‘আপনারা এখনই সেরা মোহনবাগান বা সেরা ইস্টবেঙ্গলকে দেখতে পাবেন না!’ বললেন মোলিনা

রবিবার ডুরান্ডের কোয়ার্টার ফাইনালে, মরশুমের প্রথম ডার্বির ২৪ ঘন্টা আগে মোহনবাগান কোচ হোসে মোলিনা মেনে নিলেন শক্তির বিচারে দু’দলের মধ্যে বিশেষ কোনও পার্থক্য নেই। এমনকী মহম্মদ রশিদ ফিরে গেলেও নয়। ইস্টবেঙ্গলের মত চলতি ডুরান্ড কাপেও ছন্দে রয়েছে মোহনবাগান। ইস্টবেঙ্গলের মতোই গ্রুপ পর্বে ১২টা গোল করেছে তারা। তিনটে ম্যাচই জিতেছে। শনিবার মোহনবাগান তাঁবুতে সাংবাদিক বৈঠকে মোলিনাকে পাওয়া গেল নিজস্ব মেজাজেই। প্রতিপক্ষকে সমীহ করলেন। তেমনই নিজেদেরও পিছিয়ে রাখলেন না। জানালেন, জেতার জন্য যা দরকার সবই করবেন। প্রস্তুতি কম হলেও তা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না মোলিনা। স্পেনীয় কোচের কথায়, “ওদের সঙ্গে আমাদের বিশেষ পার্থক্য নেই। ওরা আমাদের থেকে সাত-আট দিন বেশি অনুশীলন করেছে। সেটা অল্প হলেও সুবিধা দিতে পারে। তবে বিরাট পার্থক্য হবে না তাতে। দুটো দলই ডুরান্ড জিততে চাইছে। এটাও ঠিক, দুটো দলই পুরোপুরি ফিট নয়। আপনারা এখনই সেরা মোহনবাগান বা সেরা ইস্টবেঙ্গলকে দেখতে পাবেন না। এটা সম্ভব নয়। দুটো দলই প্রাক-মরসুমে রয়েছে। অবশ্যই আমরা নিজেদের সেরাটা দেব। কিন্তু সবচেয়ে ভাল ফর্মে দেখা এখনই সম্ভব নয়।” তিনটে ম্যাচ জিতলেও দলে যে এখনও দুর্বলতা রয়েছে সেটাও স্বীকার করেছেন মোলিনা। তাঁর কথায়, “অবশ্যই দুর্বলতা রয়েছে। আমরা চাই না সবাই আমাদের বাড়তি গুরুত্ব দিক। আমরা মোটেই যন্ত্র নই। কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, খেলোয়াড় সবাই মানুষ। দুর্বলতা থাকবেই। তবে আমাদের শক্তিও রয়েছে, যেটা আমরা ম্যাচে দেখাব। ভাল কোচ সে-ই যে দুর্বলতা ঢেকে রেখে শক্তিগুলো বার করে আনতে পারে।” মোলিনা জানিয়েছেন, ডার্বিতে খেলার জন্য সুহেল ভাট এবং টম অলড্রেড তৈরি। শুভাশিস বসু, মনবীর সিংহ এবং কিয়ান নাসিরিকে পাওয়া যাবে না। ইস্টবেঙ্গল পাবে না রশিদকে। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরে গিয়েছেন তিনি। মোহনবাগানের বাড়তি সুবিধা হল কি না এই প্রশ্ন করতেই কিছুটা উত্তেজিত মোহনবাগান কোচ। বললেন, “তাতে কী হয়েছে? ইস্টবেঙ্গলের হাতে কি আর ফুটবলার নেই? ওদের হাতে পাঁচটা বিদেশি রয়েছে। আমাদের হাতেও তাই।
সুনীলকে ক্যাম্পে ডাকলেন না খালিদ; যোগ দিলেন ২২জন ফুটবলার

