ভারতীয় ক্রিকেটে ‘ক্রান্তিকাল’!

বুন্দেলখন্ডের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম ঘৌয়াড়া। গোটা গ্রামে কোন পাকা বাড়ি নেই। সেই গ্রামের পুলিশ কনস্টেবল মুন্না সিং। মুন্না ভোটের ডিউটি করতে গিয়ে কর্তব্যের গাফিলতির অভিযোগে চাকরি হারালেন। ছয় সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সরকারি আবাসন ছাড়তে হল। তখন সবচেয়ে ছোট মেয়েটির বয়স নয়। সংসারের হাল ধরতে স্কুল ছাড়লেন মুন্নার বড় ছেলে। ছয় বছরের ছোটটি মিড-ডে মিলের জন্য স্কুলে যায়। মিড ডে মিল মেলে ক্লাস এইট অবধি। খিদে পেলে তখন কি আর পড়ার কথা মনে আসে? অগত্যা মেয়েটি পালায় স্কুল থেকে। প্রায় প্রত্যকেদিনের ঘটনা। কিন্তু স্কুল পালানো মেয়ে কী করত? সারাদিন ছেলেদের সাথে ক্রিকেট খেলে বেড়াত! বাঁশের তৈরি ব্যাট। আর টেনিস বল। বাঁশ কেটে তৈরি সেই ব্যাট স্বাভাবিকভাবেই প্রচণ্ড ভারি। তাতেও দমানো যায়নি মেয়েকে! সে তখন থেকেই বল করতে ভালবাসত। একদিন গ্রামের মাঠে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট চলছে।দলে একজন জোরে বোলারের অভাব। ডাক পড়লো মেয়েটার। মেয়েটা বল হাতে জিতিয়ে দিল গ্রামকে। শুধু জেতালোই না। একেবারে প্লেয়ার অব দ্যা ম্যাচ। সেই মেয়েই রবিবারের রাতে নভি মুম্বইয়ে ইতিহাস গড়া বিশ্বজয়ী ভারতীয় মহিলা দলের অন্যতম সদস্যা। নাম ক্রান্তি গৌড়। হাত থেকে রক্ত ঝরলেও ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিল্ডিং করতে তার এতটুকু দ্বিধা হয় না। এতটাই সাহস আর মনের জোর তার! কিন্তু ছোট্ট ক্রান্তি থেকে ক্রান্তি গৌড় হয়ে ওঠার নেপথ্যের নায়ক? তার বাবা মুন্না সিং। জীবন যুদ্ধে হেরে যাওয়া মুন্না স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি। ছোট্ট ক্রান্তির হাত ধরে, স্ত্রী-র গহনা আর কিছু সঞ্চিত পুঁজি নিয়ে মুন্না এলেন ছাতারপুর শহর। মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থা তখন উঠতি প্রতিভার সন্ধান করছে। মুন্না ক্রান্তিকে নিয়ে সোজা হাজির হলেন সাই-তে। রাজীব বিলথারে তখন জেলা ক্রিকেট সংস্থার সচিব। ট্রায়ালে ক্রান্তির বোলিং দেখে রাজীব দেরি করেননি। পরেরদিন থেকেই ক্রান্তিকে ট্রেনিংয়ে আসতে বললেন। কিন্তু কিছুদিন ট্রেনিংয়ে আসার পর ক্রান্তি বন্ধ করে দিল সাই-য়ে যাওয়া। কারন সেই খরচ। জামা, জুতো, ব্যাটের খরচ। সে তো কম নয়। কিন্তু রাজীব তাতেও নাছোড়বান্দা। ক্রান্তিকে জুতো কেনার ১৬০০ টাকা দিলেন। জামা দিলেন। আর দিলেন নিজের বাড়িতে আশ্রয়। ছাতারপুরে থেকে গেল কান্তি। শুরু হল ক্রিকেটের প্রথম পাঠ। কেটে গেলো তিনটে বছর। মধ্যপ্রদেশ ক্রিকেট সংস্থার কোচ হয়ে এসেছেন চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত। পন্ডিত ইন্দোরে একটা ওপেন ট্রায়াল ক্যাম্প আয়োজন করলেন। রাজীব ক্রান্তিকে ইন্দোর পাঠালেন ট্রায়ালের জন্য। ক্রান্তির ছন্দময় সাবলীল বোলিং তাঁকে মুগ্ধ করল। ক্রান্তি চন্দ্রকান্তের নজরবন্দী হলো। ভারতীয় ক্রিকেট মহলে চন্দ্রকান্ত পন্ডিতের কড়া কোচিং পদ্ধতি নিয়ে সকলে অবগত। ক্রান্তির বয়স তখন ১৭। শরীর বদলাচ্ছে। অতিরিক্ত পরিশ্রমে পিঠের ব্যথায় বোলিং করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে। আবার বাড়ি পালানোর কথা ভাবছে ক্রান্তি। সংসারে অভাবের তাড়না পিছু ছাড়েনি। অনেক ক্রিকেট হয়েছে। এবার কিছু রোজগার করতে হবে। খেপ খেলে সহজে পয়সা মেলে। ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের কদর আর প্রচার দেখে অভিমানও হত তার। ক্রিকেট তো ব্যাটসম্যানের খেলা। বোলাররা মজদুর শ্রেণী! ক্রান্তির মতিগতি বুঝে এমপিসিএ-র মহিলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারি সিধিয়ানী পাটনি চন্দ্রকান্তের সাথে কথা বললেন। মাসিক রেশন পাঠানোর ব্যবস্থা হল ক্রান্তির বাড়িতে। চন্দ্রকান্তের অনুশাসনে লাইন, লেন্থ ও রিস্ট পজিশন সংশোধনে মন দিলো। ডব্লিউপিএল শুরু হলো। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে নেট বোলার হিসেবে যোগ দিলো ক্রান্তি। তবে প্রথম প্রচারের আলোয় এলো ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেই। ২০২৪-এ বাংলার বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা ক্রান্তির নজড়কাড়া বোলিং। আর পিছন ফিরে তাকতে হয়নি। এবছর ইউপি ওয়ারিয়ার্স নিলামে কিনে নেয় ক্রান্তিকে। সেখান থেকে জাতীয় দল। শুরু হয় ভারতীয় ক্রিকেটের ক্রান্তিকাল!
বিশ্বকাপ জয়ের পর বিশেষ বার্তা হরমনপ্রীতের

আর কোনও বৈষম্য নয়। ক্রিকেটটা যে সকলের তারই বার্তা দিলেন এবার ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর(Harmanpreet Kaur)। বিশ্বকাপ জয়ের ঘোর থেকে এখনও পর্যন্ত বেড়োতে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপ জয়ের পর গোটা রাতেই ট্রফিটা ছিল হরমনপ্রীতের(Harmanpreet Kaur) একমাত্র সঙ্গী। সেখানেই ভারত অধিনায়কের টি শার্ট থেকে এক বিরাট বার্তা। যার মানে ক্রিকেট শুধু জেন্টলম্যানদের খেলা নয়, এটা সকলেরই খেলা। দীর্ঘদিন ধরে মিতালী, ঝুলনরা যে স্বপ্নটা দেখেছিল, সেটাই এবার পূরণ হয়েছে হরমনপ্রীতদের হাত ধরে। দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ক্রিকেটার ডে ক্লার্কের ক্যাচ হরমনপ্রীত নিতেই স্টেডিয়ামে শুরু হয়েছিল উচ্ছ্বাস। সেইসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটারদের ছিল বাঁধ ভাঙা সেলিব্রেশন। হবে নাই বা কেন প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের উচ্ছ্বাস বলে কথা। দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর পর থেকে শুধুই অপেক্ষাটা ছিল ট্রফিটা হাতে তোলার। এরপর আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ট্রফি হাতে ওঠে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের হাতে। সেই ট্রফি যেন আর হাতছাড়া করতে নারাজ। সারা রাত সেই বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গেই কাটে অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের। সেখান থেকেই দিলেন এক বিশেষ বার্তাও। সেখানেই হরমনপ্রীতের টি শার্টে বার্তা, “ক্রিকেট জেন্টিলম্যানদের খেলা শুধু নয়, এখন সকলের খেলা”।
