বুলা চৌধুরীর বাড়ি থেকে পদ্মশ্রী-সহ একশোর বেশি পদক চুরি!

পদ্মশ্রী, অর্জুন পুরষ্কার-প্রাপ্ত কিংবদন্তি সাতাঁরু বুলা চৌধুরীর উত্তরপাড়ার বাড়িতে আবার চুরি হল। রাতের অন্ধকারে পেছনের দরজা ভেঙে চোরেরা ঢুকে আলমারি ভেঙে বক্স খাট খুলে সর্বস্ব নিয়ে গিয়েছে। এমনকী, পদ্মশ্রীটাও খোয়া গিয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ঢেকে চুরি করেছে চোরের দল| তদন্তে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ| শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়েই কলকাতা থেকে রওনা হয়েছেন বুলা। যাওয়ার পথে ফোনে বললেন, “যেহেতু ওই বাড়িতে থাকি না তাই ভাইরা রোজই ঘর পরিষ্কার করতে যায়। আজও পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখে পেছনের দরজার গেট ভাঙা। তারপর ঘরে ঢুকে দেখে কিচ্ছু নেই! আমার একশোরও বেশি আর্ন্তজাতিক পদক রয়েছে। সব নিয়ে গিয়েছে। এমনকী, পদ্মশ্রীটাও নিয়ে গিয়েছে।” বুলা জানালেন এর আগেও দু’বার চুরি হয়েছিল ২০১৪-য়। সেবার টাকা আর কিছু সোনার জিনিসপত্র নিয়ে গিয়েছিল। এবার পদকগুলো নিয়ে গিয়েছে। “আমার সারাজীবনের পরিশ্রম চলে গেল। ওই পদকগুলো আমার কাছে সোনাদানার চেয়েও মূল্যবান। এর আগেও উত্তরপাড়া পুলিশ তদন্ত করেছিল। কোনও সুরাহা হয়নি। এবারও হবে বলে আমার আশা নেই। ওদের ওপর ভরসা করব কী করে?” বললেন মানসিকভাবে ভেঙে পড়া সাতাঁরু।
বিদেশিদের ভিড়েও ডার্বির ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন ভারতীয়রা!

লিস্টন কোলাসো। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। নামী–দামী বিদেশিদের ভিড়েও তিনি কিন্তু উজ্জ্বল তার প্রান্তিক দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে দেওয়ার জন্য। দলের বিদেশি তারকারাও কিন্তু অপেক্ষা করেন লিস্টনের দৌড়ের জন্য। চলতি ডুরান্ড কাপে লিস্টনকে আরও ক্ষুরধার লাগছে। তার কারণ শুধু বিষাক্ত প্রান্তিক দৌড়গুলো নয়। নিজের একটা বড় ‘দোষ’ কমিয়েছেন তিনি। আগে বল পায়ে রাখতেন প্রচুর। ছাড়তে চাইতেন না। নিজেই গোল করতে চাইতেন। এ বার কিন্তু সতীর্থদের পাস বাড়াতে কার্পণ্য করছেন না লিস্টন। রবিবারের ডার্বিতেও লিস্টন কোলাসোর ফুটবলে ম্যাচের ফলাফল লেখা হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। রবিবারের যুবভারতীতে ভারতীয় ফুটবলারদের দ্বৈরথে ইস্টবেঙ্গলের তুলনায় মোহবাগান কি একটু এগিয়ে? বহু বড় ম্যাচ জেতানো দীপেন্দু বিশ্বাসের সেরকম মনে হচ্ছে। “ভারতীয় ব্রিগেডে এগিয়ে মোহনবাগান। এরাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেবে,” বলেছেন দীপেন্দু। আসলে রবিবারের ডার্বি নিয়ে দীপেন্দুর বিশ্বাস, যেহেতু দু’দলের বিদেশিদের অধিকাংশই এখনও সম্পূর্ণ ম্যাচ-ফিটনেস তৈরি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন তাই মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। অবশ্য এই ধারণায় ব্যতিক্রম হতে পারেন ইস্টবেঙ্গলের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগুয়েল। ইতিমধ্যেই নিখুঁত ফুটবলে যিনি শুধু দলের সমর্থক নন, দীপেন্দুর মত কলকাতা ফুটবলের প্রাক্তন আন্তর্জাতিকদেরও নজর কেড়ে নিয়েছেন। সবুজ-মেরুনের সাতজন জাতীয় ফুটবলার। লিস্টন ছাড়াও র্যেছেন বিশাল কাইথ, অনিরুদ্ধ থাপা, আব্দুল সামাদ, দীপক টাংরি, আশিস রাই, অভিষেক সূর্যবংশী, আপুইয়া বা করণ রাই। ইস্টবেঙ্গলও কিন্তু পিছিয়ে নেই ভারতীয় ফুটবলারদের দ্বৈরথে। মোহনবাগানের লিস্টন কোলাসোর মত ইস্টবেঙ্গলেও আছেন বিপিন সিং। তারও বিষাক্ত প্রান্তিক দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙা দেখেছে মুম্বই সিটি এফসি। কিন্তু সেই ফর্ম কি তিনি ধরে রাখতে পারবেন? পারলে কিন্তু দ্বৈরথ জমে যাবে। তবে বিপিন ছাড়াও ইস্টবেঙ্গলের ভারতীয় ব্রিগেড খুব পিছিয়ে নেই। রয়েছেন আনোয়ার আলি, রাকিপ, লালচুংনুঙ্গা, নাওরেম মহেশ, প্রভাত লাকরা, রামসাঙ্গারাও। গোলে প্রভসুখন গিলের ডার্বি খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এখন রবিবারের যুবভারতীর অপেক্ষায় কলকাতা!
ডার্বি জ্বরের মধ্যে কামিংসের ভবিষ্যদ্বাণীঃ এবারও টিম-স্পিরিটই হবে দলের সাফল্যের আসল কারিগর

