একজন সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে ধরে রাখতে চায়না বলেই বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করেছেন। এমনই মনে করছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার নাসের হুসেন। তঁার মতে, কোহলির অবসরের ঘোষণা তঁাকে যতটা না অবাক করেছে তারচেয়ে বেশি বুঝে উঠতে পারছেন না, ইংল্যান্ড সিরিজের আগে কেন এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে গেলেন কিংবদন্তী ক্রিকেটার।
“বিরাট কোহলি কখনও দলের সাফল্য ছাড়া অন্যকিছু ভাবতেই পারেনা। তার শেষ লক্ষ্য থাকতো দলের জয়। এছাড়া তার অভিধানে অন্যকিছু লেখা থাকতো না। সেরাটা দিতে যদি নিজেকে একশো ভাগের চেয়ে বেশি দিতে হয় তাহলে সেটাই দিতে কখনও পিছপা হয়নি। সবসময় চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দেবে।” পরমুহূর্তে হুসেনকে বলতে শোনা যায়,“জানিনা তার অবসর নেওয়ার কারণ কী। তবে আমার যা মনে হয়, সে কখনও সাধারণ ক্রিকেটার হয়ে দলের সঙ্গে থাকতে চায়না। মনে রাখতে হবে, আজ ভারতকে ক্রিকেটে শক্তিধর দেশ হিসেবে তুলে ধরার মূলে অনেক অবদান তার রয়েছে।” কোহলির তিনি যে একজন বড় সমর্থক তাও জানাতে ভুল করেননি নাসের হুসেন। তঁার মতে, “গত ১৪ বছর ধরে আমি একজন বিরাট কোহলির বড় ভক্ত। তার পরিসংখ্যান-ই প্রমাণ দিয়ে দেবে কতবড় ক্রিকেটার কোহলি। তবু বলব, কোহলিকে শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করবেন না। তারচেয়ে অনেক বড় পারফর্মার।” আসলে কোহলির আবেগ, খেলার প্রতি অনুরাগ, সবকিছু যেন তার পারফরম্যান্সকে ছাপিয়ে গিয়েছে। ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ক্রিকেটার মনে করছেন, ভারতে ক্রিকেটের একটা আলাদা জায়গা আছে। যা বিশ্বের অন্যকোনও দেশে নেই। হুসেন বলছিলেন,“ভারতীয়রা দেখতে চায়, তাদের অধিনায়ক দলকে কীভাবে পরিচালনা করছে। তারা জানতে চায়, ক্রিকেটের প্রতি তাদের অধিনায়কের আবেগ কতটা। আসলে কোহলির চেয়ে কোনও ভারতীয় ক্রিকেটার বেশি আবেগপূর্ন ছিল বলে আমি অন্তত মনে করিনা। সকলকে ছাপিয়ে গিয়েছে কোহলি।”
পরিসংখ্যানও তাই প্রমাণ দিচ্ছে। দেশের হয়ে তিনি ৬৮টি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তারমধ্যে ৪০টাতে জিতেছেন। তঁার জয়ের গড় হিসাব ধরলে দঁাড়াবে ৫৮.৮ শতাংশ। “কোহলি নেতৃত্ব দেওয়া কালীন ভারতকে টেস্টে বিশ্ব ক্রমতালিকায় শীর্ষ স্থানে নিয়ে গিয়েছিল। সেই স্থান তারা ধরে রেখেছিল ৪২ মাস। কোহলি এসেই বলতে গেলে ভারতীয় ক্রিকেটের ঘরানা বদলে দিয়েছে। আসলে কোহলি দায়িত্ব নিয়ে দলের এমন কিছু কিছু কাজ করে গিয়েছে যা চিরদিন থেকে যাবে। তাকে মোছা যাবে না।” কোহলি সরে যাওয়ায় চার নম্বরে কে জায়গা নেবে তা নিয়ে ভারতের ক্রিকেট মহলে গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে দঁাড়িয়েছে। মাইক আথারর্টন মনে করছেন, শচীন তেন্ডুলকরের পর কোহলি এসে সেই ব্যাটন ধরেছিলেন। তাই আথারর্টন বলছিলেন, “কোহলি ও তার আগে শচীন তেন্ডুলকর থাকায় দলের মধ্যে দীর্ঘদিন একটা ভারসাম্য বজায় থেকেছে। সত্যি বলতে কী, শচীন সরে যাওয়ার পর আমরা কোহলিকে দেখে দেখে অভ্যস্থ হয়ে গিয়েছিলাম। কোহলির খেলা দেখার মধ্যে আলাদা একটা আকর্ষণ লুকিয়ে থাকতো। যা দেখা যেত না কিন্তু অনুভব করা যেত।” পরমুহূর্তে আথারর্টন এও বলেছেন, “অবসর নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে কোহলি যে কথাগুলো বলেছে তাতেই বোঝা গিয়েছে কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিল। আমি তার প্রতিটি টেস্টের প্রতিটি মুহূর্ত দেখতে পারলে আরও খুশি হতাম। আসলে টেস্ট ক্রিকেটকে সে হৃদয় দিয়ে ভালবেসে ছিল। নিজেকে উত্স্বর্গ করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেনি। কখনও দেখিনি টেস্ট খেলতে গিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে বা আবেগ বিসর্জন দিয়ে বসেছে।” বলেন আথারর্টন।

পদপিষ্ট হওয়া ১১ সমর্থকের জন্য আজীবন আসন সংরক্ষন RCB-র
Shareগতবছরের সেই ভয়াবহ ঘটনার পর এই প্রথমবার আইপিএলের(IPL) ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম। কিন্তু এই মাঠে ম্যাচে নামার






