‘খেপ’ খেলা ফুটবলারের দক্ষতায় বাজিমাৎ পুলিশের; দু’গোলে হারল ইস্টবেঙ্গল!

বয়স ২১। বাড়ি আসানসোলে। মশলা ম্যাচ, যাকে বাংলায় ‘খেপ’ বলে, সেই খেলে রোজগার করা ছিল তার নেশা এবং পেশাও! সেই মহম্মদ আমিল নঈমের স্পিড, বল হোল্ড করে রাখার ক্ষমতা এবং বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতায় এই মরশুমে ধরাশায়ী হয়েছিল মোহনবাগান। রবিবার হল ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে, রবিবার ব্যারাকপুর স্টেডিয়ামে পুলিশ এসি-র কাছে ২ গোলে হেরে গেল ইস্টবেঙ্গল। পেনাল্টি থেকে পুলিশ এসি-কে এগিয়ে দেন আমিল। ৭৫ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোল করেন মৃন্ময় মহাপাত্র। দ্বিতীয়ার্ধে, ম্যাচের শেষভাগে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের সময় পুলিশ এসি-র রক্ষণভাগ নজরকাড়া ফুটবল খেলেছে। কোচ জোসেফ বলছেন, “বিরতিতে ছেলেদের একটা কথাই বলেছিলাম যে, ইস্টবেঙ্গল কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াবে। আমি চাই তোমরা ডিসিপ্লিনড ফুটবল খেল। ওরা কথা রেখেছে।” তারপরও জোসেফের মুখে আমিলের প্রশংসা। বললেন, “মূলত উইং দিয়ে খেলা শুরু করে। দারুণ স্পিড, বল কন্ট্রোলও চোখে পড়ার মত। যখনই ওর পায়ে বল ছিল, বিপক্ষের রক্ষণভাগ অস্বস্তিতে পড়েছে। মোহনবাগানের বিরুদ্ধেও আমরা জিতেছিলাম আমিলের দুর্দান্ত ফুটবলের জন্য। আজও ম্যাচের সেরা জিজ্ঞেস করলে আমিলের কথাই বলব।” ১৪ পয়েন্ট নিয়ে তাদের গ্রুপে রবিবার শীর্ষে পৌঁছে গেল পুলিশ এসি। জোসেফ বলছেন, এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। আরও ওঠাপড়া হবে। তাদের লক্ষ্য, সুপার-সিক্স পর্বে এই ধারাবাহিকতাটা বজায় রাখা।
আউট হওয়া বেন ডাকেটের কাঁধে হাত রেখে আকাশদীপের ফিসফিসই এখন ওভাল জুড়ে বড় গুঞ্জন!

ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন। বেন ডাকেটকে আউট করলেন আকাশদীপ সিং। তারপরই ওভাল দেখল এক আভিনব দৃশ্য। আকাশদীপ এগিয়ে গেলেন ডাকেটের দিকে, তার কাঁধে হাত রেখে ফিসফিস করে কী যেন বললেন। প্যাভেলিয়নে ফিরে যাওয়া ডাকেটকেও তাতে উত্তেজিত হয়ে পড়তে দেখা যায়। চাপা তর্কেও জড়িয়ে পড়েন আকাশদীপের সঙ্গে। কিন্তু এই ঘটনায় অবাক ইংল্যান্ড শিবির। মুখ খুলেছেন দলের সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিক। বলেছেন, “আকাশ দীপ ভাগ্যবান যে, ডাকেট বড় কোনও পদক্ষেপ নেননি। শুধু মুখের জবাবেই থেমে গিয়েছেন। তাঁদের আমলে এমন ঘটনা হলে জল অনেক দূর গড়াতেই পারত। জীবনে কোনও বোলারকে এরকম করতে দেখিনি!” সাংবাদিক বৈঠকে ট্রেসকোথিক প্রশ্ন তুলেছেন, “এরকমভাবে কোনও ব্যাটসম্যানকে মাঠ থেকে বিদায় দেওয়ার দরকার ছিল?’ প্রসঙ্গত, ডাকেটের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাঁকে শেষমেশ বিপদে ফেলে। আকাশ দীপের বল খেলতে গিয়েই উইকেট হারান। তাতেই হালকা ঝামেলা। যদিও এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণ পর আরও এক উত্তেজনার ছবি মাঠে ধরা পড়ে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন জো রুট। এতটাই যে, পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসতে হয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকে। ম্যাচের পর কৃষ্ণ অবশ্য বিষয়টি লঘু করেই দেখলেন। তিনি বলেন, ‘খুব ছোটখাটো ব্যাপার। আসলে তখন খেলার লড়াইয়ের উত্তাপটাই বেরিয়ে এসেছিল। মাঠের বাইরে ওর সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। একটু ঠাট্টা-মশকরি চলছিল, যা দু’জনেই উপভোগ করেছি!’
শুবমান গিলকে বিশেষ উপহার গাভাসকারের

চলতি ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় ১১ রানে আউট হন শুবমান গিল। প্রথম ইনিংসেও তিনি ব্যর্থ, করেছিলেন ২১। সব মিলিয়ে সিরিজে তাঁর রান হয়েছে ৭৫৪। গড় ৭৫.৪০। যার মধ্যে আছে চারটে সেঞ্চুরি। সর্বোচ্চ রান ২৬৯। কিন্তু মাত্র ২০ রানের জন্য সুনীল গাভাসকরের একটি নজির ভাঙতে পারেননি টিম ইন্ডিয়ার টেস্ট অধিনায়ক। ১৯৭১ সালের ক্যারিবিয়ান সফরে ৭৭৪ রান করেছিলেন সানি। কোনও সিরিজে ভারতীয় হিসেবে করা সেটাই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তাও কিংবদন্তির কাছ থেকে এক বিশেষ উপহার পেলেন গিল। টুপি এবং জামা। বিশেষ এই মুহূর্তের ছবি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। ওভাল টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষে গিলকে উপহার দিয়ে গাভাসকর বলেন, “দুর্দান্ত খেলেছ। আমি আগেই তোমার জন্য একটা উপহার এনেছিলাম। ভেবেছিলাম, তুমি আমার রেকর্ড ভেঙে ফেলবে। কিন্তু তুমি এটা পরবর্তী সিরিজের জন্য তুলে রেখেছ। তবুও তোমার জন্য ছোট্ট একটা উপহার এনেছি। সেটা তোমাকে দিতে চাই।” গাভাসকর এরপর তাঁর হাতে থাকা কালো ব্যাগ থেকে একটা লাল টুপি বার করে শুভমানকে দিয়ে বলেন, “খুব কম মানুষকে আমি এই টুপি দিয়েছি। এতে আমার সই রয়েছে। এটা তোমার জন্য। একজন আমাকে ‘এসজি’ লেখা একটা জামা উপহার দিয়েছিল। তোমার গায়ে এটা আঁটবে কি না, জানি না। তবুও এটা তোমার জন্য।” সেই জামাটা অবশ্য সানির ব্যাগের মধ্যেই ছিল। অবশ্য গাভাসকরের আর একটি নজির ভেঙে দিয়েছেন গিল। ১৯৭৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে সিরিজে ক্যাপ্টেন হিসেবে সানি করেছিলেন ৭৩২ রান। চলতি ইংল্যান্ড সিরিজে অধিনায়ক হিসেবে ৭৫৪ রান করে ৪৬ বছরের পুরনো সেই নজির ভেঙে দিয়েছেন গিল।