ছন্নছাড়া ফুটবল, কোনওরকমে হার এড়িয়ে এক পয়েন্ট লাল-হলুদের

নিস্প্রভ মিগুয়েল(Miguel Ferreira)। বহু সুযোগ নষ্ট ইউসেফেরও(Yussef Ezzejjari)। কোনওরকমে হার এড়াতে পারলেও, জয়ের সরণীতে ফিরতে পাকরল না ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। ঘরের মাঠে এফসি গোয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেই মাঠ ছাড়তে হল অস্কার ব্রুজোঁর(Oscar Bruzon) দলকে। সেইসঙ্গেই দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কিন্তু বহু প্রশ্নও উঠে গেল। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ নিয়ে। অন্তত যেভাবে বেশ কিছু সহজ সুযোগ নষ্ট করলেন ইউসেফ এজ্জেজারি। এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে এদিন জোড়া পরিবর্তন করেছিলেন অস্কার। দলে এসেছিলেন নাওরেম মহেশ। সেইসঙ্গে প্রথম একাদশে জায়গা করে নিয়েছিলেন মহম্মদ রাকিপ। আর মাঝমাঠের ভরসা ছিলেন সেই মিগুয়েল। যে ব্রাজিলিয়ান তারকা এতদিন ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) মাঝমাঠের প্রধান সৈনিক ছিলেন। বারবারই লক্ষ্যচ্যূত হলেন। সেইসঙ্গে তাঁর সেই চেনা নিখুঁত পাসেরও দেখা মিলল না। আর তাতেই ইউসেফ এজ্জেজারিও কার্যত নিস্ফলা প্রমানিত হল এদিন। যদিও বিপিনের বাড়ানো একটি বলে একেবারে সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন ইউসেফ। কিন্তু তাও জাসে জড়াতে পারেননি। আর সেইসঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের দিশেহারার মতো পাস বাড়ানো। বিরতির পরও ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) ছন্নছাড়া ফুটবল বদলায়নি। এরপর বিষ্ণুকে এনে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে চেয়েছিলেন অস্কার। তিনিও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। যদিও বারবারই বোঝাপড়ার অভাবে তা ব্যর্থ হয়েছে। কখনও বিপিন সিং তো কখনও ইউসেফরা গোলের সামনে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন নিজেদের ভুলে। আর মিগুয়েলের একের পর এক শট নিজে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন উছতে পারে। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে সোজবার্গ, ইউসেফরা মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। বেশকিছু ভালো আক্রমণও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চিত্রটা একই ছিল। কখনও নিজেদের ভুলে বল বাইরে তো কখনও প্রতিপক্ষ রক্ষণের পায়ের জালে আটকে গিয়েছে তাদের শট। সিঙ্গল লিগে যখন প্রতিটা দল এক পয়েন্টও হাতছাড়া করতে নারাজ, সেই সময় ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গল শেষ দুই ম্যাচ মিলিয়ে নষ্ট করল পাঁচ পয়েন্ট। এটাই পরবর্তীতে ইস্টবেঙ্গলের বড়সড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে না তো।
দেশে ফেরার কাতর আবেদন ডারেন স্যামির

