বেটন কাপের আগেই হকি স্টেডিয়াম উদ্বোধন মুখ্যমন্ত্রীর

আগামী শুক্রবার বেটন কাপের(Beighton Cup) উদ্বোধন। তার আগেই মুখ্যমন্ত্রীর(Mamata Banerjee) হাতে উদ্বোধন হয়ে গেল যুবভারতীর অত্যাধুনিক হকি স্টেডিয়াম। বৃহস্পতিবার ধনধান্য স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চ থেকে ভার্চুয়ালি হকি স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। আন্তর্জাতিক সুবিধাযুক্ত এই স্টেডিয়ামে বেটন কাপের(Beighton Cup) মতো ঐতিহ্যশালী প্রতিযোগিতা দিয়েই শুরু হবে। ২০ কোটি টাকা খরচে তৈরি হয়েছে ২২ হাজার দর্শকাসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়াম। সেখানেই নামবে ভারতের সেরা হকি তারকারা। এদিন ভার্চুয়ালি ধনধান্য অডিটরোয়াম থেকে সেই স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। এখন শুধুই এই স্টেডিয়ামের বল গড়ানোর অপেক্ষায় সকলে। কলকাতার বুকে এতদিন আব্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম ছিল না। ২০২১ সাল থেকেই আক্ষেপ ঘোচানোর উদ্যোগ নিয়েছিল পশ্চিমঙ্গ রাজ্য সরকার। সেই স্টেডিয়ামই এদিন উদ্বোধন হয়ে গেল। ২২ হাজার দর্শকাসন-বিশিষ্ট ভারতের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক মানের এই হকি স্টেডিয়ামটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা। ক্রীড়া দপ্তর সুত্রের খবর, ওই স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের সিন্থেটিক টার্ফ, অস্ট্রেলিয়ার মতো আর্দেন গ্যালারি, ওয়ার্ম আপ জোন, ২টি সুসজ্জিত ড্রেসিং রুম, ১টি ভিভিআইপি বক্স, ২টি ভিআইপি বক্স, ভিআইপি লাউঞ্জ, আম্পায়ার ও ভিডিয়ো আম্পায়ার রুম, ডোপ টেস্টিং ও মেডিক্যাল রুম, সম্প্রচার এবং ভিডিয়ো অ্যানালিস্ট-এর জন্য নির্দিষ্ট রুম সবই থাকবে। টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য আধুনিক ভেন্যু পরিচালনা কেন্দ্র, প্রেস কর্নার, মিক্সড রুমও তৈরি হয়েছে। শহরের বুকে এ হেন স্টেডিয়াম আগামী দিনে হকির হারানো জৌলুস ফেরাতে সাহায্য করবে বলে আশাবাদী ক্রীড়াপ্রেমীরা।
দুরন্ত অক্ষর, ৪৮ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত

বোলারদের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে(Australia) হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ভারত(India Cricket Team)। জোড়া উইকেট ও ২১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হয়েছেন অক্ষর পটেল(Axar Patel)। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বড় রান করতে না পারলেও, ওয়াশিংটন সুন্দর(Washington Sundar) এবং অক্ষর পটেলের(Axar Patel) দুরন্ত বোলিংয়ে ভর করে ৪৮ রানে ম্যাচ জিতে নেয় টিম ইন্ডিয়া। ভারতের ১৬৭ রান টার্গেট করতে নেমে মাত্র ১১৯ রানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ভারতের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে এদিন খানিকটা চিন্তায় রয়েই গেল। এই ম্যাচ জেতার পরই ২-১ ফলাফলে সিরিজে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। টস জিতে এদিন ভারতকেই প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। শুরুটা ভালো করলেও, মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় হঠাত্ই পরপর উইকেট হারাতে শুরু করে ভারত। বিশেষ করে ১২১ রানের মাথায় শুভমন গিল(Shubma Gill) ফিরতেই যেন ধস নামতে শুরু করে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে। এদিন ৪৬ রানের ইনিংস খেলে গিল(Shubman Gill) যখন ফেরেন সেই সময় ভারতের রান ১৪.