সুযোগ নষ্টের খেলা, ডেম্পোর কাছে আটকে চাপ বাড়ল মোহনবাগানের

ইস্টবেঙ্গলের পর মোহনবাগানও(MBSG)। সেই ডেম্পোর কাছেই আটকে গেল। দিমিত্রি(Dimitri Petratos), কামিন্স(Jason Cummings), রবসনদের(Robson Robinho) শুরু থেকেও নামালেও, ব্যর্থ মোলিনার(Jose Molina) ছক। গোলশূন্য ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে। একের পর এক আক্রমণে সুযোগ তারা তৈরি করল ঠিকই, কখনও প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক তো কখনও আবার নিজেরাই লক্ষ্য ভ্রষ্ট হলেন মোহনবাগান(MBSG) তারকারা। আর তাতেই পয়েন্ট নষ্ট। ডার্বিতেই নির্ধারিত হবে পরের রাউন্ডে দুই প্রধানের মধ্যে কোন দল যাবে। এদিন ছক বদলেছিলেন ঠিকই, কিন্তু ধারেভাবে অনেক যোজন পিছিয়ে থাকা ডেম্পোর রক্ষণাত্মক ছকের কাছে থামতেই হল মোলিনার(Jose Molina) দলকে। সকলকে চমকে দিয়ে এদিন শুরু থেকেই রবসন(Robson Robinho), পেত্রাতোস(Dimitri Petratos) এবং কামিন্সকে মাঠে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন হোসে মোলিনা(Jose Molina)। সেইসঙ্গে রক্ষণেও বিদেশি হিসাবে রেখেছলেন শুধুমাত্র টম অলড্রেডকে। খানিকটা আক্রমণাত্মক ছকই সাজিয়েছিলেন সবুজ-মেরুন(MBSG) কোচ মোলিনা(Jose Molina)। কিন্তু কোনও লাভ হল না। সেইসঙ্গে পেত্রাতস, কামিন্স, সাহালদের একের পর এক সুযোগ নষ্ট। সব মিলিয়ে খানিকটা ছন্নছাড়া ফুটবলই যেন খেলল মোহনবাগান ব্রিগেড। ম্যাচের ২২ মিনিটে পেত্রাতোসের প্রথম আক্রমণ, কিন্তু ব্যর্থ। কিছক্ষণের মধ্যেই কামিন্সও আটকে যান রক্ষণের কাছেই। ম্যাচের বয়স যখন ৩৬ আশিস রাইয়ের কাছে সবচেয়ে ভালো সুযোগ, কিন্তু তাঁর হেড সরাসরি চলে যায় গোলরক্ষক সিবির হাতে। রবসন, কামিন্স জুটি চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে গোলের মুখ খুলতে পারেনি। বিরতির পর ফের ছক বদল হোসে মোলিনার(Jose Molina)। কিন্তু সুযোগ নষ্টের খেলার ছবিটা বদলায়নি। ৫৬ মিনিটের মাথায় রবসনের দুরন্ত ড্রিবল করে বক্সে ঢুকে শট, কিন্তু ডেম্পোর গোলরক্ষর বাঁচিয়ে দেন। পেত্রাতোসের বাড়ানো বল থেকে ম্যাকলরেনের শট। কিন্তু তাও বাইরেই যায়। আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে ম্যাকলরেনের পাশাপাশি ততক্ষণে আপুইয়া, মনবীরদেরও মাঠে পাঠাতে খুব একটা দেরী করেননি হোসে মোলিনা। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেনি। ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে মনবীর সিং সহজ সুযোগও পেয়ে গিয়েছিলেন। আশিস রাইয়ের বাড়ানো বল থেকে তাঁর হেড, কিন্তু এবারও তা গোলরক্ষের দক্ষতায় ব্যর্থ হয়। ম্যাচের ৯৩ মিনিটে মনবীরের হেড, কিন্তু এবার গোলের বাইরে। এই সুযোগ রাজে লাগাতে পারলে শেষ মুহূর্তে মোলিনার মুখে হাসি ফুটতেই পারত। ম্যাচ ড্র করে মোহনবাগান যে একটু হলেও চাপ বাড়িয়ে ফেলল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডার্বিতেই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
চেন্নাই বধের পরই ডার্বির দামাম বাজিয়ে দিলেন অস্কার

চেন্নাইয়িন এফসিকে হারিয়ে লড়াইয়ে ফিরেছে। কিন্তু এতটুকুতেই উচ্ছ্বসিত হতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) কোচ অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzo)। চেন্নাইকে ৪-০ গোলে হারানোর পরই ডার্বির দামামা বাজয়ে দিলেন লাল-হলুদ কোচ। