ইউসেফ-মিগুয়েলে ব্লকব্লাস্টার শো ইস্টবেঙ্গলের

আবারও ইউসেফের জোড়া গোল। আবারও একটা দুরন্ত জয় ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal)। যুবভারতীতে এবার যেন এক অন্য ইস্টবেঙ্গল। পরপর দুই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করল লাল-হলুদ শিবিরের ছেলেরা। আর তার নেতৃত্বে ইস্টবেঙ্গলের নতুন জুটি ইউসেফ(Yussef Ezzejjari) ও মিগুয়েল(Miguel)। একজন বল সাজিয়ে দিচ্ছেন, আরেকজন লক্ষ্যভেদ করে উল্লাসে মাতছেন। পিছিয়ে থেকেও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। ইউসেফের জোড়া গোলের পাশাপাশি গোল পেলেন এডমুন্ড এবং শেষ মুহূর্তে সেই মিগুয়েল। স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ১৫ মিনিটের একটা ঝড়। আর তাতেই কার্যত তছনছ স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লি। যদিও অগাস্টিনের গোলে ৪ মিনিটের মাথাতেই এগিয়ে গিয়েছিল দিল্লি। যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গলের সাপোর্টাররাও খানিকটা থমকে গিয়েছিলেন। আসলে এরপরই যে বাকি ছিল আসল শো। শুরু হল ইউসেফ, মিগুয়েল, এডমুন্ডদের ভয়ঙ্কর আক্রমণ। ইউসেফের হেড থেকে এডমুন্ডের পায়ে বল। দূরপাল্লার শটে বল জালে জড়াতে এতটুকু ভুল করেননি তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের একটা আক্রমণ। তারও নেপথ্যে সেই এডমুন্ড। কার্যত প্রতিপক্ষ শিবিরের রক্ষণকে তিনি নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছিলেন। সেইসঙ্গে ইউসেফতো রয়েছনই হাল ধরার জন্য। এবার গোল না পেলেও এডমুন্ড হাসিল করে নিয়েছিলেন পেনাল্টি। ইউসুফের এই ম্যাচে প্রথম গোল। কিছু্ক্ষণের মধ্যে আবারও আক্রমণ। আর নেপথ্য ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের কারিগড় সেই মিগুয়েল। তাঁর বাড়ানো নিখুঁত বল আবারও জালে জড়ালেন সেই ইউসেফ। সুযোগ পেলেই যেন তা হাতছাড়া করতে নারাজ এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। সেইসঙ্গে লাল-হলুদের গোলমেশিনও হয়ে উঠছেন তিনি। এতদিন ধরে যে স্কোরারে খোঁজটা ইস্টবেঙ্গল চালাচ্ছিল, ইউসেফ মাঠে নেমে বোধহয় সেটাই বুঝিয়ে দিলেন। বিরতির পরও ইস্টবেঙ্গলের চাপই ছিল বেশি। যদিও দ্বিতীয়ার্ধের ৪৫ মিনিটের মধ্যে সুযোগ পেলেও, অবশ্য ইস্টবেঙ্গল জালে বল জড়াতে পারেননি। এই অর্ধেই আবার চোট সারিয়ে মাঠে নামলেন রাকিপ। তবে নির্ধারিত সময়ে না পেলেও, একেবারে শেষ মুহূ্র্তে আবারও একবার নড়ে ওঠে প্রতিপক্ষের জাল। এবারের গোলদাতা ব্রাজিলের মিগুয়েল। পরপর দুই ম্যাচ মিলিয়ে সাত গোল দিয়ে ফেলল ইস্টবেঙ্গল। সেই সুবাদে এই মুহূর্তে লিগ টেবিলে শীর্ষেও চলে গেল লাল-হলুদই।
ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে দ্রাবিড়ের ফেভারিট সূর্যদের টিম ইন্ডিয়া

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে ভারতীয় দল। সূর্যকুমার যাদবের(Suryakumar Yadav) এই দলকে নিয়েই এবার বিরাট কথা প্রাক্তন টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের(Rahul Dravid)। এবারের বিশ্বকাপের ফাইনালটা নাকি ভারতের স্বপ্নের ফাইনাল হতে চলেছে। এমনকি সবকিছু ঠিকঠাক চললে ভারতই যে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ট্রফিটা তুলবে তাও বলতে বলতে দ্বিধা করেননি রাহুল দ্রাবিড়(Rahul Dravid)। শেষপর্যন্ত দ্রাবিড়ের(Rahul Dravid) ভবিষ্যদ্বানী সঠিক হয় কিনা সেটা তো সময়ই বলবে। এখনও পর্যন্ত চলতি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত রয়েছে ভারতীয় দল। বিশেষ করে দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন ঈশান কিষাণ, হার্দিক পান্ডিয়ারা। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সুপার এইটের ম্যাচে নামবে টিম ইন্ডিয়া(Team India)। তার আগেই ভারতীয় দল নিয়ে বিরাট বার্তা দিচ্ছেন রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর হাত ধরেই তো ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারতীয় দল। রাহুল দ্রাবিড় একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, “ভারত বনাম যেকোনও দলের হবে ফাইনাল। ভারত সেমিফাইনালে তো যাবেই, সেইসঙ্গে ফাইনালে যাওয়াটাও নিশ্চিত”। সুপার এইটে ভারতের গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবোয়ে। ২২ ফেব্রুয়ারি ভারত প্রথম ম্যাচে নামবে। সেখানেও সূর্যকুমাররা নিজেদের দাপট বজায় রাখতে পারে কিনা সেটা তো সময়ই বলবে।
প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যাটিং পজিশনে বদল আসতে পারে হার্দিকের