২৯ নভেম্বর সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

২৯ নভেম্বরই সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। কিন্তু তারা কী আদৌ কলকাতায় খেলতে পারবে। সেই সম্ভাবনা কিন্তু বিষশ বাও জলে। ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) কলকাতায় খেলতে চাইলেও, সেখানে রয়েছে বিস্তর জটিলতা। সবচেয়ে বড় বাধা সুপার কাপের সম্প্রচারকারী স্বত্ত্ব যে কোম্পানির কাছে রয়েছে। কারণ তারাই নাকি কলকাতায় আসতে চাইছে না। তার কারণটা অবশ্যই বাড়তি খরচ। সেইসঙ্গে কোন মাঠে খেলবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেটা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। তারও কারণ আর্থিক দিকই। খানিকটা আর্থিক দিকের সামঞ্জস্য রেখেই মাঠ নিতে চাইছে ইস্টবেঙ্গল। বাজেটের মধ্যে থাকলেও তবেই যে বিনিয়োগকারী সংস্থা এগোবে তাও একপ্রকার স্পষ্ট। সেইভাবে তারা চেষ্টাটা চালালেও, এখনও পর্যন্ত নাকি কোনও কিছুই সেভাবে নিশ্চিত হয়নি। হাতে সময়ও যে খুব একটা রয়েছে তেমনটা কিন্তু নয়। কারণ আগামী ২৯ নভেম্বর হবে সেমিফাইনাল। ক্লাবের তরফ থেকে ম্যাচ কলকাতায় চাওয়া হলেও, সেখানে বাজেটের দিকে নজর রয়েছে বিনিয়োগকারী সংস্থারও। এছাড়া অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হল প্রতিপক্ষ শিবির। সেমিফাইনাল থেকে ফাইনাল যদি কলকাতায় করতে হয় সেক্ষেত্রে অন্যান্য দল গুলোরও একটা সম্মতির প্রয়োজন রয়েছে। ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলেও তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে তা এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হয়নি। তারাও যে রাজি হবে তাও কিন্তু নয়। তবে ইস্টবেঙ্গল তাদের মতো করে একটা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাজেটের দিকটাও ভাবতে হচ্ছে লাল-হলুদ ম্যানেজমেন্টকে। আর যদি শেষপর্যন্ত না হয় তবে, গোয়াতেই খেলতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। দিন ঠিক হয়ে গিয়েছে। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার।
বিশ্বকাপ জয়ের পরই শেফালির মুখে সচিন স্তুতি

বিশ্বকাপটা খেলার কথাই ছিল না তাঁর। কিন্তু সেই শেফালি বর্মাই(Shafali Verma) মহিলাদের বিশ্বকাপের ফাইনালের ম্যান অব দ্য ম্যাচ। ম্যাচ শেষে শেফালি(Shafali Verma) যে আপ্লুত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেইসঙ্গে তাঁর মুখে সচিনের নামই শোনা গেল। সচিন তেন্ডুলকরকে(Sachin Tendulkar) দেখেই নাকি অনুপ্রানিত হয়েছেন। আর সেটাই যে তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেই কথাই শোনা গেল শেফালির মুখেও। প্রতিকা রাওয়ালের পা ভেঙে যাওয়ায় বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আসে শেফালির(Shafali Verma) সামনে। সেই সময় থেকেই তিনি জানতেন কিছু একটা ভাল করার জন্যই নাকি এই সুযোগ পেয়েছেন। সেমিফাইনালে ব্যর্থ। কিন্তু ফাইনালেই সেই শেফালি হয়ে উঠল ভারতের প্রধান অস্ত্র। সর্বোচ্চ ৮৭ রান যেমন তিনি করলেন, তেমনই আবার তিনটি উইকেটও তুললেন। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন তিনি। আর ম্যাচ শেষে শেফালির মুখে সচিনের কথা। সচিনকে দেখেই পেয়েছিলেন অনুপ্রেরণা। মাস্টার ব্লাস্টারের কথাই তাঁকে জুগিয়েছিল আত্মবিশ্বাস। ম্যাচ শেষে শেফালি বর্মা জানান, “আমি শুরুতেই বলেছিলাম যে ভগবান ভালো কিছু করার জন্যই আমাকে বোধহয় এখানে পাঠিয়েছিল। আর সেটা এই ম্যাচেই প্রমাণিত হল। আমি যখন ফাইনালের দিন সচিন তেন্ডুলকরকে সামনে দেখলাম, সেই মুহূর্তটাই আমাকে শক্তি যুগিয়েছিল। আমি তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত কথা বলেছলাম, সেটাই আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছিল আমাকে। তিনি ক্রিকেটের মাস্টার। আর সেটা আমাদের সকলের কাছেই ছিল অনুপ্রেরণা”। ফাইনালের দিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন শেফালি বর্মা। একের পর এক বড় শটে কার্যত নাজেহাল করে দিয়েছিলেন প্রোটিয়া বাহিনীকে। ৮৭ রানের ইনিংস যেমন খেলেছিলেন। তেমনই বল হাতেও হয়েছিলেন সফল। তুলে নিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের তিনটি উইকেট।
ওড়না বেঁধে ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলার শুরু, এবার জয়কে অভ্যাসে পরিণত করতে চান হরমনপ্রীত

পাঞ্জাবের মোগা নামের ছোট্ট শহরের নাম ক’জন জানেন? এই শহরটি প্রথমবার সবচেয়ে বেশি চর্চায় এসেছিল ২০১৭-য়। ইংল্যান্ডে মহিলা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ১৭১ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলেছিলেন মোগা থেকে উঠে আসা এক মেয়ে। ভারত ফাইনালে জিততে পারেনি। কিন্তু মোগার সেই মেয়ের ওপর ভারতের ক্রিকেট সমাজের সার্চলাইট পড়ে সেদিন থেকেই। তিনি হরমনপ্রীত কৌর, যার ক্রিকেট অভিযান শুরু হয় কোমরে ওড়না বেঁধে ছেলেদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলে! বলছেন তার শৈশবের কোচ কমলদীশ পাল সোধি। “তখন ওর বয়স ১৬। মোগায় তখন মেয়েদের ক্রিকেটে আসার চল শুরু হয়নি। কিন্তু হরমনপ্রীতের প্রচণ্ড ভালবাসা খেলার প্রতি। কোমরে ওড়না বেধে নেমে পড়ত ছেলেদের সঙ্গেই ক্রিকেট খেলতে। ছেলেদের মারা শক্তিশালী ড্রাইভ আটকাতে গিয়ে কতবার চোটও পেয়েছে। কিন্তু মাঠ ছাড়েনি,” বলেছেন কমলদীশ। হরমনপ্রীতের প্যাশন দেখেই কমলদীশ ভর্তি করে নেন হরমনপ্রীতকে নিজের কোচিং সেন্টারে। কিন্তু মেয়ের বাবার যে আর্থিক সামর্থ্য ছিল না ক্রিকেট কোচিং দেওয়ার। কমলদীশ আশ্বস্ত করেছিলেন তাঁর কোচিংয়ে ভর্তি হতে কোনও টাকা লাগবে না। এমনকী প্রত্যেকদিন হরমনপ্রীতকে বাড়িতে ছেড়ে দেবেন। সেভাবেই শুরু হয়েছিল বিশ্বজয়ী ভারতীয় অধিনায়কের ক্রিকেট সফর। তাই হয়ত রবিবার ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকেও অশ্রুসজল হরমনপ্রীত বলতে ভোলেননি, “আমার বাবাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাতে চাই। জনসমর্থনের জন্যও ধন্যবাদ। উত্থানপতনে এভাবে আমাদের পাশে থাকার জন্য। আমরা এই মুহূর্তটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এবার জয়টাকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।” প্রশ্ন উঠেছিল, শেফালি বর্মাকে বোলিংয়ে আনার পেছনের কারণটা জানানোর জন্য। হরমনপ্রীত বলেছেন, “শেফালি ব্যাটিং ভালো করেছে। আমি জানতাম আজ ওর দিন। আমার মন বলছিল, ওকে একটা ওভার দেওয়া উচিত। সেটাই কাজে লেগে গেল।”
