ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য রশিদদের, পঞ্জাবের বন্যাদুর্গতদের পাশে শুভমন

ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আফগানিস্তানের কুনার প্রদেশ। সোমবার ৬.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে ৮০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৮০০-র বেশি। প্রচুর বাড়িঘর ভেঙে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সে দেশের ক্রিকেটারেরা। আর্থিক সাহায্য করেছেন তাঁরা। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই কঠিন সময়ে কুনার প্রদেশের মানুষের পাশে রয়েছে আফগানিস্তানের ক্রিকেটারেরা। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে ম্যাচের ফি তাঁরা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের দান করবেন। পাশাপাশি আরও আর্থিক সাহায্য করবেন ক্রিকেটারেরা।” বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে যে লিস্ট-এ প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানকার ক্রিকেটারেরাও ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক সাহায্য করবেন। সোমবার খেলা শুরুর আগে আফগানিস্তান ও আমিরশাহির ক্রিকেটারেরা মাঠে দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেছেন। ভূমিকম্পে যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তাঁরা। ভারতের পঞ্জাবও প্রকৃতির রোষে। বন্যায় এখনও পর্যন্ত ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ বন্যার কবলে। পঞ্জাবের ২৩টি জেলার মধ্যে ১২টি জলের তলায়। গুরদাসপুর, পঠানকোট, কপূরথলা, হোশিয়ারপুর, অমৃতসরে বন্যার প্রভাব বেশি। শুধুমাত্র অগস্ট মাসে এই রাজ্যে ২৫৩.৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা স্বাভাবিকের থেকে ৭৪ শতাংশ বেশি। গত ২৫ বছরে অগস্টে এত বৃষ্টি হয়নি পঞ্জাবে। ভারতের টেস্ট দলের অধিনায়ক শুভমন পঞ্জাবের ছেলে। নিজের রাজ্যের মানুষের কষ্টে তাঁর মন ভেঙে গিয়েছে। সমাজমাধ্যমে শুভমন লেখেন, “বন্যায় পঞ্জাবের এই দুর্দশা দেখে মন ভেঙে যাচ্ছে। যে কোনও কঠিন পরিস্থিতিতে পঞ্জাবের মানুষ মনের জোর ধরে রাখে। আমি জানি, এ বারও এই পরিস্থিতি সকলে কাটিয়ে উঠবে। বন্যাদুর্গতদের জন্য আমি প্রার্থনা করছি। পঞ্জাবের মানুষের পাশে আছি।”
বঞ্চনার প্রতিবাদে মধ্যপ্রদেশের দুই প্যারালিম্পিয়ান ফিরিয়ে দিচ্ছেন অর্জুন পুরস্কার!

