ক্লিনশিট নয়, প্রতি ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্টই লক্ষ্য লোবেরার

ওড়িশাকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে আইএসএলের লিগ টেবিলে শীর্ষস্খান আরও পাকা করেছে মোহনবাগান। সেখানেই মোহনবাগানের নায়ক এদিন সেই জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। আর দলের এমন পারফরম্যান্সে উচ্ছ্বসিত কোচ সের্জিও লোবেরাও(Sergio Lobera)। তাঁর ছোঁয়ায় এবার যেন সবুজ-মেরুণ ব্রিগেড আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। পাঁচ গোল দিলেও, মোহনবাগানকে অবশ্য একটা গোলও খেতে হয়েছে। কিন্তু বাগান কোচ সের্জিও লোবেরা(Sergio Lobera) গোল হজম নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন। তাঁর তো সাফ বার্তা গোল করতে গেলে ঝুঁকি তো নিতেই হবে। সাংবাদিক সম্মেলনে এসেই সের্জিও লোবেরা বলেন, হ্যাঁ আমরা একটা গোল খেয়েছি ঠিকই। কিন্তু তিন পয়েন্ট তুলতে গেলে এইটুকু ঝুঁকি নিতেই হবে আমাদের। আমার প্রধান লক্ষ্য ম্যাচ থেকে তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া। তাতে যদি ক্লিনশিট বজায় নাও থাকে তাতে কোনও সমস্যা নেই। প্রঝান হল আমার ফুটবলাররা গোল করতে পারছে কিনা। আর জিততে গেলে এইটুকু ঝুঁকি নিতেই হবে। অন্যদিকে এই ম্যাচেই আবার হ্যাটট্রিক করেছেন জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। তাঁর গোলের সংখ্যাটা অবশ্য এই ম্যাচে চার। যেভাবে ম্যাকলরেন এগোচ্ছে তাতে গোল্ডেন বুট জেতার প্রধান দাবীদার হয়ে উঠছেন। যদিও ম্যাকলরেন তা নিয়ে ভাবছেন না। স্ট্রাইকারের কাজটাই করে যেতে চান তিনি। ম্যাচ শেষে ম্যাকলরেন জানান, আমি একজন স্ট্রাইকার। আমার কাজটাই হল গোল করে যাওয়া। তবে এখনই কতগুলো গোল করব তা নিয়ে কোনওরকম হিসাব নিকাশ করিনি। প্রতি ম্যাচে দলকে জেতাতে চাই। হ্যাঁ অবশ্যই গোল পেতে চাই। এখনও অনেক ম্যাচ বাকি রয়েছে, ধাপে ধাপে এগোতে চাই।
ইউসেফকে পিছনে ফেললেন ম্যাকলরেন, প্রশংসায় ভরালেন বন্ধু দিমি

চলতি আইএসএলের মঞ্চে প্রথম হ্যাটট্রিকের মলিক জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। ওড়িশার বিরুদ্ধে কার্যত তাঁর পা থেকে গোলের বন্যা দেখা গেল। সেইসঙ্গেই এবারের আইএসএলের শুরু থেকে যে তুলনাটা শুরু হয়েছিল তার ব্যবধানটাও যেন অনেকটা বাড়িয়ে দিলেন খোদ ম্যাকলরেন। চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের ইউসেফের(Yusseff Ezzejjari) সঙ্গে এবার শুরু থেকেই ম্যাকলরেনের গোল সংখ্যা নিয়ে তর্জাটা শুরু হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় সেই ইউসেফকেই এবার কয়েক যোজন পিছনে ফেলে দিলেন জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। ওড়িশা এফসির বিরুদ্ধে একাই করলেন চার গোল। সেইসঙ্গে প্রথম হ্যাটট্রিকও তাঁর। চার ম্যাচে সাত গোল করে ইস্টবেঙ্গলের ইউসেফকে অনেকটাই দূরে ঠেলে দিলেন তিনি। আর ম্যাচ শেষে সতীর্থের এই পারফরম্যান্স নিয়ে উচ্ছ্বসিত দিমিত্রি পেত্রাতস। এটাই প্রথম নয়, ম্যাকলরেনের এমন বহু কীর্তিই রয়েছে, মাঠ ছাড়ার আগে জানিয়ে গেলেন দিমি(Dimitri Petratos)। মাঠ ছাড়ার আগে দিমিত্রি পেত্রাতস ম্যাকলরেনকে নিয়ে বলেন, “এটাই প্রথমবার তাঁর