মানোলো মার্কুয়েজের ডাকে অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন সুনীল ছেত্রী। কিন্তু খালিদ জামিলের আমলে তিনি ব্রাত্য হয়ে পড়লেন। জাতীয় দলের প্রস্তুতি শিবিরে ডাক পেলেন না ভারতের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং প্রাক্তন অধিনায়ক। সেপ্টেম্বরে ভারত খেলবে কাফা নেশনস কাপে। এই টুর্নামেন্টই হবে সদ্য জাতীয় কোচ হওয়া খালিদ জামিলের প্রথম টুর্নামেন্ট। জাতীয় দলের প্রস্তুতি শিবিরে ৩৫ জন ফুটবলারের নাম ঘোষণা করেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া জাতীয় শিবিরে যোগ দিয়েছেন ২২ জন ফুটবলার। তবে ডুরান্ড চলার জন্য ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, জামশেদপুর এফসির মোট ১৩ জন ফুটবলার যোগ দিতে পারেননি শিবিরে। এআইএফএফ তরফে এই তিন ক্লাবের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে জাতীয় স্বার্থে তাদের ফুটবলারদের ছেড়ে দিতে। মোহনবাগান থেকে ডাক পেয়েছেন দীপক টাংরি, অনিরুদ্ধ থাপা, লিস্টন কোলাসো, মনবীর সিং, লালেনমাওইয়া রালতে, বিশাল কাইথ ও সাহাল আবদুল সামাদ। ইস্টবেঙ্গল থেকে জাতীয় শিবিরে যাবেন নাওরেম মহেশ, আনোয়ার আলি ও জিকসন সিং। যারা ইতিমধ্যে বেঙ্গালুরুতে পৌঁছে গিয়েছেনঃ গোলরক্ষক: অমরিন্দর সিং, গুরপ্রীত সিং সান্ধু, হৃতিক তিওয়ারি। ডিফেন্ডার: আকাশ মিশ্র, অ্যালেক্স সাজি, বরিস সিং থাংজাম, চিংলেনসানা সিং কনশাম, হামিংথানমাওইয়া রালতে, রাহুল ভেকে, রোশন সিং নওরেম, সন্দেশ ঝিঙ্গান, সুনীল বেঞ্চামিন। মিডফিল্ডার: আশিক কুরুনিয়ান, দানিশ ফারুক ভাট, নিখিল প্রভু, রাহুল ক্যানোলি প্রবীণ, সুরেশ সিং ওয়াংজাম, উদান্ত সিং কুমাম। ফরোয়ার্ড: ইরফান ইয়াদওয়াদ, লালিয়ানজুয়ালা ছাংতে, রহিম আলি, বিক্রম প্রতাপ সিং। কোচ: খালিদ জামিল
বিরাট আর রোহিত অবিচারের শিকার, বললেন কারসন ঘাউড়ি

ইংল্যান্ড সিরিজের আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মা। কিন্তু দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার কারসন ঘাউড়ি মনে করছেন এই দুই ক্রিকেটারই ‘অবিচারের শিকার’ হলেন! বিশেষভাবে বলতে হলে, ঘাউড়ির মনে হয়েছে, নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছেন দুই ক্রিকেটার। ঘাউড়ি বলেছেন, “আরও কয়েক বছর সহজেই টেস্ট খেলতে পারত বিরাট। কিন্তু কিছু বিষয় ওকে অবসর নিতে বাধ্য করল। দুর্ভাগ্যের বিষয়, ওকে বিদায়ী সংবর্ধনাও পর্যন্ত দেওয়া হল না। ভারতীয় ক্রিকেটে ওর অবদান অনস্বীকার্য। এটা ওর প্রাপ্য ছিল। কিন্তু ভারতীয় বোর্ড সেসবের ধার ধারল না।” দেশে ফেয়ারওয়েল না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনা পেতে চলেছেন দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। এরপর একধাপ এগিয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটারের মন্তব্য, “এখন বোর্ডের অন্দরে রাজনীতি। তারই শিকার বিরাট এবং রোহিত। হয়তো দুই ক্রিকেটারকে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ওরা এভাবে ছাড়তে চায়নি। কিন্তু নির্বাচকদের ভাবনা ছিল আলাদা। এটা একেবারে নোংরা একটা রাজনীতি।” রোহিত এবং বিরাট দু’জনের সামনেই এখন রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ানডে সফর। ১৯ অক্টোবর থেকে অজিভূমে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। সেই সিরিজকে সামনে রেখে ‘রো-কো’ জুটি এখন থেকেই অনুশীলনে নেমে পড়েছেন।
রশিদের জন্য রবিবারের ডার্বি জিততে চান শৌভিক

ইস্টবেঙ্গলের প্যালেস্তাইনের মিডফিল্ডার মহম্মদ রশিদের জন্য রবিবারের কলকাতা ডার্বি জিততে চান দলের বর্ষীয়ান মিডফিল্ডার শৌভিক চক্রবর্তী। রবিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান। আলাদা গ্রুপে থাকা দু’দলই নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থানে আছে। দু’দলই গ্রুপের তিনটি করে ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু তারপরও ইটবেঙ্গলের মিডফিল্ডারের মতে ডার্বি ম্যাচের আগে কোনও পরিসংখ্যান কাজ করে না। সেই ম্যাচে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। রশিদকে শুক্রবার রাতেই দেশে ফিরে যেতে হয়েছে। তার বাবা প্রয়াত হয়েছেন। গ্রুপে লিগে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এই মিডফিল্ডার নজর কেড়েছিলেন। দুরপাল্লার শটে গোলও করেছিলেন। শৌভিক বলেছেন, “রশিদের পরিবারের প্রতি পূর্ণ সমবেদনা আমাদের। ও নেই ঠিকই। রাশিদের জন্য এই ডার্বিটা জিততে চাই।’ রবিবারের বড় ম্যাচ নিয়ে শৌভিকের বক্তব্য, “বড় ম্যাচ সবসময় আবেগের। সবসময় ৫০-৫০। আমরা গ্রুপ পর্বে ভালো খেলেছি। আশা করছি ডার্বিতেও ভালো ফল হবে। ডার্বি পুরোপুরি নির্ভর করে সেই দিনের উপরে। ব্যক্তিগত টার্গেট তো থাকেই। সমর্থকদের কথা ভেবে জিততে চাই। প্রত্যেকটা ডার্বির গুরুত্ব আলাদা।”