ডার্বিতে গোল পেতে সেটপিস ও শুটিংয়েই ফোকাস মোলিনার

শুক্রবার ডার্বির(Kolkata Derby) মহারণ। তার আগে শুটিং এবং সেটপিসের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন হোসে মোলিনা(Jose Molina)। ইস্টবেঙ্গলের থেকে পিছিয়ে থেকে নামছে মোহনবাগান(MBSG)। মরণ বাঁচন ম্যাচে জয় ছাড়া কোনও বিকল্প নেই। সেই কারণেই চির প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে যাতে কোনওরকম ভুলের অবকাশ নেই। ম্যাচের আগের দিনের প্রস্তুতিতে সেই দিকেই বাড়তি নজর দিলেন হোসে মোলিনা(Jose Molina)। বিশেষ করে আক্রমণ ভাগের ফুটবলারদের শুটিংয়ের ওপরই দিলেন বাড়তি নজর। কারণ শেষ দুটো ম্যাচেই বারবার সুযোগ নষ্ট করতে দেখা গিয়েছে সবুজ-মেরুন(MBSG) ফুটবলারদের। গতম্যাচের ভুল এই ম্যাচে না হয় সেদিকেই বাড়তি নজর দিচ্ছিলেন হোসে মোলিনা(Jose Molina)। একইরকমভাবে সেটপিস পেলেও, এখনও পর্যন্ত সেগুলোকে একটাও গোলে কনভার্ট করতে পারেননি মনবীর(Manvir Singh), সাহালরা(Sahal Abdul Samad)। শেষ ম্যাচে সেই ছবি বারবার দেখা গিয়েছে। কোচ মোলিনা কিন্তু এই দিকটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। তাই তো ম্যাচের আগের দিন মোলিনার ফোকাস শুধুই শুটিং এবং সেটপিসের দিকে। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশ যে বাছা হয়ে গিয়েছে তা বেশ স্পষ্ট। গত ম্যাচে জেমি ম্যাকলরেনকে(Jamie Maclaren) প্রথম থেকে খেলাননি তিনি। রবসন(Robson Robinho), দিমি(Dimitri Petratos) এবং কামিন্সের(Jason Cummins) ওপরই বেশি ভরসা করেছিলেন তিনি। কিন্তু এই ছকে সাফল্য আসেনি। এদিন যে প্রথম একাদশে বেশ কিছু বদল আসতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুরু থেকে কামিন্স এবং ম্যাকলরেন শুরু করলে অবাক হওয়ার মতো কিছুই থাকবে না। সেইসঙ্গে রক্ষণে অলড্রেড এবং অ্যালবার্তো রডরিগেজকে শুরু থেকেই রক্ষণের দায়িত্বে দেখা যেতেই পারে। সেইসঙ্গে শুভাশিস, মেহতাব সিংরা তো রয়েছেনই। তবে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে সাহাল ও লিস্টনের ওপর দায়িত্ব খানিকটা হলেও বেশি থাকবে তা বলাই যায়। শিল্ডের পর সুপার কাপের ডার্বির রংও সবুজ মেরুন হয় কিনা সেটাই দেখার।
ডার্বি জিতেই সেমিফাইনালে যাওয়ার বার্তা অস্কারের

শিল্ড ফাইনাল এখন অতীত। মোহনবাগানকে(Mohunbagan) একেবারেই ভয় পাচ্ছে না ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) ব্রিগেড। ডার্বিতে নামার আগেই সাফ বার্তা লাল-হলুদ কোচের। মোহনবাগান(Mohunbagan) আন্তর্জাতিক স্তরে খেললেও, তারাও যে এই মুহূর্তে ভারতের সেরা দলের তালিকায় নিজেদের নিয়ে চলে গিয়েছে তা স্পষ্ট ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর(Oscar Bruzon) কথায়। শেষ ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সেই আত্মবিশ্বাস তো রয়েছেই। মোহনবাগানের শক্তি দুর্বলতা সম্বন্ধেও বেশ ওয়াকিবহাল ইস্টবেঙ্গল টিম ম্যানেজমেন্ট। তারা যে প্রস্তুত সেই কথাই শোনা গেল অস্কারের(Oscar Bruzon) মুখে। ম্যাচের আগের দিন অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon) জানান, “মোহনবাগানের সঙ্গে সবসময়ই আমাদের এক গ্রুপে রাখা হয়। শেষ ১১ টি ম্যাচের মধ্যে তিনটি ম্যাচ তাদের সঙ্গে খেলা হয়ে গিয়েছে আমাদের। আমরা ভালোভাবেই প্রস্তুত। শেষ ম্যাচে হেরেছি ঠিকই, কিন্তু এই ডার্বিতে মোহনবাগানকে হারাতে আমরা প্রস্তুত”। শেষ ম্যাচে দুরন্ত ফর্মে ছিল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। এই ম্যাচেও সেই উইনিং কম্বিনেশনই ধরে রাখতে চাইছেন অস্কার ব্রুজোঁ। প্রতিপক্ষের শক্তি দুর্বলতা দেখে নিজেদের তৈরিও করে ফেলেছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। ধারেভারে যে মোহনবাগান এগিয়ে রয়েছে তাও কিন্তু মানতে নারাজ অস্কার ব্রুজোঁ। তাঁর সাফ কথা মোহনবাগান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা খেলার পাশাপাশি দেশের সেরা দল হলেও, তারাও কিন্তু সেই জায়গাতেই নিজেদের পৌঁছে দিয়েছে। অস্কার জানান, “মোহনবাগান এই মুহূর্তে দেশের সেরা দল হতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা খেলতে পারে ঠিকই, কিন্তু আমরাও নিজেদের সেরা জায়গায় নিয়ে গিয়েছি”।
ডার্বি জিততে অস্কারের বিশেষ ছক

শুক্রবার ডার্বি(Kolkata Derby)। সেই মহারণের আগে স্ট্র্যাটেজি গোপনে বিশেষ কৌশল ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) কোচ অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। ম্যাচের আগের মাত্র ২৫ মিনিটের প্রস্তুতি। তাও আবার শুধুই সেটপিস সারলেন হিরোশি(Hiroshi Ibusuki), মিগুয়েল(Miguel) থেকে মহেশ(Naorem Mahesh), আনোয়াররা(Anwar Ali)। গোল পার্থক্যে এগিয়ে থেকে নামছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। কিন্তু ডার্বির মঞ্চ সবসময়ই আলাদা। সেভাবেই নীলনক্সাও কষেছেন লাল-হলুদ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। সম্ভবত উইনিং কম্বিনেশন নিয়ে খুব একটা বদল করতে নারাজ ইস্টবেঙ্গল কোচ। সেই কারণে তো মোহনবাগানের(Mohunbagan) বিরুদ্ধে ৪-৫-১ ছকেই নামার পরিকল্পনা করছেন তিনি। আক্রমণের আগে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দলের রক্ষণকেই জমাট রাখতে চাইছেন অস্কার ব্রুজোঁ। এই ম্যাচ ড্র করতে পারলেই সেমিফাইনালের টিকিট পাকা হয়ে যাবে লাল-হলুদ ব্রিগেডের(Mohunbagan)। কিন্তু ডার্বির মঞ্চে জিততে মরিয়া ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। তবে সেইসঙ্গে বাড়তি সতর্কও অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। সেই কারণেই রক্ষণ খানিকটা শক্তিশালী করেই মাঠে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আর সেইসঙ্গে গত ম্যাচের পারফরম্যান্সটা যে ইস্টবেঙ্গল শিবিরের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ম্যাচের শুরু থেকেই মিগুয়েলকে(Miguel) ব্যবহার করেছিলেন অস্কার(Oscar Bruzon)। এই ম্যাচেও যে সেই পরিকল্পনা সেভাবে বদলাবেন না তা বলাই যায়। সেইসঙ্গে মোহনবাগানের শেষ ম্যাচে ভালোভাবে নজর রেখেছিলেন তিনি। তাদের শক্তি দুর্বলতা দেখেই যে ছক সাজাচ্ছেন তা বলাই যায়। শেষ ম্যাচে দুরন্ত ফর্মে ছিলেন নাওরেম মহেশ। এই ম্যাচেও যে অস্কারের বাজি হতে চলেছেন তিনি তা বলাই বাহুল্য। সেইসঙ্গে ফর্মে রয়েছেন ক্রেসপো, বিপিনদের মতো তারকারা। এই ম্যাচেও হয়ত প্রথম থেকে হিরোশিকে ব্যবহার করবেন না অস্কার। তবে গত ম্যাচে হিরোশি লাল-হলুদ জার্সিতে গোল পেয়েছেন। সেটা যে এই জাপানি তারকার আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে তা বলাই যায়। শুক্রবার শেষপর্যন্ত কার মুখে হাসি ফোটে সেটাই দেখার।
