অস্কারের পাখির চোখ এএফসি স্লট, আগামী সপ্তাহেই শহরে গিল

আইএসএল(ISL) কী হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চয়তা নেই। তার মধ্যেই অবশ্য ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন কোচ অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। শুক্রবার শহরে পৌঁছেই কোনওরকম সময় নষ্ট নয়, দলকে নিয়ে নেমে পড়লেন প্রস্তুতিতে। সেইসঙ্গে আইএসএল নিয়েও যে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন তাও কিন্তু বুঝিয়ে দিলেন অস্কার। সুপার কাপ শেষ হওয়ার আগে আইএসএল নিয়ে সমস্যা মিটে যাওয়া ব্যপারে অবশ্য আশাবাদী অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। এই মুহূর্তে অবশ্য সুপার কাপ(Super Cup) চ্যাম্পিয়ন হওয়াই পাখির চোখ ইস্টবেঙ্গল কোচের। কারণ এই প্রতিযোগিতা জিততে পারলেই তো এএফসি খেলার ছাড়পত্র পেয়ে যাবে তারা। যদিও ২৭ ম্যাচের ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ না করতে পারলে, সেই সুযোগ হাতছাড়া হয়েই যাবে। সেইজন্যই তো যতটা দ্রুত সম্ভব আইএসএল নিয়ে জট কাটার আশায় রয়েছেন অস্কার(Oscar Bruzon)। প্রথম দিন প্রস্তুতিতে নেমেই অস্কার(Oscar Bruzon) বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের পাখির চোখ হল সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সেটা চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে তবে এএফসির স্লট পাব। একইসঙ্গে আমি মনে করছি সুপার কাপের ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে হয়ত আইএসএল নিয়ে সমস্যা মিটে যাবে”। এই মুহূর্তে হাল্কা প্রস্তুতিই সারছেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। আগামী সোমবার থেকে জোরকদমে শুরু হয়ে যাবে সুপার কাপের প্রস্তুতি। সেই সপ্তাহেই হয়ত লাল-হলুদ ব্রিগেডে আবার যোগ দিতে চলেছেন প্রভসুখন গিলও(Prabhsukhan Gill)। টাইফয়েডের জন্য এখনও পর্যন্ত নিজের বাড়িতেই রয়েছেন প্রভসুখন গিল। তবে এখন নাকি তিনি অনেকটাই সুস্থ। সবকিছু ঠিকঠাক চললে আগামী সপ্তাহেই কলকাতায় ইস্টবেঙ্গল শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন প্রভসুখন গিল। অন্যদিকে সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের সামনে পঞ্জাব এফসি। এখন থেকেই ছক কষতে শুরু করে দিয়েছেন অস্কার ব্রুজোঁ। এই রবিবার প্রস্তুতিতে ছুটি দিলেও, সোমবার থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে জোরকদমে প্রস্তুতি। শোনাযাচ্ছে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচও নাকি খেলার পরিকল্পনা রয়েছে লাল-হলুদ টিম ম্যানেজমেন্টের। এখন দেখার এতদিন বিরতির পর সেমিফাইনালেও ইস্টবেঙ্গল তাদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে কিনা।
দুর্ধর্ষ বুমরাহ, প্রথম দিনের শেষে ফ্রন্টফুটে ভারত

