ইরানের চ্যাম্পিয়ন দলকে হারিয়ে যাত্রা শুরু ইস্টবেঙ্গলের, দেবব্রত সরকারের মুখে পাস ক্লাবের কথা

এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের(AFC Champions League) মূলপর্বের ম্যাচে দুরন্ত জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গলের মহিলা দল(Eastbengal Womens Team)। ইকানের চ্যাম্পিয়ন দল বাম খাতুনকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দুরন্ত যাত্রা শুরু করেছে লাল-হলুদের মহিলা বাহিনী। আর সেই ম্যাচ জয়ের পরই লাল-হলুদের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের(Debbrata Sarkar) বিশেষ বার্তা। সেইসঙ্গে খানিকটা হুঙ্কারও দিলেন। দেবব্রত সরকারের সাফ কথা ইস্টবেঙ্গল ঘরে এবং বাইরে দুই জায়গাতেই ইরানকে হারাল। উঠে এল সেই পাস ক্লাবের কথাও। ধারেভারে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নামলেও ইস্টবেঙ্গলের মহিলা ব্রিগেড ছিল(Eastbengal Womens Team) এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে। ম্যাচের ৪ মিনিটের মধ্যেই শিলকি দেবীর গোল। ১০ মিনিটের মধ্যে ফের একটা সুযোগ তারা পেয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সৌম্যার শট নেটে লেগেই ব্যর্থ হয়। বাম খাতুনও যে সুযোগ পায়নি তা নয়। ২০ মিনিটের মধ্যে তারাও সমতায় ফিরতে পারত। কিন্তু লাল-হলুদের রক্ষণের দাপটে তা হয়নি। তবে গোল পেতে খুব একটা বেশি অপেক্ষা ইস্টবেঙ্গলকে(Eastbengal) করতে হয়নি। ম্য়াচের বয়স যখন ৩২ মিনিট, ফাজিলার গোলে ফের এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরে ইরানের বাম খাতুন। যদিও ইস্টবেঙ্গলকে আটকানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। বিরতির পর ইস্টবেঙ্গলের মুহূর্মুহূ আক্রমণ। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারছিলেন না। অবশেষে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে কাঙ্খিত গোল রেস্টি নাজিরির। সেইসঙ্গে প্রথম ম্যাচ জিতে অনেকটাই এগিয়েও গেল লাল-হলুদের মহিলা বাহিনী। এমন জয়ের পর উচ্ছ্বসিত লাল-হলুদের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার। সেইসঙ্গে সংঘবদ্ধ থাকার বার্তাও দিলেন তিনি। কারণ সামনেই যে রয়েছে আরও দুটো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। দেবব্রত সরকার জানান, “সবচেয়ে একটা জিনিস ভালো লাগছে আমরা দেশে এবং বিদেশে ইরানকে হারালাম। ৭০- এ দেশে এসেছিল পাস ক্লাব, তাকে হারিয়েছিলাম। আর এদিন আমাদের মহিলাদের দল বিদেশের মাটিতে ইরানকে হারালাম। এই দুটো জিনিস এক করলে সত্যিই ভালো লাগছে ব্যপারটা”। একইসঙ্গে তিনি দলকে আগামী দুটো ম্যাচ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন। দেবব্রত সরকার জানান, “এই একটা ম্যাচ নিয়ে ভাবলে হবে না। প্রতিযোগিতার বাকি দুটো ম্যাচকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পরের রাউন্ডে যেতে হব। এই জিনিসটা আশা করি আমার কোচ যথেষ্ট ভালই বোঝে। আমাদের এখান থেকেই এই বার্তাটাই থাকবে সংঘবদ্ধ থাক এবং পরের ম্যাচের আগে এমনভাবেই প্রস্তুতি চালাও যাতে সেখানেও সাফল্য আসে”।
শিলংয়ের বদলা বাংলাদেশেই নিতে চান গুরপ্রীতরা