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মিডল অর্ডারের ব্যাটিং পজিশনে বদলের পরিকল্পনা ভারতের(India Team)। পরিস্থিতি অনুযায়ী হার্দিক পান্ডিয়া(Hardik Pandya) কিংবা শিবন দূবেকে ওপরের দিকে পাঠানো হতে পারে। এবারের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত অপরাজিত থাকলেও, মিডল ওভারে বেশ সমস্যা দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে সূর্যকুমার(Suryakumar Yadav) থেকে তিলক বর্মাদের খানিকটা স্লো ক্রিকেট কিংবা দ্রুত উইকেট হারানো। সেই কথা বিচার করেই এবার হার্দিক কিংবা দূবের ব্যাটিং পজিশন বদলের পরিকল্পনা চলছে। সেক্ষেত্রে যদি ৮-৯ ওভার পর্যন্ত কোনও উইকেট না পড়ে, তবে হার্দিককে ওপরের দিকে ব্যাটিংয়ে আসতে দেখা যেতেই পারে। এমনকি সূর্যকুমার যাদবরে ব্যাটিং পজিশনেও আসতে পারে বদল। সূর্যকুমার যাদব ম্যাচের আগে জানান, “ওপেনারদের বাদ দিয়ে তিন তেকে আট নম্বর পজিশন পর্যন্ত প্রত্যেকটি পজিশনই যথেষ্ট ফ্লেক্সিবল। যদি দেখা যায় যে ৮ থেকে ৯ ওভার পর্যন্ত কোনওরকম উইকেট পড়েনি, সেক্ষেত্রে হার্দিক বা দূবেকে ওপরের দিকে ব্যাটিং করতে আসতে দেখা যেতেই পারে। এমনকি আমার পজিশনও বদল হতে পারে”। সেইসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন আক্রমণ সামাল দিতেও বিশেষ প্রস্তুতি সারছে ভারতীয় দল। এবারের বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটারদের স্পিনের সামনে সমস্যায় পড়তে দেখা গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা যে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাইবে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্যাচের আগের দিন সেদিকেই ভারতীয় দলের বাড়তি নজর। অন্যদিকে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচের আগে মহম্মদ সিরাজের চোট নিয়েও খানিকটা চিন্তায় ভারত। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে নামার আরেক দিকেও সকলের নজর রয়েছে। তিনি হলেন অভিষেক শর্মা। তবে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে নামার আগে নেটে কিন্তু বেশ বিধ্বংসী মেজাজে দেখা গেল অভিষেক শর্মাকে। আবারও যেন সেই পুরনো ফর্মে তিনি। এখনও পর্যন্ত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে রানের খাতা খুলতে পারেননি তিনি। এবার সুপার এইটের মঞ্চ থেকে অভিষেকের প্রত্যাবর্তন হয় কিনা সেটাই দেখার।
ম্যাচের একদিন আগে হোম গ্রাউন্ড অনিশ্চিত কেরালা ব্লাস্টার্সের

রবিবার মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে নামার আগে হঠাৎই স্টেডিয়াম নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে কেরালা ব্লাস্টার্স(Kerala Blasters)। গ্রেটার কোচিং ডেভলপমেন্ট অথোরিটির সঙ্গে স্টেডিয়ামের ভাড়া নিয়ে মত পার্থক্য। আর তার জেরেই ম্যাচের আগের দিন স্টেডিয়ামে তালা গ্রেটার কোচিং ডেভলপমেন্ট অথোরিটির। আর তাতেই এবার সূচী অনুযায়ী কেরালা ব্লাস্টার্সের(Kerala Blasters) ঘরের মাঠে ম্যাচ নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশার একটি ম্যাচ পিছিয়ে গিয়েছিল। এবার কী তবে রবিবারের কেরালা ব্লাস্টার্স বনাম মুম্বই সিটি এফসি ম্যাচও পিছিয়ে যেতে চলেছে। কারণ অথোরিটির সঙ্গে স্টেডিয়াম পাওয়া নিয়ে কথা হলেও, হঠাৎই দুই তরফের মধ্যে স্টেডিয়ামের ভাড়া নিয়ে একটা মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। আর তারই ফলে ম্যাচের আগের দিন মিডিয়া রুম তালা দিয়ে দিয়েছিল গ্রেটার কোচিং ডেভলপমেন্ট অথোরিটি। কেরালাকেও ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলন অনলাইনেই করতে হয়েছে। এমনকি কোচ এবং ফুটবলার মাঠে এলেও তাদের ফিরেই যেতে হয়েছে। আইএসএল শুরু হলেও। আবারও যেন সিঁদূরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন অনেকে। এবারের আইএসএলের থেকেই স্টেডিয়াম সংস্থার সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজি গুলোর মধ্যে নানান সমস্যা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে স্টেডিয়ামের ব্যয়ভার বহন এবং রেনোভেশনের খরচ নিয়ে। বেশ কয়েকদিন আগেই কেরালা ব্লাস্টার্সের এমনই একটি সমস্যার কথা সর্বসমক্ষে চলে এসেছিল। এমনকি একটা সময় শোনা গিয়েছিল যে কেরালা নাকি কোচি থেকে বেড়িয়ে কোঝিকোরেও নিজেদের ম্যাচ নিয়ে যেতে পারে। যদিও শেষপর্যন্ত কোচিংয়েই ঘরে ম্যাচ খেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও প্রথম ম্যাচে নামার আগেই সমস্যা। আর তাতেই এবার প্রশ্ন উঠথে কেরালা ব্লাস্টার্স আদৌ এবার কোচি-তে ম্যাচ খেলবে তো।