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে ফিরেই অস্কারের(Oscar Bruzon) সাফ বার্তা। চেন্নাই ম্যাচ এখন তাদের কাছে অতীত হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে থেকে তাদের লক্ষ্য শুধুই ডার্বি। কারণ পরের ম্যাচেই যে চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে নামবে ইস্টবেঙ্গল। সেই কারণে তো হোটেলে ফিরেই সোজা মোহনবাগানের(Mohunbagan) ম্যাচ দেখতে বসে পড়েছিলেন অস্কার। এখন থেকেই চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের মেপে নিতে চাইছেন তিনি। ডেম্পোর বিরুদ্ধে ড্র করলেও এদিন চেন্নাইয়িন এফসির(Chennaiyin Fc) বিরুদ্ধে শুরু থেকেই দুরন্ত ফর্মে ছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। শুরু থেকেই মিগুয়েলকে খেলিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলেরই ছিক ছিল তাঁর। আর তাতেই এসেছে সাফল্য। চেন্নাইকে চার গোলে হারিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ম্যাচ শেষে একেবারেই তৃপ্ত হতে নারাজ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। কারণ সামনে এখন বড় ম্যাচ। পরের ম্যাচেই সুপার কাপে ডার্বি। আর পরবর্তী পর্বে পৌঁছতে হলে সেই ম্যাচ জেতাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচ জয়ের পর সেটাই কার্যত ফুটবলারদের বুঝিয়ে দিয়েছেন অস্কার ব্রুজোঁ। পারফরম্যান্সে খুশি তো অবশ্যই হয়েছেন। কিন্তু এখন আর চেন্নাই ম্যাচ নিয়ে ভাবতে নারাজ তিনি। ফুটবলারদে বুঝিয়ে দিয়েছেন, যে সামনের ম্যাচে এখন থেকেই ফোকাস করতে হবে। ড্রেসিংরুমে ফিরেই সেই কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। নিজেও এখন থেকেই বোধহয় ছক কষতে আরম্ভও করে দিয়েছেন। ম্যাচ শেষেই হোটেলে ফেরার তাড়া। কারণ একটাই, মোহনবাগানের ম্যাচ দেখা। হোটেলে ফিরেই চোখ রেখেছিলেন টিভির পর্দায়। মোহনবাগান বনাম ডেম্পো ম্যাচেই নজর ছিল তাঁর। এখন থেকেই প্রতিপক্ষকে ভালো করে দেখে নিতে চাইছেন তিনি। বুধবার ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে ছুটি। বৃহস্পতিবারই ডার্বির প্রস্তুতিতে নেমে পডড়বে ইস্টবেঙ্গল।
উত্তর ২৪ পরগণা ডিএসএ-র অভিনব প্রয়াসঃ সাঁতারের ‘আধুনিক’ পাঠ দিতে আসছেন দ্রোনাচার্য প্রদীপ কুমার

মঙ্গলবার তাদের বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে উত্তর ২৪ পরগণার জেলা স্পোর্টস সংস্থার সচিব সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য (নবাব ভট্টাচার্য) ঘোষণা করলেন, জেলার প্রতিভাবান সাঁতারু এবং কোচদের সাঁতারের ‘আধুনিক পাঠ’ দিতে আগামি মাসে আসছেন সাঁতারের দ্রোনাচার্য প্রদীপ কুমার শ্রীধরণ। তার সঙ্গে আসছেন তারই অন্যতম সেরা ছাত্র, অলিম্পিয়ান, ২০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে জাতীয় রেকর্ড করা সাজন প্রকাশ। সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য বললেন, “উত্তর ২৪ পরগণায় প্রচুর প্রতিভাবান তরুণ সাঁতারু আছেন। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, জেলায় সাঁতারুদের তুলনায় কোচের সংখ্যা অনেক কম। প্রদীপ কুমারকে আনার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য, জেলার কোচদের সাঁতারের আধুনিক পাঠে শিক্ষিত করা, যারা নতুন কোচিংয়ে এসেছেন তাদের গাইড করা এবং একইসঙ্গে সাঁতারুদেরও ক্লাস তিনি নেবেন।” সাঁতারের পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণা ডিএসএ অন্যান্য অলিম্পিক্স স্পোর্টসেও গুরুত্ব দিচ্ছে। সর্বভারতীয় পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টও তারা আয়োজন করছে। ভলিবল, বাস্কেটবলেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তুলে আনার চেষ্টাও তারা সমানভাবে করছে। মঙ্গলবার ডিএসএ-র খেলাধুলোর অগ্রগতিকে আগামিদিনে উৎসাহিত করতে দুই আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী আন্তর্জাতিক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ঐহিকা মুখার্জি এবং প্রাক্তন জাতীয় আন্তর্জাতিক ফুটবলার সুব্রত পালকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডরও ঘোষণা করা হল। আর এই কর্মযজ্ঞে প্রয়োজন আর্থিক সহায়তা। সেই উদ্দেশে মঙ্গলবারের বিজয়া সম্মেলনে আমন্ত্রিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কিছু শিল্পপতি। তাদের নিয়ে একটি আলোচনারও আয়োজন হল। শিল্পপতিদের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা রাজ্যের দমকল ও অগ্নিনির্বাপণ মন্ত্রী সুজিত বসুর মুখেও শোনা গেল ডিএসএ-কে সহায়তার কথা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র, নৈহাটির বিধায়ক সনৎ দে, আইএফএ সচিব অনিবার্ণ দত্ত, প্রেসিডেন্ট অজিত ব্যানার্জি, মোহনবাগান ক্লাবের সচিব সৃঞ্জয় বসু, মহামেডান স্পোর্টিং-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট কামারুদ্দিন, কল্যাণী পুরসভার চেয়ারম্যান নীলিমেশ রায়চৌধুরী। এদের সঙ্গে সমরেশ চৌধুরী, দীপেন্দু বিশ্বাস, সুব্রত পাল, সুমিত মুখার্জি-সহ উত্তর ২৪ পরগণার আরও প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ভারতীয় ফুটবলার। উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী আর্ন্তজাতিক টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ঐহিকা মুখার্জি, তার শৈশবের কোচ মিহির ঘোষ ও আরও অনেকে।
দুরন্ত মহেশ, বিপিনের জোড়া গোলে অক্সিজেন পেল ইস্টবেঙ্গল

বিপিনের(Bipin Singh) জোড়া গোল। গোল পেলেন কেভিন, হিরোশিও(Hiroshi Ibusuki)। তবে ইস্টবেঙ্গলের ঘুরে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ে নায়ক কিন্তু নওরেম মহেশ(Naorem Mahesh)। প্রথমার্ধ থেকে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত যেভাবে একের পর এক আক্রমণ তিনি তৈরি করলেন, তাতে অস্কারের বাজি যে এদিন মহেশ ছিলেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চেন্নাইয়িন এফসির বিরুদ্ধে ৪-০ গোলে জিতল অস্কারের(Oscar Bruzon) লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) শিবিরে ফিরল স্বস্তিও। এবার সামনে ডার্বি সেখানে জিততে পারলেই পরের রাউন্ড কার্যত পাকা লাল-হলুদ ব্রিগেডের। ডেম্পোর বিরুদ্ধে ড্র করে খানিকটা চাপে থেকেই মাঠে নেমেছি ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। গত ম্যাচে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন অস্কারের(Oscar Bruzon) প্রথম একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন মিগুয়েল এবং প্রভসুখন গিলও। কিন্তু ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই লাল-হলুদের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিলেন নাওরেম মহেশ(Naorem Mahesh)। শুরুর দিকে কিছুক্ষণ একটু অগোছালো। যদিও সেই সময় থেকেই সুযোগ তৈরি করা শুরু করেছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। এরপর ম্যাচের সময় যত এগোয় ততই চেন্নায়িন রক্ষণের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে লাল-হলুদ ব্রিগেড। একদিক থেকে মহেশ(Naorem Mahesh)। লেফট উইং থেকে বিপিন সিং(Bipin Singh)। তবে এদিন রশিদ এবং মিগুয়েল খানিকটা নিস্প্রভ ছিল। ম্যাচের আধ ঘন্টা হওয়ার আগেই সুযোগ চলে এসেছিল। তবে গোল হয়নি। ৩৫ মিনিটের মাথাতেই প্রথম সাফল্য। মহেশের(Naorem Mahesh) বাড়ানো বল থেকে কেভিনের(Cavin) দুরন্ত হেড। কিছুক্ষণের মধ্যে ফের একটা আক্রমণ। এবারও সেই মহেশেরই সাজানো পাস, যা জালে জড়াতে এতটুকু ভুল করেননি বিপিন সিং। