জেলার যুব অ্যাথলিটদের জন্য উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়াসংস্থার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আসন্ন ৩৬তম ইস্ট জোন জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় পুর্বাঞ্চল দলে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে নির্বাচিত ১০ জন অ্যাথলিটের জন্য শুক্রবার জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শুক্রবার সোদপুর জেলা ভবনে অনুষ্ঠিত এক সম্মাননা অনুষ্ঠানে ১০জন অ্যাথলিটের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হল। উদ্দেশ্য তাদের উৎসাহিত করা, উজ্জ্বীবিত করা। প্রসঙ্গত, রাঁচিতে হতে চলা তিন দিনের এই টুর্নামেন্টে অ্যাথলিটদের যাতায়াত, থাকা এবং খাওয়ার নিজেদেরই বহন করতে হয়। এই আর্থিক সহায়তা অ্যাথলিটদের শুধু প্রয়োজনেই লাগবে তা নয়, তাদের আরও উৎসাহিত করবে বলেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা ক্রীড়াসংস্থার কর্তাদের আশা। শুক্রবার সমস্ত অ্যাথলিট এবং তাদের বাড়ির লোকেদের নৈশভোজে আপ্যায়িত করা হয়। জেলার তরফ থেকে আরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, ইস্ট জোন থেকে কোয়ালিফাই করে সর্বভারতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে পদক আনলে জেলার ছেলে মেয়েদের আর্থিক ভাবে পুরস্কৃত করা হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা কার্যকরী সভাপতি শ্রী সনৎ দে ঘোষণা করেন, সোনা পেলে ১৫ হাজার, রূপো পেলে ১২ হাজার, এবং ব্রোঞ্জ পেলে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে।
রোহিতের যোগ্য উত্তরসূরি সূর্যকুমার: মহম্মদ কাইফ

ওমানের বিরুদ্ধে ম্যাচে নেমেছে ভারত(India Cricket Team)। আর সেই সময়ই মহম্মদ কাইফ(Mohammed Kaif) প্রশংসায় ভরালেন ভারতীয় টি টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে(Suryakumar Yadav)। তাঁর মতে রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) নাকি যোগ্য উত্তসূরি সূর্যকুমার যাদবই। তাঁর ব্যাটিং দক্ষতা থেকে নেতৃত্বের স্কীল, সবকিছুর মধ্যেই রোহিত শর্মার (Rohit Sharma) ছোঁয়া দেখতে পাচ্ছেন ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। এই মুহূর্তে সূর্যকুমার যাদবের হাত নেতৃত্বেই এশিয়া কাপের মঞ্চেও অপরাজিত তকমা রয়েছে ভারতীয় দলের। টি টোয়েন্টি(T20) অধিনায়ক হিসাবে এশিয়া কাপের (Asia Cup) মঞ্চেই সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav)। সেখানে যোগ্য নেতৃত্বতে এগিয়ে চলেছে ভারতীয় দল। আর শুধু তাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভাবে ভারত জিতেছে, তাতে সূর্যকুমারকে ফুল মার্কস দিচ্ছেন ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার। সূর্যকুমার(Suryakumar Yadav) ভারতকে এশিয়া কাপ ট্রফিটা দিতে পারেন কিনা সেটা তো সময়ই বলবে। এশিয়া কাপে(Asia Cup) ব্যাট হাতেও বেশ ভালো পারফরম্যান্সই দেখিয়েছিলেন তিনি। অধিনায়ক হিসাবেও বেশ সাফল্য পেয়েছেন। পাকিস্তানকে হেলায় হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। সেই ম্যাচে হ্যান্ডশেক কাণ্ড নিয়েও বহু হৈচৈ হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সাংবাদিক সম্মেলনে সূর্যকুমারের জবাব দেওয়ার স্টাইলটা