বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ, জাপানের কাছে বিশ্রী হার ভারতের মেয়েদের

ভারতীয় মহিলা দলের সামনে বিশ্বকাপে পৌঁছনোর একটা বড় সুযোগ ছিল। কিন্তু ভিয়েতনামের পর জাপানের কাছে বিশ্রী হার। আর তাতেই ভারতের সমস্ত স্বপ্ন শেষ। ০-১১ গোলে জাপানের কাছে দ্বিতীয় ম্যাচে হারের ফলে ফিফা বিশ্বকাপ সহ লস অ্যাঞ্জেলসে হতে চলা অলিম্পিকের সুযোগও হাতছাড়া করল ভারত। আর সেইসঙ্গেই ফেডারেশনের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও কিন্তু প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিল। প্রথম ম্যাচে ভারত লড়াই করেছিল। কিন্তু জাপানের বিরুদ্ধে তো দাঁড়াতেই পারল না। ১১ গোল হজম করতে হল ভারতীয় মহিলা ফুটবল দলকে। এরপরই ফেডারেশনের নতুন কোচ নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠাটাই কিন্তু স্বাভাবিক। যে ক্রিসপিন ছেত্রী ভারতকে এশিয়ান কাপের যোগ্যতা নির্ণয় করিয়েছিলেন। কেন তাঁকে রাতারাতি সরিয়ে ভালভার্দিকে আনা হল। এতে দলের ওপর প্রভাব পড়েনি তো। মাত্র আড়াই মাসে কী একজন কোচ দলকে প্রস্তুত করতে পারেন। এই প্রশ্ন ওঠাটাই তো স্বাভাবিক।
পয়েন্ট খুইয়ে পাঁচদিনের ছুটি অস্কারের

শেষ দুই ম্যাচ থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল(Eastbengal)। কিন্তু খুইয়েছে পাঁচ পয়েন্ট। শর্ট ফর্ম্যাটের লিগে এত পয়েন্ট খোয়ানো যে লাল-হলুদের চিন্তা বাড়িয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু এর মাঝেই দলের ফুটবলারদের আপাতত পাঁচ দিনের ছুটি দিয়ে দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। ফুটবলারদের ধকল কমাতেই নাকি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এ একেবারে আগামী মঙ্গলবার থেকেই প্রস্তুতিতে নামবে লাল-হলুদ ব্রিগেড(Eastbengal)। অন্যদিকে গত ম্যাচে ফিট থাকলেও ক্রেসপোকে খেলাননি অস্কার ব্রুজোঁ(Oscar Bruzon)। শোনাযাচ্ছে ক্রেসপো নাকে টানা ২০ তেকে ৩০ মিনিট খেলার মতো পরিস্থিতিতে ছিলেন। তবুও অস্কার(Oscar Bruzon) নামানোর ঝুঁকি নেননি। দলের প্রয়োজনের সময় কোচের এমন সিদ্ধান্ত কিন্তু প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে কেরালা ম্যাচের প্রথম একাদশে ক্রেসপোর(Saul Crespo) ফেরার সম্ভাবনা নাকি প্রবল। অন্যদিকে কেভিন সিবিল্লে দলের সঙ্গে রিহ্যাব সারলেও, কবে মাঠে নামতে পারবেন তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই মার্চ মাসে তাঁর নামার সম্ভাবনা তো নেইই। এপ্রিলে নামলে আদৌ কবে থেকে নামতে পারবেন তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত নন খোদ কোচ অস্কার ব্রুজোঁও। শুরুটা ভালোভাবে করলেও ইস্টবেঙ্গল যে ফের ছন্নছাড়া হয়ে পড়েছে তার আভাস কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে।
লক্ষ্মীর ফেভারিট ভারত, সঞ্জুকে নিয়েও আত্মবিশ্বাসী প্রাক্তন ক্রিকেটার

