নিজের পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে চায় বিরাটের ভাইপো

ক্রিকেটর মূলস্রোতে আবির্ভাবের অপেক্ষায় আরও এক কোহলি। সে বিরাট কোহলি ভাইপো আর্যবীর কোহলি। ১৫ বছর বয়সি ক্রিকেটার বিরাটের মতো ব্যাটারও নয়। লেগ স্পিনার আর্যবীর এবার সুযোগ পেয়েছে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে। কিন্তু আর্যবীর কাকার নামে নয়, নিজের নামে পরিচিত হতে চায়। গতবারের রানার্স আপ সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জে গিয়েছেন কোহলির ভাইপো, ১ লক্ষ টাকায়। আর্যবীরের কোচ শরণদীপ সিং বলছেন, “আর্যবীর উঠতি প্রতিভা। বয়স খুবই কম। ওর পদবী নিয়ে বাড়তি চাপ নেই। খুবই প্রতিভাবান ক্রিকেটার ও। কঠোর পরিশ্রম করে নিজের নাম তৈরি করতে চায়।” গত ৫ জুলাই দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের নিলাম ছিল। সেখানে বিরাট কোহলির দাদা বিকাশের ১৫ বছর বয়সি পুত্র আর্যবীরের নাম ছিল। নিলামের ড্রাফটে ছিল বীরেন্দ্র শেহওয়াগের দুই পুত্র আর্যবীর এবং বেদান্তও। শেহওয়াগের বড় ছেলে আর্যবীরের নাম অবশ্য ইতিমধ্যেই চর্চিত। দিল্লির অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে ২৯৭ রান করেছিল। এবার প্রতিপক্ষ হিসাবে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে নামবে পরবর্তী প্রজন্মের কোহলি ও শেহওয়াগ। যদিও নিলামে দু’জনের ভাগ্য বেশ আলাদা। ৮ লক্ষ টাকায় শেহওয়াগপুত্রকে কিনে নিয়েছে সেন্ট্রাল দিল্লি কিংস। আর্যবীর পেয়েছে ১ লক্ষ টাকা। এছাড়াও একঝাঁক পরিচিত মুখ খেলবেন দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে। আইপিএলে আবির্ভাবেই নজর কেড়েছিলেন দিগ্বেশ রাঠি। সেটা তাঁর ‘রহস্যময়’ বোলিংয়ের জন্য তো বটেই, তার সঙ্গে ‘নোটবুক’ সেলিব্রেশনের জন্যও। ৩৮ লক্ষ টাকায় তাঁকে কিনেছে সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্জ। খেলবেন ঋষভ পন্থও। নিলামে সর্বোচ্চ ৩৯ লক্ষ টাকা দাম পেয়েছেন পেসার সিমরজিৎ সিং।
দেশের কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা জানাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রাক্তনরা পরবেন খোদাই করা সোনার জার্সি!

ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডস’ প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটারেরা অংশ নিচ্ছেন এই প্রতিযোগিতায়। চমক দিতে চলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। একটা বিশেষ ধরনের জার্সি পরে খেলতে চলেছে তারা। ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে দামি জার্সি বলা হচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের হয়ে খেলবেন ক্রিস গেল, ডোয়েন ব্র্যাভো, কায়রন পোলার্ডের মতো তারকা ক্রিকেটার। তাঁরা যে জার্সি পরে নামবেন সেটা তৈরি করেছে দুবাইয়ের এক সংস্থা। ওই জার্সিতে থাকছে ১৮ ক্যারাটের সোনা। ৩০ গ্রাম, ২০ গ্রাম এবং ১০ গ্রামের সোনা খোদাই করা থাকবে জার্সির মধ্যে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেট কিংবদন্তিদের শ্রদ্ধা জানাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জার্সি নির্মাতা সংস্থার কর্তা রাজ করণ দুগ্গাল জানিয়েছে, ক্লাইভ লয়েড থেকে ক্রিস গেল এবং আধুনিক প্রজন্মে একের পর এক তারকা ক্রিকেটার উপহার দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়। তাদের ঐতিহ্য এবং পরম্পরাকে সম্মান জানাতে বিশেষ জার্সি তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের সংস্কৃতিকেও তুলে ধরা হয়েছে জার্সিতে। ১৮ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে ডব্লিউসিএল। প্রতিযোগিতায় খেলছে ভারত। ভারতের অধিনায়ক যুবরাজ সিংহ। দলে শিখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়না, ইরফান পাঠান, ইউসুফ পাঠানেরা রয়েছেন। ২০ জুলাই ভারতের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।
অলিম্পিক্স ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবে না দু’বারের বিশ্বজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ়!

দীর্ঘ ১২৮ বছর পর অলিম্পিক্সে ফিরছে ক্রিকেট। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে আবার ক্রিকেট দেখা যাবে। তবে সেই ইভেন্টে হয়তো অংশ নিতে পারবে না দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজ় দলই। এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সে দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান কর্তা। আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ় নামে কোনও দেশের অস্তিত্বই নেই। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের ১২টি স্বাধীন দেশের ক্রিকেটারেরা একসঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের অধীনে খেলেন। জামাইকা, বার্বাডোজ়, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, গায়ানা-সহ বাকি সব ক’টি অঞ্চলই এক একটি দ্বীপরাষ্ট্র। অলিম্পিক্সে প্রত্যেকে আলাদা আলাদা দেশ হিসাবে অংশ নেয়। যেমন বিশ্বের দ্রুততম মানব উসাইন বোল্ট প্রতিনিধিত্ব করেছেন জামাইকার। প্রত্যেকটি দ্বীপরাষ্ট্রেরই আলাদা আলাদা জাতীয় অলিম্পিক্স কমিটি (এনওসি) রয়েছে। অলিম্পিক্সে স্বীকৃত এনওসি ছাড়া অংশগ্রহণ করা যায় না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ় নামে কোনও দেশ না থাকায় তাদের এনওসি-ও নেই। ২০২২-এর কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেখানে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে শুধু বার্বাডোজ় অংশ নিয়েছিল। তা হলে অলিম্পিক্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের ভবিষ্যৎ কী? বোর্ডের সভাপতি কিশোর শ্যালো বলেছেন, “এই মুহূর্তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের পক্ষে অলিম্পিক্সে অংশগ্রহণ করার কোনও রাস্তা খোলা নেই। তবে ২০২৮ অলিম্পিক্সে আমাদের দেশের তরুণ ক্রিকেটারেরা অংশ নিতে পারবে না, সেটাও হতে পারে না। ক্যারিবীয়রা বরাবর অলিম্পিক্সে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছে। সেটা এসেছে মূলত অ্যাথলেটিক্স থেকেই।” ২০২৪-এ ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল। সেই বিশ্বকাপের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর ক্রিস ডেহরিং বলেছেন, “আমরা চাই অলিম্পিক্সে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের প্রতিটি দেশের যে সাফল্য রয়েছে, তার কথা ভেবেই অলিম্পিক্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়কে খেলার অনুমতি দেওয়া হোক।” তবে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক্স কমিটি তার অনুমোদন দেবে কি না তা নিশ্চিত নয়। হয়তো ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের সব দেশকে নিয়ে যোগ্যতা অর্জনকারী ম্যাচ আয়োজন হতে পারে, যেখানে বিজয়ী দেশ অলিম্পিক্স খেলবে। আইসিসি এখনও জানায়নি অলিম্পিক্সের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। তবে এ রকম একটি সম্ভাবনা রয়েছে।