নজর কেড়েছে মহম্মদ কাইফের (Mohammed Kaif)। এরপরই সূর্যকে বিরাট প্রশংসাপত্র দিলেন প্রাক্তন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। মহম্মদ কাইফ(Mohammed Kaif) জানিয়েছেন, “ব্যাটে হাতে উইনিং শট খেলেছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে সূর্যকুমার যাদবের হাত ধরেই জয়ের রাস্তায় এগিয়ে চলেছে ভারতীয় দল। এছাড়া যেভাবে সেদিন সাংবাদিকদের প্রশ্ন সামলেছেন সূর্য, তাতে একজন দক্ষ অধিনায়কের ছাপই দেখা যায়। ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের মতো হাইভোল্টেজ ম্যাচের দিনই হয় আসল পরীক্ষা। আর সেখানেই যেভাবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন তা একজন যোগ্য অধিনায়কই করতে পারেন। সেই কারণেই অধিনায়ক হিসাবে রোহিত শর্মার যোগ্য উত্তরসূরী হিসাবে তাঁকে দেখছি আমি”। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেভাবে সূর্যকুমার যাদব দলকে পরিচালনা করেছেন তা দেখেই মুগ্ধ হয়েছেন মহম্মদ কাইফ। বিশেষ করে যেমনভাবে তিনি অভিষেক শর্মা ও হার্দিক পান্ডিয়াকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন। হার্দিককে দিয়েই তুলে নিয়েছিলেন প্রথম উইকেটটা। কার্যত এখন সূর্যতেই মজে রয়েছেন মহম্মদ কাইফ।
নতুন গোলকিপারের খোঁজে ডায়মন্ডহারবার এফসি

আইলিগের(I League) প্রস্তুতি গত ১৫ তারিখ থেকেই শুরু করে দিয়েছে ডায়মন্ডহারবার এফসি(DHFC)। দল গোছানো হয়ে গেলেও, এবার ডায়মন্ডহারবার এফসির(DHFC) খোঁজ রয়েছে একজন ভালো গোলকিপারের। আইলিগে জিততে পারলেই আইএসএলের দড়জা খুলে যাবে কলকাতার এই নতুন ক্লাবটির। সেই কথা মাথায় রেখেই দলে কোনওরকম খামতি রাখতে নারাজ তারা। শুক্রবার ইয়ং কর্ণারের সঙ্গে একটা প্রস্তুতি ম্যাচও খেলা হয়ে গিয়েছে ডায়মন্ডহারবার এফসির। সেখানেই দলের নানান শক্তি দুর্বলতা দেখে নিয়েছেন কিবু ভিকুনাও(Kibu Vicuna)। ডায়মন্ডহারবারের প্রস্তুতিতে কোনওরকম খামতি রাখতে চাননা তিনি। তবে এই মুহূর্তে ডায়মন্ডহারবারের প্রধান মাথা ব্যথা হল একজন ভারতীয় ভালো গোলকিপার খোঁজা। শোনা যাচ্ছে তারা নাকি মিরশাদ মিশুকে(Mirshad Mishu) ছেড়ে দিতে চলেছে। সেই জায়গাতেই ভালো একজন গোলকিপারকে দলে নিতে চলেছে তারা। কথাবার্তাও শুরু হয়েছে কয়েকজনের সঙ্গে। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটা তো সময়ই বলবে। Focused Friday !!! 🔥#DHFC #DumdaarHarBaarDiamondHarbour #indianfootball #Training pic.twitter.com/7P8hlq6SzS — DHFC (@dhfootballclub) September 19, 2025 তবে আইলিগে নামার আগে বেয কয়েকটা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে ডায়মন্ডহারবার এফসির। আইলিগের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছেন ব্রাইট এনোবাখারেও। এদিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও খেলেছিলেন তিনি। শোনা যাচ্ছে তাঁর খেলা নাকি কোচের বেশ পছন্দও হয়েছে। আইলিগের মঞ্চেও ডায়মন্ডহারবার এফসি তাদের সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারে কিনা সেটাই দেখার।
শুক্রবার মাঝ রাতে শহরে তিন বিদেশি, শনিবার থেকে প্রস্তুতিতে অস্কার

