অক্টোবরে টেস্ট অভিষেক হতে পারে উপেক্ষিত অভিমন্যুর

অবশেষে অভিমন্যু ঈশ্বরনের টেস্টে অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে! ওভাল টেস্টের পর অভিমন্যুর বাবা রঙ্গনাথন এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছিলেন তার ও ছেলের হতাশার কথা। বলেছিলেন অন্তত একটা টেস্টে কী অভিমন্যু সুযোগ পেত না? ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সূত্র অনুযায়ী আগামি অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে়র বিরুদ্ধে দুই টেস্টের সিরিজে অভিমন্যুর টেস্ট অভিষেক হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ডের কর্তা জানাচ্ছেন, এর অন্যতম কারণ, ৩৩ বছর বয়সি করুণ নায়ার সদ্যসমাপ্ত ইংল্যনাড সফরে চারটি টেস্টে খেললেও দাগ কাটতে পারেননি। ওভালে একটা হাফ সেঞ্চুরি থাকলেও অফস্টাম্পের বাইরে তাঁর টেকনিকে দুর্বলতা বারবার প্রকট হয়েছে। তাই করুণ নায়ারের পক্ষে ফের জাতীয় দলে ফেরা কঠিন। ৩৩ বছরের নায়ারের এটাই ছিল শেষ সুযোগ। তবে এখন হতাশা নয়, অভিমন্যুর নজর আবার দলীপ ট্রফির প্রস্তুতিতে। ১০৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৭৮৪১ রান অভিমন্যুর, গড় ৪৮.৭০। সেঞ্চুরি ২৭টি, সর্বোচ্চ ২৩৩। ইংল্যান্ড সফরে স্কোয়াডে থাকা সত্ত্বেও যে তিনজন ক্রিকেটারের প্রথম এগারোয় থাকা হয়নি, তাঁরা হলেন ঈশ্বরন, কুলদীপ যাদব ও অর্শদীপ সিং। এঁদের তিনজনকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজে়র বিরুদ্ধে সিরিজে় দেখা যাবে। এই সিরিজে পায়ের চোটের জন্য থাকা কঠিন ঋষভের। ইংল্যান্ড সিরিজে় ১৮৫.১ ওভার বল করা মহম্মদ সিরাজকে পুরো বিশ্রাম দেওয়ার কথা। সেপ্টেম্বরের এশিয়া কাপেও শুবমান, সিরাজদের বিশ্রাম পাওয়ার কথা।
সিনিয়র দলের সাফল্যই প্রেরণাঃ অনূর্ধ্ব-২০ ভারতীয় মহিলা ফুটবলাররাও ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে!

ভারতের অনূর্ধ্ব-২০ মহিলা ফুটবল দলও সিনিয়র দলের মত ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। ইয়ং টাইগ্রের্স নামে পরিচিত এই দলও ২০২৬-এর এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে যদি আজ, রবিবার তারা কোয়ালিফায়ারে মায়ানমারকে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হারায়। মূলপর্বে উঠতে পারলে, ২০০৬-এর ১৯ বছর পর অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে মেয়েরা খেলবে সিনিয়র দলের মত। গ্রুপ ডি-তে ভারত এবং মায়ানমার উভয় দলই সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে, তবে ভারত তাদের উন্নত গোল পার্থক্যের কারণে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। এই ম্যাচটি নির্ধারণ করবে কে গ্রুপের শীর্ষে থেকে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য প্রধান টুর্নামেন্টে জায়গা করে নেবে, কারণ শুধুমাত্র গ্রুপের প্রথম দলই কোয়ালিফাই করবে। ইয়াঙ্গুনের থুওয়ান্না স্টেডিয়ামে শনিবারের ট্রেনিং-এর পর, ভারতের অধিনায়ক শুভাঙ্গী সিং বলেছেন, “সিনিয়র দলের সাফল্য আমাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আমরা জানি এই ম্যাচটি জিততে হবে। আমরা কোনও চাপ অনুভব করছি না, বরং আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।” ইয়ং টাইগ্রেসরা গ্রুপ পর্বে এখনও পর্যন্ত মিশ্র ফলাফল দেখিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তারা গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে, যা কিছুটা হতাশার কারণ হয়েছিল। তবে, তুর্কমেনিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচে তারা ৭-০ গোলের বিশাল জয় ছিনিয়ে নিয়ে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে। এই ম্যাচে সুলঞ্জনা রাউল এবং শুভাঙ্গী সিং দুটি করে গোল করেন, যা দলের আক্রমণাত্মক ক্ষমতার প্রমাণ। তবে, তুর্কমেনিস্তানের দুর্বল প্রতিরক্ষার বিরুদ্ধে এই জয় এসেছে, তাই মায়ানমারের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। মায়ানমার শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। তারা তুর্কমেনিস্তানের বিরুদ্ধে ৬-১ গোলের জয় দিয়ে কোয়ালিফায়ার শুরু করে এবং ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে। তাদের আক্রমণভাগ, বিশেষ করে এল থেট ফিও, অসাধারণ ফর্মে রয়েছে। প্রথম ম্যাচে তিনি চারটি গোল করেছেন, যা তাকে টুর্নামেন্টের শীর্ষ গোলদাতার তালিকায় নিয়ে গেছে। তবে, ভারতের শক্তিশালী প্রতিরক্ষার সামনে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, কারণ ভারত এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে। মায়ানমারের জন্য এই ম্যাচটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জয় ছাড়া তাদের কোয়ালিফিকেশনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে।
কোহলি, পাতিদারের ফোনে আচমকাই শিরোনামে ছত্তীশগঢ়ের এক গ্রামের দোকানদার!

