ফেডারেশন সভাপতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্যের সমাহারে জয়দীপ বসুর বই ‘হু স্টোল মাই ফুটবল’

বিশিষ্ট ক্রীড়াসাংবাদিক এবং সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রাক্তন মিডিয়া ম্যানেজার জয়দীপ বসুর একটি বই প্রকাশিত হয়েছে সম্প্রতি। নাম ‘হু স্টোল মাই ফুটবল’। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অজানা কাহিনী। ২০২২-এর জুলাইয়ে মিডিয়া ম্যানেজারের পদে যোগ দিয়েছিলেন জয়দীপ বসু। এবছর তাকে মিডিয়া ম্যানেজারের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। গত তিন বছর ধরে ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের কার্যকলাপ নিয়েই মূলত তার লেখা এই বই। তাতে উঠে এসেছে অনেক অজানা কথা। ২০২২-এ কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বে ফেডারেশনের যে নতুন এগজিকিউটিভ কমিটি তৈরি হয়েছিল তারা অনেক আশা, প্রতিশ্রুতির কথা শুনিয়েছিল। কিন্তু সমস্ত আশা, প্রতিশ্রুতিকে বিসর্জন দিয়ে ফেডারেশন সভাপতি এবং এগজিকিউটিভ কমিটির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে আসতে থাকে একের পর এক দূর্নীতির অভিযোগ। জয়দীপ বসু সেই অভিযোগের আগুমে ঘি ঢেলেছেন। একাধিক বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে। এরকম অভিযোগের কথা বইতে উল্লিখিত যে ফেডারেশন সভাপতি না কি ফেডারেশনেরই কর্মীর মাসিক বেতন থেকে কমিশন নিয়েছেন! এমনকী, ফেডারেশনের ক্রেডিট কার্ড থেকে নিজের জুতো কেনারও অভিযোগের কথা লেখা হয়েছে বইতে। একইসঙ্গে বই প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে এই প্রশ্নও উঠেছে যে, জয়দীপ বাবু সব জানা সত্ত্বেও গত তিন বছরে মুখ খোলেননি কেন? আজ তাকে ফেডারেশন সরিয়ে দিয়েছে বলেই কি তিনি এই বই লিখলেন? তাহলে কি ‘আঙুরফল টক হল’? সোমবার জয়দীপ বসুকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল। জবাবে বলেছেন, “কে বলেছে আমি কখনও প্রতিবাদ করিনি? ফেডারেশনের অফিসে আমার তিন বছরে এমন তিনটি ঘটনা ঘটেছিল যে আমি তার তীব্র প্রতিবাদ করেছিলাম। ওই তিনটি ঘটনার কথা আমি বলব না। শুধু এটুকু বলতে পারি, গত ৪১ বছর ধরে আমার পেশার সৌজন্যে ফেডারেশন যারা চালিয়ে আসছেন তাদের কাছ থেকে দেখেছি। কল্যাণ চৌবের মত নিকৃষ্ট সভাপতি আমি দেখিনি।”
কোহলির প্রতি ‘বিরাট’ কৃতজ্ঞতা ইংল্যান্ডের ‘বেবি বয়কটের’!