দেশীয় ব্রিগেড এসে গেছে। শুক্রবার মাঝরাতেই শহরে পৌঁছচ্ছেন ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) তিন সেরা বিদেশি কেভিন(Kevin), মিগুয়েল(Miguel) এবং সওল ক্রেসপো(Saul Crespo)। শনিবার থেকেই প্রস্তুতিতে নেমে পড়তে চলেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। শনিবারই শহরে এসে সরাসরি যোগ দেবেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon)। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সুপার কাপ(Super Cup)। মোহনবাগানের প্রস্তুতি চলছে। ২০ তারিখ থেকেই এবার প্রস্তুতি শুরু করে দিতে চলেছে ইস্টবেঙ্গলও(Eastbengal)। কিন্তু শহরে এলেও নিজেদের ঘরের মাঠে প্রস্তুতি সারবে না লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই পাণ্ডব বর্জিত সেন্টার অব এক্সিলেন্সই(NCE) পছন্দ লাল-হলুদ(Eastbengal) শিবিরের কোচ থেকে ফুটবলারদের। এবারই নতুনভাবে সেজে উঠেছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) মাঠ। উদ্বোধন হয়েছে কলকতা লিগের ম্যাচ দিয়ে। সেই সময় থেকেই শোনা যাচ্ছিল যে সুপার কাপের আগে বোধহয় ঘরের মাঠেই প্রস্তুতি সারবেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ক্লাব চাইলেও, ফুটবলার থেকে কোচের নাকি একেবারেই সেই ইচ্ছা নেই। দুরত্বের জন্যই নাকি তারা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে প্রস্তুতি সারতে চাননা। আর সেই কারণেই সেন্টার অব এক্সিলেন্সে প্রস্তুতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হামিদ(Hamid) এবং রশিদ (Mohammed Rashid) আগেই শহরে চলে এসেছেন। শুক্রবার মাঝরাতেই ইস্টবেঙ্গলের (Eastbengal) বাকি তিন বিদেশি কেভিন, মিগুয়েল এবং সওল ক্রেসপো শহরে পৌঁছে যাবেন। শনিবার সকালে শহরে পৌঁছেই প্রস্তুতিতে যোগ দেবেন ইস্টবেঙ্গলের হেডস্যার অস্কার ব্রুজোঁ (Oscar Bruzon)। তিনি সময় নষ্ট করতে একেবারেই নারাজ। শনিবার থেকেই প্রস্তুতিতে নেমে পড়বেন লাল-হলুদের তারকা কোচ। এরইমাঝে আবার শোনা যাচ্ছিল যে ইস্টবেঙ্গল নাকি সওল ক্রেসপোকে(Saul Crespo) ছেড়ে দিতে চাইছে। চেন্নাইয়িন এফসি নাকি তাঁকে নিতে আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। তবে এমনটা হচ্ছে না বলেই জানানো হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের সূত্রে। চেন্নাইয়িন এফসির তরফ থেকে কোনওরকম প্রস্তাবই তো আসেনি ইস্টবেঙ্গলের কাছে। শনিবার থেকে দলের সঙ্গে প্রস্তুতিও শুরু করে দেবেন তিনি। আইএসএলের(Indian Super League) আগে এই সুপার কাপ (Super Cup) এখন ইস্টবেঙ্গলের (Eastbengal) কাছে পাখির চোখ। ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছলেও তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। এবার সামনে রয়েছে সুপার কাপ। তাও আবার গোয়ার মাটিতে হবে খেলা। সুপার কাপের আগে অবশ্য কোনওরকম প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ভাবনা এখনও পর্যন্ত নেই ইস্টবেঙ্গলের। ডুরান্ড ভুলে এবার সুপার কাপের দিকেই লাল-হলুদ ব্রিগেডের প্রধান নজর।
শ্রেয়ার গলায় “Bring It Home”, হরমনপ্রীতদের লক্ষ্য প্রথম বিশ্বকাপ

