আইএসএল নয়, সাহিলের উচিত আই লিগে খেলা, বলছেন নৌশাদ মুসা

সুদীপ পাকড়াশী: অনূর্ধ্ব-২৩ ভারতীয় দলে বাংলার একমাত্র প্রতিনিধি ইউনাইটেড স্পোর্টসের স্ট্রাইকার সাহিল হরিজন। মালয়েশিয়ায় জাতীয় দলের এক্সপোজার সফরে প্রথম ম্যাচেই নজর কেড়েছিলেন জাতীয় কোচ নৌশাদ মুসার। বুধবার এশিয়ান কাপের কোয়ালিফায়ার্সের প্রথম ম্যাচে বাহরিনের বিরুদ্ধেও দ্বিতীয়ার্ধে নেমেছিলেন। বৃহস্পতিবার দোহা থেকে ফোনে প্যারালাল স্পোর্টসের সঙ্গে কথা বলার সময় সাহিল সম্পর্কে মুসার বিশ্লেষণ, “প্রতিভাবান ফুটবলার। গতি আছে, টেকনিকও ভাল। মালয়েশিয়ায় আমাদের এক্সপোজার সফরে প্রথম ম্যাচে সাহিলের খেলায় আমি মুগ্ধ। শুধু প্রয়োজন শারীরিক শক্তি বাড়ানো আর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা।” তবে একইসঙ্গে মুসা বলছেন সাহিলের এবার উচিত আই লিগের দলে খেলা, আইএসএল ক্লাব নয়। “এখনই আইএসএল দলে সই করলে ও খেলার সুযোগ পাবে না। রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থেকে ওর খেলাটা নষ্ট হয়ে যাবে। তাই সাহিলের উচিত আই লিগের দল থেকে ডাক পেলে চলে যাওয়া। কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে খেললে ওর খেলার ধার বাড়বে না। আই লিগে খেললে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী ডিফেন্ডার পাবে, ম্যাচিওরিটি আসবে,” বলছেন নৌশাদ মুসা। সাহিলের অন্যতম অভিভাবক, ইউনাইটেড স্পোর্টসের ডিরেক্টর নবাব ভট্টাচার্যও মুসার সঙ্গে একমত যে সাহিলের ফুটবল জীবনে এবার উত্তোরণের সময় এসেছে। নবাব বললেন, “আমারও মনে হয় সাহিলের এবার আই লিগ দলে খেলা উচিত। সেই প্রস্তাব আছেও। এমনকী, আইএসএলের দলও ওর ব্যাপারে উৎসাহ দেখিয়েছে। সাহিল নিজে আইএসএলে খেলতে চায়। কিন্তু আই লিগে খেললে ও ম্যাচ খেলার বেশি সুযোগ পাবে। পরিস্থিতি বুঝে উদ্যোগ নেব।”
শুক্রবার ভোরেই দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ মেসির? ইঙ্গিত আর্জেন্টিনার কোচের!

বৃহস্পতিবার রাতে (ভারতীয় সময় শুক্রবার ভোরে) দেশের মাটিতে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের কোয়ালিফায়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলতে চলেছেন লিওনেল মেসি! সাংবাদিক বৈঠকে সেরকম ইঙ্গিত জাতীয় কোচ লিওনেল স্কালোনির। স্কালোনির কথায়, “এটা বিশেষ একটা ম্যাচ। লিও আগেই জানিয়েছিল এই ম্যাচে ও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়বে। কারণ যোগ্যতা অর্জন পর্বে দেশের মাটিতে এটাই আমাদের শেষ ম্যাচ। আমাদের উচিত প্রতিটা মিনিট উপভোগ করা। সবচেয়ে বেশি উপভোগ করব আমি। লিওকে কোচিং করানো আমার জীবনে সবচেয়ে আনন্দের অনুভূতি। আশা করি যে সমর্থকেরা স্টেডিয়ামে যাবেন তারাও যেন ম্যাচটা পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।” তারপর অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে একটু সরে স্কালোনি বলেছেন, “বৃহস্পতিবারের পরও আর্জেন্টিনা আরও একটা ম্যাচ খেলবে। আমি চাইব সেই ম্যাচটাও লিও খেলুক। ট্রেনিংয়ে মেসি এলে শুধু ওকেই উজ্জ্বীবিত লাগে না, ওর সতীর্থদের মধ্যেও দেখি বাড়তি উদ্দম। ওর উপস্থিতিটাই অন্যরকম।” কেরিয়ারের শুরুর দিকে মেসিকে অনেক আর্জেন্টিনীয়ই পছন্দ করতেন না। তাঁরা এগিয়ে রাখতেন দিয়েগো মারাদোনাকে। তবে কাতারে মেসি দেশকে বিশ্বকাপ জেতানোর পর সব বদলে গিয়েছে। এখন গোটা দেশের নয়নের মণি। তাই ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ম্যাচে এস্তাদিয়ো মনুমেন্টাল স্টেডিয়াম ভরা থাকবে বলেই ধারণা স্কালোনির।
বেটিং অ্যাপের প্রচারে আর্থিক লেনদেন, রায়নার পর এবার ধাওয়ানকে তলব ইডির