ভারতের(India Football Team) সামনে এবার বাংলাদেশ। তার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ সেই দলে রয়েছে হামজা চৌধুরি। যাঁর কারণে শিলংয়ের মাঠে বদলে গিয়েছি ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচের সমীকরণটা। সেই হিসাবটাই এবার বদলাতে নামছে মেন ইন ব্লুজ(Men In Blues) ব্রিগেড। এশিয়ান কাপের যোগ্যতা নির্ধারণের সুযোগ দুই দলের কাছেই নেই। তবুও ভারতীয় শিবির অত্যন্ত মরিয়া। কারণ এই ম্যাচটা তাদের কাছে সম্মানের লড়াই। গুরপ্রীত(Gurpreet Singh Sandhu), সন্দেস ঝিঙ্গানরা(Sandesh Jhingan) সেই প্রস্তুতিতেই এখন ব্যস্ত। কোনওরকম খামকি রাখতেই নারাজ তারা। শিলংয়ের সেই ম্যাচের স্বাক্ষী ছিলেন গুরপ্রীত(Gurpreet Singh Sandhu), সন্দেশ ঝিঙ্গানরা। বাংলাদেশের মাটিতে এবার তারই বদলাতে নিতে প্রস্তুত খালিদের ভারত। ভারতের এই দলের একমাত্র ঝিঙ্গান এবং গুরপ্রীতের(Gurpreet Singh Sandhu) বাংলাদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যদিও সেটা ৮ বছর আগের খেলেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাটাই দলের সতীর্থদের সঙ্গে যে ভাগ করে নিচ্ছেন তারা বলার অপেক্ষা রাখে না। এছাড়া এই মুহূর্তে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণও খুব একটা ভালো নয়। বাংলাদেশকে হারাতে পারলে যে তারও একটা জবাব দেওয়া যাবে তাও বেশ স্পষ্ট। সামনে রয়েছন আবার হামজা চৌধুরি(Hamza Chowdhury)। তাঁকে আটকাতেও যে খালিদের ছক তৈরি তা কিন্তু ভারতীয় শিবিরের ফুটবলারদের হাবেভাবে স্পষ্ট। এবার আবার ভারতীয় শিবিরে রয়েছেন রয়ান উইলিয়ামস। বাংলাদেশে পৌঁছনোর পর থেকেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় শিবির। এখন শুধুই বাংলাদেশ বধের অপেক্ষায় গোটা মেন ইন ব্লুজ ব্রিগেড।
ইস্টবেঙ্গলের প্রস্তুতিতে যোগ দিলেন গিল, ক্রেসপো

সুপার কাপ সেমিফাইনালের আগে জোড়া স্বস্তি ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) শিবিরের। লাল-হলুদের প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন সওল ক্রেসপো(Saul Crespo) এবং প্রভসুখন গিল(Prabhsukhan Gill)। আর তাতেই খানিকটা হলেও যে লাল-হলুদ শিবিরে স্বস্তি এসেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে যোগ দিতে পারেননি প্রভসুখন গিল(Prabhsukhan Gill)। তবে গত রবিবারই শহরে পৌঁছেছেন লাল-হলুদের গোলের নীচে প্রধান শক্তি। অস্কারে(Oscar Bruzon) তত্ত্বাবধানে জোর কদমে প্রস্তুতিও শুরু করে দিলেন তিনি। একইসঙ্গে চোট সারিয়ে ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে যোগ দিলেন সওল ক্রেসপোও। গত ১০ নভেম্বর থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সেই শিবিরে যোগ দেননি প্রভসুখন গিল(Prabhsukhan Gill)। খোঁজ নিয়ে জানান যায় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে পঞ্জাবেই নিজের বাড়িতে রয়ে গিয়েছিলেন গিল। সেখানেই তাঁর চিকিৎস চলছিল। যদিও ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) টিম ম্যানেজমেন্ট তাঁর সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ রেখে চলছিল। গত সপ্তাহের মাঝামাঝিই তাঁর সুস্থ হওয়ার খবর চলে এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের কাছে। গত রবিবার রাতেই ইস্টবেঙ্গল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন প্রভসুখন গিল(Prabhsukhan Gill)। সপ্তাহের প্রথম গিন থেকেই মাঠে নেমে পড়লেন এই তারকা ফুটবলার। অন্যদিকে একইসঙ্গে লাল-হলুদের প্রস্তুতিতে যোগ দিয়েছেন সওল ক্রেসপো(Saul Crespo)। বেশ কয়েকদিন আগেই শহরে চলে এসেছিলেন। কিন্তু প্রস্তুতিতে যোগ দেননি। চিকিৎসকের