দেশে ফিরে যেতে চান ড্যারেন স্যামি(Darren Sammy)। আর সোশ্যাল মিডিয়াতে তাঁর এই মেসেজটাই যেন সকলকে বেশ নাড়িয়ে দিয়েছে। টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ(T20 World Cup) থেকে চিটকে গেলেও এখনও পর্যন্ত কলকাতাতেই আটকে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল(West Indies)। কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধ পরিস্থিতি। আর তাতেই সমস্ত বিমান পরিসেবা এই মুহূর্তে বন্ধ রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতেই যেন চিন্তায় পড়ে গিয়েছে ক্যারিবিয়ান ব্রিগেডের প্রধান কোচ ডারেন স্যামি(Darren Sammy)। ভারতের কাছে হেরেই বিশ্বকাপে যাত্রা শেষ হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের(West Indies)। তারপরই তাদের দেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যে বিরাট যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরাণ। গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক অচলাবস্থা। দিন যত এগোচ্ছে ততই ভয়াল রূপ ধারণ করছে এই যুদ্ধ। পশ্চিম এশিয়ার কোনও দেশই আক্রমণের আওতার বাইরে নয়। সৌদি আরব, ওমান, কাতার থেকে দুবাইয়ে হয়েছে মিসাইলের হামলা। আর তাতেই এই মুহূর্তে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে দুবাই বিমান বন্দর থেকে বিমান পরিসেবা। এর ফলেই ভারত ছেড়ে দেশের উদ্দেশে রওনা দিতে পারছে না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুধুমাত্র তাই গোটা পশ্চিম এশিয়াতেই সমস্ত বিমান বন্দর বন্ধ রয়েছে। এমন একটা পরিস্থিতিতেই নিজের আতঙ্কের কথা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করেছেন ডারেন স্যামি। তিনি লিখেছেন, “আমি শুধুমাত্র বাড়ি ফিরতে চাই”। স্যামির এই টুইট দেখার পর থেকেই কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে বেশ হৈচৈ পড়ে গিয়েছে।
সঞ্জুর পারফরম্যান্সই অভিষেকের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, মনে করছেন কার্তিক

সঞ্জু স্যামসনের(Sanju Samson) পারফরম্যান্সটাই অভিষেক শর্মার(Abhishek Aharma) চাপ কমাতে সাহায্য করবে। এই মুহূর্তে ওপেনিংয়ে পরিবর্তনের কোনও প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন দীনেশ কার্তিক(Dinesh Karthik)। এবারের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি অর্ধশতরান পেলেও, চূড়ান্ত ব্যর্থতার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছেন অভিষেক শর্মা। সেখানেই শেষপর্যন্ত কী হয় সেটা তো সময়ই বলবে। তবে দীনেশ কার্তিক অবশ্য খানিকটা ধৈর্য ধরারই বার্তা দিচ্ছেন। ভাকতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন(Sanju Samson)। বিশেষ করে গত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন তারপর থেকে যে সঞ্জুর ওপর প্রত্যাশাটা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইসঙ্গে অভিষেক শর্মার ওপর চাপটাও ক্রমশ বাড়তে শুরু করেছে। সেই দিকেই বাড়তি নজর দেওয়ার পরামর্শ দীনেশ কার্তিকের। দীনেশ কার্তিক মতে, “আমার মতে যেভাবে সঞ্জু স্যামসন এই মুহূর্তে ব্যাটিং করছেন তাতে অভিষেক শর্মার ওপর থেকে চাপটা অনেকটাই কমে যাবে। আর এর ফলেই অভিষেক শর্মার ব্যাট থেকে তাঁর সেরাটা বের করে আনা সম্ভব হবে। আর অভিষেকও আশা করি বেশ ভালোভাবে ওয়াকিবহাল রয়েছেন যে সঞ্জুর সঙ্গে কেমনভাবে ব্যাটিংটা করবেন”। শেষ ম্যাচে ইডেনে ৯০ রানের ম্যাচ উইনিং নক খেলেছিলেন সঞ্জু স্যামসন। এবার সেমিফাইনালেও যে তেমনই একটা পারফরম্যান্স সঞ্জুর থেকে সকলে প্রত্যাশা করছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। একইসঙ্গে অভিষেকের সমালোচনাও শুরু হয়েছে জোরদার। এমন পরিস্থিতিতে সঞ্জুর পারফরম্যান্সটাই অভিষেকের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজটা করবেন বলে মনে করছেন দীনেশ কার্তিক।
যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে দেশে ফিরে স্বস্তিতে সিন্ধু