বিধ্বংসী জসপ্রীত বুমরাহ(Jasprit Bumrah)। আর তাতেই প্রথম দিনের শেষে এগিয়ে ভারত(India Team)। দক্ষিণ আফ্রিকার(South Africa) ব্যাটিং লাইনআপকে এদিন একাই শেষ করলেন ভারতীয় দলের স্পীডস্টার। বুমরাহ(Jasprit Bumrah) তুলে নিলেন ৫ উইকেট। ইডেনের পিচে গতবারের চ্যাম্পিয়নদির মাত্র ১৫৯ রানেই শেষ করে দিলেন ভারতীয় দলের তারকা পেসার। সেইসঙ্গে ফর্মে ছিলেন কুলদীপ(Kuldeep Yadav), অক্ষররাও(Axar Patel)। দিনের শেষে ভারতের রান ১ উইকেটে ৩৭। তবে এই ম্যাচেও কিন্তু নিজের ফর্ম দেখাতে পারলেন না যশস্বী জয়সওয়াল। ১২ রানেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা(South Africa)। শুরুর দিকে প্রোটিয়াদের ওপেনিং পার্টনারশিপ বেশ ভালো খেলছিলও। কিন্তু বুমরার আক্রমণেই সব শেষ তাদের। তিনি একাই কার্যত এদিন শেষ করে দেয় প্রোটিয়াদের বোলিং লাইনআপ। দক্ষিণ আফ্রিকার রান তখন বিনা উইকেটে ৫৭। সেই সময় রিকেলটনকে ক্লিন বোল্ড করেন বুমরাহ। দশ বলের ব্যবধানে ফের সাফল্য। এবার বুমরার(Jasprit Bumrah) দুর্ধর্ষ ডেলিভারিতে ঋষভ পন্থের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য হন এডেন মার্করাম। দক্ষিণ আফ্রিকা সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই কুলদীপের(Kuldeep Yadav) স্পিনের সামনে থামতে বাধ্য হন টেম্বা বাভুমা(Temba Bavuma) এবং মুলডার(Mulder)। সেই থেকেই প্রোটিয়াদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে ভারতীয় দল। ডে জর্জি একটা চেষ্টা করলেও আবারও সেই বুমরার কাছেই আটকে যান তিনি। ১২০ রানের মধ্যে ৫ উইকেট খুইয়ে কার্যত দক্ষিণ আফ্রিকার বড় রানের আশা তখনই শেষ হয়ে গিয়েছিল। ট্রিস্টান স্টাবস ক্রিজে দাঁড়িয়ে থাকলেও, বুমরাহ(Jasprit Bumrah), কুলদীপ(Kuldeep Yadav) এবং সিরাজদের দাপটের সামনে বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি দক্ষিণ আফ্রিকার বাকি ব্যাটাররা। শেষ দুটো উইকেটও সেই জসপ্রীত বুমরারই শিকার। ১৫৯ রানেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে থামিয়ে দেন তিনি। আর সেইসঙ্গেই ইডেনে প্রথম দিন থেকেই খানিকটা ফ্রন্টফুটে টিম ইন্ডিয়া। তবে এই ম্যাচেও কিন্তু প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ যশস্বী জয়সওয়াল(Yashasvi Jaiswal)। তাঁর ফর্ম নিয়ে সম্প্রতি কথাবার্তাও চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে মাত্র ১২ রানেই থামতে হল ভারতীয় দলের এই তরুণ ওপেনিং ব্যাটারকে। দিনের শেষে ১৩ রানে ক্রিজে রয়েছেন কেএল রাহুল(KL Rahul) এবং ৯ রানে ওয়াশিংটন সু্ন্দর(Washington Sundar)। শনিবার ইডেনের এই পিচে প্রথম সেশনটাই যে ভারতীয় দলের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ফেডারেশনকে চিঠি ২০ রাজ্য সংস্থার

সমস্যা কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না ফেডারেশনের(AIFF)। একদিকে আইএসএল হওয়া নিয়ে যেমন দিশাহীন অবস্থা। অন্যদিকে এবার ফেডারেশনের(AIFF) প্রতিনিধিত্বের নিয়মে নতুন সংবিধান মানতে নারাজ রাজ্য ফুটবল সংস্থা গুলো। ৩৩টি রাজ্য সংস্থার মধ্যে ২০টি রাজ্য সংস্থাই ফেডারেশনের এই নতুন সংবিধানের প্রতিনিধি বিষয়ক নতুন নিয়ম না মানার কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। আর তাতেই বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করতে বাধ্য হয়েছে ভারতীয় ফুটবল সংস্থা। সুপ্রিম কোর্টের(Supreme Court) নির্দেশ অনুযায়ী ১৫ অক্টোবর থেকে তিন সপ্তাহ পেয়েছিল ফেডারেশন, নতুন সংবিধান কার্যকর করার জন্য। সেখানেই প্রতিটি রাজ্য সংস্থার তরফ থেকে সম্মতি পেলে তবেই বার্ষিক সাধারণ সভায় নতুন সংবিধান পাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু রাজ্য সংস্থাগুলো এবার বেঁকে বসায় বেশ বেকায়দায় ফেডারেশনের কর্তারা। এই নতুন সংবিধান অনুযায়ী স্বার্থ সংঘাত এড়াতে নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। সেখানে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে একসঙ্গে দুই জায়গায় প্রতিনিধিত্ব করা যাবে না। অর্থাৎ ফেডারেশনের কার্যকরি কমিটিতে কোনও ব্যক্তি থাকলে তিনি রাজ্য সংস্থার কোনওরকম দায়িত্বে থাকতে পারবেন না। আর তাতেই দেখা দিয়েছে জট। ৩৩টির মধ্যে ২০টি রাজ্য সংস্থাই এই নিয়ম মানতে চাইছে না। তারা সেই কথা ইতিমধ্যে ফে়ডারেশনকে জানিয়েও দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ নভেম্বর একটি বিশেষ সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। সেখানেই নতুন সংবিধান ও তার নিয়ম কার্যকরী করার জন্য নির্বাচন করা হবে। এরপরই হয়ত হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
পাঁচ উইকেট নিয়ে ইডেন থেকে প্রত্যাবর্তন বুমরার