এই মরশুমও ফর্মে শুরু করলেন জেসন কামিংস। চলতি ডুরান্ড কাপে তার প্রথম ম্যাচ ছিল ডায়মন্ড হারবার এফসি। একটি গোল করলেন। আর একটি গোল করালেন। আগামি ১৭ অগস্ট ডুরান্ডে, মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বি। যদিও ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান-দু’দলের কোচ বলেছেন, ডুরান্ড কাপটা তাদের কাছে দলের প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট। বিশেষত সদ্য কলকাতায় আসা বিদেশি ফুটবলারদের কাছে। তাতে চিড়ে ভেজেনি। সমর্থক, সদস্য এবং কলকাতার সংবাদমাধ্যম যথারীতি এই ম্যাচের পারদ চড়িয়ে দিয়েছে। জেসম কামিংসকেও উত্তেজনার এই আবহে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে যে, মরশুমের প্রথম কলকাতা ডার্বির আগে তার মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে। এমবিএসজি টিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার এই স্ট্রাইকার জানিয়ে দিলেন, টিম-স্পিরিটই দলের সফল হওয়ার অন্যতম কারিগর। গত মরশুমে দলের দারুণ সাফল্যের পেছনেও সেটাই ছিল অন্যতম কারণ। এবারও সেই টিম-স্পিরিট ধরে রাখার মন্ত্রেই শুরু হয়েছে মরশুম। কামিংস বলেছেন, “দলের মধ্যে অটুট বন্ধন, দুর্দান্ত বোঝাপড়া ও মাঠের বাইরে ফুটবলারদের মধ্যে পারষ্পরিক সম্পর্কই এই সাফল্যের উপাদান।” কাতার বিশ্বকাপ খেলে আসা অজি তারকা আরও বলেছেন, “সতীর্থদের সঙ্গে মাঠ এবং মাঠের বাইরের সম্পর্কটা খেলার সময় কাজ করে। নিজের সেরাটা মাঠে দেওয়া সহজ হয়ে যায়। আমার অভিজ্ঞতা বলে, সবচেয়ে সফল দল তারা হয় যাদের মধ্যে ভাল বাঁধন থাকে। ড্রেসিংরুমে আমাদের সম্পর্ক একেবারে পরিবারের সদস্যদের মতো”। কামিংসের সঙ্গে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টসে আলবার্তো রদরিগেজ, টম অ্যালড্রেডের মত ফুটবলাররাও আছেন। সেটা কী বাড়তি সুবিধে দেয়? এই প্রশ্নে কামিংসের মুখে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ কথা। এখানে কোন ছোট ছোট গ্রুপ নেই। সবাই মিলে মিশে থাকে। ভারতীয় ফুটবলারদের সঙ্গেও আমাদের বন্ধুত্ব গভীর।” আইএসএলে গত দু’মরশুমে ১৯ গোল করা এই অস্ট্রেলীয় ফরোয়ার্ড সবুজ মেরুণ সমর্থকদের ভালবাসায় মুগ্ধ। কামিন্স বলেছেন, “ওদের উন্মাদনাই আমার অনুপ্রেরণা। এবারও ওদের প্যাশনকে সম্মান জানাতেই সফল হওয়ার শপথ নিয়েছি।”