দুবাইয়ে প্রতিটা সময় আতঙ্কের ছিল। ভয়ে ভয়ে কেটেছে দুটো দিন। নিরাপদে দেশে ফেরার পরই নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন পিভি সিন্ধু(PV Sindhu)। অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ(All England Open) খেলার জন্য বার্মিংহ্যামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন পিভি সিন্ধু(PV Sindhu)। সেখানেই দুবাই হয়ে যাওয়ার কথা ছিল ভারতের এই তারকা শাটলারের। কিন্তু সেখানে গিয়েই বিপত্তির মুখে পড়েছিলেন হায়দরাবাদী ব্যাডমিন্টন তারকা। অবশেষে দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরার পরই সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা সকলকে শোনালেন পিভি সিন্ধু(Pv Sindhu)। হোটেলে নিরাপদে থাকলেও, বারবারই মিসাইলের শব্দে কেঁপে উঠছিল চারদিক। সেইসঙ্গে বিমান বন্দরে মঝেমধ্যই ধোঁয়া দেখে বেশ আতঙ্কিতই হয়ে পড়েছিলেন পিভি সিন্ধু। সেই কথাই তিনি দেশে ফেরার পর জানিয়েছেন। পিভি সিন্ধু জানিয়েছেন, “আমি যে বাড়ি ফিরতে পেরেছি এতেই আমি অত্যন্ত খুশি। সত্যিই সেখানকার পরিবেশ ছিল ভয়ঙ্কর। আতঙ্কের আবহ ছিল সেখানে। এটা এমন একটা পরিস্থিতি যা কেউই অনুমান করতে পারে না। একে যুদ্ধের পরিস্থিতি সেইসঙ্গে সেখানে আবার বিমান বন্দরও বন্ধ। আমি সদ্যই দুবাই পৌঁছেছিলাম। সেখানে গিয়েই দেখি এই ভয়াবহতার জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে বিমান বন্দর”। দেশে ফিরলেও যুদ্ধের ভয়াবহতা যে পিভি সিন্ধু এখনও পর্যন্ত ভুলতে পারছেন না তা কিন্তু বেশ স্পষ্ট।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে উইনিং কম্বিনেশনই ধরে রাখতে চায় ভারত

ঘরের মাঠে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ(T20 World Cup) জয়ের থেকে আর মাত্র একধাপ দূরে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত(India Team)। কিন্তু সামনে রয়েছে অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড(England)। তাদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম একাদশ কী হতে পারে তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে। যদিও শোনাযাচ্ছে সেমিফাইনালের মঞ্চে নাকি সেভাবে পরীক্ষা নীরিক্ষা না করার কথাই ভাবছে ভারতীয়(India Team) টিম ম্যানেজমেন্ট। উইনিং কম্বিনেশন না ভাঙার পথেই হাঁটতে চলেছে টিম ইন্ডিয়া। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে নামার আগে অনেকেই কুলদীপ যাদবকে(Kuldeep Yadav) খেলানোর কথা বলতে শুরু করেছিল। গুঞ্জন চলছিল তুঙ্গে। অনেকেই মনে করছিলেন যে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের স্পিন অস্ত্র হিসাবে কুলদীপ যাদবকে খেলানো উচিৎ। যদিও শোনাযাচ্ছে সেই পথে নাকি হাঁটতে চাইছে না ভারতীয় দল। বরং উইনিং কম্বিনেশনই ধরে রাখতে চাইছেন গৌতম গম্ভীর(Gautam Gambhir)। শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে টিম ইন্ডিয়া। বিশেষ করে সঞ্জু স্যামসনের দুর্ধর্ষ ব্যাটিং। কার্যত ভারতীয় দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার প্রধান কারিগড়ই ছিলেন এই সঞ্জু স্যামসন(Sanju Samson)। অর্থাৎ সেমিফাইনালেও যে সঞ্জু এবং অভিষেক জুটিকেই দেখা যাবে তাও বেশ স্পষ্ট। এই মুহূর্তে ভারতের বোলিং লাইনআপ নিয়ে কিন্তু খুব একটা স্বস্তিতে নেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। শেষ ম্যাচেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতীয় বোলাররা সেভাবে সাফল্যের মুখ দেখতে পাননি। একইরকমভাবে ভারতীয় দলের স্পিন আক্রমণও সেভাবে নিজেদের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে পারেনি। বিশেষ করে বরুঁ চক্রবর্তী শেষ ম্যাচে তো চূড়ান্ত ব্যর্থ। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই কুলদীপের কথা বলতে শুরু করেছিল। যদিও শেষপর্যন্ত উইনিং কম্বিনেশন না ভাঙার পথেই এগোচ্ছে টিম ইন্ডিয়া।