কিংবদন্তি জাভির আবেদন বাতিল করলো AIFF!!

সায়ন প্রামানিক: ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের জন্য নতুন কোচ খুঁজছে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। সেই তালিকায় নাম দেখে চমকে গিয়েছিলেন অনেকেই—স্প্যানিশ কিংবদন্তি জাভি হার্নান্দেজ আবেদন করেছেন ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য। TOI-র রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাক্তন ভারতীয় কোচ স্টিফেন কনস্টানটাইন, অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি কিউয়েল, খালিদ জামিলদের সঙ্গে জাভির নামও ছিল আবেদনকারীদের তালিকায়। AIFF-এর ন্যাশনাল টিম ডিরেক্টর সুব্রত পাল জানান, “জাভির নাম সত্যিই তালিকায় ছিল। আবেদন ইমেল মারফত পাঠানো হয়।” যদিও জাভির ফোন নম্বর ফর্মে উল্লেখ ছিল না, তবে ইমেলটি তাঁর নিজস্ব আইডি থেকেই পাঠানো হয়েছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই স্বপ্নের প্রস্তাব শেষমেশ বাতিল করতে হয়। AIFF-র টেকনিক্যাল কমিটির এক সদস্য TOI-কে জানান, “জাভির মতো কোচকে আনতে গেলে বিশাল অঙ্কের অর্থ লাগবে। এমনকি তিনি সত্যিই আগ্রহী হলেও, আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা।” জাভি বার্সেলোনার হয়ে ৭৬৭টি ম্যাচ খেলেছেন, এবং কোচ হিসেবে ২০২২-২৩ মরশুমে দলকে লা লিগা ও ২০২৩ সালের সুপারকোপা জিতিয়েছেন। ভারতীয় ফুটবলের প্রতি তাঁর আগ্রহ থাকলেও, এবার সেই অধ্যায় শুরু হওয়ার আগেই শেষ।
বিসি রায় ট্রফিঃ রাজদীপের হ্যাটট্রিকে শেষ চারে বাংলা

বাংলার ঝড়ে উড়ে গেল কেরল। অনূর্ধ্ব ১৬ জাতীয় জুনিয়র ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ড. বি সি রায় ট্রফির গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে কেরল কে ৪-১ গোলে হারালো ফাল্গুনী দত্তের প্রশিক্ষণে বাংলার ছেলেরা। গত ম্যাচে মেঘালয়ের বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিকের পর আবার কেরলের বিরুদ্ধেও হ্যাটট্রিক করে বাংলার রাজদীপ পাল। অন্য গোলটি দুর্গেশ তেওয়ারির। এই জয়ের ফলে টানা তিন ম্যাচ জিতে গ্রুপ ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমিফাইনালে পৌঁছল বাংলা। এদিকে, চলতি ডুরান্ড কাপের জন্য বাংলার রেফারি না পাওয়ার কারণে শনিবার ২৬ জুলাই কল্যানী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা কলকাতা ফুটবল লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টস বনাম ইস্টবেঙ্গল এফসির ডার্বি ম্যাচ পরিচালনা করবেন ভিন রাজ্যের রেফারি। যদিও সহযোগী রেফারিরা সকলেই বাংলার।
গম্ভীর-গিলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ‘ব্রাত্য’ কুলদীপের কোচ!