সমস্ত সমালোচনার জবাব দিয়ে ইডেন গার্ডেন্স(Eden Gardens) দিয়েই প্রত্যাবর্তন জসপ্রীত বুমরার(Jasprit Bumrah)। দক্ষিণ আফ্রিকার(South Africa) ব্যাটিং লাইনআপকে একাই শেষ করে দিলেন। তুলে নিলেন পাঁচ উইকেট। যারা বুমরার(Jasprit Bumrah) বোলিংয়ের ধার কমে যাওয়া নিয়ে নানান কথাবার্তা বলছলেন, ইডেনের বাইশগজ থেকেই হয়ত সেই জবাবটা দিলেন ভারতীয় দলের সেরা পেসার। কার্যত প্রোটিয়া শিবিরকে এদিন তিনি একাই শেষ করে দিয়েছিলেন। কোমড়ের চোট সারিয়ে ফেরার পর থেকেই টেস্টে জসপ্রীত বুমরাহকে(Jasprit Bumrah) খানিকটা নিস্প্রভই লেগেছিল। বিশেষ করে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে জসপ্রীত বুমরাহ কখনোই প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের সামনে সেভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেননি। তাঁর বোলিংয়ে এখন আর সেই স্পার্ক দেখা যাচ্ছে না, এমন মন্তব্য প্রাক্তন থেকে বিশেষজ্ঞরা অনেকেই করছিলেন। ইডেনে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে নেমেই সেই জবাবটা দিয়ে দিলেন ভারতীয় দলের সেরা পেসার। দক্ষিণ আফ্রিকার তাবড় তাবড় বোলারদের সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার এদিন একটা সময় বিনা উইকেটে ছিল ৫৭। ওপেনিং পার্টনারশিপ বড় রানের লক্ষ্যে এগোচ্ছিল। সেই সময়ই জসপ্রীত বুমরার আঘাত। আর তাতেই বেসামাল প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপ। দশ বলের ব্যবধানে দুটো উইকেট। বুমরার বলে রিকলটন ক্লিন বোল্ড। কিছুক্ষণের মধ্যেই বুমরার অসাধারণ ডেলিভারিতে পন্থের হাতে ক্যাচ হেনরিখ ক্লাসেনের। এরপর থেকেই জসপ্রীত বুমরাহ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। এরপর ডে জর্জি, হারমার এবং কেশব মহরাজ, তাঁরই শিকার। মাত্র ১৪ ওভার বোলিং করে বুমরাহ(Jasprit Bumrah) রান দিয়েছেন ২৭ এবং তুলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ইডেন থেকেই ফের যেন একটা কামব্যাক হল জসপ্রীত বুমরার।
নতুন ভূমিকায় নাইট শিবিরে টিম সাউদি

আইপিএলের(IPL) মিনি নিলামের আগে একের পর এক বড় চমক দিয়েই চলেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স(KKR)। সরকারী কোচের পর বোলিং কোচ হিসাবে এবার টিম সাউদিকে(Tim Southee) দলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। ক্রিকেটার হিসাবে তিন মরসুম কেকেআর-র(KKR) হয়ে খেলেছেন নিউ জিল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার টিম সাউদি(Tim Southee)। এবার সেই সাউদির কাঁধেই কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং কোচের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউ জিল্যান্ডের(New Zealand) হয়ে বহু সাফল্য রয়েছে সাউদির(Tim Southee)। তাঁর হাত ধরেই বহু ম্যাচে জয়ের মুখ দেখেছে নিউ জিল্যান্ডও। সেই সাউদিকেই(Tim Southee) এবার দলের বোলিং আক্রমমণের দায়িত্ব দিল নাই টিম ম্যানেজমেন্ট। বেশ কয়েক মরসুম ধরে নাইটদের বোলিং নিয়ে ননান কথাবার্তা চলছে। সেই সমস্যা মেটাতেই এই কিউই কিংবদন্তীকে দলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার পাশাপাশি এখনও পর্যন্ত তিনিই একমাত্র নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটার হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। নিউ জিল্যান্ডের জার্সিতে টিম সাউদির(Tim Southee) ঝুলিতে রয়েছে ৭৭৬টি আন্তর্জাতিক উইকেট। সেইসঙ্গে দেশের জার্সিতে টেস্ট খেলেছেন ১০৭টি ম্যাচ। এছাড়া ওডিআই খেলেছেন ১৬১টি এবং নিউ জিল্যান্ডের টি টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন ১২১টি। সব ফর্ম্যাটেই যথেষ্ট সফল হয়েছেন টিম সাউদি। সেইসঙ্গে আইপিএলেও সাউদির ঝুলিতে রয়ছে বহু উইকেট। কলকাতা নাইট রাইডার্সে এটাই তাঁর প্রথমবার নয়। এর ক্রিকেটার হিসাবে খেলেছেন ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে। সেই নাইট শিবিরেই এবার নতুন দায়িত্বে টিম সাউদি। নাইট রাইডার্স শিবিরে ফের ফিরতে পেরে আপ্লুত টিম সাউদিও। তিনি জানিয়েছেন, “কেকেআর সবসময়ই আমার কাছে দ্বিতীয় ঘর। দীর্ঘদিন পর সেখানেই আবার নতুন ভূমিকায় ফিরতে পেরে আমি আপ্লুত। এই ফ্র্যাঞ্চাইজির সংস্কৃতি যেমন মুগ্ধকর, তেমনই তাদের সমর্থক থেকে ভালো ক্রিকেটাররা রয়েছেন। সেই দলেরই বোলারদের সঙ্গে কাজ করার জন্য এখন মুখিয়ে রয়েছি আমি। ২০২৬ সালে তাদের সাফল্য দিতে চাই”। এবারের দল গোছানোর কাজটা এখন থেকেই শুরু করে দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষপর্যন্ত তাদের সাফল্য আসে কিনা সেটাই দেখার।