এক ম্যাচে এতগুলো গোল নয়। এর আগেও তিনি এই কাজ বহুবার করেছেন। তিনি গোল করতে ভালোবাসেন। ম্যাকলরেনের এই সাফল্যে আমি সত্যিই খুব খুশি। আর তাঁর গোল যে দলকেই সাহায্য করছে”। এদিন ১৪ মিনিট থেকে ঝড়টা শুরু করেছিলেন জেমি ম্যাকলরেন। সেটাই শেষ হয় ম্যাচের ৮৮ মিনিটে। এবার লিগের শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে রয়ছেন মোহনবাগানের এই তারকা ফুটবলার। সামনে এখনও অনেক ম্যাচ। এবার ম্যাকলরেনের পা থেকে আরও কী কী জাদু দেখা যায় সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।
জেমি-দিমির দাপটে ওড়িশাকে নিয়ে ছেলেখেলা মোহনবাগানের

জেমি-দিমি যেদিন একসঙ্গে তান্ডব চালাবেন সেদিন যে প্রতিপক্ষের অসহায়ের মতো আত্মসমর্পণ ছাড়া কোনও উপায় নেই, সেটা শুক্রবারের যুবভারতীতে দেখিয়ে দিল মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট(MBSG)। দুর্বল ওড়িশা লড়াইটা করল শেষ মিনিট পর্যন্ত। কিন্তু মোহনবাগানকে আটকানোর জন্য তা একেবারেই যথেষ্ট নয়। হ্যাটট্রিক করলেন জেমি ম্যাকলরেন(Jamie Maclaren)। সেইসঙ্গে ম্যাচে চার গোলের মালিক তিনি। দিমি(Dimitri Petratos) হয়ত গোল পেলেন না, কিন্তু একের পর এক গোলের নেপথ্য কারিগড় তো তিনিই। ৫-১ গোলে ওড়িশা এফসিকে হারিয়ে শীর্ষস্থানটা আরও মজবুত করে ফেলল লোবেরার(Sergio Lobera) সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ম্যাচের ১৪ মিনিট থেকে এদিন তান্ডবটা শুরু করেন জেমি ম্যাকলরেন। সেইসঙ্গে দিমিত্রি পেত্রাতোসের একের পর এক ডিফেন্স চেড়া পাস। জালে জড়াতে কী আর ভুল করেন জেমি ম্যাকলরেনের(Jamie Maclaren) মতো পোর খাওয়া ফুটবলার। রবসন রোবিনহো নেই। অনেকেই নানান আসঙ্কা করছিলেন। কিন্তু এই মোহনবাগান দল নিয়ে যে আশঙ্কার কোনও জায়গাই নেই তা ফের একবার দেখিয়ে দিবেন সের্জিও লোবেরা। ম্যাকলরেনরা তো ফর্মেই ছিল। লোবেরার ছোঁয়ায় দিমি এবার ফের অপ্রতিরোধ্য। ম্যাচের ১৪ মিনিটের মাথায় দিমিত্রির দুরন্ত ব্যাকহিল। সেখান থেকে শুভাশিসের পাস। ম্যাকলরেনের প্রথম গোল। সেই শুরু। ওড়িশা বাহিনী তখন আক্রমণ ভুলে শুধুই নিজেদের ঘর বাঁচাতে ব্যস্ত। কখনও দিমি তো কখনও লিস্টন, কামিন্সদের একের পর এক ভয়ঙ্কর আক্রমণ। দিমি-কামিন্স এবং ম্যাকলরেন ত্রয়ী এদিন যেন ঝড় তুলেছিল মাঠে আক্রমণের। কামিন্সও কয়েকটা সুযোগ মিস না করলে নিজের নামে এদিন গোল রাখতেই পারতেন। ম্যাচের ২৪ মিনিটে ফের একটা গোল। এবারও সেই জেমি ম্যাকলরেন। আর নেপথ্যে সেই দিমিত্রি পেত্রাতোস। মাঝে অ্যালবার্তো রডরিগেজের একটি গোল। প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে জেমি ম্যাকলরেনের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ। মাঝে অবশ্য রহিম আলির গোলে ব্যবধান কমিয়েছিল ওড়িশা। বিরতির পর থেকে মোহনবাগান আরও ভয়ঙ্কর। পাস বাড়ানোর পাশাপাশি তখন দিমিত্রি নিজেও যেন গোল পেতে মরিয়া। একের পর এক পাস এবং শট, যদিও সেগুলো ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছিলেন মোহনবাগান ফুটবলাররা। ম্যাকলরেন, মনবীররাও বারবার বক্সের ভিতর ঢুকলে গোলের মুখে খুলতে পারছিলেন না। অন্যদিকে ওড়িশাও কিন্তু পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছিল। মোহনবাগান রক্ষণে যে এখনও বেশ কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে সেটা অবশ্য এদিন ওড়িশা বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু তাতে কী ম্যাকলরেন, দিমি মাঠে থাকলে কোনও বাধাই কিছু না। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফের গোল মোহনবাগানের। এবারও গোলদাতা সেই ম্যাকলরেন। পাঁচ গোলের মধ্যে চার গোল একাই করলেন। এই মোহনবাগানকে রোখা এবার কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে তা বেশ স্পষ্ট।
পয়েন্ট নষ্ট করেও দলের পারফরম্যান্সে খুশি অস্কার!

ঘরের মাঠে গোয়ার বিরুদ্ধে হার এড়াতে পারলেও, প্রতিপক্ষের জালে বল জড়াতে পারেননি ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal) ফুটবলাররা। সেইসঙ্গে মাঠ থেকে মাত্র অক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে লাল-হলুদ। যখন সকলে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কাঁটা ছেঁড়া করছে, সেই সময় অস্কার(Oscar Bruzon) কিন্তু নিজেদের ফুটবলারদের পারফরম্যান্সে বেশ খুশি। অন্তত ড্রেসিংরুমে ফিরে তেমন কথাই তো বললেন অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। সেখানে ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন তারা নাকি ভালো খেলেছে। যদিও খেলার আরও উন্নতি করতে হবে। কিন্তু এই ছোট ফর্ম্যাটের লিগে ইস্টবেঙ্গল ইতিমধ্যেই তো পাঁচ পয়েন্ট খুইয়ে বসে রয়েছে। অস্কার(Oscar Bruzon) ফুটবলারদের খেলায় যতই খুশি হোন, কিন্তু এই জায়গা থেকে ইস্টবেঙ্গলের(Eastbengal) পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো কী খুব একটা সহজ হবে। যদিও সেই উত্তর অবশ্য অস্কার ব্রুজোঁই দিতে পারবেন। শুরুটা ভালোভাবে করলেও শেষ দুটো ম্যাচে একেবারেই ভালো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গলের তারকা মিগুয়েলকে আটকে দিলেই যেন অস্কারের সমস্ত প্ল্যানিং ভেস্তে যাচ্ছে। এই দুর্বলতা কাটানোই এখন ইস্টবেঙ্গলের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে কেভিন সিবিল্লে ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নেমে পড়লেও, এখনই তাঁর মাঠে নামার কোনও সম্ভাবনা নেই। শোনাযাচ্ছে গোটা মার্চ মাসটাই হয়ত তাঁকে রিহ্যাব করে কাটাতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণের সমস্যাটা রয়েই যাচ্ছে। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই এখন দেখার।
জাদেজার পরিপুরক অক্ষর, মনে করছেন গাভাসকর

২০২৪ সালের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই এই ফর্ম্যাট থেকে অবসর নিয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা(Ravindra Jadeja)। তাঁর পরিপূরক কে হবে তা নিয়েই চলছিল জোর জল্পনা। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের পরই জাদেজার পরিবর্ত হিসাবে অক্ষর পটেলকেই(Axar Patel) এবার মনে করছেন প্রাক্তন তারকা সুনীল গাভাসকর(Sunil Gavaskar)। তাঁর মতে জাদেজা ভারতীয় দলে যে ভূমিকাটা পালন করত সেটাই এবার পালন করছেন অক্ষর পটেল। বিশেষ করে তাঁর ফিল্ডিং দেখে আপ্লুত সুনীল গাভাসকর(Sunil Gavaskar)। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অক্ষর পটেলের দুটো ক্যাচ যে অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুরুতেই হ্যারি ব্রুকসের(Harry Brook) দুর্ধর্ষ ক্যাচ নিয়েছিলেন অক্ষর পটেল। অন্তত ২৪ মিটার পিছনের দিকে দৌড়ে ক্যাচ তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সেইসঙ্গে বাউন্ডারি লাইনে উইল জ্যাকসের ক্যাচটা। এছাড়া বোলিংয়েও উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে এই তারকা ক্রিকেটারের পারফরম্যান্স দেখে বেশ সন্তুষ্ট সুনীল গাভাসকর। ইংল্যান্ডকে হারানোর পর গাভাসকর বলেন, তাঁর এই ব্যাটিং এবং বোলিং পারফরম্যান্সের সৌজন্যে অক্ষর পটেল ভারতীয় দলের অন্যতম সেরা একজন ক্রিকেটার হতে চলেছেন। এর আগে আমাদের ছিল রবীন্দ্র জাদেজা, আর অক্ষর সেই ফাঁকা জায়গাটাই পূরণ করছেন। গাভাসকর আরও বলেন, হ্যারি ব্রুকের যে ক্যাচ অক্ষর পটেল নিয়েছিলেন সেটা এক কথায় অনবদ্য। কারণ ব্রুক যদি ক্রিজে থেকে যেতেন তাহলে ম্যাচ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমত তাঁর ছিল। তাঁর দেওয়া প্রতিটি সুযোগই নিতে হবে, এদিন সেটাই করে দেখিয়েছেন অক্ষর পটেল। এবার ভারতের সামনে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জিল্যান্ড। সেখানেই শেষপর্যন্ত ভারতীয় দল জিতে ট্রেফি ক্যাবিনেটে তৃতীয় টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফিটা তুলতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।
সমাপ্তি অনুষ্ঠানে পপ সেনসেশন রিকি মার্টিন

জমকালো অনুষ্ঠান দিয়েই টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের(T20 World Cup) সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে। সঞ্জু(Sanju Samson), ফিন অ্যালেনরা(Finn Allen) মাঠা নামার আগে আহমেদাবাদে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম মাতাবেন বিশ্বের পপ সেনসেশন রিকি মার্টিন(Rickey Martin)। আহমেদাবাদে ফের একবার শোনা যেতে পারে মারিয়া। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফের একবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের(T20 World Cup) ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। গৌতম গম্ভীরের(Gautam Gambhir) কোচিংয়ে ফের একবার ভারত টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হাতে তুলতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় সকলে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ভারতীয় দল। এবার তাদের সামনে প্রতিপক্ষ নিউ জিল্যান্ড। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জিততে এখন মরিয়া ভারতীয় দল। আগামী রবিবার সেই ম্যাচেই নামছে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। তার আগেই আইসিসির তরফে এক জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কিছু মিউজিক কনসার্ট রয়েছে বলেও শোনাযাচ্ছে। ভারতীয় সময় সন্ধে ৭.০০-এ ফাইনালে নামবে ভারত ও নিউ জিল্যান্ড। তার আগের এক ঘন্টার জমকালো অনুষ্ঠান। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হবে সমাপ্তি অনুষ্ঠান। সেখানেই মঞ্চ মাতাবেন রিকি মার্টিন(Rickey Martin)। ১৯৯৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় তাঁর জনপ্রিয়তা পৌঁছেছিল আকাশছোঁয়া। এবার আরও একটা বিশ্বকাপের মঞ্চ। তবে সেটা ক্রিকেটের বিশ্বকাপে রিকি মার্টিন শো। তারপরই শুরু হবে বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল।
