প্রিমিয়ার লিগে চালু হল নতুন নিয়ম, ‘আট সেকেন্ডের’ বেশি বল হাতে রাখতে পারবে না গোলকিপার

রবিবার টটেনহ্যাম হটস্পারের মাঠে তৈরি হল বিশেষ এক মুহূর্ত। ১৩৭ বছরের প্রিমিয়ার লিগে প্রথমবার প্রয়োগ করা হল ‘আট সেকেন্ড নিয়ম’। আর এই নজিরবিহীন ঘটনার নায়ক বার্নলির গোলকিপার মার্তিন দুব্রাউকা। ম্যাচের শুরুতেই নিজের বক্সে ক্রস ধরে নিয়ে ১৪ সেকেন্ড বল আটকে রাখেন দুব্রাউকা। নিয়ম অনুযায়ী ৮ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে প্রতিপক্ষকে কর্নার দিতে হবে। তাই বাঁশি বাজান রেফারি মাইকেল অলিভার। কর্নারের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি টটেনহাম। যদিও নিয়ম নিয়ে হতভম্ব হয়ে যান দুব্রাউকা নিজেই। দর্শকদের অনেকেও জানতেন না এই নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। তবে এভাবেই বিশ্বফুটবলে সময় নষ্ট ঠেকাতে আইএফএবি-র আনা নতুন নিয়মের সূচনা হয়ে গেল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে। অবশ্য ম্যাচে টটেনহ্যামের জয় নিশ্চিত করেন রিচার্লিসন। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলে বার্নলিকে ৩–০ উড়িয়ে মরশুম শুরু করল টটেনহ্যাম হটস্পার। প্রিমিয়ার লিগে কোচ হিসেবে টমাস ফ্রাঙ্কের অভিষেকও হলো এই ম্যাচ দিয়েই।
ছয় গোলে বিধ্বস্ত স্যান্টোস! চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন নেমার

১১ বছর আগে, ২০১৪-র বিশ্বকাপ ফাইনালে, বেলো অরিজন্তে স্টেডিয়ামের ৫৮ হাজার দর্শক দেখেছিলেন চোখের জলে স্ট্রেচারে শুয়ে তাকে মাঠ ছাড়তে। সেবার জার্মানির বিরুদ্ধে ১-৭ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। বৃহস্পতিবার আবার স্যান্টোসের ঘরের মাঠে, স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক দেখল নেমারের কান্না। ম্যাচের শেষে। ততক্ষণে স্যান্টোস ব্রাজিলিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ভাস্কো দা গামার বিরুদ্ধে তার দল ৬ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে! নেমারকে তার ক্লাব ফুটবলজীবনে এরকম বিপর্যস্ত হতে হয়নি। ২০ দলের ব্রাজিলিয়ান প্রিমিয়ার লিগের টেবিলে এই হারের পর স্যান্টোস ১৫ নম্বরে চলে গিয়েছে! অবনমনের ঠিক দু’পয়েন্ট পেছনে! লজ্জার এই পরাজয়ের ঘণ্টাখানেকের মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে স্যান্টোস কোচকে। গত জুনে ব্রাজিলের এই ক্লাবের নতুন চুক্তিতে সই করেছিলেন নেইমার। কিন্তু তাঁর কেরিয়ারের এটাই সবচেয়ে হতাশাজনক পরাজয়ের নজির। যা মেনে নিতে পারেননি তিনি। শেষ বাঁশি বাজার পর মাঠে বসে কেঁদে ফেলেন। তাঁকে সতীর্থরা টেনে তোলার চেষ্টা করলেও উঠতে চাইছিলেন না। এরপর তাঁকে সান্ত্বনা দিতে আসেন ক্লাবের এক স্টাফ। নেইমারকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। পরাজয়ের পর নেইমার বলেন, “আমি সত্যিই লজ্জিত। অত্যন্ত হতাশাজনক পারফরম্যান্স করেছি আমরা। সমর্থকদের প্রতিবাদের সম্পূর্ণ অধিকার আছে। এটা আমার জীবনে সবথেকে খারাপ এবং লজ্জাজনক অভিজ্ঞতা। রাগে আর হতাশায় কান্না আসছে। এই ক্লাবের জার্সি গায়ে এভাবে খেলা লজ্জার। প্রত্যেকেরই বাড়ি গিয়ে মাথা বালিশে রেখে ভাবা উচিত, তাদের আসলে কী করণীয়।”
ফিফা, আই-লিগ করানো রেফারিদের লেভেল-৬-এ নামিয়ে নতুন ‘পলিসি’ ফেডারেশনের!

দেশের আটটি রাজ্যের আটজন রেফারি। তাদের কেউ ফিফা ব্যাজ পেয়ে নিয়মিত আইএসএল, আই লিগ পরিচালনা করিয়েছেন। কেউ নিয়মিত আই লিগ করিয়েছেন। রেফারিং-এর ভাষায় বলা হয় তাদের ক্যাটেগরি-২ নম্বরে। হঠাৎ সেই রেফারিদের উদ্দেশে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের রেফারি কমিটি একটি মেল পাঠানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, এক বছরে, মানে গত বছরে দু’বার ফিটনেস পরীক্ষায় পাস না করতে পারার জন্য তাদের ৬ নম্বর লেভেলে নামিয়ে দেওয়া হল! মানে আই লিগ তো দুরের কথা, লেভেল-৬-এ নেমে যাওয়া রেফারিরা দেশের কোনও প্রথম সারির টুর্নামেন্টের ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না! আশ্চর্যের বিষয়, এই ই-মেল কিন্তু গতবছর রেফারিদের ফিটনেস পরীক্ষার আগে পাঠানো হয়নি। আরও আশ্চর্যের বিষয়, যে আটজন রেফারিকে তাদের অর্জিত লেভেল থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের কেউই কিন্তু দু’বার ফিটনেস পরীক্ষায় ব্যর্থ হননি! প্রথমবার পাস না করতে পারলেও একমাসের মধ্যে আবার হওয়া ফিটনেস পরীক্ষায় তারা পাস করেছেন। ১২ ল্যাপ দৌড়ে দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় পাস করার উদাহরণও আছে। যার প্রতিফলনে, তারা তাদের ডিগ্রি অনুযায়ী প্রাপ্য ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বও পেয়েছেন। কেউ আই লিগের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। কেউ আইএসএলেও ম্যাচের রেফারিদের প্যানেলে নথীভূক্ত হয়েছেন। তারপর এই প্রহসন কেন? তাহলে কি এই আটজনের বিরুদ্ধে কোনও ষড়যন্ত্র করা হল? ভারতীয় ফুটবলের চিফ রেফারিং অফিসার ট্রেভর কেটলের কাছে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এমনকী, রেফারি কমিটির চেয়ারম্যান কে.শঙ্করকেও ফোনে পাওয়া যায়নি। আটজন রেফারি এখন বিচারের জন্য তাকিয়ে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবের দিকে। সম্মিলিতভাবে প্রেসিডেন্টকে তারা নথীপত্র-সহ মেল পাঠিয়ে জানতে চাইবেন কেন তারা অবিচারের শিকার হুলেন? তাতেও যদি বিচার না পাওয়া যায় তখন পরবর্তী পদক্ষেপ।