নাইটদের দায়িত্ব এবার অভিষেকের কাঁধে

নানান নাম ঘোরাফেরা করলেও শেষপর্যন্ত কলকাতা নাইট রাইডার্সের(KKR) কোচের আসনে বসলেন অভিষেক নায়ারই(Abhishek Nayar)। চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচের পদ থেকে সরার পরই শুরু হয়ে গিয়েছিল নতুন জল্পনা। বিশেষ করে কে হবেন নাইট(KKR) শিবিরের প্রধান কোচ। সেই তালিকায় রাহুল দ্রাবিড়ের নামও ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত ঘরের ছেলের ওপরই ভরসা রাখল নাইট রাইডার্স শিবির। অভিষেক নায়ারের কাঁধেই দায়িত্ব দিল তারা। রাহুল দ্রাবিড়ের(Rahul Dravid) নামটা বেশ কয়েকদিন ধরে ঘুরছিল। তাঁর সঙ্গে নাকি যোগাযোগও করা হয়েছিল। যদিও শেষপর্যন্ত আর সেটা হয়নি। এরপর অভিষেক নায়ারকেই(Abhishek Nayar) কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রধান কোচ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েকবছর ধরেই নাইট শিবির দেশীয় কোচের নীতিতেই চলছে। সেখানে নায়ারের সঙ্গে নাইটদের সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। তাঁর ওপরই ভরসা রেখেছে কেকেআর। ২০১৮ সাল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সঙ্গে সম্পর্ক অভিষেক নায়ারের(Abhishek Nayar)। গৌতম গম্ভীরের পর চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতেরও সহকারী কোচের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। তাঁর হাত ধরেই ঘরোয়া ক্রিকেটের ক্রিকেটাররা উঠে এসেছে নাইট শিবিরে। সাফল্যও পেয়েছেন তারা। গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে নাইট রাইডার্স যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, সেই সময়ও সহকারী কোচ ছিলেন এই অভিষেক নায়ার। সেই সমস্ত কথা বিচার করেই নাকি অভিষেককে প্রধান কোচ করার সিদ্ধান্ত। ভেঙ্কি মাইসোর জানিয়েছেন, “সেই ২০১৮ সাল থেকে অভিষেক নায়ারের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সম্পর্ক। শুধুমাত্র মাঠের ভেতর নয়, মাঠের বাইরেও ক্রিকেটারদের সামলেছেন তিনি। ক্রিকেটারদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া এবং ম্যাচ রিডিংয়ের দক্ষতাই আমাদের শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রধান স্তম্ভ। নাইট রাইডার্সের কোচ হওয়ায় আমরা আপ্লুত”। শেষবার আইপিএলে একেবারেই ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। মরসুম শেষের পর থেকেই বহু বদলের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকদিনের মধ্যেই যেমন কোচ বদল হয়ে গিয়েছিল। তেমনই বহু ক্রিকেটার নিয়েও ভাবছে নাইট শিবির। এবার অভিষেক নায়ারের হাত ধরে নাইট রাইডার্স সাফল্যের রাস্তায় এগোতে পারে কিনা সেটাই দেখার।
ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী থাকতে চলেছে গুয়াহাটি টেস্ট