১ বলে ১২১। তখনও ভারতের বড় রানের প্রত্যাশাতেই ছিলেন সকলে। কিন্তু ব্যাটারদের তাড়াহুড়োতেই যেন সব শেষ। মাত্র ৪৬ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট খোয়ায় ভারত। ১৬৭ রানেই থেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। অস্ট্রেলিয়ার ঘরের মাঠে এই রান যে জয়ের জন্য যথেষ্ট নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সেখানে আবার শুরু থেকে বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজেই ছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে ভারতের বোলিং লাইনআপ এদিন ছিল দুরন্ত ফর্মে। অস্ট্রেলিয়া শিবিরে প্রথম আঘাতটা এনেছিলেন অক্ষর পটেল(Axar Patel)। ম্যাট শর্টকে ফেরান তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যে জশ ইঙ্গলিসকেও ফিরিয়ে গিয়েছিলেন অক্ষরই। এরপর থেকেই তাপ বাড়াতে শুরু করে ভারত। দলের ৭০ রানের মাথায় মিচেল মার্শ ফিরতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই সময়ও ছিলেন টিম ডেভিড, মার্কাস স্টয়নিসদের মতো তারকারা। তবে এই দুই তারকাকে বেশীক্ষণ দাঁড়াতে দেননি ওয়াশিংটন সুন্দর এবং শিবম দুবে। মার্কাস স্টয়নিসও ওয়াশিংটন সুন্দরেরই শিকার। শেষপর্যন্ত ১১৯ রানেই শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ।
‘খেলা ছাড়ার পরই মূল্যায়নে বসব, কী কী করেছি ফুটবল জীবনে’ঃ মেসি

বুধবার ছিল আমেরিকার বিজনেস সামিটের অষ্টম দিন। আগে সামিটে ভাষণ দিয়ে গিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। নোবেল শান্তি পুরষ্কার পাওয়া মারিয়া করিনা মাচাদো। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবু সামিটের অষ্টম দিনে ভিড় উপচে পড়ল। কারণ বক্তা সেই লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। ইন্টার মায়ামির মেয়র ফ্রান্সিস সুয়ারেজ বসেছিলেন মেসির সাক্ষাৎকার নিতে। বয়স ৩৮ হলে হবে কি? এখনও তো তিনি সোনার বল পাচ্ছেন মেজর লিগ সকারে এই মরশুমে সর্বোচ্চ গোলদাতা ২৯ গোল করে। তাই মেয়র যখন তাকে বললেন, সময় কি আসেনি ফুটবলজীবনে নিজের অসংখ্য কীর্তির মূল্যায়নে বসার, মেসির জবাব ছিল, “এখনও আমি খেলছি। ২০২৮ পর্যন্ত আমার চুক্তি ইন্টার মায়ামির সঙ্গে। তাই এখনও বলার সময় আসেনি। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই বসব মূল্যায়নে। কী কী করেছি ফুটবলজীবনে তার একটা খাতা তো তৈরি হবেই। জানাবোও। কিন্তু এখন ভাবছিই না। মায়ামিতে এসে ক্লাব, সাপোর্ট স্টাফ এবং সমর্থকদের কাছ থেকে যে ভালবাসা পাচ্ছি সেটা অতুলনীয়। তাই মায়ামির হয়ে আরও ভাল খেলাই আমার লক্ষ্য।” কিন্তু একইসঙ্গে মেসি স্বীকার করেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মন ফুটবলের পাশাপাশি একটু একটু করে ভবিষ্যতের ভাবনাও ভাবতে শুরু করছে! জানিয়েছেন, একাধিক ব্যবসার কথা তার মনে উঁকি দিচ্ছে। “একটি দিন আসবে যেদিন মাঠে নেমে ফুটবল আর খেলা যাবে না। তখন অন্য একটা জগৎ তৈরি হবে, আমাকে একজন ছাত্রের মতই নতুন জগৎ সম্পর্কে জানতে হবে,” বলেছেন লিওনেল মেসি।
প্রধানমন্ত্রীর পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত হরমনপ্রীতদের

হরমনপ্রীতরাই(Harmanpreet Kaur) আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা। ভারতীয় দলের সঙ্গে দেখা করে তাদের কুর্নিশ জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু(Draupadi Murmu)। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার পরই ভারতীয় দলকে আমন্ত্রন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু(Draupdi Murmu)। সেখানেই তাদের বিশেষভাবে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। একইসঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতিকে ভারতীয় দলের জার্সিও উপহার হিসাবে দেন ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা। সেখানেই হরমনপ্রীতদের(Harmanpreet Kaur) বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। বৃহস্পতিবার সকালেই রাষ্ট্রপতি ভবনে যান হরমনপ্রীত কৌর(Harmanpreet Kaur), স্মৃতি মন্ধনা(Smriti Mandhana) সহ শেফালি বর্মারা(Shafali Verma)। সেখানেই তাদের সঙ্গে বেশকিছুক্ষণ সময় কাটান ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু। নানান বিষয় নিয়েই আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। সেখানেই ভারতীয় ক্রিকেটাররা যেমন বিশ্বকাপ তুলে দেন রাষ্ট্রপতির হাতে, তেমনই আবার ভারতের দলের জার্সিও তুলে দিয়েছে তারা দ্রৌপদি মুর্মুর হাতে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই সোশ্যাল মিডিয়াতে রাষ্ট্রপতি লেখেন, “ভারতের মহিলা বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্যদের এদিন আহ্বান করা হয়েছিল রাষ্ট্রপতি ভবনে। সেখানেই ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি এবং একইসঙ্গে তাদের বলেন যে তারাই আগামী দিনের প্রজন্মের কাছে রোল মডেল। এই দলটাই তো ভারতের প্রতিনিধি। এই দলের সদস্যের সামাজিক অবস্থা আলাদা হতে পারে। ভিন্ন হতে পারে তাদের ধর্মও। কিন্তু তারা একটাই দল, আর সেই দলের নাম ভারত”। এদিন ভারতীয় ক্রিকেটাররা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত করতে পেরে আপ্লুত। তাঁর সঙ্গে নানান কথাবার্তাও হয়েছে। শুধু তাই নয় তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়েই উঠে এসেছে আলোচনায়।
হরমনপ্রীতদের বিশেষ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

নভি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে না ইতিহাস তৈরি করেছে ভারতীয় মহিলা দল। প্রথমবার মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপ(Womens Odi World Cup) জিতেছে তারা। ভারতের বিশ্ব জয়ের পরই তাদের উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে বিশেষ বার্তা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী(Narendra Modi)। গত বুধবারই তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন। সেখানেও ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করার বার্তাই দিচ্ছেন প্রধাবমন্ত্রী(Narendra Modi)। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়েছিল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে বিশ্বকাপের ট্রফিটা তুলে দুয়েছিলেন হরমনপ্রীত(Harmanpreet Kaur), স্মৃতি মন্ধনারা(Smriti Mandhana)। সেখানেই প্রধানমন্ত্রীর(Narendra Modi) সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিচতাও হয় তাদের। সেখানেই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটারদের বিশেষ বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাদের সকলের স্কুলে গিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও উদ্বুদ্ধ করার বার্তাই দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে বার্তা, আমি তোমাদের প্রতিটা স্কুলে যাওয়ার কথা বলছি না। যে স্কুলে তোমরা লেখাপড়া করেছ সেই স্কুলগুলোতেই যেতে বলছি। তিনটে করে স্কুলকে বেছে নাও। যকনই সময় পাবে, বছরের, যেকোনও একটি সময় সেখানে যাও। শুধুমাত্র যে তারাই মোটিভেট হবে তা কিন্তু নয়। তোমরাও তাদের থেকে মোটিভেট হতে পারবে। ঝুলন, মিতালীরা বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছলেও বারবার রানার্স হয়েই ফিরতে হয়েছে তাদের। অবশেষে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছে ভারতীয় দল। হরমনপ্রীত(Harmanpreet Kaur), রিচাদের(Richa Ghosh) হাত ধরে প্রথমবার ওডিআই বিশ্বকাপ এসেছে ভারতের কাছে। ঘরের মেয়েদের স্বাগত জানাতেই এখন প্রস্তুত সকলে।
অবশেষে ‘ভারতীয় বংশোদ্ভূক্ত’ দুই বিদেশি ফুটবলারকে পাচ্ছে সিনিয়র জাতীয় দল!