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে আবারও বিপিনের গোল। এবারও অ্যাসিস্টের তালিকায় নাম সেই মহেশের। বিরতির পরও ইস্টবেঙ্গলের চাপই ছিল বেশী। চেন্নাই ঘর সামলে সেভাবে আক্রণে যাওয়ার সুযোগই করতে পারেনি। বরং একটু অতিরক্ষণাত্মকই ছিল তারা। দ্বিতীয়ার্ধেই আসেন হিরোশি ইবুসুকি। মিগুয়েলের বাড়ানো পাস থেকে তিনি গোলটি পেয়ে গেলে, এদিন ম্যাচের সেরা গোল যে সেটি হতেই পারত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও তা হয়নি। তবে শেষের দিকে সেই হিরোশিই হাসিল করে নেন পেনাল্টি। গোলও করেন তিনি। ৪ গোলে ম্যাচ জয় যে ডার্বির আগে ইস্টবেঙ্গল শিবিরে বাড়তি অক্সিজেন যোগাবে তা বলাই যায়।
সামি, শাহবাজের দাপুটে বোলিংয়ে দুইয়ে দুই বাংলার

রঞ্জি ট্রফিতে(Ranji Trophy) এবার দুরন্ত ফর্মে বাংলা(Bengal)। দুইয়ে দুই। শাহবাজ আহমেদ(Shahbaz Ahmed), মহম্মদ সামির(Mohammed Shami) হাত ধরে ঘরের মাঠে গুজরাতকেও হেলায় হারাল বঙ্গ ব্রিগেড। সেইসঙ্গেই এক ম্যাচে ৮ উইকেট তুলে নিয়ে অজিত আগরকরকে ফের হয়ত ওকটা জবাব দিলেন মহম্মদ সামি(Mohammed Shami)। পরপর দুই ম্যাচেই ছয় পয়েন্ট তুলে নিল বাংলা। ইডেনে গুজরাতকে এদিল ১৪১ রানে হারাল বঙ্গ ব্রিগেড। দ্বিতীয় ইনিংসে একাই পাঁচ উইকেট তুলে নিয়েছেন মহম্মদ সামি(Mohammed Shami)। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট তুলে নিয়ে গুজরাতের ব্যাটিং লাইনআপকে শেষ করে দিয়েছিলেন শাহবাজ আহমেদ(Shahbaz Ahmed)। লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে নেমেছিল বাংলা। তিন পয়েন্ট আগেই পাকা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্মীরতন শুক্লার(Laxmiratan Shukla) দলের লক্ষ্য ছিল ছয় পয়েন্ট। তবে প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও কিন্তু বাংলার ব্যাটাররা খুব একটা ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি। সুদীপ ঘরামির(Sudip Gharami) ৫৪ এবং অনুস্টুপ মজুমদারের(Anustup Majumdar) ৫৮ রান বাদ দিলে বাংলার অন্যান্য ব্যাটাররা অবশ্য সেভাবে সফল হতে পারেননি। লিড থাকার সুবাদে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিল বাংলা(Bengal)। শেষপর্যন্ত ৮ উইকেট হারানোর পরই ২১৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ(Abhimanyu Easwaran)। বাংলা লিড নিয়েছিল ৩২৮ রানের। ব্যাটাররা বড় রানের ঝলক না দেখাতে পারলেও, ইডেনের বাইশগজে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন বাংলার বোলাররা। সেইসঙ্গে বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন মহম্মদ সামি(Mohammed Shami)। ওপেনিং থেকে মিডল অর্ডার তিনি এবং শাহবাজ(Shahbaz Ahmed) মিলেই শেষ করে দেন। সামি একাই তুলে নেন পাঁচ উইকেট। সঙ্গে তিন উইকেট শিকার শাহবাজের। ১৮৫ রানেই গুজরাতকে থামিয়ে দেয় বাংলা। সেইসঙ্গে দুই ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে অনেকটাই এগিয়েও গেল বঙ্গ ব্রিগেড। তবে ম্যাচের সেরা হয়েছেন শাহবাজ আহমেদ। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯ উইকেটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে গুরুত্বপূর্ণ ২০ রানও রয়েছে তাঁর।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই ফর্মে ফিরতে চান সূর্যকুমার

