খালিদ জামিলকে সিনিয়র জাতীয় দলের কোচ করার কারণ জানালেন ভাইচুং

ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক ভাইচুং ভুটিয়ার মনে হচ্ছে খালিদ জামিলকে সিনিয়র জাতীয় দলের কোচ করার কারণ, ফেডারেশন কর্তাদের কাছে খালিদের বেশি দাবি দাওয়া থাকবে না। ফিদেল কাস্ত্রো শতবর্ষ ফুটবল কাপের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ উপলক্ষ্যে পিটিআই-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ভাইচুং বলেছেন, “খালিদের জন্য আমার খারাপই লাগছে। কারণ, সিনিয়র জাতীয় দলের দুঃসময়ে ও দায়িত্ব নিল। ইগর স্টিমাচ আর মানোলো মার্কুয়েজের মত দু’জন আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোচ ফেডারেশনের সঙ্গে থাকতে পারল না। কারণ, জাতীয় দলের জন্য ওদের দাবিদাওয়া ফেডারেশনকে মানতে হত। খালিদ বেশি কিছু চাইবে না। বরং ফেডারেশন কর্তারাদের ইয়েসম্যান ও চলবে। তাই ওকে দায়িত্ব দেওয়া।” খালিদ জামিল দু’বছরের জন্য সিনিয়র ভারতীয় দলের কোচ হয়েছেন। জাতীয় দল পারফরম্যান্স করতে পারলে খালিদের সঙ্গে চুক্তি আরও একবছর বাড়ানো হবে। ১৫ অগস্ট থেকে বেঙ্গালুরু সাইয়ে জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু হবে। খালিদের কোচিংয়ে জাতীয় দলের প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হবে কাফা নেশনস কাপ। ২৯ অগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর, ভারত খেলবে তাজিকিস্তান, ইরান এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে। তারপর ৯ এবং ১৪ অক্টোবর এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সে সিনিয়র জাতীয় দলের দুটো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে। কোচ খালিদ সম্পর্কেও ভাইচুংয়ের বিশ্লেষণ, “ঘরোয়া ফুটবলের জন্য খালিদ উপযুক্ত। কিন্তু বর্তমান জাতীয় দলটা ওর কাছে নতুন। আমার খারাপই লাগছে ওর জন্য। সিনিয়র জাতীয় দলের দুঃসময়ে ওকে দায়িত্ব নিতে হল।” ৪৮ বছর বয়সী খালিদকে অবশ্য আত্মবিশ্বাসী দেখিয়েছে কোচ হওয়ার পর। বলেছেন, “দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। তাদের অনেকেরই শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে আমি জানি। কাফা নেশনস কাপের প্রস্তুতিতে এই জানাটা আমার কাজে লাগবে।”
এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের খেলা নিয়ে আপত্তি হরভজনের

আসন্ন এশিয়া কাপেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামা নিয়ে ঘোর আপত্তি হরভজন সিং-এর। এই প্রসঙ্গে এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় হরভজনের সোজাসাপটা বক্তব্য, ভারত এই ম্যাচ খেললে তা পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানার প্রতিবাদে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগেরই অসম্মান হবে! ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আগামী মাসে এশিয়া কাপে ফের সম্মুখ সমরে ভারত ও পাকিস্তান। ১৪ সেপ্টেম্বর আমিরশাহীতে গ্রুপ পর্বে খেলবে দুই দল। টুর্নামেন্টে একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তাদের। ম্যাচ ঘিরে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এক্ষেত্রে কেন কড়া মনোভাব দেখাতে ব্যর্থ বিশ্বের ‘ধনীতম’ বোর্ড? কার্যত একই সুর এবার হরভজনের গলায়। এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে দাবি করেন, ইচ্ছা থাকলে এই ম্যাচ এড়িয়ে যেতেই পারত বিসিসিআই। ভাজ্জি বলেছেন, “ওদের (বোর্ডের) বোঝা উচিত এই মুহূর্তে কোনটা গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটা নয়। আমার কাছে তাঁদের মূল্য অনেক বেশি যাঁরা আমাদের রক্ষা করার জন্য সীমান্তে লড়াই করছেন। নিজেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করারও সুযোগ পান না তাঁরা। কারও কারও তো আর বাড়িই ফেরা হয় না। সেই প্রেক্ষিতে দেখলে একটা ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ। কারণ নিজের দেশের ঊর্ধ্বে কিছুই না।” অপারেশন সিঁদুরের সাফল্যের পর প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য মনে করিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার আরও বলেন, “আমাদের সরকারও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রক্ত আর জল একসঙ্গে বইতে পারে না। একইভাবে সীমান্তে দুই দেশ লড়াই চালিয়ে যাবে, আর অন্যদিকে ম্যাচ হবে, সেটাও হতে পারে না। এই সব সমস্যার সমাধান না হলে মনে হয় না পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া উচিত।” সম্প্রতি লেজেন্ডস লিগেও মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের প্রাক্তনীদের। কিন্তু সেসময় হরভজন, শিখর ধাওয়ানরা সাফ জানিয়ে দেন, কোনওভাবেই পাক দলের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন না তাঁরা। গ্রুপ ম্যাচে না খেলার পাশাপাশি সেমিফাইনালেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলেনি ভারতীয় দল। ওয়াকওভার পেয়েই ফাইনালে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। সেবারের মতোই এবারও ভারত-পাক দ্বৈরথ বন্ধ নিয়ে সুর চড়ালেন ভাজ্জি।
সুশীল কুমারের জামিন বাতিল সুপ্রিম কোর্টে! এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

বুধবার অলিম্পিক্সে দু’বারের পদকজয়ী কুস্তিগির সুশীল কুমারের জামিন বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই সঙ্গে একসপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কুস্তিগিরকে। উল্লেখ্য, জুনিয়র কুস্তিগির সাগর ধনকড়কে খুনের অভিযোগে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে জেলে বন্দি ছিলেন সুশীল। গত মার্চে তাঁকে জামিন দিয়েছিল দিল্লি হাই কোর্ট। এবার সেই জামিন বাতিল করে দিল শীর্ষ আদালত। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৪ মে দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়ামে প্রাক্তন জাতীয় চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগির সাগরকে খুন করেন সুশীল। সেই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অন্যান্য অভিযুক্তদের মতে, তারকা কুস্তিগিরের কথাতেই সাগরকে মারধর করা হয়েছিল। আবার তদন্তকারীদের জেরায় সুশীল বলেছিলেন, তিনি সাগরকে উচিত শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন। তাই মারধরের পরিকল্পনা। কিন্তু খুন করতে চাননি কখনওই। খুনের পর থেকেই পলাতক ছিলেন ভারতের ইতিহাসে অন্যতম সফল ক্রীড়াবিদ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। সুশীলকে সাময়িক ভাবে পুলিশি হেফাজতে রাখা হলেও পরবর্তীকালে তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে খুনের মামলায় চার্জ গঠন হয় সুশীলের বিরুদ্ধে। সুশীল-সহ মোট ১৭ জনের নাম ছিল মামলার চার্জশিটে। নিহত কুস্তিগিরের পরিবার চেয়েছিল, অবিলম্বে ফাঁসি দেওয়া হোক সুশীলকে। এরপর থেকে প্রায় সাড়ে তিন বছর জেলেই কেটেছে সুশীলের। কিন্তু গত মার্চে দিল্লি হাই কোর্টে তাঁকে জামিন দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা বন্ডের বিনিময়ে। কিন্তু এবার সুপ্রিম কোর্ট সেই জামিন বাতিল করে দিল।