বিধ্বংসী সঞ্জুর কাঁধে চেপে ফাইনালে ভারত, বোলিং চিন্তা বাড়াচ্ছে গম্ভীরের

সঞ্জু স্যামসনের দুরন্ত ব্যাটিং। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও পৌঁছে গেল ভারত। কিন্তু বিশ্রী বোলিং পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন কিন্তু একটা রয়েই গেল। অন্তত ২৫৩ রান করে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে যখন মাত্র ৭ রানে জিততে হয়। সেটা কিন্তু ফাইনালের আগে গৌতম গম্ভীরকে একটা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফাইনালে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবে টিম ইন্ডিয়া। ইডেনের পর ওয়াংখেড়েতেও ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হয়েছেন আবারও সঞ্জু স্যামসন। টস জিতে এদিন ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিয়েছিল ইংল্যান্ড। আর সেই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসনরা। অভিষেক এদিনও ব্যর্থ হলেও, সঞ্জুর ব্যাটে শুরু থেকেই ছিল বড় রানের ঝলক। জফরা আর্চার থেকে ওভারটন, স্যাম কারানদের কার্যত একাই বিধ্বস্ত করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে ফের পুরনো ছন্দে ছিলেন ঈশান কিষাণ। এই দুই তারকার হাত ধরে ৮ ওভারের মধ্যেই ১০০ রানের গন্ডীও টপকে গিয়েছিল ভারত।৯৭ রানের পার্টনারশিপও গড়েন সঞ্জু ও ঈশান কিষাণ। ঈশান ফেলেন ৩৯ রানে। আর ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে সঞ্জু যখন সাজঘরে ফিরছেন সেই সময় ভারতের রান ১৬০। বড় রান হওয়া তখনই নিশ্চিত। তাঁর গোটা ইনিংসটা সাজানো ৮টি চার ও সাতটি ছয় দিয়ে। শেষ মুহূর্তে দুবে, হার্দিক এবং তিলক বর্মার ঝোরো ইনিংসে ভর করে ভারত পৌঁছয় ২৫৩ রানে। শুরুতেই অবশ্য ৩৮ রানের সল্ট এবং ব্রুককে সাজঘরে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভারত। কিন্তু ইংল্যান্ডও দমে যাওয়ার মোডে ছিল না। বরং অনেক বেশী আক্রমণাত্মক ছিল তারা। সেখানেই ভারতের স্পিন আক্রমণ চূড়ান্ত ব্যর্থ। সঙ্গে অর্শদীপ, হার্দিকদের ওভারেও ছিল রানের ফোয়ারা। বরুণ একাই দিয়েছিলেন ৪ ওভারে ৬৪ রান। অর্শদীপ দিয়েছিলেন ৫১ রান। অক্ষর পটেল ৩ ওভারে ৩৫ রান। বেথেলের অতি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে একসময় তো চিন্তার ভাঁজও পড়ে গিয়েছিল ওয়াংখেড়েতে উপস্থিত সকলের। যদিও শেষপর্যন্ত জসপ্রীত বুমরার হাত ধরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম হয় ভারত। তিনি একটি উইকেট পেয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ৪ ওভারে বুমরাহ দিয়েছেন মাত্র ৩৩ রান। বিশেষ করে ১৭ তম ওভারটিতে তাঁর বোলিংয়েই ইংল্যান্ডের ওপর চাপ তৈরি হয়েছিল। আর বাউন্ডারি লাইনে অক্ষরের দুরন্ত ক্যাচ এবং তিলক যদি স্যান কারাণের কঠিন ক্যাচটা না নিতেন তবে সমস্যা বাড়তেই পারত। যদিও শেষপর্যন্ত তা হয়নি। ৭ রানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় দল।