বিশ্বকাপ ফাইনালে ফেভারিটের তকমা ভারতকে দিলেও, নিউ জিল্যান্ডও যে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেবে তা বলতে দ্বিধা নেই প্রাক্তন ক্রিকেটার লক্ষ্মীরতণ শুক্লার(Laxmiratan Shukla)। তাঁর বিশ্বকাপের ফাইনালে লড়াইটা নাকি হতে চলেছে ভারতে ব্যাটিং বনাম নিউ জিল্যান্ডের(INDvNZ) বোলিং পারফরম্যান্সের বিরুদ্ধে। যদিও ফাইনালে ভারতকে নিয়েই আত্মবিশ্বাসী লক্ষ্মীরতন শুক্লা(Laxmiratan Shukla)। লক্ষ্মীরতন শুক্লা জানান, “আমার কাছে অবশ্যই ভারত ফেভারিট। তবে ফাইনালের এই লড়াইটা আমার কাছে হতে চলেছে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বনাম নিউ জিল্যান্ডের বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে। চলতি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বোলাররা খুব ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন”। এবারের বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার পর থেকেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সঞ্জু স্যামসন(Sanju Samson)। ভারতকে ফাইনালে পৌঁছনোর অন্যতম প্রধান কারিগড় যে এই সঞ্জু স্যামসন তা মানতে কোনওরকম দ্বিধা নেই বাংলা ক্রিকেট দলের কোচের। সঞ্জু স্যামসনকে দীর্ঘদিন ধরেই চেনেন তিনি। সঞ্জুর(Sanju Samson) মধ্যে যে কতটা প্রতিভা রয়েছে সেটাই এবার প্রকাশ পাচ্ছে। লক্ষ্মীরতন শুক্লা জানান, “সঞ্জু স্যামসনকে আজ থেকে নয় আমি ওঁকে দীর্ঘদিন ধরেই চিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার কেকেআর শিবিরে এসেছিলেন। সেই সময় থেকেই তিনি কতটা ভালো একজন প্রতিভা তা আমি বুঝতেই পেরেছিলাম। এই বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে রয়েছে। ফাইনালেও আশা করি তেমনই কিছু একটা করে দেখাবেন। তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়লেও সঞ্জু যে চাপে পড়বেন না তাও বলতেই পারি”। এই মুহূর্তে ভারতের স্পিন আক্রমণ নিয়ে সকলে বেশ চিন্তিত। যদিও লক্ষ্মীরতন শুক্লার কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন মত। তাঁর মতে আইসিসি যেভাবে পিচ তৈরি করছে তাতে সব স্পিনারই সেভাবে সুবিধা তুলতে পারছে না। সেই কারণেই বরুণও ব্যর্থ হচ্ছেন। তবে ফাইনালে ভারতের থেকে একটা পারফেক্ট টিম গেমই প্রত্যাশা করছেন লক্ষ্মীরতন শুক্লা।
ব্যাটিং আত্মবিশ্বাস যোগালেও, বোলিং নিয়ে চিন্তায় ভারত

রবিবার টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামছে ভারত(India Team)। যে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ৩ বছর আগে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল ভারতীয় দলের। সেই স্টেডিয়ামেই ভারতের সামনে ফের একটা বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। তার আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, দলের বোলিং নিয়েই যে ভারতীয় শিবির বেশ চিন্তায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বরুণ নাকি কুলদীপ যাদব তা নিয়েই চলছে হিসাব নিকাশ। এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপে সেভাবে সুবিধা করতে পারেননি বরুণ চক্রবর্তী(Varun Chakrabarthy)। সেই জায়গায় সকলেই কুলদীপ যাদবকে(Kuldeep Yadav) খেলানোর পারমর্শ দিচ্ছেন। যদিও গৌতম গম্ভীর(Gautam Gambhir) খুব একটা উইনিং কম্বিনেশন ভাঙার পক্ষে নন। তবে ভারতীয় দলের ব্যাটিং কিন্তু বেশ আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে সকলকে। একইসঙ্গে সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিষাণদের ছন্দে থাকাটা যে ভারতের কাছে একটা অ্যাডভান্টেজ তা বলাই যায়। অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ডের বোলিং লাইনআপ এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী লাইনআপ। সেই কারণেই বেশ সতর্কও টিম ইন্ডিয়া। শনিবার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারা হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের পিচও যে বেশ খানিকটা ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি হচ্ছে তার অনুমান আগে থেকেই পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে শিশির সমস্যা রয়েছে। তার ফলে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের লক্ষ্যেই রয়েছে ভারতীয় দল। শেষপর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার।
ফাইনালের আগে বদলে গেল ভারতের হোটেল থেকে ড্রেসিংরুম

