৫ গোল দিয়ে শুরু ইস্টবেঙ্গলের: অস্কারের উচ্ছ্বাস রশিদ কে নিয়ে

সায়ন প্রামানিক : উদ্বোধন হয়ে গেল ১৩৪তম ডুরান্ড কাপ। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফুটবল শটের মাধ্যমে শুরু হল দেশের প্রাচীনতম টুর্নামেন্ট। প্রথম ম্যাচেই সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ৫ গোল দিয়ে শুরু করলো লাল-হলুদ বাহিনী। একেবারে শুরু থেকেই খেলার রাশ নিজেদের হাতে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ১১ মিনিটে দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে দলকে এগিয়ে দেন লালচুনুঙ্গা। ৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সল। একের পর এক আক্রমণে কোণঠাসা হয়ে পড়ে সাউথ ইউনাইটেড। ম্যাচে এক মুহূর্তের জন্যও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি দক্ষিণের এই ক্লাব। দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। তিনটি পরিবর্তন করেন কোচ অস্কার ব্রুজো। দিমির পাস থেকে দুর্দান্ত হাফ ভলিতে গোল করেন বিপিন। এরপর ব্যবধান বাড়ান দিমিত্রিওস দিয়ামান্তাকোস ও নাওরেম। দলের ৫ গোলে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর বিশেষ প্রশংসা রশিদকে। “রশিদ ভবিষ্যতে দলের ভরসা হয়ে উঠবে। আজকের জয় আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিলো।” ডুরান্ড কাপে ৫-০ ব্যবধানে দারুণ সূচনা করল ইমামি ইস্টবেঙ্গল। তবে দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সুযোগ নষ্টও হয়েছে প্রচুর। মরশুমের শুরুতে বড় জয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াল অস্কারের দল।
উত্তর ২৪ পরগণার ফুটবলে এল স্পনসর; ডিএসএ সচিবের উদ্যোগ মহিলাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল লিগ শুরু করার

সুদীপ পাকড়াশীঃ সোমবার উত্তর ২৪ পরগণার ফুটবলে এল নতুন স্পনসর। কোম্পানির নাম বিবি ফাউন্ডেশন। ডক্টর্স চয়েজ যাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। সোমবার একটি অনুষ্ঠানে তিন বছরের জন্য মৌ-চুক্তি হল। সই করলেন কোম্পানির কর্ণধার বিজয় আগরওয়াল আর উত্তর ২৪ পরগণা জেলা ক্রীড়া সংস্থার (ডিএসএ) সচিব সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য। উত্তর ২৪ পরগণা একসময় শুধু বাংলা নয়, ভারতীয় ফুটবলেরও আধার ছিল! একটা সিনিয়র জাতীয় ফুটবল দল তৈরি করা ফেলা যেত! সেই জেলা থেকে আজ জাতীয় মানের ফুটবলার খুঁজতে হলে দূরবীণ দিয়ে দেখতে হয়! সোমবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এই জেলা থেকে দেশের হয়ে খেলা মিহির বোস, রঞ্জিত মুখার্জি, স্বপন সেনগুপ্ত, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, সুমিত মুখার্জি, লালকমল ভৌমিক, কবীর বোস, প্রতাপ সেনাপতি, বিশ্বনাথ মণ্ডলের মত একাধিক প্রাক্তন ফুটবলার। এদের সঙ্গে ডিএসএ সচিব, এই স্পনসরশিপকে বাস্তবায়িত করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা, গৌতম মুখার্জি যিনি রঞ্জিত মুখার্জির ভাই-প্রত্যেকের বক্তব্যে একটাই মিল। ‘অদূর ভবিষ্যতে উত্তর ২৪ পরগণা ফুটবলের গৌরবময় অতীতকে ফিরিয়ে আনতে হবে।’ আগামি ৩ বচ্ছরে ডিএসএ পাবে আনুমানিক ২৫ লক্ষ টাকা। বিজ্ঞানসম্মত ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম এবং জুনিয়রদের নিয়ে লিগ শুরু করার পাশাপাশি ডিএসএ সচিবের ভাবনায় মহিলাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি ফুটবল লিগ শুরু করা। প্রাথমিকভাবে আলোচনাও শুরু হয়ে গিয়েছে জেলার ক্লাবগুলো এবং জেলার কিছু বেসরকারি সংস্থার সঙ্গেও। ডিএসএ সচিব সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যের আশা, “প্রথমবার মনে ১০টা দল নিয়ে লিগটা করতে পারব। জেলার যে চারটে ডিভিশন আছে সেখান থেকেই দলগুলোকে নিয়ে একটা মাঠে লিগটা প্রথমবার করার চেষ্টা করব। আর এই লিগে আমার আশা, বেসরকারি সংস্থারাও এগিয়ে আসবে। পুজোর পরই মেয়েদের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ করব।”
ন্যাশনাল স্পোর্টস বিলে BCCI-ও? বিতর্কের কেন্দ্রে ক্রিকেট বোর্ড

বুধবার পেশ হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ন্যাশনাল স্পোর্টস বিল। এই বিল আইন হিসেবে পরিণত হলে দেশের প্রতিটি ক্রীড়া বোর্ড ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে— আর সেখানেই আলোচনার কেন্দ্রে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড, অর্থাৎ BCCI। অন্যান্য ক্রীড়া ফেডারেশনের মতো নয় BCCI। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে কোনওরকম অর্থসাহায্য গ্রহণ করে না, নিজেদের খরচ নিজেরাই চালায়। তবু ২০২৮ অলিম্পিকে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে এখন ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে— BCCI কি তবে ন্যাশনাল স্পোর্টস বিলের আওতায় আসবে? এই বিষয়ে BCCI-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজীব শুক্লা বলেন, “বিলটা পেশ হওয়ার পর আমাদের সেটি ভালোভাবে পড়তে হবে। তারপরেই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারব।” উল্লেখ্য, BCCI ১৯৭৫ সালের তামিলনাড়ু সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী নথিভুক্ত, এবং রাইট টু ইনফর্মেশন (RTI)-এর আওতায় নেই। অন্যদিকে, কেন্দ্রের দাবি— এই বিল কার্যকর হলে ক্রীড়াক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও আর্থিক সাম্যতা আসবে। নির্বাচন ও অ্যাথলিট বাছাইয়ে আরও উন্মুক্ততা থাকবে, যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়াব্যবস্থার কাঠামো পাল্টে দিতে পারে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। BCCI-র ভবিষ্যৎ পদক্ষেপেই এখন নজর দেশের ক্রীড়া জগতের।
লড়াইয়ের দিন ফেলে বিসিসিআই-এর এখন বছরে রোজগার প্রায় ১০ হাজার কোটি!