অর্জুন পুরষ্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন মধ্যপ্রদেশের দুই প্যারালিম্পিয়ান। কপিল পারমার এবং প্রাচী যাদব। কারণ, রাজ্য সরকার তাদের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখেনি। তাঁরা নগদ পুরষ্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের কোনও কর্মসংস্থান হয়নি।। হতাশায় দুই প্যারা-অ্যাথলিট সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ফাইল আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন। ২০২৪-এর প্যারিস প্যারালিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী কপিল পারমার বলেছেন, তিনি গত একবছর ধরে মন্ত্রী এবং আধিকারিকদের কাছে বহুবার যাতায়াত করেছেন। তাঁকে ১ কোটি টাকা এবং একটি সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। তিনি টাকা পেয়েছেন, কিন্তু চাকরি পাননি। প্রত্যেকবার তাকে বলা হয়েছে ফাইলটি “প্রক্রিয়াধীন”। কপিলের অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশে প্যারা অ্যাথলিটদের সম্মান দেওয়া হয় না। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব তাঁকে গেজেটেড অফিসার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। কপিল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের টপস স্কিম এবং অলিম্পিক্স গোল্ড কোয়েস্টের সহায়তা ছাড়া তিনি কিছুই পাননি। তাঁর কাছে জ্বালানির জন্যও টাকা নেই। অনেক বাবা-মা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, সন্তানদের জুডো প্রশিক্ষণ নেওয়া উচিত কি না, কিন্তু তাঁর কাছে কোনও উত্তর নেই। কপিলের আশঙ্কা, তাঁদের সন্তানরাও তাঁর মতোই কষ্ট পাবে। কপিল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় সোনার পদক জয়ের জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু চাকরির দাবিতে অফিসে ঘন ঘন যাতায়াতের কারণে তিনি অনুশীলন করতে পারছেন না। কপিল ২০২৬ সালের এশিয়ান গেমস এবং ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সের জন্য প্রস্তুতি নিতে চেয়েছিলেন। পরিবর্তে, তিনি সরকারি বিলম্বের শিকার। কপিল আরও জানিয়েছেন, পদকজয়ের পর যে মন্ত্রী ও আধিকারিকরা তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে আগ্রহী হতেন এখন তাঁরা তাঁকে এড়িয়ে চলে যান। চাকরির বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন এই ভয়ে নাকি তাঁকে কোনও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণও জানানো হয় না। রাজনীতিতে তাঁর পরিচিত অনেকেই এখন তাঁর ফোনও ধরেন না। কপিল এখন তাঁর অর্জুন পুরস্কার মধ্যপ্রদেশের স্পোর্টস ডিরেক্টরের টেবিলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কীভাবে এটি দিল্লিতে পাঠানো হবে তা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেবেন। প্যারালিম্পিয়ান এবং বিক্রম পুরস্কার বিজয়ী প্রাচী যাদবও তাঁর অর্জুন পুরস্কার ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার তাঁকে বাস্তবিক অর্থে কোনও সাহায্য করেনি। প্যারিস প্যারালিম্পিক্স ২০২৪ চলাকালীন, প্রাচী তাঁর একটি চোখের কর্নিয়ায় আঘাত পান। তিনি নিজের চিকিৎসার জন্য ১৬-১৭ লক্ষ টাকা খরচ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার কোনও সাহায্য করেনি, এমনকি ক্ষতিপূরণও দেয়নি। আন্তর্জাতিক পদকের জন্য পুরস্কারের অর্থও দেওয়া হয়নি। গত বছর প্রাচীকে পূর্ত বিভাগে কেরানির চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, এটি তাঁর সাফল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই সময়, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আরও ভাল পদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তারপর থেকে কিছুই হয়নি। তিনি বলেন, মন্ত্রী এবং বিধায়করা নিজেদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের বাইরে সাড়া দেন না। প্রাচী বলেন, আধিকারিকরা তাঁকে ক্রীড়া ইভেন্টে আমন্ত্রণ জানাতে দ্বিধা করেন। তাঁরা ভয় পান যে, তিনি কর্মসংস্থানের বিষয়টি তুলে ধরবেন। বিশেষ ভাবে সক্ষম হওয়ার কারণে, তিনি শৈশব থেকেই সংগ্রাম করেছিলেন। আজ, আন্তর্জাতিক পদক জিতেও, তিনি অবহেলিত এবং অপমানিত বোধ করছেন। প্রাচী বলেছেন, তিনি খুবই হতাশ। তিনি মনে করেন, পদক জেতার পর ক্রীড়াবিদদের প্রচারের জন্য ব্যবহার করা হয় কিন্তু পরে তাঁদের ভুলে যাওয়া হয়। প্রতিবাদে তিনি তাঁর অর্জুন পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সাউথিকে টপকে আন্তর্জাতিক টি-২০তে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী এখন রশিদ খান

টি-টোয়েন্টিতে বিশ্বরেকর্ড আফগানিস্তানের স্পিনার রশিদ খানের। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিরুদ্ধে তিন উইকেট নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-২০তে এখন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। ছাপিয়ে গেলেন নিউজিল্যান্ডের প্রাক্তন পেসার টিম সাউথিকে। ত্রিদেশীয় সিরিজে আমিরশাহির বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে আফগানিস্তান তোলে ১৮৮ রান। জবাবে আমিরশাহিকে মাত্র ১৫০ রানে থামিয়ে দেন রশিদরা। আফগান স্পিনার ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট তোলেন। ইথান যার ফলে ৯৮ ম্যাচে ১৬৫ উইকেট হয়ে গেল রশিদের। সেখানে সাউথির উইকেট সংখ্যা ১২৬ ম্যাচে ১৬৪ উইকেট। কিউয়ি পেসার ২০২৪-র শেষে অবসর নিয়েছেন। এই তালিকায় রশিদ ও সাউথির পর আছেন ঈশ সোধি, শাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমানরা। তবে এঁরা প্রত্যেকেই রশিদের থেকে অনেক বেশি ম্যাচ খেলেছেন। ২৬ বছর বয়সি আফগান স্পিনারের সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট। এখনও পর্যন্ত ১৮টি দেশের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন রশিদ। যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও পাপুয়া নিউ গিনির বিরুদ্ধে কোনও উইকেট পাননি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ২২, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৩২ ও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৫টি উইকেট রয়েছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীদের তালিকার প্রথম দশে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার নেই।