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজে নামবে ভারতীয় দল(India Cricket Team)। সেখানে নামার আগে ভারতীয় দলের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের(Suryakumar Yadav) ফর্ম নিয়েই এখন যত কথা বার্তা চলছে। তবে ভারত অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি পারফরম্যান্সের গ্রাফ যে নিম্নমুখী সেই কথা ভলোভাবেই জানেন সূর্যকুমার(Suryakumar Yadav)। তবে এই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই যে তিনি ফর্মে ফিরবেন সেই ব্যপারেও বেশ আশাবাদী সূর্যকুমার যাদব। শেষবার এশিয়া কাপেই(Asia Cup) টি টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে খেলেছিল ভারত। সেই প্রতিযোগিতা ভারতীয় দল জিতলেও, সূর্যের(Suryakumar Yadav) পারফরম্যান্স কিন্তু একেবারেই ভালো ছিল না। শেষ ১১ টি টোয়েন্টিতে সূর্যকুমার যাদবের(Suryakumar Yadav) রান মাত্র ১০০। আর সেটা যে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে চিন্তায় রাখার জন্য যথেষ্ট তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সূর্যকুমার যাদবের পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামবে টিম ইন্ডিয়া। সেখানে সূর্যকুমার কী পারবেন ফর্মে ফিরতে। এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভারতীয় ক্রিকেট মহলের অন্দর মহলে। তবে সূর্যকুমার কিন্তু বেশ আশাবাদী। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ফর্মে ফেরার জন্য সেভাবে নিজের প্রস্তুতিও চালাচ্ছেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। সূর্যকুমার যাদব জানিয়েছেন, “আমার মনে হচ্ছে আমি সত্যিই এখন কঠোর পরিশ্রম করছি। ব্যপারটা একেবারেই এমন নয় যে আমি আগেও কঠোর পরিশ্রম করছিলাম না। তখনও যেমন ছিল এখনো ব্যপারটা তেমনই। ঘরের মাঠের পাশাপাশি এখানেও কিন্তু আমার বেশ কিছু ভালো পারফরম্যান্স রয়েছে। রান অবশ্যই আসবে। তবে দলের জন্য পরিশ্রম করাটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়”। ওডিআই সিরিজে ভারত হেরেছে অস্ট্রেলিয়ার কাছে। এবার টি টোয়েন্টি সিরিজে টিম ইন্ডিয়া জিততে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।
আইসিইউ থেকে বেরোলেন শ্রেয়সঃ আরও দু’দিন থাকতে হবে হাসপাতালে

তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময়ে চোট পেয়েছিলেন তিনি। সেই চোটের জেরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল শ্রেয়স আয়ারকে (Shreyas Iyer)। প্রথমে আইসিইউতে ভর্তি করানো হলেও সেখান থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ব্যাটারকে। জানা গিয়েছে, শ্রেয়সের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। রক্তক্ষরণও বন্ধ হয়েছে। ক্রিকবাযে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী শ্রেয়স আপাতত বিপন্মুক্ত। মাটিতে সজোরে ধাক্কা খাওয়ার জন্যই রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে মনে করা হয়েছে। বোর্ডের (BCCI) চিকিৎসক রিজ়ওয়ান খান সবসময় রয়েছেন শ্রেয়সের পাশে। বাকি দল ক্যানবেরায় চলে গিয়েছে। শ্রেয়সের চিকিৎসা নিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শ্রেয়সের পাশে থাকার জন্য তাঁর কিছু বন্ধুও সিডনির (Sydney) হাসপাতালে পৌঁছেছেন। ভিসা সমস্যা মিটলে তাঁর পরিবারেরও দ্রুত সিডনি পৌঁছে যাওয়ার কথা। নতুন সপ্তাহ সবে শুরু হওয়ায় ভিসা পেতে দেরি হচ্ছে তাঁদের। সোমবার পর্যন্ত ঠিক নেই শ্রেয়স কবে দেশে ফিরবেন। বোর্ড, দল পরিচালন সমিতি, শ্রেয়সের পরিবার— কেউই দ্রুত দেশে ফেরাতে রাজি নন। তাই আগামী কয়েক দিন তাঁকে সিডনিতেই রাখা হতে পারে। আগামী অন্তত দু’দিন হাসপাতালে থাকবেন। পুরোপুরি সুস্থ হলে তবেই দেশের বিমান ধরবেন তিনি। ছেলের