আগামী ২২ নভেম্বর গুয়াহাটিতে(Guwahati) দক্ষিণ আফ্রিকার(South Africa) বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে নামছে ভারতীয় দল(India Team)। সেখানেই ঘটতে চলেছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। টেস্টের(Test Match) মঞ্চে প্রথমবার বদলাতে চলেছে দীর্ঘদিনের নিয়ম। গুটাহাটিতেই দেখা যাবে লাঞ্চের আগে চা বিরতি। যা টেস্টের(Test Match) মঞ্চে এখনও পর্যন্ত কখনও দেখা যায়নি। কিন্তু কেন এমন নিয়ম বদল। সেটাও অবশ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। গুটাহাটির আবহাওয়ার জন্যই নাকি এমন নিয়ম বদলের সিদ্ধান্ত। আগামী ২২ নভেম্বর থেকে শুরু হবে গুয়াহাটি(Guwahati) টেস্ট। সেখানেই দেখা বদল হতে চলেছে এই নিয়ম। টেস্টে বরাবরই লাঞ্চ দিয়ে শুরু হয় প্রথম বিরতি। সেটাই এই টেস্টে হতে চলেছে চা বিরতি দিয়ে। আর তার কারণ হল একমাত্র গুয়াহাটির আবহাওয়া। গুয়াহাটিতে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দুটোই হয় তাড়াতাড়ি। সেই কারণেই এমন নিয়ম হচ্ছে। ভারতে বরাবরই ম্যাচ শুরু হয় সকাল ৯.৩০ মিনিটে। কিন্তু সেই সময় আধ ঘন্টা এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সকাল ৯ টার সময়ই শুরু হবে খেলা। একরপরই হবে চা বিরতি। ১১টা থেকে ১১.২০ মিনিট পর্যন্ত। এরপরই ১১.২০ থেকে ১.২০ মিনিট পর্যন্ত চলবে লাঞ্চ বিরতি। যেহেতু সূর্যাস্ত তাড়াতাড়ি হয়ে যায়, সেই কারণেই যাতে ম্যাচের সময় বেশি পাওয়া যায় নিয়ম বদল করা হয়েছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় বিকেল চারটের সময়। আবহাওয়ার এই কারণের জন্য যাতে একেবারেই ম্যাচের সময় নষ্ট না হয় সেই কথা মাথায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরফলে ম্যাচের সময়টা অনেকটাই পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট গুয়াহাটিতে। ইডেনে অবশ্য প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট খেলবে ভারতীয় দল।
ধোনিই তার উইকেটকিপিংয়ের শিক্ষক, অনুপ্রেরণা, জানালেন উর্ভিল

ইডেনে গুটিকয়েক দর্শক সেদিন অবাক হয়ে দেখেছিলেন তাকে। চোখের পলক ফেলার আগে, শাহবাজ আমেদের উইকেটের বেল ফেলে দেওয়ার ঘটনা দেশের ক্রিকেট সমাজে রাষ্ট্র হল অনেক পরে। সোশ্যাল মিডিয়ার সৌজন্যে। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) বাংলা-গুজরাত ম্যাচ ছিল। শাহবাজ আমেদ (Shahbaz Ahmed) নিজেও কি ভাবতে পেরেছিলেন? বলটা খেলার পর শাহবাজের বাঁ পা-টা কতটা উঠেছিল সেটা বোধহয় একমাত্র তৃতীয় আম্পায়ার অ্যাকশন-রিপ্লে ক্যামেরায় দেখতে পেরেছিলেন। তার চোখেই পড়েছিল চোখের পলক ফেলার আগে শাহবাজের উইকেটের বেল পড়ে গিয়েছে! উর্ভিল প্যাটেল (Urvil Patel)। ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন এক তারা। কার কাছে শিখছেন উইকেটকিপিং? জানাতে দ্বিধা করেননি, গুজরাতের এই তরুণ ব্যাটসম্যান-উইকেটকিপার। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই লিখেছেন, ‘বই পড়ে শিখিনি। কিংবদন্তির কাছেই শিখেছি, শিখছি নিখুঁত উইকেটকিপিং-এর টেকনিক।’ সেই সুযোগও উর্ভিল পেয়ে গিয়েছেন। চেন্নাই সুপারকিংস (Chennai Super Kings) তাকে সই করানোর পর। ২৭ বছর বয়স তার। বরোদার হয়ে ক্রিকেটজীবন শুরু করেছিলেন। ২০১৮-১৯-এর রঞ্জি ট্রফির আগে তিনি বরোদা থেকে গুজরাতে রেজিস্ট্রেশন করান। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দ্রুততম সেঞ্চুরিও উর্ভিলের দখলে। গতবছর ত্রিপুরার বিরুদ্ধে করেছিলেন। চেন্নাই সুপার কিংস তাকে নেওয়ার আগে উর্ভিল ছিলেন গুজরাত টাইটান্সে (Gujarat Titans) । কিন্তু খেলার সুযোগ পাননি। সিএসকে-তে যোগ দেন বংশ বেদী চোটে ছিটকে যাওয়ার পর। ২০২৫-এর আইপিএলে মাত্র ৩০ লক্ষ টাকায় তাকে নিয়েছিল সিএসকে। আইপিএল অভিষেকে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ১১ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংসের পর সার্চলাইট তার দিকে ঘুরতে থাকে। আইপিএলের শেষ ম্যাচে তার পুরোনো দল গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ১৯ বলে ৩৭ রান করেছিলেন।
দু’দিনের লড়াই শেষ! ফিল হিউজের পর আবার বলের আঘাতে মৃত্যু উদীয়মান অজি ক্রিকেটারের

২০১৪-র সেই মর্মান্তিক ঘটনা। গোটা ক্রিকেটবিশ্বকে যে ঘটনা শোকস্তব্ধ করে দিয়েছিল। ঘাড়ে বল লেগে ফিল হিউজের সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর ছবি ১১ বছর পর মঙ্গলবার আবার মেলবোর্নে! নেটে ব্যাট করছিল ১৭ বছরের বেন অস্টিন। একটি বল ঘাড়ে আঘাত করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বেন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হল না। দু’দিনের লড়াই শেষ। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এই শোকসংবাদ দেওয়া হয়েছে। একটি বিবৃতিতে লেখা হয়, ‘ভ্যাল বেন অস্টিন। মঙ্গলবার নেটে ব্যাট করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয় ১৭ বছর বয়সি মেলবোর্নের এই ক্রিকেটার। সেই বেন অস্টিনের মৃত্যুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া শোকাহত।’ মেলবোর্নের ফার্নট্রি গালির অয়ালি টিউ রিজার্ভে একটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। ওই ম্যাচেই নামার আগে মঙ্গলবার বিকেলে ম্যাচের আগে ওয়ার্ম আপ করছিল সকলে। তখনই দুর্ঘটনা। ঘাড়ে বল লাগে তরুণ ক্রিকেটারের। সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। স্থানীয় মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। কিন্তু বাঁচানো গেল না। বেন অস্টিন ফার্নট্রি গালি ক্রিকেট ক্লাবে খেলত। সবার আগে তার ক্লাবের তরফে এই মৃত্যুসংবাদ জানানো হয়। ক্লাবটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘বেনের মৃত্যুতে আমরা মর্মাহত। ফার্নট্রি দলের পাশাপাশি সে মুলগ্রেভ ও এলডন পার্ক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছে। তার মৃত্যু আমাদের ক্রিকেটে বড় প্রভাব ফেলবে।’ জানা গিয়েছে, ক্রিকেট শুরুর আগে ওয়েভারলি পার্কের হয়ে সে ফুটবলও খেলেছিল। ২০১৪-য় এভাবেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী ছিল অস্ট্রেলিয়া। ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ চলাকালীন অজি পেসার শন অ্যাবটের বাউন্সার আছড়ে পড়ে অস্ট্রেলীয় ব্যাটার ফিল হিউজের ঘাড়ে। অজ্ঞান হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। মাথার মধ্যেই প্রবল রক্তক্ষরণ হয়। দু’দিন ধরে কোমায় থাকার পরে তাঁর মৃত্যু হয়। বেন অস্টিনেরের প্রয়াণে আবারও সেই মর্মান্তিক স্মৃতির প্রত্যাবর্তন।
দিয়েগোর জন্মদিনে ‘রূপোর মুদ্রা’ প্রকাশ করে আর্জেন্তিনার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বিশেষ সম্মান!

