শেষ মুহূর্তের গোলে কাস্টমসের কাছে হেরে সুপার সিক্সের রাস্তা কঠিন হল মোহনবাগানের

কলকাতা লিগের গত ম্যাচে বিএসএসকে ৫-২ গোলে হারিয়ে সুপার সিক্সে যাওয়ার আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল মোহনবাগান। বুধবার নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেমেছিলেন ডেগি কার্ডোজার ছেলেরা। যদিও ক্যালকাটা কাস্টমসের বিরুদ্ধে দ্বৈরথে শেষপর্যন্ত ০-১ গোলে হেরে সুপার সিক্সের রাস্তা কঠিন করে তুলল মোহনবাগান। এদিন সবুজ-মেরুন অধিনায়ক সন্দীপ মালিক চোটের কারণে মাঠে ছিলেন না। অন্যদিকে, বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের দলে ছিলেন রবি হাঁসদার মতো তারকা। সুতরাং ম্যাচটা যে সহজ ছিল না, তা সহজেই অনুমেয়। শুরু থেকেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারেননি আদিত্য অধিকারী, শিবম মুণ্ডারা। কাস্টমসও প্রাণবন্ত ফুটবল উপহার দেয়। ডান দিক থেকে বারবার উঠে এসে রিকি ঘরামি ব্যস্ত রেখেছিলেন সবুজ-মেরুন রক্ষণকে। প্রথমার্ধে কোনও পক্ষই কোনও দলই গোল করতে পারেনি। ক্যালকাটা কাস্টমসের রক্ষণের বজ্র আঁটুনির কাছে বারবার আটকে পড়ছিলেন ডেগি কার্ডোজার ছেলেদের। খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ৯৭ মিনিটের গোলে কাস্টমসকে এগিয়ে দেন রৌনক পাল। এই হারের পর সুপার সিক্সের রাস্তা কঠিন হল মোহনবাগানের।
গ্রাসরুটের ছেলেদের ‘টেকনিক্যালি’ দক্ষ ফুটবলার গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলছে অর্ণবের পরিশ্রম

ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার অর্ণব মণ্ডলের লক্ষ্য ‘টেকনিক্যালি’ দক্ষ ফুটবলার তৈরি করা। গত দেড় বছর ধরে ঠাকুরপুকুরে চলছে ফিউচার ফাউন্ডেশন ফুটবল ক্যাম্প। কোচ বিশ্বরুপ মুখার্জির উদ্যোগেই তৈরি হয়েছিল এই প্রশিক্ষণ শিবির। প্রায় ৭০টি ছেলে কোচিং নিতে যায় ওই ক্যাম্পে। ছয় বছর থেকে শুরু। বেশি রয়েছে ১৩-১৪ বছর বয়সী ছেলেরা। তরুণ সমিতি ক্লাবের মাঠ ছাড়াও ঠাকুরপুকুর বিবেকানন্দ কলেজের মাঠও ট্রেনিংয়ের জন্য পাওয়া যায়। ক্যাম্পে তিনজন কোচ আছেন। পরামর্শদাতা হিসেবে আছেন বাংলার প্রাক্তন কোচ তপনজ্যোতি মিত্রও। সেখানেই চলছে অর্ণবের পরিশ্রম। “মাঠে কীভাবে দাঁড়াবে একটি ছেলে? দলের আক্রমণের সময় তার মুভমেন্ট, পজিশনিং কী হওয়া উচিত ম্যাচ চলাকালীন, শরীরের অবস্থান কিরকম হওয়া উচিত-আমার মনে হয় একজন ফুটবলারের টেকনিকের প্রথম উপাদান এটা। স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন জাতীয় কোচ থাকাকালীন, জাতীয় শিবিরে গিয়ে আমি এবং আরও অনেকে এই বিষয়টার সামনে পড়েছিলাম। অনেকেরই ভুলভ্রান্তিও স্টিফেন দেখিয়ে দিয়েছিলেন। এই বিষয়ে দক্ষ হওয়ার পর আসে ফার্স্ট টাচ শেখার বিষয়। সেটা অবিরাম পরিশ্রমের ফসল হবে,” ‘টেকনিক্যালি’ দক্ষ ফুটবলার গরে তোলার প্রসঙ্গে বিশ্লেষণ করলেন অর্ণব। এই কোচিং ক্যাম্পে এখনও পর্যন্ত কোনও আর্থিক সহায়তা আসে নি। অর্ণব জানালেন অদূর ভবিষ্যতে ক্যাম্পে ছেলেদের অনুশীলনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনা আছে। “তবে গ্রাসরুটে থাকা ছেলেদের জন্য যন্ত্রপাতির বিশেষ প্রয়োজন হয় না। ওদের প্রয়োজন প্রাথমিক পর্যায়ের ট্রেনিং। সেটাই আমরা করার চেষ্টা করছি,” বলছেন অর্ণব। কোচিং করাতে গিয়ে অর্ণবের আরও একটা ইতিবাচক দিক মনে হয়েছে যে, বাবা-মায়েরা ছেলেদের ফুটবল খেলতে পাঠাচ্ছে। “এখন অল্পবয়সী ছেলেদের শেখার গুণ কিন্তু লক্ষ্যণীয়। আমাদের ক্যাম্পে অনেক ছেলে আছে, যারা প্রতিভাবান। সম্প্রতি, চেয়ারম্যান কাপের মত বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্টে কিন্তু ওই ছেলেদের নিয়ে গড়া আমাদের দল কিন্তু ফাইনাল খেলেছে,” বলছেন অর্ণব। সিনিয়র জাতীয় দলে বাঙালি ফুটবলার না থাকা নিয়ে অর্ণবের বক্তব্য, “বাঙালি ছেলে খেলছে কোথায়? দেশের টপ-টায়ার ফুটবলে তো কেউ নেই। আমি, প্রীতম, প্রবীর, নারায়ণ, রফিক, অরিন্দম, শুভাশিষ রায় চৌধুরী-সেই গ্রুপটাই তো শেষ ছিল ২০১৯-এ। এখন শুভাশিষ বোস ছাড়া আর কেউ নেই। তবে জাতীয় কোচের ওপরও নির্ভর করে বিষয়টা। তাকেও দেখতে হবে কলকাতা লিগের খেলা। না হলে সে জানবে কীভাবে যে কারা ধারাবাহিকভাবে ভাল খেলছে।”
এবার আইপিএল থেকেও অবসর অশ্বিনের

গতবছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন অশ্বিন। এবার আইপিএলকেও বিদায় জানালেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। বুধবার সকালে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানান যে, আইপিএল থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। আইপিএল কর্তৃপক্ষ ও বিসিসিআইকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। গত মরশুমে চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে খেলেছেন অশ্বিন। তবে সম্ভবত, বিভিন্ন ঘরোয়া ফ্রাঞ্চাইজি লিগে নিজের অভিযান চালিয়ে যেতে পারেন তিনি। বুধবার গণেশ চতুর্থী। সেই বিশেষ দিনটাকেই অশ্বিন অবসরের জন্য বেছে নিলেন। আইপিএলের অন্যতম সেরা স্পিনার লিখেছেন, ‘আজ একটা বিশেষ দিন। আজ একটা বিশেষ যাত্রা শুরু করা যাক। সবাই বলে, প্রতিটি শেষের একটা শুরু থাকে। আইপিএল ক্রিকেটার হিসেবে আমার সময় এখানেই ফুরিয়ে এল। কিন্তু বিভিন্ন লিগে আমার অভিযান আজ থেকে শুরু হল। আমি যে সব ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলেছি, দারুণ স্মৃতি তৈরি হয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইপিএল ও বিসিসিআইকেও ধন্যবাদ, তারা আমাকে আজ যা দিয়েছে, তার জন্য। এবার সামনের দিকে তাকাতে চাই এবং সামনে যা আছে তা উপভোগ করতে চাই।’ ২০০৮-এ আইপিএলের অভিযান শুরু হয় অশ্বিনের। তখন তিনি খেলতেন ‘ঘরের দল’ চেন্নাই সুপার কিংসের। পরে রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস, কিংস ১১ পাঞ্জাব, দিল্লি ক্যাপিটালস ও রাজস্থান রয়্যালসে খেলেছেন। গত মরশুমে ফের ৯.৭৫ কোটি টাকায় চেন্নাই সুপার কিংসে ফিরে এসেছিলেন। এর মধ্যে জল্পনা ছিল, তিনি সিএসকে ছেড়ে অন্য দলে যেতে পারেন। কিন্তু তার আগেই আইপিএল থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।
আবার ফিফার নির্বাসনের হুমকি! এবার সময়সীমা ৩০ অক্টোবর

আবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে চিঠি দিয়ে নির্বাসনের হুমকি দিল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা ফিফা। চিঠির মূল বক্তব্য, ৩০অক্টোবরের মধ্যে ফিফা আর এএফসি-র গাইডলাইন মেনে নতুন সংবিধান তৈরি এবং তার প্রণয়ন না করতে পারলে এআইএফএফকে আবার নির্বাসনের মুখে পড়তে হবে। এর আগে ২০২২ সালে ফিফা নির্বাসিত করেছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে। সেই নির্বাসন তোলার জন্য দ্রুত নির্বাচন করে একটা কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন বর্তমান এআইএফএফ প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবে। যদিও তখনই ঠিক হয়েছিল, সংবিধান তৈরি করে নতুন করে নির্বাচন হবে। সেটা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছিল। তার শুনানি শেষ, দ্রুত তার রায়দানও করা হতে পারে। কিন্তু ফিফার পর্যবেক্ষণ, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তারা কোনও ভাবেই এই নতুন সংবিধান তৈরির জন্য উদ্যোগ নেয়নি। এমনকী নির্বাচন করা নিয়েও আশ্চর্যজনকভাবে ‘নীরব’ তারা। এই পরিস্থিতি দেখে দু’পাতার চিঠির ছত্রে ছত্রে ফিফা ফেডারেশনকে ভর্ৎসনা করেছে। ফিফার চিঠিতে বলা হয়েছে ভারতের মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে সংশোধিত সংবিধান তৈরি করতে হবে। ফিফা ও এএফসি’র নিয়মনীতি অনুসারে এআইএফএফের সংশোধিত সংবিধান তৈরি করতে হবে। এআইএফএফের পরবর্তী সাধারণ সভায় এই সংবিধানকে অনুমোদিত করতে হবে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটা করতে হবে চলতি বছরের ৩০ অক্টোবরের মধ্যে। আর এই সময়সীমার মধ্যে ব্যর্থ হলে ফিফা পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। আর সেটা যে নির্বাসন, সেটাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।