ধরেই নেওয়া যেতে পারে বিরাট কোহলির টেস্ট ক্রিকেট কেরিয়র শেষ। সাদা জার্সিতে তাঁকে আর খেলতে দেখা যাবে না। টি২০ ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। এবার টেস্ট থেকে সম্ভবত সরছেন। খেলবেন শুধু ওয়ান ডে ক্রিকেট। সেটাই বা কতদিন। একদিক থেকে শচীন তেন্ডুলকর নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর শততম সেঞ্চুরির রেকর্ড অটুটই থেকে গেল।
দুটি ইমেল। আর ততেই ভারতীয় ক্রিকেটের দুই নক্ষত্রের পতন। বুধবার বোর্ডকে ইমেল করে রোহিত শর্মা জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি আর টেস্ট ক্রিকেট খেলবেন না। অবসর নিচ্ছেন। দুদিন কটতে ন কাটতেই আবার ইমেল পৌঁছে গেল বোর্ডের কাছে। এবার বিরাট কোহলি। তিনিও রোহিতের মতো সরে যাওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন। তবে রোহিতের ক্ষেত্রে যা হয়নি, সেটা বিরাটের বেলায় হল। ইমেল পেয়ে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন বোর্ড কর্তারা। ইংল্যান্ড সিরিজের কথা ভেবে তাঁরা বিরাটকে আর একবার ভেবে দেখতে বলেন। উত্তরে কিং কোহলি অবশ্য জবাব দেননি।
বোর্ড কর্তারা কি আশা করেন! তাঁরা কি মনে করেন যে বিরাট নতুন করে ভাবনায় বসবেন। না, এটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ইমেল পাঠাবার আগে বিরাট নিশ্চিত অনেকবার ভেবেছেন। আলোচনা করেছেন পরিবারের সঙ্গে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেন। তাই নতুন করে ভাবনার কিছু নেই। বিরাট সরছেন। এটা শুধু ঘোষণার অপেক্ষা।
কেউ কেউ মনে করছেন এক চালে এক্ষেত্রে বোর্ড বাজি জিততে পারে। সেটা কী! ইংল্যান্ড সিরিজে ভারতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব বিরাটের কাঁধে দিলে তিনি হয়তো সিদ্ধান্ত বদলে আবার ফিরে আসতে পারেন। একথা শুনে বিরাটের ঘনিষ্টরা বলছেন, তার কোনও চান্স নেই। কারন হিসেবে বলছেন, ভারতীয় দলের শেষ ইংল্যান্ড সফরে হঠাৎ করে চোট পেয়ে বসলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। সিরিজে ভারত ২-১ ম্যাচে এগিয়ে। রোহিত খেলবেন না। তাহলে দলকে নেতৃত্ব দেবেন কে! এই ভাবনার মধ্যে কোচ রাহুল দ্রাবিড় ঠিক করেন বিরাটকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাঁর সঙ্গে এ ব্যাপারে বিরাটের কথাও হয়। বিরাট রাজি। বোর্ডের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে ঘোষণা শুধু বাকি। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনার সঙ্গে একমত হতে পারলেন না বোর্ড কর্তারা। তাঁরা জানিয়ে দেন এটা করা যাবেনা। বুমরাকে অধিনায়ক করা হোক। বুমরা দলে নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। সেদিনের কথা কি বিরাট ভুলে গিয়েছেন। তাই এই ছকে এগিয়ে লাভ হবে না।
তা হলে বোর্ড কর্তারা কীভাবে সামনে পা ফেলবেন। বিরাটের কাছে তাঁরা যে বার্তা দিয়েছেন, সেই চালে কাজ হবে না। তিনি ঘুরেও তাকাবেন না। তা হলে..! এমন একজনকে এই কাজে লাগাতে হবে যিনি বিরাটের খুব কাছের। তিনি ফোন করলে বিরাট ন বলে পারবেন না। তিনি কে! তিনি প্রাক্তন বোর্ড সচিব জয় শাহ। বর্তমানে আইসিসি চেয়ারম্যান। জয় শাহ একবার ফোনে অনুরোধ করলে বিরাট ফেলতে পারবেন না। কিন্তু জয় শাহ এই কাজটা করবেন কেন! দেশের স্বার্থে! তার কি কোনও যুক্তি আছে। দেখতে হবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট বা নির্বাচকরা কতটা চান বিরাট দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড চলুক। মনে হচ্ছে না এতে সামনে হাঁটা যাবে। জয় শাহকে এক্ষেত্রে কাজে লাগাবার কথা ভাবতে রাজি হবেন না বোর্ড কর্তারাও। তাই এক সপ্তাহে দুই নক্ষত্রের চলে যাওয়া মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা নেই।
জাতীয় দলে রোহিত ও বিরাটকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। রোহিত অবসরে না গেলে এই জায়গায় এসে দাঁড়াতে হত না বোর্ড কর্তাদের। বেশ কিছুদিন ধরে রোহিত-বিরাটের সম্পর্ক আগের থেকে অনেক ভাল জায়গায়। টি২০ বিশ্বকাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বিরাট প্রথমে অবসরের কথা জানান। আধ ঘন্টার মধ্যে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে এসে রোহিতও টি২০ থেকে বিদায় নেওয়ার কথা বলেন। এবারও কি টেস্ট ক্রিকেট থেকে সেটই হল। রোহিতের অবসরের কথা জানার পর বিরাট ফোন করেছিলেন। দুজনের সঙ্গে কথাও হয়। তারপর বিরাটের এমন সিদ্ধান্ত।
তো কি এমন কথা হয়েছে দুজনের! অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর দুজনেই ঠিক করেছিলেন আর নয়। এবার টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে যাবেন। দুজনের ব্যাটে রান নেই। বিরাটের একটা সেঞ্চুরি। রোহিতের একটা হাফ সেঞ্চুরি। এই পারফরম্যান্স নিয়ে টানা জাতীয় দলে খেলা যায়! যায় না বলেই রোহিত ও বিরাট ভেবেছিলেন টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেবেন। য়ুক্তিকে সামনে এনে কথা বলতে গেলে মনে হবে, এটা ঘটনা। আর কতদিন এভাবে চলবে। তবে রোহিত চেয়েছিলেন ইংল্যান্ড সিরিজে খেলতে। সেট তিনি পাননি। বুঝে যান, দিন ফুরিয়ে এসেছে। নির্বাচকদের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে লাভ নেই। বিরাটের ক্ষেত্রেও তাই। তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইংল্যান্ড সিরিজ দেখা হবে। সেখানে রান না পেলে তোমাকে নিয়ে ভাবা হবে না। রোহিতের মতো বিরাটও তাই নির্বাচকদের হাতে নিজের কেরিয়র তুলে দিতে চাইলেন না। সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তাই এমন কাজ। এখন ইংল্যান্ড সিরিজের কথা বলে লাভ নেই। তুমি তরুনদের নিয়ে চলতে চাইছ। সেটাই কর। যখন পিছন ফিরে তাকাতে চাইছ না, তখন নতুন করে এসব কথা বলছ কেন!







