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সময় প্রয়োগ করার চেষ্টা করেছি। লণ্ডনে থাকার সময় আনন্দ স্যারের সঙ্গে যে গল্প করতাম সেটাও আমি সারাজীবনে ভুলতে পারব না। এখনও পর্যন্ত আমার জীবনে সেরা প্রাপ্তি।” বাবা সিদ্ধার্থ মানিও অভিভূত এক মাসের লন্ডন সফরের অভিজ্ঞতায়। “এমিল সুটোষ্কি নিজেই একদিন ফোন করে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সর্বার্থর অনেক খেলার ভিডিও দেখে মুগ্ধ হয়ে উনি ফোনটা করেছিলেন। তারপর থেকে এমিল স্যার সর্বার্থর মেন্টর হয়ে কাজ করেন, শুধু ভালবেসে! এমনকী, জর্জিয়ায়ও প্রত্যেকদিন ফোন করতেন এমিল স্যর। ওর খেলা নিয়ে পরামর্শ দিতেন। আমার মনে হয় ২০২৫-এ এটাই আমাদের কাছে প্রথম বড় প্রাপ্তি।” সিদ্ধার্থ বলছেন, লন্ডনে ফ্রিডম দলের হয়ে খেলতে যাওয়াটা সর্বার্থর কাছে আরও এক অমূল্য প্রাপ্তি। “এখনও ভাবতে পারি না, মামেদভ রাউফ, অ্যালেক্সি সারানার সঙ্গে রাত ১১.৩০ টার সময় প্র্যাক্টিস করছে সর্বার্থ আর আনন্দ দেখছেন সেই খেলা। গল্প করতে করতে সর্বার্থকে পরামর্শ দিচ্ছেন। লুকিয়ে ভিডিও করে রেখেছি সেই দৃশ্য,” সিদ্ধার্থের কথায়ও আনন্দের ঘোরেরই রেশ! সেই কারণেই হয়ত ছেলের দাবা খেলার জন্য বছরে প্রায় লাখ ৪০ টাকা খরচ হলেও লড়াই চালিয়ে যেতে চান সর্বার্থর বাবা-মা। এই খরচের মূল অংশটা চলে যায় সর্বার্থর বিদেশে খেলতে যাওয়ার পেছনে আর কোচিং-এর জন্য। কোচিং নেওয়ার জন্য মাসে খ্রচ প্রায় ১২ লক্ষ টাকা! সর্বার্থ থেমে নেই। আগামি মাসেই আবুধাবিতে আর একটা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সর্বার্থ। তার স্বপ্ন? বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।