শ্রেয়া ঘোষালের(Shreya Ghoshal) গলায় “ব্রিং ইট হোম”(Bring It Home)। ভারতীয় মহিলা দল কী পারবে প্রথমবার ওডিআই বিশ্বকাপ(Womens Odi World Cup) জিততে। আর মাত্র কয়েকটা দিন, এরপরই ঘরের মাঠে আইসিসির(ICC) মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপ। তারই থিম সং প্রকাশ্যে এনেছে আইসিসি। গান গেয়েছেন এই মুহূর্তের ভারতের সেরা মহিলা গায়িকা শ্রেয়া ঘোষাল(Shreya Ghoshal)। সেই গান সোশ্যাল মিডিয়াতে আসতেই ভাইরাল। সবচেয়ে বেশি ভাইরাল তাঁর গানের একটাই কথা- ব্রিং ইট হোম। এখনও পর্যন্ত একবারও ওডিআই বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ভারতীয় দল। সেটাই এবার স্মৃতি মন্ধনারা(Smriti Mandhana) করতে পারেন কিনা সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে। ঘরের মাঠে মহিলাদের বিশ্বকাপ(Womens Odi World Cup) ঘিরে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে মহিলাদের বিশ্বকাপ। সেখানেই উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে নামবেন হরমনপ্রীত কৌর(Harmanpreet Kaur), জেমিমা রডরিগেজরা(Jemimah Rodriguez)। ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান হয় কিনা সেই অপেক্ষাতেই এখন সকলে। মিতালী রাজ(Mithali Raj), ঝুলন গোস্বামীরা(Jhulan Goswami) ফাইনালে পৌঁছলেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। শেষবার অস্ট্রেলিয়ার কাছেই ফাইনালে হারতে হয়েছিল ভারতীয় মহিলা ব্রিগেডকে। এবার ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। সেখানেই শ্রেয়া ঘোষালের(Shreya Ghoshal) গলায় থিম সং ব্রিং ইট হোম(Bring It Home)। শ্রেয়ার এই গানের কথা যে এখন সমস্ত ভারতীয়রই মনের কথা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই গানের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত রয়েছে নানান চমক। আর শ্রেয় ঘোষালের সুরের জাদু তো রয়েছেই। বিশ্বকাপের (Womens Odi World Cup) থিম সং গেয়ে উচ্ছ্বসিত শ্রেয় নিজেও। তিনি জানিয়েছেন, আইসিসি মহিলাদের বিশ্বকাপের অংশ হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। বিশেষ করে মহিলাদের ক্রিকেট ঘিরে সংঘবদ্ধতা, স্পিরিট সবকিছুই আমায় মুগ্ধ করেছে। এমন একটা বিরাট প্রতিযোগিতার অংশ হিসাবে আমার গান যে সুযোগ পেয়েছে, তাতেই আমি গর্বিত। আমি আশা করছি এটা হয়ত সমস্ত ভক্ত, সমর্থকদের মধ্যে একটা আদর্শ হিসাবে হয়ে উঠতে পারবে। ৩০ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে খেলার পরই চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে নামবে ভারতীয় মহিলা ব্রিগেড। ৫ অক্টোবর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নামবেন স্মৃতি মন্ধনারা। মহিলাদের বিশ্বকাপে ভারতের সূচি ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা – ৩০ সেপ্টেম্বর ভারত বনাম পাকিস্তান – ৫ অক্টোবর ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা – ৯ অক্টোবর ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া – ১২ অক্টোবর ভারত বনাম ইংল্যান্ড – ১৯ অক্টোবর ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড – ২৩ অক্টোবর ভারত বনাম বাংলাদেশ – ২৬ অক্টোবর দীর্ঘ ১২ বছরের প্রতীক্ষা শেষ করে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল তাদের প্রথম ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় কিনা সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।
সভাপতি থাকছেন কল্যাণ চৌবেই, সুপ্রিম স্বস্তি ফেডারেশনের