অল্পের জন্য হাতছাড়া সৌরভের, প্রথম বাঙালি বিশ্বকাপ জয়ী রিচা

অল্পের জন্য হাতছাড়া সৌরভের(Sourav Ganguly)। পারেননি পঙ্কজ রায়ও। অবশেষে বাংলায় এল বিশ্বকাপ। তাও আবার এক বঙ্গ তনয়ার হাত ধরে। বাংলার বিশ্বকাপ জয়ী তারকার নাম রিচা ঘোষ(Rich Ghosh)। এদিন ভারত যেমন ইতিহাস তৈরি করল। তেমনই বাংলার মেয়ে রিচাও নিজের নাম লেখালেন ইতিহাসের পাতায়। প্রথম বাঙালি তো তিনিই, যাঁর হাতে উঠল বিশ্বকাপ ট্রফিটা। ম্যাচ শেষে সেই রিচার(Rich Ghosh) মুখ থেকেই ঝড়ে পড়ল শুধুই আবেগের ভাষা। ২০০৩ সালে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ ফাইনালে হার। মন ভেঙেছিল অগণিত বাঙালির। এরপর ভারত বিশ্বকাপ জিতলেও, কোনও বাঙালির হাতে ওঠেনি সেই বিশ্বকাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটালেন বঙ্গ তনয়া রিচা ঘোষ(Richa Ghosh)। তাঁর নামের পাশে এখন থেকে লেখা থাকবে বিশ্বকাপ জয়ী। ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের পিছনে তাঁর অবদানও খুব একটা কম নয়। বিশেষ করে ফাইনালের মঞ্চে শেষ মুহূর্তে রিচা ঘোষের ঝোড়ো ইনিংসটাই তো ভারতের রান ২৯৮-এ পৌঁছতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর স্টাম্পটি। ম্যাচ শেষে রিচা ঘোষও আবেগতাড়িত। বলেই ফেললেন এই একটা মুহূর্তের অপেক্ষাতেই তো আমরা সকলে ছিলাম। বিশ্বজয় হয়ে গিয়েছে। এবার বাংলার মেয়ের বাংলায় ফেরার পালা।
গেম চেঞ্জার দীপ্তি, মুম্বইয়ে বিশ্বজয় হরমনপ্রীতদের

ঝুলন(Jhulan Goswami) পারেননি। পারেননি মিতালী রাজও(Mithali Raj)। অবশেষে স্বপ্নপূরণ হল। হরমনপ্রীত কৌরের(Harmanpreet Kaur) হাত ধরেই মহিলাদের প্রথম বিশ্বকাপ জিতল ভারত। নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে তৈরা হল এক নতুন ইতিহাস। দীপ্তি শর্মার(Deepti Sharma) বলে ডে ক্লার্কের শট। হরমনপ্রীত কৌরের(Harmanpreet Kaur) হাতে ক্যাচ। প্যাক্ট আপ স্টেডিয়াম শুরু গর্জন। কারণ ভারত যে বিশ্বকাপ জিতেছে। ঘরের মাঠে ঘরের মেয়েরা বিশ্বজয়ী। ক্যাচ নিয়েই তো সেই কারণে একেবারে গ্যালারীর দিকে ছুটে গেলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক। তিনি বলেছিলেন হারের যন্ত্রনা ভুলে এবার সাফল্যের উত্সব দেখতে চাই। সেটাই যে করে দেখালেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিশ্বকাপটা হাতে তুললেন হরমনপ্রীত কৌররা। তবে ভুললেন না পূর্বসুরীদেরও। মঞ্চে ঝুলন, মিতালীদের হাতেও তুলে দিলেন সেই সফল স্বপ্নের ট্রফিটা। চেখের জল যেন এদিন বাঁধ মানল না কারোর। গোটা গ্যালারী তখন স্বাগত জানাচ্ছে ভারতের বাঘিনীদের। ভয়ঙ্কর দক্ষিণ আফ্রিকা। বিশেষ করে তাদের অধিনায়ক লওরা উলভার্ট। গোটা গ্যালারী তখন চুপচাপ। ভারতের গেম চেঞ্জার দীপ্তি শর্মা(Deepti Sharma)। ব্যাট হাতে যেমন ৫৮ রান করেছেন, তেমনই মোক্ষম সময়ে তুলে নিয়েছেন প্রোটিয়া শিবিরের একের পর এক উইকেট। উলভার্ট, ডার্কসেন থেকে ডে ক্লার্ক – দক্ষিণ আফ্রিকার বিধ্বংসী ক্রিকেটাররা ছিলেন এদিন তাঁর ঝুলিতে।