পেশায় তিনি এক মুদির দোকানের মালিক। ছত্তীশগঢ়ের দেবভোগ গ্রামের সেই মণীশ আচমকাই চলে এসেছেন খবরের শিরোনামে। কারণ তাঁকে ফোন করছিলেন বিরাট কোহলি, এবি ডিভিলিয়ার্স, রজত পাতিদাররা। প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে পাল্টা মজা করতে শুরু করেছিলেন মণীশ। ভুল ভাঙল বাড়ির দরজায় পুলিশ হাজির হওয়ায়। ছত্তীশগঢ়ের গারিয়াবন্দ জেলার দেবভোগ গ্রামের একটি দোকানের মালিক মণীশ বুঝতেও পারেননি তাঁর জীবনে এমন দিন আসবে। রাতারাতি তিনি বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি আবার বাস্তবের মাটিতে! ঘটনার সূত্রপাত ২৮ জুন থেকে। স্থানীয় দোকান থেকে একটা সিমকার্ড কিনেছিলেন মণীশ। মোবাইলে সিম ভরে হোয়াট্সঅ্যাপ ইনস্টল করতেই সেখানে দেখা যায় পাটীদারের ছবি। মণীশ এবং তাঁর বন্ধু খেমরাজ ভেবেছিলেন, বিষয়টা নেহাতই মজার। এর পরেই একের পর এক ফোন আসা শুরু হয়। কেউ নিজেকে বিরাট কোহলি, কেউ এবি ডিভিলিয়ার্স বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। মণীশ এবং খেমরাজও মজা পেয়ে যান। তাঁরা পাল্টা নিজেদের ‘মহেন্দ্র সিংহ ধোনি’ বলে পরিচয় দিতে শুরু করেন। ১৫ জুলাই অপরিচিত একটা নম্বর থেকে ফোন পান মণীশ। উল্টো প্রান্তে থাকা ব্যক্তি বলেন, “ভাই, আমি রজত পাতিদার। এই নম্বরটা আমার। দয়া করে ফেরত দিন।” তখনও মণীশ মজা করে বলেন, “আমি এমএস ধোনি।” ওই ব্যক্তি বার বার বোঝালেও লাভ হয়নি। শেষে তিনি জানান, পুলিশে অভিযোগ করবেন। দশ মিনিটের মধ্যেই মণীশের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। বোঝা যায়, উল্টো প্রান্তে থাকা ব্যক্তি সত্যি করেই পাতিদার ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সিম কার্ড ফিরিয়ে দেন মণীশ। আসলে কোনও সিম কার্ড ৯০ দিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকলে তা অন্য কাউকে দিয়ে দেয় মোবাইল অপারেটর সংস্থাগুলো। পাটীদারের ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে। তবে এখন নিজের নম্বর ফেরত পেয়েছেন তিনি।