সিঙ্গাপুরের কাছে হারে, এশিয়ান কাপের মূল পর্ব থেকে ইতিমধ্যে ছিটকে গিয়েছে ভারতীয় পুরুষদের সিনিয়র জাতীয় দল। তাও ১৮ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ের ম্যাচ ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল! কারণ, বহুবছর ধরে চর্চিত এক প্রচেষ্টা হয়ত এবার বাস্তবায়িত হতে চলেছে। নীল জার্সির শক্তি বাড়াতে জাতীয় দলের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন দুই ‘বিদেশি’, অবনীত ভারতী এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফরওয়ার্ড রায়ান উইলিয়ামস। ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করবে তারা আদৌ মাঠে নামতে পারবেন কি না আর যদি নামেন তাহলে তাদের পারফরম্যান্স কতটা সমৃদ্ধ করল ভারতীয় দলের পারফরম্যান্সকে। যদিও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিয়মরক্ষার ম্যাচের জন্য ২৩ সদস্যের সম্ভাব্য দল ঘোষণা করেছিলেন হেডকোচ খালিদ জামিল, সেখানে নেই অবনীত এবং উইলিয়ামস। তাও দুই ফুটবলারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা যেতে পারে ভারতীয় দল। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যাণ চৌবে বলেছেন, “ক্যাম্পে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলে তাঁরা অবশ্যই ঢাকা যাবেন।” বৃহস্পতিবার থেকে বেঙ্গালুরুতে শুরু হবে জাতীয় দলের ক্যাম্প। ভারতীয় পাসপোর্টধারী ডিফেন্ডার অবনীত ভারতী বলিভিয়ার শীর্ষ স্থানীয় ক্লাব অ্যাকাডেমিয়া ডেল বলোমপি বলিভিয়ানোতে খেলেন। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার সোল ডি মায়োতেও খেলেছিলেন। অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার পার্থে জন্মানো ৩১ বছর বয়সি উইলিয়ামস বেঙ্গালুরু এফসি’র ফুটবলার। সম্প্রতি ভারতীয় পাসপোর্ট পেয়েছেন তিনি। চেক ন্যাশনাল ফুটবল লিগের ক্লাব এফকে ভার্নসডর্ফ থেকে লোনে অবনীতকে কিনে নিয়েছিল বলিভিয়ার ক্লাব। ২৬ বছর বয়সি এই ফুটবলার খেলেন সেন্টার ব্যাক পজিশনে। বাবা চাকরি সূত্রে দূতাবাস কর্মী হওয়ায় বিভিন্ন দেশে কাটাতে হয়েছে অবনীতকে। ২০১৯-২০ মরশুমে আইএসএলে কেরালা ব্লাস্টার্সের হয়ে খেলেছিলেন নেপালে জন্মানো এই ফুটবলার। যদিও কেরিয়ারের বেশিরভাগ সময়টা দেশের বাইরেই খেলতে হয়েছে তাঁকে। ফেডারেশন সভাপতির সংযোজন, “ভারতী অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন ডিফেন্ডার। উইলিয়ামসের ক্ষেত্রে আমাদের ধৈর্য ধরতে হয়েছিল। ক্রীড়ামন্ত্রী মানসুখ মান্ডভিয়া এবং তাঁর মন্ত্রককে কৃতিত্ব দিতেই হয়। এ ব্যাপারে তাঁরা অনেক সাহায্য করেছেন।” উইলিয়ামসের মা অড্রে মুম্বইয়ের এক অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান পরিবারে জন্মেছিলেন। তাঁর বাবার জন্ম ইংল্যান্ডের কেন্টে। কিছু দিন আগে ভারতের জার্সি গায়ে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন উইলিয়ামস। চৌবে বলেন, “তারপর থেকে এটা নিয়ে এগিয়েছি। আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে প্রায় ছ’মাস সময় লেগেছে।” প্রশ্ন হল, কবে তাঁরা জাতীয় শিবিরে যোগ দেবেন? জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছেন উইলিয়ামস। তবে শীঘ্রই ভারতীয় দলের প্রস্তুতি শিবিরে যোগ দেওয়ার কথা অবনীত ভারতীর।
মান্ধানাদের বিশ্বজয়ের নেপথ্যে এক বাঙালি ‘নায়ক’!