ইংল্যান্ডে চলতি সিরিজে এখনও পর্যন্ত প্রথম একাদশে জায়গা হয়নি কুলদীপ যাদবের। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে চলছে চতুর্থ টেস্ট। প্রবল ক্ষিপ্ত কুলদীপের কোচ কপিল পাণ্ডে। ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক শুভমান গিলের বিরুদ্ধে! এক সর্বভারতীয় দৈনিককে বলেছেন, “কোনও কাকতালীয় ব্যাপার নয়। এটা ষড়যন্ত্র। এর পিছনে গম্ভীর-গিল জোটের হাত রয়েছে!” ২০১৭-য় ধর্মশালায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে কুলদীপের অভিষেক হয়েছিল। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৩টি টেস্ট খেলেছেন কুলদীপ। অথচ গড় ২২.১৬, উইকেট ৫৬টি, চারটে পাঁচ উইকেট। রেকর্ড বলছে: কুলদীপ যেখানেই খেলেছেন, পারফর্ম করেছেন। কিন্তু ভারতীয় টেস্ট দলে তিনি বরাবর উপেক্ষিত! গত বছর বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অবসর নিয়েছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ভাবা হয়েছিল তাঁর জায়গায় এবার দলে নিয়মিত সদস্য হবেন কুলদীপ। কিন্তু বর্ডার-গাভাসকার ট্রফির পর প্রথম টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্কোয়াড সদ্য হয়েও কুলদীপ এখনও সাইডলাইনে। প্রথম একাদশে ব্রাত্য! অনেকেই এর আড়ালে ব্যাটিং অলরাউন্ডারের তত্ত্ব আনলেও কপিল পাণ্ডে তা মানতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘কুলদীপ যদি একজন বোলার হয়, তাহলে ওকে সেই জায়গায় খেলাও। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ছ’টা টেস্টে ২১টি উইকেট নিয়েছে। রঞ্জি ট্রফিতে একটা সেঞ্চুরিও আছে। তিন বছর আগে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪০ রানের ইনিংসও খেলেছে। তাহলে সমস্যা কোথায়?’ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৫ ম্যাচে ৭, আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ১৫ উইকেট। এমন একজন বোলার—যার দুটো ওয়ানডে হ্যাটট্রিক রয়েছে—তাকেই কী করে ভুলে গেল টিম ম্যানেজমেন্ট? আগের তিন টেস্টের ধারা মেনে চতুর্থ টেস্টেও জায়গা হয়নি কুলদীপের। হতাশ কপিল বলছেন, ‘ও প্রথম ম্যাচটা কিন্তু লর্ডসে খেলবে ভেবেছিলাম। কিন্তু চারটে টেস্ট হয়ে গেল, এখনও জায়গা হয়নি! পিচ সিমিং হোক বা স্পিনিং, কিছুই বিবেচনায় আনা হয়নি। অথচ ওর প্রস্তুতিতে কোনও খামতি ছিল না!’ তবে হাল ছাড়তে নারাজ কুলদীপের কোচ। ছাত্রের সামনে বেঁধে দিয়েছেন টার্গেট। তাঁর স্পষ্ট কথা, ‘ওকে ফের একটা পাঁচ উইকেট নিয়ে সবাইকে মনে করিয়ে দিতে হবে ২০১৯ বিশ্বকাপে কীভাবে বাবর আজমকে বোল্ড করেছিল। এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ফাইনালেও তো কুলদীপের বলে উইলিয়ামসন আউট হয়!’ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তুলনার মোক্ষম জায়গা পেশ করেছেন কপিল। তাঁর যুক্তি, ‘ইংল্যান্ড তো শোয়েব বশিরকে তিনটে টেস্ট খেলিয়েছে। ওদের তো কুলদীপের মতো একজন ক্লাস স্পিনারও নেই। তাহলে আমাদের দল পিছিয়ে কেন?’ এই ‘কেন?’-র রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন নিজে। বলেছেন, ‘বশিরকে খেলানো হচ্ছে আর কুলদীপকে নয়—এই সিদ্ধান্ত কোচ বা ক্যাপ্টেনের অনুমতি ছাড়া নেওয়া সম্ভব নয়। আমি অন্য কারও সুযোগ পাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখি না। কিন্তু সিরিজ নির্ধারণকারী ম্যাচে কাউকে হঠাৎ ফেলে দিলে, যদি ও ব্যর্থ হয়, তাহলে কেরিয়ারটাই শেষ হয়ে যাবে!’
ভাঙা পায়ের পাতা নিয়ে ৫৫ মিনিট উইকেটে! ২৭ বলে ১৭ রান, পন্থের হার না মানা লড়াইয়ে মুগ্ধ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডও!

