খেলোয়াড় ভেস পেজের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি, বললেন পেজের প্রথম অধিনায়ক গুরবক্স সিং

দীর্ঘ ছয় দশকের বন্ধু ভেস পেজকে হারিয়ে শোকাহত গুরবক্স সিং ৷ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহরের এক হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন ১৯৭২-র মিউনিখ অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় হকি দলের সদ ভেস পেজ। বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফোনে কথা বলার সময় গুরবক্স বলছেন, “এক ঘন্টা আগে লিয়েন্ডারের সঙ্গে কথা হল। গতকাল রাতে ভেস পেজের স্ত্রী-র সঙ্গেও কথা হয়েছে। বলছিল কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে।” ৩০টা বছর একসঙ্গে খেলেছেন দু’জনে। দেশ আর ক্লাব মিলিয়ে। গুরবক্সের জুনিয়র ছিলেন ভেস পেজ। ১৯৬৬-তে তারই অধিনায়কত্বে প্রথম দেশের হয়ে বিদেশ সফর ভেস পেজের। গুরবক্স বললেন, “খুব ভদ্র ছিল। ওর স্বভাবের জন্যই ময়দানে অজাতশত্রু ছিল। খেলার পাশাপাশি স্পোর্টস মেডিসিন নিয়েও মনে রাখার মত কাজ করে গিয়েছে। ইস্টবেঙ্গলে প্রথম একবছর দু’জনে খেললাম৷ তারপর ১৩ বছর মোহনবাগানে খেলেছি৷ ন’টা বেটন কাপ জিতেছি ৷ ন’বার কলকাতা লিগ জিতেছি ৷ একবছর মহামেডান স্পোর্টিংয়ে খেলেছি ৷ তারপর এমএমসি, সিসিএফসিতে খেলেছি।” খেলোয়াড় ভেস পেজ সম্পর্কে গুরবক্সের মূল্যায়ন, “সেন্টার-হাফ খেলত। কী দারুণ বল-কন্ট্রোল ছিল। আর ছিল নিখুঁত পাস বাড়ানোর ক্ষমতা। ১৯৬৮-র অলিম্পিক্সেও ওর ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। খেলোয়াড় হিসেবে ওর খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা আরও উঁচু জায়গায় পৌঁছে যেত। যেহেতু, স্পোর্টস মেডিসিনটাকেও ভীষণ ভালবেসে কাজ করছিল এবং সেখানেও ওর নাম যশ দেশ জুড়ে তৈরি হচ্ছিল, খেলোয়াড় ভেস পেজের অবস্থানটা একটু পেছনে চলে গিয়েছিল। তাই আমার মনে খেলোয়াড় ভেস পেজের সঠিক মূল্যায়ন হয়নি।”
আকস্মিক প্রয়াণ পার্থ সেনের! শোকস্তব্ধ নবাব বলছেন একজন ‘জহুরি’ চলে গেল

বুধবারও কোচিং করিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই মারা গেলেন মামণি পাঠচক্র ইউনাইটেডের কোচ পার্থ সেন! ভাইপো অরিজিৎ সেন জানাচ্ছেন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। চা খাবেন বলে নিজের খাটে বসে ছিলেন। সেই অবস্থায় ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক তাকে বিছানায় আবার শুইয়ে দেয়। চিকিৎসক আসার আগেই তার মৃত্যু হয়। আনুমানিক ৫৫ বছর বয়স হয়েছিল। বিয়ে করেননি। দাদা, ভাইপো আর বউদির সঙ্গে থাকতেন। ভাইপো বললেন, “গত সপ্তাহেই কিছুটা জোর করে কাকার ইসিজি, ইকো পরীক্ষা করানো হল। রিপোর্ট একদম ঠিক হিল। এত ফিট থাকা একটা মানুষ এখন নেই, বিশ্বাস করতে পারছি না।” বিশ্বাস করতে পারছেন না ইউনাইটেড স্পোর্টসের ডিরেক্টর নবাব ভট্টাচার্যও। ফোনে কথা বলার সময় তার গলা ধরে আসছিল। ধরারই কথা। ২০১০ থেকে ইউনাইটেড স্পোর্টসের ইউথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের অন্যতম কোচের নাম পার্থ সেন। মাঝে এক মরশুমের জন্য, ২০২৩-২৪-এ বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমিতে কাজ করছিলেন। চলতি মরশুমে আবার ফিরেছিলেন ইউনাইটেড স্পোর্টসেরই আর একটি দল পাঠচক্রের চিফ কোচ হয়ে। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের টেবিলটা দেখুন। নিজেদের গ্রুপে দু’নম্বরে রয়েছে পাঠচক্র। এছাড়া? এই বছর দায়িত্ব নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৫ দলকে এআইএফএফের ইউথ লীগ এর ফাইনাল রাউন্ডে কোয়ালিফাই করিয়েছেন তাও রাজ্যের বাইরের আইএসএল এ যুব দল গুলি কে হারিয়ে। ইউনাইটেডের অনূর্ধ্ব-১৩-র দলকেও মূলপর্বে তোলার কারিগর ছিলেন পার্থ সেন। নবাব বলছেন, “পাঠচক্রকেও আজ প্রিমিয়ার লিগে তুলে আনা এবং চলতি মরশুমের এই রেজাল্ট দেওয়ার মূল কারিগর পার্থ সেন। কিন্তু আমার বার বার মনে হচ্ছে, পার্থর আর একটা অসাধারন গুণ ছিল ফুটবলার চেনার চোখ। প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনার ক্ষেত্রে ওর জুড়ি ছিল না। আর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আমি ওর সঙ্গে খুঁটিয়ে খুটিঁয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম কোন বাচ্চা ছেলেটাকে নেব, কাকে এখনই নেব না। একজন প্রকৃত ‘জহুরি’ চলে গেল।”
প্রয়াত প্রাক্তন হকি অলিম্পিয়ান ভেস পেজ, পিতৃহারা লিয়েন্ডার

প্রয়াত হলেন ভেস পেজ। ভারতের এই প্রাক্তন হকি অলিম্পিয়ানের বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি ভারতের টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজের বাবা। ১৯৭২ সালে মিউনিখ অলিম্পিক্সে ভারত ব্রোঞ্জ জিতেছিল। সেই দলের সদস্য ছিলেন ভেস। তার আগের বছর বার্সেলোনায় হকি বিশ্বকাপেও দেশের হয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। ভেসের মৃত্যুর সময় লিয়েন্ডার তাঁর পাশেই ছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ভেস। বাড়িতেই বাবার চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করেছিলেন লিয়েন্ডার। বুধবার থেকে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। সন্ধ্যাতেই চলে আসেন লিয়েন্ডার। চিকিৎসকেরা হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু শেষরক্ষা করা যায়নি। বৃহস্পতিবার ভোর ৩টের সময় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ভেস।