অবশেষে সুপার কাপ(Super Cup) ও আইএসএল(Indian Super League) হওয়া নিয়ে জট কাটার পথে। সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) রায়ে ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের(AIFF) সভাপতির পদেই কল্যাণ চৌবে(Kalyan Chaubey)। একইসঙ্গে শুক্রবারই ফেডারেশেনর প্রস্তাবিত প্রাথমিক সংবিধানকে খসরাকে সম্মতি জানালো সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের জাস্টিস নরসিমা এবং এএস চান্দুরকরের বেঞ্চই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। আর তাতেই যেন খানিকটা স্বস্তি এবার ফেডারেশনের(AIFF) অন্দরে। আগামী ২০২৬ সালে হবে নির্বাচন। তার আগে পর্যন্ত কল্যাণ চৌবের নেতৃত্বাধীন কমিটিই চালাবে ফেডারেশনের বিভিন্ন কাজ। অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের নতুন কমার্শিয়াল রাইটস থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজনে আর কোনও সমস্যা রইল না এই কমিটির। কল্যাণ চৌবের(Kalyan Chaubey) নেতৃত্বাধীন কমিটির ভাগ্য কী হবে তা নিয়েই বেশ কয়েকদিন ধরে চলছিল নানান জল্পনা। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টে(Supreme Court) মামলা হওয়ার পর থেকেই ঘটনা অন্যদিকে মোড় নিতে শুরু করেছিল। ফেডারেশেনর প্রস্তাবিত নতুন সংবিধান সুপ্রিম কোর্ট মানে নাকি নতুন করে নির্বাচনের নির্দেশ দেয় সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন সকলে। অবশেষে শুক্রবার সেই নির্দেশই দিল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ফেডারেশনের(AIFF) প্রস্তাবিত প্রাথমিক সংবিধানের খসরা মেনেই আপাতত কাজ চলবে। আর তাতেই যেন খানিকটা স্বস্তি পেলেন কল্যাণ চৌবে। ২০২৬ সালে নতুন করে নির্বাচন হবে। তার আগে পর্যন্ত সভাপতি হিসাবেই কাজ চালাবেন কল্যাণ চৌবে(Kalyan Chaubey)। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বসিত ফেডারেশন কর্তারাও। ফেডারেশন সচিব এম সত্যনারায়ন জানিয়েছেন, “আমার কাছে এটা ফুটবলের জয়। আমরা সত্যিই অত্যন্ত খুশি যে সুপ্রিম কোর্ট আমাদের এই সংবিধানটা মেনে চলার নির্দেশ করেছে। এই রায়টা আসার পর এবার আমরা যে সমস্ত কাজগুলো আটকে ছিল সেগুলোকেই এগিয়ে নিয়ে চলার দিকে ফোকাস করব”। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশ আসার পর ফেডারেশনের এবার যে মূল ফোকাস এফএসডিএলের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই নির্দেশের ফলে যে সেই সমস্যাও এবার মিটতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইসঙ্গে আইএসএল হওয়া নিয়ে যে জট তৈরি হয়েছিল সেটাও এবার মিটে গেল। ২০২৩ সাল থেকেই এই ঘটনা নিয়ে দেখা দিয়েছিল নানান জটিলতা। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আপাতত আগামী দিনের পরিকল্পনা গুলোর দিকে নজর দিতে পারবেন ফেডারেশন কর্তারা। তবে ২০২৬ সালেই হবে নতুন নির্বাচন।
ফাইনালেও হয়ত নেই সাহিল; ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে তরুণ তুর্কীদের রফিক ‘মন্ত্র’