আজ বৃহস্পতিবার ৩০ অক্টোবর দিয়েগো মারাদোনার(Diego Maradona) জন্মদিন। আর্জেন্তিনা জুড়ে চলছে মারাদোনার জন্মদিনের উৎসব। এই উৎসবের দিনে প্রয়াত কিংবদন্তিকে বিশেষ সম্মান জানাল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক (Argentina Central Bank)। স্মারক রুপোর মুদ্রা (Anniversary Coin) প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। কিংবদন্তির সোনালি অধ্যায় এবং তাকে নিয়ে দেশের অবিচ্ছেদ্য আবেগ, এই দুই মিলিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ স্মারকটি। মুদ্রার পিছনের দিকে ফুটে উঠেছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত মুহূর্ত – ১৯৮৬ মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মারাদোনার একক দৌড়ে করা ‘গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি’। ২০২৬ সালে সেই ঐতিহাসিক গোলের ৪০ বছর পূর্তি, তাই এই নকশার তাৎপর্য আরও গভীর। সামনের দিকে রয়েছে নীচ থেকে ওপরে উঠতে থাকা ফুটবলের ছবি যা আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেম, উচ্ছ্বাস এবং দলের প্রতি অটল ভালবাসার প্রতীক। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এই মুদ্রা দেশের ফুটবল-স্পিরিট, গর্ব এবং মারাদোনার প্রতিভার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। মুদ্রাটি তৈরি হয়েছে ৯২৫ গ্রেডের রুপো দিয়ে। ওজন ২৭ গ্রাম, ব্যাস ৪০ মিলিমিটার। সংখ্যা মাত্র আড়াই হাজার। এর অর্থ, এটি একটি দুর্লভ সম্পদ। দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ ডলার। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য একই নকশায় সোনার মুদ্রাও আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে মারাদোনার খেলা শুধু আর্জেন্টিনাকে বিশ্বসেরা করে তোলেনি, বিশ্বফুটবলের গতিপথও বদলে দিয়েছিল। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে তাঁর ম্যাজিক আজও অনন্য। তাই তাঁকে এখনও বিশ্বজুড়ে ‘ফুটবলের রাজপুত্র’ বলেই মনে করা হয়। বর্তমানেও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দেশ আবার বিশ্বসেরা হয়। দুই প্রজন্মের সাফল্যের এই সেতুবন্ধন মারাদোনাকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। তাই আর্জেন্টিনার স্মারক মুদ্রা শুধু কোনও দ্রব্য নয়, এক প্রজন্মের স্মৃতি, জাতীয় গর্ব এবং ফুটবল–ভালোবাসার উজ্জ্বল প্রতীক। প্রসঙ্গত, আগামী বিশ্বকাপ ২০২৬ সালের ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত তিন দেশ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো মিলিতভাবে আয়োজন করবে। প্রথমবার তিনটি দেশ যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজন করতে চলেছে।
চোট আর মাঠে ফেরা নিয়ে নিজেই আপডেট দিলেন শ্রেয়স

প্লিহায় রক্তক্ষরণের জেরে এখনও শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer) সিডনির (Sydney) হাসপাতালে ভর্তি। তবে সুস্থ হয়ে উঠছেন টিম ইন্ডিয়ার একদিনের ম্যাচের সহ-অধিনায়ক। হাসপাতাল থেকে নিজেই শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানালেন শ্রেয়স। সোশাল মিডিয়া পোস্টে পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক বললেন, “আমি এই মুহূর্তে চিকিৎসার মধ্যে রয়েছি। তবে প্রতিদিনই শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আপনারা যেভাবে এই কঠিন সময়ে আমাকে সমর্থন করছেন, আমার আরোগ্য কামনা করে একের পর এক বার্তা পাঠাচ্ছেন, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে নিয়ে প্রার্থনা করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ।” জানা গিয়েছে শ্রেয়স এখন অনেকটাই সুস্থ। তবে এখনই দেশে ফেরানো হচ্ছে না তাঁকে। যতদিন না বিমানের ধকলের জন্য তাঁর শরীর তৈরি হচ্ছে, ততদিন তাঁকে সিডনিতেই থাকতে হবে তাঁকে। সিডনিতে অ্যালেক্স ক্যারির ক্যাচ নিতে গিয়ে ভয়ানক চোট পেয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। তড়িঘড়ি তাঁকে সিডনির হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার সকালে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। যদিও উদ্বেগ কাটিয়ে আইসিইউ থেকে ছাড়া পেয়েছেন। শারীরিক অবস্থারও দ্রুত উন্নতি হচ্ছে তাঁর। প্লীহার ক্ষত ঠিক করতে বিশেষ এক পদ্ধতি অবলম্বন করে তাঁর চিকিৎসা করেছেন চিকিৎসকরা। বোর্ড সূত্রের খবর, শ্রেয়সের স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখা হচ্ছে। টিম ইন্ডিয়ার এক চিকিৎসক সিডনিতেই রয়েছেন। তাঁর পুরোপুরি ফিট হয়ে উঠতে আরও ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ সময় লাগবে। যার অর্থ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে তাঁকে পাওয়া যাবে না। বিসিসিআই (BCCI) সূত্র বলছে, জানুয়ারিতে তিনি ফিট হয়ে যেতে পারেন।