ভারতীয় পুরুষ দলের সৌজন্যে অনেকেই দয়ানন্দ গরানিকে বা রঘু রাঘবেন্দ্রকে চেনেন। শ্রীলঙ্কার নুয়ান সেনাভিরত্নও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত মুখ। তিনজনই ‘থ্রো ডাউন স্পেশালিস্ট’। কিন্তু এদের সঙ্গে ভারতীয় এবং আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটে উঠে এল আর এক নতুন ‘থ্রো-ডাউন বিশেষজ্ঞের নাম। তিনি শচীন মণ্ডল। উঠে হয়ত আসত না যদি হরমনপ্রীত কৌরদের ভারত মুম্বইতে গত ২ নভেম্বর প্রথমবার ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হত! সচিনের বয়স ২৪। বাড়ি বহরমপুর। গত সাড়ে তিন বছর ধরে রিচা ঘোষদের নেটে থ্রো ডাউনের কাজটা করছেন শচীন। বিশ্বকাপে জেমাইমা রডরিগেজ-স্মৃতি মন্ধানাদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের পিছনে রয়েছে তাঁর পরিশ্রমও। বুধবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে গোটা দল। সেই অনুষ্ঠান শেষে দিল্লি থেকে ফোনে শচীন বলছিলেন, “বিশ্বজয়ের এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অনেকদিন ধরে আমরা এই জয়ের জন্য তৈরি হয়েছি। এবার তার ফল পেলাম। আমি নিশ্চিত, এই জয় ভারতে মহিলা ক্রিকেটের পরিস্থিতি বদলে দেবে।” ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন প্রথম জীবনে। প্রথমে বহরমপুর এবং পরে জিয়াগঞ্জে বছর তিনেক অনুশীলন ও খেলার পর নিজেই উপলব্ধি করেছিলেন ভবিষ্যতে সফল ক্রিকেটার হওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তখন সিদ্ধান্ত নেন ভবিষ্যতেও ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকবেন, ২২ গজের বাইরে থেকে হলেও। জুনিয়রদের ট্রেনিং দেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল। তাকে সম্বল করে পাঁচ বছর আগে, করোনার পর চলে যান বেঙ্গালুরু। সেখানে কিছুদিন কাটানোর পর সুযোগ পান এনসিএ-তে। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি শচীনকে। প্রথমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের একটা সিরিজে কাজ করেন। তারপর সুযোগ পান জাতীয় মহিলা দলে। সচিন জানাচ্ছেন, বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে মহিলা দলের এক-এক জন সদস্য অনুশীলন সেরেছেন ভিন্ন পথে। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর যেমন প্লাস্টিক বলে থ্রো ডাউন নিতেন। তাঁর ডেপুটি মন্ধানাকে আবার থ্রো করতে হত একটু বাড়তি গতিতে। সব মিলিয়ে ক’টা থ্রো ডাউন দিতে হত শচীনকে? এই বঙ্গসন্তানের জবাব, “সেভাবে তো গুনতাম না। তবে প্রতিদিন ছ’শো-সাতশো থ্রো ডাউন দিতে হত। সবচেয়ে বেশি থ্রো ডাউন নেয় ক্যাপ্টেন আর ভাইস ক্যাপ্টেন। এক-একদিন একশোরও বেশি থ্রো ডাউন দিতে হয়েছে ওদের। জেমাইমা আবার নেটে বেশি সময় কাটাতে ভালোবাসে। এমনকী দলের প্রত্যেকের ট্রেনিং শিডিউল ভিন্ন ছিল। প্লেয়ারের ধরন বুঝে সেসব ঠিক করা হত।” আপাতত তিনদিনের জন্য বহরমপুরের বাড়িতে ফিরবেন শচীন। তারপর আবার রওনা দেবেন বেঙ্গালুরুতে। পরবর্তী সিরিজের প্রস্তুতিতে সাহায্য করার লক্ষ্য মাথায় নিয়ে।