পাশে থাকতে চাইছেন বাবা সন্তোষ আয়ার এবং মা রোহিনী আয়ার। তাঁরা জরুরি ভিসার আবেদন করেছেন। বিসিসিআইয়ের এক কর্তা বলেছেন, ‘‘ওঁদের যত দ্রুত সম্ভব অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর সব চেষ্টা করা হচ্ছে। বাবা-মা দু’জনেই যেতে পারবেন কিনা, এখনও নিশ্চিত নয়। তবে হাসপাতালে শ্রেয়সের কাছে পরিবারের কারও এক জনের থাকা প্রয়োজন। রবিবারই শ্রেয়সের বোনের সিডনি যাওয়ার কথা ছিল। কাগজপত্রের কাজও সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শ্রেয়সের বাবা-মায়ের এক জন তাঁর সঙ্গে যাবেন। তাই শ্রেয়সের বোন রবিবার যেতে পারেননি।’’ উল্লেখ্য, তৃতীয় এক দিনের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার অ্যালেক্স ক্যারের ক্যাচ ধরতে গিয়ে পাঁজরে লাগে শ্রেয়সের। মাঠে কিছু ক্ষণ চিকিৎসা হয়েছিল শ্রেয়সের। তার পর হেঁটেই সাজঘরে ফেরেন শ্রেয়স। কিন্তু তার পরে তাঁর শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ভারতীয় দলের চিকিৎসক এবং ফিজিয়ো কোনও ঝুঁকি নেননি। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় এক দিনের দলের সহ-অধিনায়ককে। তার পর থেকে আইসিইউ-তেই রয়েছেন শ্রেয়স।
মোরিনহোর অভিযোগই সত্যি! তুরস্ক ফুটবলে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত ৩৭১ জন রেফারি!

ফেনেরবাখের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর প্রকাশ্যে তুরস্ক ফুটবলের বিরুদ্ধে একগাদা অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। সরব হয়েছিলেন তুরস্ক ফুটবলের বিষাক্ত পরিবেশ নিয়ে। বিশ্ব ফুটবলের ‘স্পেশ্যাল-ওয়ান’ হোসে মোরিনহোর সেই অভিযোগের ন’মাস পর প্রকাশ্যে এল, সক্রিয় ভাবে জুয়া খেলায় অভিযুক্ত ৩৭১ জন রেফারি! তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে তুরস্কের ফুটবল সংস্থা। তুরস্কের ফুটবল সংস্থার সভাপতি ইব্রাহিম হাসিয়োসমানোগ্লু জানিয়েছেন, তদন্তের পর দেখা গিয়েছে দেশের ৫৭১ জন সক্রিয় রেফারির মধ্যে ৩৭১ জনই জুয়া খেলেছেন। ১৫২ জন সক্রিয় ভাবে জুয়া খেলে চলেছেন। তিনি বলেছেন, “ফুটবল সংস্থা হিসাবে আমরা আগে নিজেদের উঠোন পরিষ্কার শুরু করেছি। যাদের জুয়ার অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে তাদের মধ্যে সাত জন শীর্ষস্থানীয় রেফারি, ১৫ জন শীর্ষস্থানীয় সহকারী, ৩৬ জন সাধারণ রেফারি এবং ৯৪ জন সাধারণ সহকারির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।” তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু অবাক করা তথ্য। এক রেফারি নাকি ১৮ হাজার বার জুয়া খেলেছেন! ৪২জন এমন রেফারি রয়েছেন যাঁরা ১০০০ বারের বেশি জুয়া খেলেছেন। এই হিসাব গত পাঁচ বছরের। তুরস্কের ক্রীড়া আইন এবং তুরস্কের ফুটবল সংস্থার আইন অনুযায়ী, ম্যাচ পরিচালকেরা কখনওই জুয়া খেলতে পারেন না। দোষী সাব্যস্ত হলে এই রেফারিদের তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ফুটবল সংক্রান্ত সকল কাজকর্ম থেকে নিষিদ্ধ করা হবে। ফেনেরবাখের কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তুরস্কের ফুটবলের বিষাক্ত পরিবেশ নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মোরিনহো। বিভিন্ন ম্যাচে একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেখে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন রেফারিদের দায়বদ্ধতা নিয়ে। বলেছিলেন, “২৫ বছরের কোচিং জীবনে কখনও এত বিষাক্ত পরিবেশ দেখিনি। এত শক্তিশালী একটা দুর্নীতিকে কোনও ক্লাব ধ্বংস করতে পারবে না।” দেখা গেল, মোরিনহোর কথাই সত্যি।