পরামর্শ মতো রিহ্যাব চালাচ্ছিলেন এখানেও। কোচ আসার পরও ক্রেসপোকে রিহ্যাবেই জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে গিলের সঙ্গে সোমবার থেকেই লাল-হলুদের প্রস্তুতিতে যোগ দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ সও ক্রেসপো। সুপার কাপে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচেই চোট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই তাঁকে নিয়ে চিন্তা বেড়েছিল। স্পেনে ফিরলেও সেখানে রিহ্যাব সারছিলেন এই তারকা ফুটবলার। সোমবার থেকে প্রস্তুতিতে নেমে পড়লেন তিনি। চলত সপ্তাহের সোমবার থেকেই সুপার কাপের জন্য জোর কদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন অস্কার ব্রুজোঁ। এবার সুপার কাপ ইস্টবেঙ্গলের হয় কিনা সেটাই দেখার।
বাভুমাও মানছেন পিচ ভারতের কথাতেই তৈরি হয়েছিল

নিজেদের পাতা ফাঁদে যে ভারত নিজেরাই পড়েছে, সেই কথা এবার মেনে নিচ্ছে প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাও(Temba Bavuma)। সরাসরি না বললেও, তাঁর বক্তব্য কিন্তু এমনটাই। ভারত স্পিন বান্ধব পিচ চেয়েছিল সেই কথাই বারবার উঠে এল টেম্বা বাভুমার(Temba Bavuma) মুখেও। ইডেন গার্ডেন্সে(Eden Gardens) হাতে আড়াই দিন। লক্ষ্য ছিল মাত্র ১২৪ রান। কিন্তু সেই রানই করতে পারেননি ভারতীয় দলের ব্যাটাররা। এরপর থেকেই ভারতীয় দলকে ঘিরে বহু প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে। বিশেষ করে ম্যাচের পর গৌতম গম্ভীরের(Gautam Gambhir) বিস্ফোরক সাংবাদিক সম্মেলন। যেখানে কার্যত তিনি নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে তাদের দাবী মতোই নাকি পিচ হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরও হারতে হয়েছে ভারতকে। তাও আবার বিশ্রীভাবে ঘরের মাঠে হার। এই নিয়ে এখন ভারতীয় ক্রিকেট মহলে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে। সেখানেই টেম্বা বাভুমার(Temba Bavuma) এই কথা যে সেই সমালোচনার আগুনে আরও ঘি ঢালার কাজটা করে ফেলল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্যাচ শেষে স্বভাবিক ভাবেও বাভুমার কাছে পিচ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ইডেন টেস্টের প্রথম দিনের পর থেকেই পিচ নিয়ে নিজেদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা টিম ম্যানেজমেন্ট। সেখানেই ম্যাচ শেষে বাভুমার(Temba Bavuma) বার্তা, তারা নাকি এখানে আসার আগেই শুনেছিল একটা পক্ষের দাবী মতো পিচ তৈরি করতে হচ্ছে। আর সেট নাকি স্পিন সহায়ক হচ্ছে। বাভুমা বলেন, “হ্যা, সম্ভাব্য এটাই হয়ত সত্যি। এই পিচ যেভাবে তৈরি হয়েছিল, আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি যে কোনও একটা পক্ষের কথাতেই হয়ত তৈরি হয়েছিল এই পিচ। আমার এখানে আসার আগে থেকেই জানতাম যে পিচ স্পিন সহায়ক তৈরি হতে চলেছে”। ইডেন টেস্টের ভয়ঙ্কর এই পিচে একমাত্র অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেছিলেন টেম্বা বাভুমা(Temba bavuma)। কার্যত তাঁর সেই অধনায়কোচিত ইনিংসের জন্যই যে দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের পথে পৌঁছতে পেরেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ইডেনে নিজেদের সুবিধা মতো পিচ বানিয়ে হারতে হয়েছে ভারতকে। এবার খেলা অসমের গুয়াহাটিতে। সেখানে কী করবে টিম ইন্ডিয়া, এই নিয়েই কিন্তু প্রশ্নও উঠতে শুরু করে দিয়েছে।