সোমবার টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিরাট কোহলি অবসর নেওয়ার পর সারা বিশ্ব জুড়ে ক্রিকেট মহল নানান মন্তব্য করে চলেছে। সকলেই কোহলির ১৪ বছরের দীর্ঘ টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে বক্তব্য রাখছেন। প্রত্যেকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কোহলি ছিলেন একজন কিংবদন্তী ক্রিকেটার। যিনি শচীন তেন্ডুলকরের পর ভারতীয় ক্রিকেটকে মর্যাদার আসনে বসিয়ে ছিলেন। তবে আবেগঘন বার্তা জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন বিরাটের স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা। সেই বার্তায় তিনি বুঝিয়েছেন, রেকর্ড ও মাইলফলক নিয়ে অনেকে কথা বলবে ঠিকই। কিন্তু বিরাটের জীবনে অনেক কিছু যে হারিয়ে গিয়েছে তা তিনিই একমাত্র মনে রাখতে চান।
শচীন অবসর নিয়েছিলেন ২০১৩ সালে। তারপর টেস্ট ক্রিকেটে ভারতকে বিশ্বের সিংহাসনে বসিয়ে ছিলেন কোহলি। তিনি তখন ধরেছিলেন ভারতের ব্যাটন। অনুষ্কা শর্মা এক আবেগঘন বার্তায় নিজস্ব অভিমত তুলে ধরে বলেছেন,“অনেকে তোমার রেকর্ড ও মাইলফলক নিয়ে আলোচনা করবে। কথা বলবে। কিন্তু আমি জানি টেস্ট ক্রিকেটে সাফল্যের পিছনে তুমি যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছো তা কখনও কাউকে বুঝতে দাওনি। তারজন্য তোমার চোখ থেকে জল বেরিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই জল তুমি কাউকে দেখতে দাওনি। তোমার লড়াই কেউ দেখেনি। ক্রিকেটের এই ফর্ম্যাটে তুমি যা অটল ভালোবাসা দিয়েছো তা আমি চিরদিন মনে রাখব। সবকিছু তোমার কাছ থেকে যেভাবে কেড়ে নিয়েছে তা আমি ছাড়া আর কেউ জানেনা।” ইনস্টাগ্রামে অনুষ্কা একটা ছবি পোস্ট করেছেন। সেই ছবিতে দেখা যাচ্ছে স্বামী কোহলির সঙ্গে একটা অন্তরঙ্গ মুহূর্ত। তারপরে অনুষ্কা লিখেছেন,“প্রতিটি টেস্ট সিরিজের পরে দেখতাম তুমি খুব নম্র, বিনীত হয়ে ফিরে আসতে। তোমাকে এসবের মধ্যে বিকশিত হতে দেখা আমার কাছে পরম সৌভাগ্যের ছিল।” সেই সঙ্গে অনুষ্কা শ্রদ্ধাঞ্জলিতে আরও বলেছেন,“আমি মাঝে মাঝে কল্পনা করতাম, তুমি সাদা পোশাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে একদিন অবসর িনচ্ছ। অথচ তুমি আমাকে সবসময় তোমার অন্তরের কথা শোনাতে। তাই আজকের মুুহূর্তে তোমাকে আমি শুধু ভালোবাসা জানাতে চাই। জানাতে চাই তুমি যা অর্জন করেছো তা বিদায়ের প্রতিটি অংশে ফুটে উঠছে। এটাই তোমার প্রাপ্য।”
রোহিত শর্মা অবসর নেওয়ার কয়েকদিন পরেই সরে দঁাড়ানোর কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করলেন বিরাট কোহলি। দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে বাদ দিয়ে ইংল্যান্ড সফরে যেতে হবে ভারতকে। ২০ জুন থেকে পঁাচ টেস্ট সিরিজ শুরু হবে। এই মুহূর্তে ভারতীয় টেস্ট ক্রিকেটে দুটো বিষয় তুলে ধরা খুব প্রয়োজন। এক, অধিনায়ক নির্বাচন। দুই, ব্যাটিং বিভাগকে নতুন করে সাজিয়ে তোলা। বিরাট কোহলি অবসর নেওয়ার কথা ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরতে গিয়ে একটা জায়গায় তিনি জানিয়েছেন,“যখন এই ফর্ম্যাট থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি তখন পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিক নয়। তবু এই সময়টাকে সঠিক বলেই মনে করছি।” ভারতকে তিনি ৬৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার মধ্যে দেশকে জিতিয়ে ছিলেন ৪০টি টেস্টে। এতদিন ভারতের হয়ে যারা অধিনায়কত্ব করেছেন তঁারা কেউ কোহলির মতো সফল হতে পারেননি। সফল অধিনায়ক হিসেবে সাধারণত ধরা হয় ধোনি, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। তঁারাও কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে কোহলির সাফল্যকে অতিক্রম করতে পারেননি। ধোনি ৬০টা টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে ভারতকে জিতিয়ে ছিলেন ২৭টা ম্যাচে। সফল অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আবার ৪৯টা টেস্টের মধ্যে জিতেছেন ২১টা টেস্টে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে টেস্ট জয়ী অধিনায়কদের ধরলে কোহলি সেখানে থাকবেন চতুর্থ স্থানে। গ্রেম স্মিথ (৫৩), রিকি পন্টিং (৪৮) ও স্টিভ ওয়া (৪১)র পরে তঁার নাম থাকবে। ২০১৪-১৫ সালে তিনি ধোনির জায়গায় নেতৃত্ব নেওয়ার পর ভারতকে টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের ক্রমতালিকায় নিয়ে আসেন শীর্ষে। পঁাচ বছর ধরে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছিল ভারত। বিশেষ করে ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট সিরিজে হারিয়ে আসার পর বিশ্ব জুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল। ১৪ বছর টেস্ট কেরিয়ারে ৩৬ বছর বয়সে তিনি ৩০টা সেঞ্চুরি করেছেন। হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ৩১টা। কোহলি প্রায়শই টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তঁার অগাধ ভালোবাসার কথা বলে এসেছেন। বোঝাতেন এই ফর্ম্যাটে খেলার জন্য কতটা মানসিক শক্তির প্রয়োজন হয়। আজ সেই কোহলি কিনা টেস্ট ক্রিকেট থেকে নিঃশব্দে সরে গেলেন।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