ব্যাট হাতে ৫৮ রানের পাশাপাশি নিলেন একাই পাঁচ উইকেট দীপ্তি শর্মা(Deepti Sharma)। উলভার্টের সেঞ্চুরির পর যখন একটা সময় মনে হচ্ছিল ম্যাচটা হয়ত বেড়িয়েই গেল, সেই সময়ই দীপ্তির(Deepti Sharma) বলে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ। আবার যে ডে ক্লার্ক গ্রুপপর্বে ভারতের সামনে ত্রাস হয়ে গিয়েছিলেন। সেই তিনিও দীপ্তিরই শিকার। ফাইনালের মঞ্চে ভারতের পারফেক্ট গেমচেঞ্জার এদিন দীপ্তি। প্রতিযোগিতার সেরাও তো তিনিই হলেন। আর ম্যাচের সেরা ২ উইকেট ও ৮৭ রান করে শেফালি বর্মা(Shafali Verma)। বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস তৈরির পর মাঠেই তাদের বাঁধনহীন উচ্ছ্বাস। ভিআইপি বক্সে দাঁড়িয়ে হরমনপ্রীত(Harmanpreet Kaur), স্মৃতিদের স্বাগত জানাচ্ছেন রোহিত শর্মাও(Rohit Sharma)। টস জিতে এদিন ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমিফাইনাল থেকে সুযোগ পাওয়া শেফালি বর্মা এদিন প্রথম থেকেই ছিলেন অত্যন্ত ফোকাসড। তিনিই করলেন ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ রান। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত স্মৃতি মন্ধনার। শেফালি করেন ৮৭ রান। স্মৃতি মন্ধনা ফেলেন ৪৫ রানে। তবে এদিন জেমিমা(Jemimah Rodriguez), হরমনপ্রীত(Harmanpreet Kaur) বেশীক্ষণ থাকতে পারেননি। তবে দীপ্তি(Deepti Sharma) ছিলেন আক্রমণাত্মক ছন্দে। তাঁর ৫৮ রানের ইনংসটাই তো ভারতের মন্থর রানের গতিতে নতুন বেগ দিয়েছিল। এরপর রিচা ঘোষের একটা শেষ মুহূর্তের ২৪ বলে ৩৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস। শেষপর্যন্ত ভারত করে ২৯৮ রান। ইনিংস শেষে নানান হিসাব নিকাশ চলছে। কারণ প্রতিপক্ষ শিবিরে রয়েছেন উলভার্ট। চলতি বিশ্বকাপে যার রেকর্ড সবচেয়ে বেশি অপরাজিত থাকার। উইকেট তুলতে পারলেও, উলভার্টের উপস্থিতি ক্রমশই চিন্তা বাড়াচ্ছিল। সময় যত এগোচ্ছিল ততই ভয়ঙ্কর হচ্ছিলেন তিনি। অপর দিকে উইকেট গেলেও, উলভার্ট থাকা মানে যেকোনও সময়ই যে অসম্ভব কিছু হয়ে যেতে পারে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্যাপ, লুইসদের শেফালি ফেরালেও, আসল চিন্তার কারণ ছিলেন এই উলভার্ট। এমন সময়ই হরমনপ্রীতের মোক্ষম চাল। হঠাত্ই বোলিং চেঞ্জ। আসেন দীপ্তি শর্মা(Deepti Sharma)। ডার্কসেনকে বোল্ড করেন তিনি। আর কিছুক্ষণ পরই সেঞ্চুরি করা উলভার্টের ক্যাচ দীপ্তির বলে। ভারতীয় শিবিরের নতুন অক্সিজেন। এরপরই ট্রাইয়নকেও সাজঘরে ফেরান। কিন্তু তখনও ক্রিজে রয়েছেন ডে ক্লার্ক। দীপ্তির বলেই রান আউট খাকা। তখনও চেষ্টা চালাচ্ছেন ডে ক্লার্ক। কিন্তু চাপটা আর সামলাতে পারেননি। শেষপর্যন্ত দীপ্তির বলে হরমনপ্রীতের হাতে তাঁর ক্যাচ। আস সেইসঙ্গেই বিশ্বকাপ ভারতীয় মহিলাদের হাতের মুঠোয়।