আইএসএলের বিড জমা পড়ল না, সংকটে দেশের একনম্বর লিগ!

আইএসএলের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে। এখনও পর্যন্ত কোনও বিড জমা পড়েনি। প্রাথমিকভাবে বিড করার শেষ দিন ছিল ৫নভেম্বর। কিন্তু কোনও দরপত্র জমা না পড়ায় সেটা আরও দু’দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে কোনও সংস্থা বিড করেনি। ভাবা হয়েছিল শেষপর্যন্ত এফএসডিএল বিড জমা দেবে। শুক্রবার বিড করার শেষ তারিখ ছিল। কিন্তু কোনও বিডই জমা পড়েনি। বেশ কয়েকদিন ধরেই আইএসএল (ISL) নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। চলতি ডিসেম্বরেই এফএসডিএলের (FSDL) সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে ফেডারেশনের (AIFF)। আইএসএলের জন্য টেন্ডার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ফেডারেশন। সেই মতো টেন্ডার ছাড়াও হয়। বিডে অংশ নেওয়ার আগে ফেডারেশনের কাছে ফেডারেশনের টেন্ডার কমিটির কাছে ২৩৪টি প্রশ্ন লিখিত আকারে পাঠিয়েছিল এফএসডিএল। সেই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে টেন্ডার কমিটি। সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে টেন্ডার কমিটি। এফএসডিএলে যে প্রশ্নগুলি মূলত ছিল, সেগুলিকে নস্যাৎ করে দিয়েছে আইএসএলের টেন্ডার কমিটি। যেমন বছরে ৩৭.৫ কোটি দেওয়ার প্রসঙ্গে জানিয়েছে, সেটা দিতেই হবে। অবনমন নিয়ে এফএসডিএল প্রশ্ন তুললে সেই প্রসঙ্গেও টেন্ডার কমিটি তাদের উত্তরে জানিয়ে দিয়েছিল। শীর্ষ আদালত নির্দেশে দেয়, দেশের এক নম্বর লিগে চ্যাম্পিয়নশিপ এবং রেলিগেশন দু’টোই থাকবে। এতদিন স্বাধীনভাবে আইএসএল পরিচালনা করেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। কিন্তু এবার নতুনভাবে যে সংস্থা যুক্ত হবে, তাঁদের সামনে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে। যা মানতে নারাজ তাঁরা। এফএসডিএলের কাছে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে নতুন চুক্তিতে। ভাবা হচ্ছে, সেই কারণেই আগ্রহ প্রকাশ করছে না তাঁরা। নতুন বিডাররাও আগ্রহ হারিয়েছে। এখন নভেম্বরের শেষের দিকেও যদি কারও হাতে কোনওভাবে আইএসএল চালানোর দায়িত্ব আসে, তাহলেও জানুয়ারির শেষ কিংবা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকের আগে লিগ শুরু করা প্রায় অসম্ভব।
গ্রাস-হিলের তৈরি দর্শকাসন সমৃদ্ধ দেশের প্রথম হকি স্টেডিয়াম উদ্বোধন হল কলকাতায়

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবারই ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেছিলেন। শুক্রবার রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং ফায়ার ও এমারজেন্সি সার্ভিস মন্ত্রী সুজিত বোসের হাতে উদ্বোধন হল শুধু হকির জন্য একটি স্টেডিয়াম। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ঠিক বাইরে, যুবভারতীর কমপ্লেক্সের মধ্যে। নাম হল বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম। দেশে শুধু হকি খেলার জন্য এরকম স্টেডিয়াম আর নেই জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী। দর্শকাসন ২২ হাজার। কিন্তু সেখানে রয়েছে চমক। স্টেডিয়ামের একদিকে দর্শকদের বসার গ্যালারি তৈরি করা হয়েছে। আর বাকি তিনদিকে তৈরি করা হয়েছে ঘাসের তৈরি ছোট পাহাড়! ওখানে বসে বসে আপনি খেলা দেখতে পারেন। অ্যাডিলেড, সিডনি, বা ব্রিসবেনের ছবি এবার কলকাতায়! অভিনব এই স্টেডিয়ামে অ্যাস্ট্রো-টার্ফের পিচ তো বসানো হয়েছেই। ক্রীড়ামন্ত্রী জানালেন, “২০ কোটি টাকা খরচ করে স্টেডিয়াম তৈরি করা হয়েছে। মাঠ ও দর্শকাসন ছাড়াও পরিকাঠামোর অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অত্যাধুনিক। একদম আর্ন্তজাতিক মানের।” সুজিত বোস, যিনি বর্তমানে হকি বেঙ্গলের প্রেসিডেন্টও, সাংবাদিক বৈঠকে বললেন, “এই আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়ামে শুধু খেলা হবে। আপাতত অনুশীলনের জন্য ব্যবহার করা হবে না। আমাদের আশা, সর্বভারতীয় হকি ফেডারেশন এবার এই স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ, জাতীয় পর্যায়ের ম্যাচ আমাদের আয়োজন করতে বলবে।” আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রীর মুখে শোনা গেল। “বহুবছর ধরে ময়দানে তিন বড় ক্লাবের ঘেরা মাঠে হকির অধীনে চলে যায়। এটি বহু পুরোনো এক নিয়ম। সেই কারণে, সম্প্রতি, বিশেষত ন্যাশনাল লিগ বা আই লিগ বা এখন আইএসএল শুরু হওয়ার পর তিন বড় ক্লাবের ফুটবল দলগুলি অনুশীলন করতে পারে না। হকির এই স্টেডিয়াম আসায় আগামি মরশুম থেকে আমার আশা সেই সমস্যার সমাধান হবে। হকি বেঙ্গল আয়োজিত কলকাতার প্রিমিয়ার ডিভিশন হকি লিগের ম্যাচ অ্যাস্ট্রো-টার্ফে হবে। বাংলা থেকে আন্তর্জাতিক মানের হকি খেলোয়াড়ও উঠে আসবে,” বললেন অরূপ বিশ্বাস। শনিবার থেকে শুরু হতে চলা বেটন কাপে অংশ নিচ্ছে ২১টি দল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতীয় নেভি এবং রানার্স আপ ইন্ডিয়ান ওয়েলও তাদের মধ্যে রয়েছে। বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম ছাড়াও বেটন কাপের খেলা হবে ডুমুরজোলা কমপ্লেক্সে। তাৎপর্যের বিষয়, এবারের বেটন কাপে অংশ নিচ্ছে না ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান এবং মহামেডান স্পোর্টিং। প্রেসিডেন্ট সুজিত বোস জানালেন, এবারের চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লক্ষ টাকা আর রানার্সকে দেওয়া হবে ৫ লক্ষ টাকা। দুটি সেমিফাইনাল হবে ১৫ নভেম্বর আর ফাইনাল পরের দিন, ১৬ নভেম্বর। সুজিত বোস এবং ক্রীড়ামন্ত্রী, দুজনেই জানালেন, অদূর ভবিষ্যতে বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে হকির অ্যাকাডেমি তৈরি হলে তখন এই মাঠে অনুশীলন করা হবে।