সুরেশ রায়নার পর এবার শিখর ধাওয়ান। বেআইনি বেটিং অ্যাপের প্রচার নিয়ে আরও এক ক্রিকেটার ইডির স্ক্যানারে। ধাওয়ানকে বৃহস্পতিবারই তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের বয়ান রেকর্ড করা হতে পারে। অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণা এবং আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে। যে ঘটনার তদন্তে নেমে একাধিক শহরে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। তেমনই ওয়ান বেট নামের একটি বেআইনি বেটিং অ্যাপের মামলায় বৃহস্পতিবারই শিখর ধাওয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, এই অ্যাপের প্রচারের সঙ্গে নাকি জড়িত ধাওয়ানের নাম। আর সেই কারণেই তাঁকে জেরা করা হবে। জানা গিয়েছে, ওই বেটিং অ্যাপের একাধিক বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত ধাওয়ান। সম্প্রতি অনলাইন গেমিং অ্যাপ সংক্রান্ত নয়া আইনে ওই বেটিং অ্যাপ নিষিদ্ধ হয়েছে। ওই বেটিং সংস্থার সঙ্গে ধাওয়ানের কী চুক্তি হয়েছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে, সবটা বুঝে নিতে চাইছে ইডি। এর আগে সুরেশ রায়নাকেও এই বেটিং অ্যাপের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগেই তলব করেছিল ইডি। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। ওই ঘটনার মাসখানেকের মধ্যেই ধাওয়ানকে তলব করা হল। সূত্রের দাবি, ধাওয়ানের ভাইকেও তলব করেছে ইডি।
টিকিট বণ্টন বিতর্ক এবার ওম্বুডসম্যানের কাছে, ভূদেব-মামলার রায় নিয়ে অস্বস্তিতে সিএবি

নির্বাচনের ঠিক আগে ভূদেব মুখোপাধ্যায় বনাম সিএবি’র মামলাকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়ে গেল বাংলার ক্রিকেট সংস্থা সিএবি-তে। ২০২৩ বিশ্বকাপের টিকিট বণ্টনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। চব্বিশ ঘণ্টা আগে সেই মামলার রায় দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। রায়ের লিখিত কপিতে লেখা, সিএবি ওম্বুডসম্যান পুরো বিষয়টা দেখছেন। নিয়মিত শুনানি হচ্ছে। আগামী শুনানির দিন হিসেবে ১ নভেম্বরকে ধার্য করা হয়েছে। তাই বাদীপক্ষ নিজেদের সমস্ত বিষয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পেশ করতে পারেন। সিএবি’র প্রাক্তন যুগ্ম-সচিব দেবব্রত দাসের জমা করা নথিপত্রের ভিত্তিতে ওম্বুডসম্যানের কাছে অভিযোগ জমা পড়েছিল। যেখানে অভিযোগ করা হয়, ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় অ্যাপেক্স কাউন্সিল বৈঠকে ছয় হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাপানোর কথা বলা হয়। লোধা আইন দেখিয়ে। যে আইন বলে, মাঠের সমগ্র দর্শকাসনের দশ শতাংশের বেশি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট ছাপানো যাবে না। কিন্তু অভিযোগ, ছ’হাজার টিকিটের কথা বলে টিকিট ছাপানো হয় ১৭ হাজার। অথচ সিএবি’র আজীবন সদস্যরা তাঁদের প্রাপ্য কমপ্লিমেন্টারি টিকিট পাননি। যা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে দেন সিএবি’র আজীবন সদস্য ভূদেব মুখোপাধ্যায়-সহ অন্যান্যরা। আদালত সেই আবেদনকে ওম্বুডসম্যানের কাছে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন। সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, রিট পিটিশন ‘ডিসপোজড অফ’ করে দেওয়া হল। শাসকগোষ্ঠীর বক্তব্য, আদালতে ধাক্কা খেলেন দেবব্রত। আবার সম্মানহানি হল ‘অপসারিত’ সিএবি যুগ্ম সচিবের। কারণ, তাঁর মামলাটাই খারিজ হয়ে গেল। বাদীপক্ষের কেউ যা শুনে আবার পালটা বললেন, লিখিত রায়ের কপিতে কোথায় লেখা রয়েছে দেবব্রতর নাম? মামলাটা তো ভূদেব মুখোপাধ্যায় বনাম সিএবি! দ্বিতীয়ত, কোথায় লেখা রয়েছে যে বাদীপক্ষরা মামলা হেরে গিয়েছে? লেখা রয়েছে, রিট পিটিশন ডিসপোজড অফ করা হল। যার অর্থ, মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেল। যাকে খারিজ হওয়া বলে না। বাদীপক্ষের কেউ এ-ও বলছেন এতে সুবিধে হল। কারণ, মহামান্য আদালত মামলাকারীদের সমস্ত বিষয় ওম্বুডসম্যানের কাছে পেশ করতে বলে দিয়েছেন। তাই নিজেদের ‘প্রাক্তন’ দেখিয়ে পরে আর কেউ ‘দায়মুক্ত’ হতে পারবেন না!