ভাগ্য ফেরাতে এবার এক অভিনব সিদ্ধান্ত ভারতীয় দলের(India Team)। রবিবার ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবে টিম ইন্ডিয়া(INDvNZ)। তার আগেই বদলে গেল ভারতের টিম হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে ড্রেসিংরুমও। সবই নাকি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের(Narendra Modi Stadium) সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি মুছতেই বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেইসঙ্গেই অনেকে আবার এর পিছনে কুসংস্কারও দেখতে পাচ্ছে। তবে শেষপর্যন্ত ভারতের ভাগ্য বদল হয় কিনা সেটা তো সময়ই বলবে। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর। ওডিআই বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার। ফেভারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নেমেও শেষপর্যন্ত চুপ করে গিয়েছিল গোটা স্টেডিয়াম। আবারও একটা ফাইনাল। সেই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে ভারতীয় দল(INDvNZ)। তার আগেই যেন অত্যন্ত সতর্ক টিম ম্যানেজমেন্ট। গতবার যে হোটেলে ভারতীয় দল ছিল সেই হোটেল এবার বদলে ফেরা হয়েছে। আইটিসি নর্মদাতে ছিল টিম ইন্ডিয়া। সেখানে থেকে গতবার হেরেছিল তারা। সেই কারণেই নাকি এবার বদলে ফেলা হয়েছে হোটেল। শুধু কী হোটেল, স্টেডিয়ামে নিজেদের ড্রেসিংরুমও বদলে ফেলেছে ভারতীয় দল। হোম টিমের ড্রেসিংরুম নয়, বরং অ্যাওয়ে দলের ড্রেসিংরুমই এবার সূর্যকুমার, সঞ্জু স্যামসনদের জন্য নতুন ড্রেসিংরুম। শোনাযাচ্ছে এ সবই নাকি সংস্কারবশতই করছে ভারতীয় দল। এমনকি হোলির আগের দিন চন্দ্রগ্রহনের জন্য মুম্বইতে নিজেদের প্রস্তুতিও পিছিয়ে দিয়েছিল ভারতীয় দল। অর্থাৎ সমর্থকদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম নিয়ে যে ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররাও বেশ ভয়ে রয়েছে তা কিন্তু স্পষ্ট। শেষপর্যন্ত সূর্যদের মুখে জয়ের হাসি ফোটে কিনা সেটাই দেখার।
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতীয় সমর্থকদের চুপ করানোর হুঙ্কার স্যান্টনারের

২০২৩ সালের বিশ্বকাপের আগের দিন যেভাবে সাংবাদিক সম্মেলনে হুঙ্কার দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। তিন বছর পর সেই একই সুর এবার শোনা গেল নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের গলা থেকেও। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে সেবার ভারতীয় সমর্থকদের চুপ করিয়ে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। আবারও একটা ফাইনাল। সেই নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামেই। সেখানে সেই একই কাজ এবার করতে চান নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক। ভারতের ঘরের মাঠে ম্যাচ। তাও আবার ফাইনাল। সেখানে যে তারা ফেভারিটের তকমা নিয়ে মাঠে নামবে না তা বেশ ভালোভাবেই জানেন স্যান্টনার। সেই কথা স্বীকারও করে নিলেন। একইসঙ্গে অবশ্য টিম গেম এবং কোনও একজনের বিশেষ পারফরম্যান্স যে ম্যাচের রংও বদলে দিতে পারে সেই বার্তাও দিয়ে রাখলেন কিউই অধিনায়ক। ম্যাচের আগের দিন মিচেল স্যান্টনার বলেন, “অবশ্যই এই স্টেডিয়ামে ভারতীয় সমর্থকদের চুপ করিয়ে দেওয়াটাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেইসঙ্গে এটাও জানি যে টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেকোনও সময়ে যা কিছু হয়ে যেতে পারে। সেই দিনিসটা গোটা বিশ্বকাপ জুড়েই আমরা দেখতে পেয়েছি। বিভিন্ন দলই ফেভারিট হয়ে নেমেছে কিন্তু খেলা পরে ঘুরে গিয়েছে”।