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও গরিব ছিল! আজ, ২০২৫-এ এই কথা বিশ্বাসযোগ্য না-ও হতে পারে। কিন্তু ৪০ বছর আগে বোর্ড অফ কন্ট্রোল ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) ভাঁড়ারে দিন আনি দিন খাওয়ার মতই অবস্থা। ১৯৮৭-র বিশ্বকাপ আয়োজন করতে অনেক লড়াই করতে হয়েছিল বোর্ডকে। সেই বিশ্বকাপ স্পনসর করেছিল রিলায়েন্স। নামও যথারীতি পালটে গিয়ে হয়েছিল রিলায়েন্স কাপ। কিন্তু বিনিময়ে বোর্ডের আর্থিক প্রাপ্তি? ইন্ডিয়া টুডে জানাচ্ছে মাত্র ৬ কোটি টাকার কাছাকাছি! রিলায়েন্সের সঙ্গে এই টাকাতেই চুক্তি হয় বোর্ডের। দারিদ্র্য প্রথমবার ঘোচে ১৯৯২-এ। ২১ বছর পর নির্বাসনের শাপমুক্তি হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার ইডেন গার্ডেন্সে তিনটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে আসা ছিল উপলক্ষ। এই সিরিজের আয়োজন করে যে বিরাট অর্থ প্রাপ্তি হয়েছিল বোর্ডের তা কিন্তু নয়। ম্যাচ প্রতি মাত্র ৪০ হাজার ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকার বিনিময়ে দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেট বোর্ডকে টিভি রাইটস বিক্রি করে বিসিসিআই। কিন্তু সোনার খনি আবিষ্কারের রাস্তা দেখিয়েছিল ওই সিরিজ। কীভাবে টিভি রাইটস বিক্রি করতে হবে আর কীভাবে তার দাম বাড়িয়ে নিজেদের আর্থিক সমৃদ্ধি তৈরি করতে হবে সেই রাস্তা পেয়ে যায় বিসিসিআই। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি বোর্ডকে। বর্তমানে ভারতীয় বোর্ড ম্যাচ প্রতি ৬৭ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা আয় করে, শুধুমাত্র ব্রডকাস্টিং রাইটস বিক্রি করে। কোটি কোটি টাকা তারা শুধু মিডিয়া রাইটস বিক্রি করে উপার্জন করেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯ হাজার ৭৪১ কোটি টাকায়। এই ভারতীয় বোর্ড আইসিসি থেকেও বিরাট পরিমাণ অর্থ নিয়ে আসে। গত অর্থবর্ষে প্রায় ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা বিসিসিআই পেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের থেকে। যা আইসিসির মোট লভ্যাংশের ৩৮.৫ শতাংশ। ভারতের পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ পায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। তাদের অংশ যথাক্রমে ৬.৮৯ শতাংশ ও ৬.২৫ শতাংশ। আর এর পিছনেও রয়েছে একটা বড় কারণ। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে ক্রিকেট থেকে আইসিসির আয়ের বেশিরভাগটাই আসে যদি ভারতের ম্যাচ থেকে। স্পনসর থেকে টিভি রাইটস, উপার্জনের সমস্ত ক্ষেত্রে ভারত থাকলে অনেক বেশি লাভ হয় আইসিসির। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের স্টেটমেন্ট বলছে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাদের উপার্জন হয়েছে ৩১০ মিলিয়ন ডলার বা ৩ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। আর তার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের উপার্জন ৯ হাজার ৭০০ কোটির বেশি। ২০১৩ সালের এনডিটিভির একটি রিপোর্ট বলছে ভারত যদি দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে না যায়, তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ডের দৈনিক ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকার ক্ষতি হবে। ২০২১ সালের একটি রিপোর্ট বলছে, ভারতের সঙ্গে ৫ টেস্টের সিরিজে ইংল্যান্ডের লাভ হয় প্রায় ১৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ১ হাজার ১৮১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা। ওই সিরিজের শেষ ম্যাচ না খেলায় ব্রডকাস্টিং রাইটস ও টিকিট বিক্রি থেকে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের ২০ মিলিয়ন ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় ২৩২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই ক্ষতি ছুঁয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। ফলে, কোনও ছোট দেশ ভারতের সঙ্গে একটা সিরিজ খেললে যে পরিমাণ অর্থ তারা উপার্জন করে, তাতে হয়তো সেই দেশের কয়েক বছরের খরচ চলে যায়। আর এই কারণেই, একাধিক ছোট ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ ভারতের সঙ্গে তাদের দেশে একদিনের ম্যাচের বা টি-২০ সিরিজ খেলতে চায়। এছাড়াও ২০০৮-এর পর থেকে বিসিসআই-এর রোজগারের একটা বড় অংশের উৎস আইপিএল! ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের উপার্জনের প্রায় ৫৯ শতাংশ বা ৫ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা এসেছিল আইপিএল থেকেই। আর এই ভাবেই পৃথিবীর অন্যতম ধনী ক্রীড়া সংস্থায় পরিণত হয়েছে বিসিসিআই।