তার নাম হাসিম হামিদ। ইংল্যান্ডের এই ব্যাটসম্যানকে ওদের দেশে ডাকা হয় ‘বেবি বয়কট’ নামে! শক্তিশালী টেকনিকের জন্য। বাবা-মায়ের দেশ ভারত। তার প্রথম ভারত সফর ২০১৬-তে। অ্যালিস্টার কুকের ইংল্যান্ডের হয়ে। সেই সফরে রাজকোটে হামিদের দু’ইনিংসে রান ৩১এবং ৮২। তারপর মোহালিতে প্রথম ইনিংসে উমেশ যাদবের একটি বিষাক্ত ডেলিভারিতে ডান হাতের আঙুলে চিড় ধরার পরেও দ্বিতীয় ইনিংসে আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে একটি তিন ঘন্টার লড়াকু অপরাজিত ৫৯। যে ইনিংসের জন্য ইংল্যান্ডের ইনিংসে হার বেঁচেছিল। কিন্তু ওই চোট হামিদের ক্রিকেট জীবনকে নিয়ে গিয়েছিল চরম এক অনিশ্চয়তার দিকে। তখন ওর বয়স? মাত্র ২৪। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়া, ল্যাঙ্কাশায়ারের চক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া। খেলা ছেড়ে দেওয়ার কথাও মনে এসেছিল হতাশায়। কিন্তু ছাড়তে হয়নি। দুর্দান্ত এক উত্তরণ হয়েছিল তার ক্রিকেট জীবনে। দুটো মরশুমের অন্ধকার কাটিয়ে আবার নটিংহ্যামশায়ারে পা রাখা এবং চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স। যার মধ্যে গত মরশুমে কাউন্টি ক্রিকেটের প্রথম ডিভিশনে ১০৯১ রান। চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত ৯টা ম্যাচ খেলেছেন। রান ৮৪৮! কিন্তু দুঃসময় কাটিয়ে উঠলেন কীভাবে? এক সর্বভারতীয় দৈনিককে জানিয়েছেন তার ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে কার অনুপ্রেরণা ছিল। যাদের মধ্যে প্রথম নাম বিরাট কোহলি! বলেছেন, “আমাকে ওর ফোন নম্বরটা দিয়েছিল ২০১৬-র সফরেই। বলেছিল যখন প্রয়োজন হবে যেন আমি ফোন করি। সময়টা যখন শুধু ব্যর্থতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তখন একদিন ফোন করেছিলাম। কী আশ্চর্য! আমার ব্যর্থতা নিয়ে কোনও কথাই বলেনি। শুধু উপদেশ দিচ্ছিল, ব্যাট করে নেমে কীভাবে মাথাটা ঠাণ্ডা রাখতে হবে, কীভাবে নিজেকে অবিরাম বলে যেতে হবে যে তোমাকেই পারতে হবে! আমি এখনও ব্যাট করতে নেমে, আগে ও পরে, এমনকী, নেটে দাঁড়িয়েও নিজেকে বলি, তোমাকেই পারতে হবে!” কোহলি ছাড়াও, হামিদ বলছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ব্যাটসম্যান হাসিম আমলাও তার দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। মানসিক শক্তি যুগিয়েছেন। কিন্তু বিরাটের প্রসঙ্গ উঠলে এখনও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন হামিদ। হয়ত সারাজীবনই বিরাট-কৃতজ্ঞতায় আচ্ছ্বন্ন থাকবেন ‘বেবি বয়কট’!
সিএবি-তে আবার ‘অনিয়মের’ অভিযোগে অম্বুডসম্যানের কাছে জমা পড়ল চিঠি!

আগামী সেপ্টেম্বরে সিএবির সাধারণ বার্ষিক সভা। তার আগে একাধিক বিতর্কে অস্বস্তিতে বাংলার ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা, সিএবি। সম্প্রতি সংস্থার যুগ্ম-সচিব দেবব্রত দাস আর কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছিল সিএবি-র অম্বুডসম্যানের কাছে। রবিবার আরও ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সেখানে সিএবির সঙ্গে যুক্ত অম্বরীশ মিত্রের বিরুদ্ধেও আর্থিক লেনদেনের সংক্রান্ত অভিযোগ জমা পড়েছে। এবার আরও এক আইনি চিঠি জমা পড়ল সিএবির অ্যাপেক্স কমিটির এক সদস্যের বিরুদ্ধে। মহাদেব চক্রবর্তী সিএবির অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি চিঠি জমা পড়েছে গত শুক্রবার। ওই চিঠিতে মহাদেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নাকি সিএবির নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য হয়েছেন। এটাও বলা হয়েছে, মহাদেব মনোনয়নের সময় কিংবা হলফনামায় ঠিকঠাক নথি জমা দিয়েছিলেন কি না, সেটারও যেন তদন্ত করা হয়। সিএবির নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি কর্মচারী যদি স্পোর্টস কোটায় নিযুক্ত হয়ে থাকেন, একমাত্র তাহলেই তিনি অ্যাপেক্স কাউন্সিলের সদস্য কিংবা সিএবির পদাধিকারী হতে পারেন। যিনি চিঠি জমা দিয়েছেন, তাঁর সংশয় ঠিক এই জায়গাতেই। বলা হয়েছে, মহাদেবকে সিএবির সমস্ত রকমের কর্মকাণ্ড থেকে আপাতত দূরে রাখা হোক। তাঁর বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত দরকার। এই চিঠির ব্যাপার নিয়ে মহাদেবের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কলকাতার একটি নিউজ পোর্টালকে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, “এটা নিয়ে আমার কোনও বক্তব্য নেই। একটা চিঠি জমা পড়েছে। সেটা অম্বুডসম্যানের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি আমরা। যা সিদ্ধান্ত সেটা অম্বুডসম্যান নেবেন।”