সুদীপ পাকড়াশী: ইউনাইটেড স্পোর্টসের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফুটবলার তিনি। সম্পর্কের কথা বললে, ক্লাবের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছরের সম্পর্ক। কোচ লালকমল ভৌমিক সম্পর্কেও গভীর শ্রদ্ধা তার। বলতে দ্বিধা করেন না ৩৪ বছর বয়সী ফুটবলার, “চারটে আইএসএল ক্লাবে খেলেছি। ইউনাইটেড স্পোর্টসেও দেখছি লাল-দার কোচিং স্টাইলও ততটাই আধুনিক। তার ওপর দুর্দান্ত ম্যান-ম্যানেজমেন্ট স্কিল।” সেই মহম্মদ রফিকের কাছে ২২ সেপ্টেম্বরের মহারণে অন্যতম ভরসা কোচ লালকমল ভৌমিকের মস্তিষ্ক। ২২ সেপ্টেম্বর এই মরশুমের কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ খেলতে নামছে ইউনাইটেড স্পোর্টস। ৯৮ বছরের জার্নিতে প্রথমবার ইউনাইটেড স্পোর্টসের সামনে কলকাতা প্রিমিয়ার লিগ জয়ের হাতছানি। সুপার-সিক্স পর্বে ৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকা ইউনাইটেড স্পোর্টসের মুখোমুখি ৬ পয়েন্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচটা জিততেই হবে ইউনাইটেড স্পোর্টসকে। ড্র হলেও এবারের কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল। ১২ বছর আগে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েই তো আইএফএ শিল্ড জিতেছিল ইউনাইটেড। সোমবার কি দু-দশক আগের সেই ছবির অ্যাকশন-রিপ্লে হবে? ভীষণ নির্লিপ্ত মনে হচ্ছে ইউনাইটেড স্পোর্টসের ডিরেক্টর নবাব ভট্টাচার্যকে। “আমরা তো আন্ডারডগ। ওদের ওপরই মানসিক চাপটা থাক,” আর কিছু বললেন না নবাব ভট্টাচার্য। কোচ লালকমল ভৌমিক? তার কথাতেও তো কোনও বাড়তি উত্তেজনা নেই। এমনকী ইতিহাস গড়ার প্রসঙ্গেও তিনি খুব স্বাভাবিক। “ইস্টবেঙ্গলের শক্তি নিয়ে কিছু বলার নেই। এটুকু বলতে পারি, আমরা লড়াই করব,” কোচের মন্তব্য। আর রফিক? ইস্টবেঙ্গল তার আবেগ। এত ক্লাবের জার্সিতে খেলার পরও রফিক বলেন, জার্সিটা পরলেই অনুভূতি বদলে যায়। নিজের সেরাটা বেরিয়ে আসে। সোমবার সেই মাঠে তিনি নামবেন প্রায় আট বছর পর। কিন্তু এবার বিপক্ষের ফুটবলার হিসেবে। খাতায়-কলমে ইস্টবেঙ্গল অনেক এগিয়ে। শৌভিক চক্রবর্তী, ডেভিড, পিভি বিষ্ণু, প্রভাত লাখরা, জেসিন টিকে-র মত অভিজ্ঞ ফুটবলারদের উপস্থিতিতে দলের ব্যালান্স ও শক্তি বেড়েছে। উল্টোদিকে ইউনাইটেড স্পোর্টস হয়ত তাদের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সাহিল হরিজনকে সেই ম্যাচে না খেলানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অনূর্ধ্ব-২৩ জাতীয় দলের হয়ে খেলা সাহিলের উত্তোরণ হছে ক্লাব ফুটবলে। আগামি ট্রান্সফার উইন্ডো-তে-ই। ২২ সেপ্টেম্বরের ম্যাচ খেললে, সেই উত্তোরণ টেকনিক্যালি আটকে যেতে পারে। একটা ম্যাচ খেলিয়ে সাহিলের ফুটবল জীবনের অগ্রগতিকে থামাতে চায় না ক্লাব। তাতেও অসুবিধে নেই! রফিক বলছেন, “২২ সেপ্টেম্বরের ম্যাচে আমাদের দুটো সুবিধা। প্রথমত, আমাদের ছেলেরা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। ওদের বন্ডিং, বোঝাপড়া খুব ভাল। দ্বিতীয় সুবিধা, ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে আমাদের কিছু হারানোর নেই।” সেই মন্ত্রই বৃহস্পতিবার সুরুচি সঙ্ঘের সঙ্গে ড্রয়ের পর ফুটবলারদের ড্রেসিংরুমে রফিক দিয়েছেন। “দেখলাম ছেলেরা মন খারাপ করে বসে আছে। তখন বললাম, তোমাদের তো হারানোর কিছু নেই। সম্পূর্ণ চাপমুক্ত অবস্থায় তোমরা খেলতে পারবে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। মাঠে নেমে ৯০টা মিনিট শুধু উপভোগ কোর। জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ওই ৯০টা মিনিট,” রফিকের এই মন্ত্র দারুণভাবে উজ্জ্বীবিত করবে কি না তা সোমবারই দেখা যাবে।