ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভারতীয় দলের ১১ জনকে বাছাই করতে গিয়ে একটা জায়গায় আটকে গেলেন সুনীল গাভাসকর। তাঁর মতে তিন পেসারে খেলুক ভারত। কিন্তু এই তিন পেসার কারা হবেন! এখানে আটকে যাওয়ার কারনও আছে। জসপ্রীত বুমরার ব্যাপারে তিনি হয়তো নিশ্চিত হতে পারছেন না। তাঁর কন্ডিশন কেমন, তা এখন বুঝে উঠতে পারছেন না গাভাসকর। তাই পেসারদের নাম তিনি বলতে পারছেন না। তবে এটুকু জানিয়ে দিয়েছেন যে লিডসে ভারত তিন পেসারে খেলুক। বাকি আটজনকে বেছে নিতে তাঁর অসুবিধা হয়নি।
বাকি আটজন কে হতে পারেন! ব্যাটিং নিয়ে অনেকের সন্দেহ নেই। তবে কার ব্যাটিং অর্ডার কেমন হতে পারে তার আভাস দিতে তিনি আটকে যাননি। গাভাসকরের পছন্দ ওপেনে আসুক কে এল রাহুল ও যশ্বসী জয়সওয়াল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গত বছরের শেষে টেস্ট সিরিজে প্রথম দুটি টেস্টে ভারতীয় দলের ওপেন করেছিলেন রাহুল ও যশ্বসী। পারথে প্রথম টেস্টে তাঁদের ব্যাটিং দাপটে ভারত জিতেছিল। তাই দ্বিতীয় টেস্টের আগে অধিনায়ক রোহিত শর্মা দলের সঙ্গে যোগ দিলেও ওপেনে যাননি। রাহুল ও যশ্বসী জুটি সেই সিরিজ থেকে আত্মবিশ্বাস পেয়ে গিয়েছে। তাই ইংল্যান্ডের মাঠে ওপেনে বদল দরকার নেই।
ভারতের ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে সব থেকে বেশি আলোচনা চলছে চার নম্বর জায়গা নিয়ে। গত পঁচিশ বছর টেস্টে এই জায়গায় খেলে এসেছেন প্রথমে শচীন তেন্ডুলকর। তারপর বিরাট কোহলি। এই তো কদিন আগেও বিরাটকে চারে খেলতে দেখা গিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে তাঁর অবসরের পর এবার কে এই দায়িত্ব সামলাবেন! কেউ কেউ এই জায়গায় অধিনায়ক শুভমান গিলকে চাইছেন। তবে গাভাসকর তাঁদের সঙ্গে একমত নন। গিল সাধারনত ওপেন করেন। প্রযোজন হলে তিনে খেলেন। এখন দলের কথা ভেবে তাঁকে আর নিচে নামানোর দরকার নেই। আবার করুন নায়ার চারে খেলতে অভ্যস্ত। সেই কারনেই হয়তো গাভাসকর তিন নম্বরে গিলকে চান। চারে তাঁর পছন্দ করুন নায়ার। এভাবেই দলের প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে তিনি বেছে নিচ্ছেন। এঁদের মধ্যে তিনজনের ব্যাটে রান এসে গেলে ভারতীয় দল ভাল জায়গায় নিজেদের দাঁড় করাতে পারবে। আর পাঁচ নম্বরে ঋষভ পন্থ। এর বাইরে কারোর কথা তিনি ভাবতে পারছেন না।
প্রথম পাঁচ হয়ে যাওয়ার পর ছয় নম্বরের কথা উঠে আসছে। গাভাসকর বলছেন, এই জায়গায় নীতিশ রেড্ডি এলে ভাল হয়। এটা ঘটনা যে আইপিএলে এবার নীতিশের ব্যাটে রান দেখা য়ায়নি। কিন্তু
অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্টে নীতিশ ভাল খেলেছে। শুধু ব্যাটসম্যান নয়, নীতিশ একজন অলরাউন্ডার হিসেবে দলে চলে আসতে পারে। পার্টটাইম বোলারের পাশাপাশি দুর্দান্ত ফিল্ডারও বটে নীতিশ। সাত নম্বরে তিনি জাদেজাকে নিয়ে আসছেন। এভাবেই গাভাসকর প্রথম সাত ক্রিকেটারকে বেছে নিলেন। কিন্তু বাকি চারজনের কথা বলতে গিয়ে তিনি আটকে গেলেন। তিনি শুধু এটুকু বলছেন যে তিন পেসার চলে আসবে। ওদের সঙ্গে নীতিশ বল করবে। আর সেটা হলে গাভাসকরের পছন্দ দলে নিয়ে আসা যেতে পারে কুলদীপকে। আর নীতিশকে বোলার হিসেবে ভাবা না হলে কে আসতে পারে। না, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি। অনেকে বলছেন, ভারতীয় দল গম্ভীর জমানায় আট ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে পছন্দ করে। তাই যদি হয়, তা হলে কুলদীপের জায়গা দেখা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে ভারত আক একজন অলরাউন্ডারের কথা ভাববে। তখন শার্দুল ঠাকুরের নাম আসতে পারে। তিনি বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্য়াটিং করতে পারেন। এই তো কদিন আগে ভারতীয় দলের প্রস্তুতি ম্যাচে শার্দুল ১২২ রান করলেন। তাছাড়া গত মরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটেও শার্দুল ব্যাট হাতে মুম্বইয়ের হয়ে অনেক রান করেছেন। তখন ভারতীয় দলে পাঁচ পেসারের (নীতিশকে নিয়ে) সঙ্গে এক স্পিনার হতে পারে। এখন দেখার বিষয় শেষপর্যন্ত লিডসে ভারতের প্রথম একাদশ কেমন হতে পারে। ব্যাটিংয়ে হয়তো তেমন বদল হবে না। গাভাসকরের ভাবনার সঙ্গে টিম ম্যানেজমেন্টের দল এক হয়ে যাবে। সমস্যা পেসারদের নিয়ে ভাবনা। সেটাই দেখার বিষয় হয়ে দঁড়িয়েছে।







