উসমান তারিককে ঘিরে আলোচনা, সূর্যকুমারের বার্তা; “সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নও সমাধান করব”

কলম্বোয় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের আগে নতুন এক নাম ঘুরছে আলোচনার কেন্দ্রে উসমান তারেক (Usman Tariq)। পাকিস্তানের এই স্পিনারকে ভারত আগে কখনও মুখোমুখি হয়নি। তাই কৌতূহলও বেশি। অনেকে বলছেন, স্পিন সহায়ক পিচে তিনি বড় ভূমিকা নিতে পারেন। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) অবশ্য বিষয়টি নিয়ে খুব স্বাভাবিক। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি হাসিমুখেই বলেন, “পরীক্ষায় সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন এলে কি আমরা খাতা ফাঁকা রাখি? না। উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করি। এখানেও সেটাই করব।” উসমান মাত্র চারটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। তবু ইতিমধ্যেই পরিচিত হয়ে গেছেন। কারণ, তাঁর উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা। আর সেই অদ্ভুত বোলিং অ্যাকশন। বল ছাড়ার আগে সামান্য থামেন তিনি। সেটাই নিয়ে বিতর্ক চলছে। তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা অদ্ভুত অ্যাকশনের বোলারদের বিরুদ্ধে অনুশীলন করেছি। পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নিয়েছি।” উসমানের পরিসংখ্যানও শক্ত। ৪২টি টি-টোয়েন্টিতে ৭০ উইকেট। গড় এবং ইকনমি দুটোই প্রশংসনীয়। তাই পাকিস্তান তাঁর উপর আস্থা রাখছে। অন্যদিকে ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার Ravichandran Ashwin মজার এক কৌশলের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্য,“বোলার যদি থামে, ব্যাটারও সরে যেতে পারে। বলতে পারে, বল কখন আসবে বুঝতে পারিনি।” সব মিলিয়ে ম্যাচের উত্তেজনা বাড়ছে। উসমানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে সূর্যকুমারের কথায় পরিষ্কার চ্যালেঞ্জ যাই হোক, ভারত প্রস্তুত।
জয় দিয়ে শুরু মোহনবাগানের, যুবভারতীতে নজর কাড়লেন দিমি

সের্জিও লোবেরার কোচিংয়ে আইএসএলে শুরুটা জয় দিয়েই করস মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। তবে বহু সুযোগ নষ্ট না করলে, গোলের ব্যবধানটা বড় হতেই পারত। যদিও শেষপর্যন্ত কেরালা ব্লার্টার্সের বিরুদ্ধে ২-০ গোলেই ম্যাচ জিততে হল সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে(MBSG)। প্রথম গোল জেমির। আর একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল করেন টম অলড্রেড। তবে এদিন প্রথম একদশে ফিরেই কিন্তু সকলের নজর কাড়লেন দিমিত্রি পেত্রাতস(Dimitri Petratos)। তিনি যে এবার নতুন করে চমক দিতে প্রস্তুত তা যুবভারতীতে নেমেই বুঝিয়ে দিয়েছেন দিমিত্রি। গোল হয়ত পেলেন না তিনি, কিন্তু তাঁর তুলে আনা একের পর এক আক্রমণ বারবারই কেরালা ব্লাস্টার্সকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছিল। তাঁরই বাড়ানো নিখুঁত পাস থেকে জেমি ম্যাকলরেনের(Jamie Maclaren) গোল। প্রথমার্ধে যদি একটু জন্য লক্ষ্যচ্যূত না হতেন, তবে মোহনবাগনের হয়ে প্রথম গোলটাও এদিন হয়ত দিমিত্রির নামেই হয়ে যেত। এদিন ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ বাদ দিলে, প্রথমার্ধের শুরু থেকেই কেরালা ব্লাস্টার্সের ওপর ভয়ঙ্কর আক্রমণ শানাতে শুরু করেছিল মোহনবাগান। কখনও জেমি তো কখনও দিমির আক্রমণ। বক্সের মধ্যে দিমি বলে ছোঁয়া লাগাতে ব্যর্থ না হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই এগিয়ে যেতে পারত মোহনবাগান। লিস্টন কোলাসো থেকে আপুইয়াদেরও শট একটুর জন্যই ব্যর্থ হয়েছিল। তবে গোল পেতে মোহনবাগানকে বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে আপুইয়ার বাড়ানো বল ম্যাকলরেনের পায়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দেন দিমিত্রি। গোল করতে ভুল করেননি জেমি ম্যাকলরেন। বিরতির পরও মোহনবাগানেরই দখল ছিল বেশি। রবসন রোবিনহও বেশকিছু সুযোগ কিন্তু তৈরি করে দিয়েছিলেন। যদিও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি মোহনবাগান। তবে এই পর্বে কেরালাও ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ ২০ মিনিট মোহনবাগানের রক্ষণে বারবার আক্রমণ করে তারা। কিন্তু শুভাশিস, টম অলড্রেডদের হাত ধরে বারবারই বেঁচে যায় মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন ফুটবলাররাও যে সুযোগ পাননি এমনটা কিন্তু নয়। তবে জালে বল জড়াতে পারছিলেন না কামিন্সরা। একেবারে শেষ মুহূর্তে ফ্রিকিক থেকে অলড্রেডের দুরন্ত হেডে কেরালার কফিনে শেষ পেড়েকটি পুঁতে দেন টম অলড্রেড। সেইসঙ্গেই উচ্ছ্বসিত যুবভারতীত। প্রথম ম্যাচ জেতার উচ্ছ্বাস থাকলেও, লোবেরা কিন্তু একেবারে নিশ্চিন্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেন না। কারণ ম্যাচের একেবারে অন্তিমলগ্নে চোট পেয়ে, স্ট্রেচারে করেই মাঠ ছাড়তে হয় রবসন রোবিনহোকে।
ম্যাচের আগে পাকিস্তানকে ‘চাপমুক্ত’ থাকার বার্তা বাবরের