অনিল কুম্বলে ভাঙা চোয়াল নিয়ে খেলেছিলেন। ঋষভ পন্থ খেললেন ডান পায়ের ভাঙা পাতা নিয়ে! দোতলার সাজঘর থেকে সিঁড়ি ভেঙে নামতে কষ্টই হচ্ছিল তার। কিন্তু সঙ্গী ছিল হার না মানা এক লড়াই। রেলিং ধরে ধীরে ধীরে সাবধানে নামলেন। তখন মাঠে তার অপেক্ষায় শার্দূল ঠাকুর। বাউন্ডারি লাইনের ধারে এগিয়ে যান পন্থকে স্বাগত জানাতে। কিন্ত হাতটা ধরেননি পন্থ! হয়ত নিজেকে বলছিলেন, ‘দু-বছর আগের ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা থেকে তুমি মাঠে ফিরে এসেছ। এবারই বা পারবে না কেন!’ মাঠে ঢুকে পিচ ছুঁয়ে প্রণাম একবার সাজঘরের দিকে তাকানো। তারপরই আকাশের দিকে তাকিয়ে একবার নমষ্কার করে উইকেটে স্টান্স নেওয়া। এই পুরো সময়টা ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারি জুড়ে মুগ্ধতা। পন্থকে স্ট্যান্ডিং ওভেশন দিচ্ছেন দর্শকরা। শেষ বিকেলে ভারতকে অসহায় করে দেওয়া বেন স্টোকসরাও তখন হাততালি দিচ্ছেন পন্থের উইকেটের দিকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে আসাকে। শার্দূল আউট হওয়ার পর থেকে পন্থের গার্ড নেওয়া পর্যন্ত ২ মিনিটের বেশি অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। চাইলে ‘টাইমড আউট’র আবেদন করতে পারতেন স্টোকস। করেননি। ম্যাঞ্চেস্টারে পন্থ আবার ব্যাট করতে পারবেন, এতটা ভাবা যায়নি। যিনি দাঁড়াতেই পারছেন না, তিনি খেলবেন কী করে! ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও জানিয়ে দিয়েছিল, পন্থের পক্ষে ম্যাঞ্চেস্টারে উইকেট রক্ষা করা সম্ভব নয়। শুভমন গিলদের কি তবে ১০ জনে খেলতে হবে? সিরিজ়ে পিছিয়ে থাকা দল অসম লড়াইয়ের মুখে পড়ে গেল? এমন নানা প্রশ্নের আড়ালে পন্থ ছিলেন অকুতোভয়। বিকাল ৫টা ০৩ মিনিটে শার্দূল আউট হওয়ার পর টেলিভিশনের ক্যামেরা ঘুরে যায় ভারতীয় সাজঘরের দিকে। সকলকে অবাক করে নামলেন পন্থ। দলের জন্য। দেশের জন্য। প্রায় অসম হয়ে যাওয়া লড়াইয়ে প্রাণ ফেরালেন। ঋষভের লড়াই শুধু লর্ডস নয়, আইপিএলে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকের মনও ছুঁয়ে গেল! গত আইপিএলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রায়শই সঞ্জীব গোয়েঙ্কা আর অধিনায়ক ঋষভ পন্থের তিক্ততার ছবি দেখা গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই ছবিকে দূরে সরিয়ে রেখেই গোয়েঙ্কার টুইট, ‘এটা কোনও প্রতিভাবানের গল্প নয়। এটা এক চরিত্রের গল্প। সেই চরিত্রকে স্যালুট।’
সিন্ধুকে হারিয়ে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের নতুন তারা উন্নতি হুডা!

সাইনা নেহওয়াল, পি ভি সিন্ধুর পরে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনে কি উত্থান হতে চলেছে এক নতুন তারার? বৃহস্পতিবার চিন ওপেনে ১৭ বছরের বয়সি উন্নতি হুডা যে অঘটন ঘটালেন তার পরেই ভারতের ব্যাডমিন্টন সমাজে উঠছে এই প্রশ্ন। ৭৩ মিনিটের তুমুল লড়াইয়ের পরে দু’বারের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন সিন্ধুকে তিন গেমে হারালেন উন্নতি। ফল ২১-১৬, ১৯-২১, ২১-১৩। যা কোনও সুপার ১০০০ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় উন্নতিকে প্রথম বার কোয়ার্টার ফাইনালে নামার সুযোগ এনে দিল। সেই সঙ্গেই সাত বছর পরে সিন্ধু কোনও ভারতীয় প্রতিপক্ষের কাছে হারলেন। হরিয়ানার রোহতকের মেয়ে উন্নতি। রোহতকের ছোটু রাম স্টেডিয়ামে যাত্রা শুরু উন্নতির। যে স্টেডিয়ামে এক সময় প্রস্তুতি নিতেন অলিম্পিক্স ব্রোঞ্জজয়ী কুস্তিগির সাক্ষী মালিক। সেখানেই এক ব্যাডমিন্টন অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসেন তিনি। আট বছর বয়সে ব্যাডমিন্টন শুরু হয় উন্নতির। মেয়ের আগ্রহ দেখে বাবা উপকার হুডা ভর্তি করে দেন অ্যাকাডেমিতে। সেই শুরু। এর পরে জেলা, রাজ্য স্তর পেরিয়ে ২০১৮ অনূর্ধ্ব-১৩ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ ও ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন। ২০২২ সালে নজর কেড়েছিলেন কনিষ্ঠতম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় হিসেবে সুপার ১০০ পর্যায়ের ওড়িশা ওপেন জিতে। যা আরও বড় এক ধাপ এগিয়ে দিল তাঁকে বৃহস্পতিবার চিন ওপেনে। তবে ছোটবেলা থেকে সিন্ধুর ভক্ত উন্নতি এই ম্যাচ জিতে নিজেই অবাক। ‘‘আজ যে জিতব ভাবতে পারিনি। তবে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেব এটা মাথায় রেখেই নেমেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সিন্ধুর বিরুদ্ধে জিতে দারুণ লাগছে।’’ যোগ করেছেন, ‘‘দ্বিতীয় গেমে চেষ্টা করেছিলাম নিয়ন্ত্রণ রাখার। কিন্তু পারিনি। তবে তৃতীয় গেমে ধৈর্য হারাইনি। সেই ফলই পেয়েছি।’’ আর সিন্ধু বলেছেন, ‘‘উন্নতিকে শুভেচ্ছা। ও ভাল খেলছে। ও উঠতি খেলোয়াড়, তাই আবারও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’’