কিছুদিন ধরেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিক নন বাবর আজম Babar Azam। তবু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে বড় ম্যাচে তাঁর অভিজ্ঞতাই হতে পারে পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য ভরসা। প্রাক্তন অধিনায়ক মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই ম্যাচে দক্ষতার পাশাপাশি মানসিক শক্তিই আসল। একটি ক্রিকেট ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাবর ভারত–পাক লড়াইয়ের আলাদা আবহ নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁর কথায়, এই দ্বৈরথ শুধু দুই দলের নয়, আবেগেরও। “এই ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা,” বলেন তিনি। বিশ্বজুড়ে দর্শকের নজর থাকে এই লড়াইয়ে। প্রত্যাশার মাত্রাও থাকে অনেক উঁচুতে। ভারতের বিরুদ্ধে একাধিকবার খেলেছেন বাবর। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নতুনদের জন্য বার্তা দিয়েছেন পরিষ্কার মাথা ঠান্ডা রাখার। তিনি মনে করেন, গ্যালারির চিৎকার বা বাইরের আলোচনা যতটা সম্ভব এড়িয়ে গেলে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়। পুরো ফোকাস থাকতে হবে মাঠে এবং নিজের দায়িত্বে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বেশ কয়েকটা এই ম্যাচ খেলেছি। একটা বিষয় শিখেছি, মাথা যত ঠান্ডা রাখা যায়, তত স্বচ্ছন্দে থাকা যায়। গ্যালারির আওয়াজ বা বাইরের কথাবার্তা যত কম শুনবেন তত ভাল। সম্পূর্ণ ভাবে ক্রিকেট এবং খেলার মধ্যে থাকতে পারলে ভাল হয়।’’ বাবর এর সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘আমরা সব সময় এই অভিজ্ঞতাগুলো দলের জুনিয়রদের সঙ্গে ভাগ করে নিই। ওদের বোঝাই, এই ম্যাচে উত্তেজনা থাকবেই। তার মধ্যেই চাপহীন থাকার চেষ্টা করতে হয়। যত চাপমুক্ত থাকতে পারবে, তত ভাল পারফরম্যান্সের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেটা ক্রিকেটারদের জন্য ভাল, দলের জন্যও।’’
ভারতের বিরুদ্ধে নতুন ভাবেই শুরু করতে চান পাকিস্তানের অধিনায়ক

ইন্ডিয়ার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগেই পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আঘা (Salman Ali Agha) মুখোমুখি হলেন কলম্বোয় সাংবাদিকদের। ম্যাচের আগে নানা বিতর্ক থাকলেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, মাঠে নামলে সবকিছুই ক্রিকেটে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। পাকিস্তানের বয়কট বিতর্ক, রাজনৈতিক টানাপোড়েন সবকিছুর পর এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনার শেষ নেঈ। তবে আঘা বললেন, “ম্যাচটা ভালো ভাবে হওয়া উচিত। মাঠের বাইরের জীবনটা আলাদা। মাঠে নামলে শুধু ক্রিকেটটাই আর খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ।” বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পুরানো রেকর্ড খুললে, তা খাতা কলমে খুব ভালো নয় এ কথাও স্বীকার করেছেন অধিনায়ক। তবে অতীত টেনে আনতে রাজি নন। “আমাদের রেকর্ড খুব ভালো না, সেটা জানি। কিন্তু প্রতিটা ম্যাচ নতুন করে শুরু হয়,” মন্তব্য পাকিস্তান অধিনায়কের। টস নিয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিতেও নারাজ আগা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “টস ম্যাচ ঠিক করে না। ভালো ক্রিকেট খেললে জিতবে। ক্রিকেটটাই আসল, টস নয়।” এদিকে স্পিনার উসমান তারেকের (Usman Tariq) বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক চলছেই। যদিও তাঁকে আগেই আইসিসি ছাড়পত্র দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে আগা বলেন, “উসমানকে দু’বার আইসিসি ক্লিয়ার করেছে। এখনও কেন এত আলোচনা হচ্ছে বুঝতে পারছি না। ও এসব নিয়ে ভাবছে না।” তারকা ব্যাটার বাবর আজ্মের Babar Azam ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু অধিনায়ক তাঁর উপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন। ভারতের ওপেনার অভিষেক সর্মার Abhishek Sharma অসুস্থতার কারণে অনিশ্চিত। তাঁকে নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেন আগা। “আমি চাই অভিষেক খেলুক। আশা করি ও দ্রুত সেরে উঠবে। আমরা সেরাদের বিরুদ্ধে খেলতে চাই।” শেষ ম্যাচে করমর্দন ইস্যু নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ভারত রাজি থাকলে পাকিস্তান কি হাত মেলাবে? হাসিমুখে আগার জবাব, “কালই জানা যাবে।” বৃষ্টি আশঙ্কা থাকলেও উত্তেজনায় কোনও ঘাটতি নেই। তবে আগার কথায় পরিষ্কার, পাকিস্তান চায় লড়াই হোক শুধুই ক্রিকেটের ময়দানে।