প্রণব রায়, শিবসাগর সিংহ ও চরণজিৎ সিংহ। বাংলার তিন প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং বর্তমান কোচ। এই তিন কোচকে আগাম কোনও বার্তা না দিয়েই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএবি-র বর্তমান পরিচালন সমিতি। নজিরবিহীনভাবে এই কোচেরা সিএবি-র এই সিদ্ধান্তের অনুমান করছেন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে আচমকা অপসারিত হওয়ার পর! তাঁদের পরিবর্ত কে হবেন, সেই নামও কার্যত চূড়ান্ত। যে খবর বেশ কয়েকদিন ধরেই ঘুরপাক খাচ্ছে ময়দানে।
তিন কোচই মুখে কিছু বলেননি এখনও পর্যন্ত। কিন্তু যেভাবে বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা তিন অভিজ্ঞ কোচকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে তারা যে অপমানিত হয়েছেন সেই নিয়ে সন্দেহ নেই। জানা গিয়েছে ঘনিষ্ঠমহলে ক্ষোভ, হতাশাও প্রকাশ করেছেন।
প্রণব রায় ছিলেন গত মরশুমে ছিলেন বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ দলের হেড কোচ। সবচেয়ে বড় কথা, তাঁর সঙ্গে সিএবি-র চুক্তি রয়েছে ৩১ জুলাই অবধি। প্রাক্তন বাঁহাতি স্পিনার শিবসাগর ছিলেন বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ মহিলা দলের দায়িত্বে। আর অনূর্ধ্ব ১৯ মহিলা দলের কোচ ছিলেন চরণজিৎ।
প্রণব রায়কে যে বাংলার অনূর্ধ্ব ২৩ পুরুষ দলের দায়িত্বে রাখা হবে না, সেই ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। সেই জায়গায় দেখা যেতে পারে ঋদ্ধিমান সাহাকে। গত মরশুমে অবসর নেওয়ার পর ঋদ্ধিমান পুরোদস্তুর কোচিংয়ে আসতে চলেছেন। বেঙ্গল প্রো টি-২০ লিগে তিনি সার্ভোটেক শিলিগুড়ি স্ট্রাইকার্সের মেন্টর ছিলেন। প্রণবের পাশাপাশি সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে শিবসাগর ও চরণজিৎকেও। তাঁদের পরিবর্তে মহিলাদের অনূর্ধ্ব ১৯ ও ২৩ দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে রুমেলি ধরকে।
বাংলার ক্রিকেট মহলের প্রশ্ন, এই অসৌজন্য কি প্রাপ্য ছিল তিন কোচের? পদ্ধতিতে স্বছ্বতা আনা যেত নে? তিনজনের সঙ্গে সিএবি-র তরফ থেকে কোনও যোগাযোগ করা হয়নি। ব্যক্তিগত স্তরেও কেউ কথাবার্তা বলেননি। বলা হয়নি যে, ধন্যবাদ। আপনাদের আর রাখা হচ্ছে না।
তিন কোচই অপসারণের খবর জানতে পেরেছেন কোচ ও পদাধিকারীদের নিয়ে তৈরি সিএবি-র হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সোমবার তাঁদের আচমকা সরিয়ে দেওয়ার পর। শোনা গেল, সিএবি-র চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার চিন্ময় নায়েক তাঁদের গ্রুপ থেকে ‘রিমুভ’ করে দিয়েছেন। তিনজনের কাছে অপসারণের কোনও খবর ছিল না। অন্যদের ফোন পেয়ে তাঁরা গ্রুপ খুলে দেখেন। এবং আবিষ্কার করেন, তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বেঙ্গল প্রো টি-২০ টুর্নামেন্টে গতবার চ্যাম্পিয়ন লাক্স শ্যাম কলকাতা টাইগার্সের মহিলা দলের কোচ ছিলেন চরণজিৎ। শিবসাগর ছিলেন হারবার ডায়মণ্ডস মহিলা দলের কোচ। যে দল এবার সেমিফাইনালে খেলেছে। বাংলার মহিলাদের অনূর্ধ্ব ২৩ দলের দায়িত্বে শিবসাগর ছিলেন ২ বছর। তার মধ্যে একবার বোর্ডের ওয়ান ডে টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালে খেলেছে বাংলা।
টি-২০ টুর্নামেন্টে একবার কোয়ার্টার ও একবার প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে বাংলা। সিএবি-র একাংশ বলছে, পারফরম্যান্স চোখধাঁধানো না হলেও হেলাফেলা করার মতোও নয়। তিন কোচকে যে সরিয়ে দেওয়া হতে চলেছে, সোমবার এপেক্স কাউন্সিলের বৈঠকে তা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি।
সিএবি থেকে যদিও বলা হচ্ছে, তিন কোচেরই চুক্তি ফুরিয়েছিল বেঙ্গল প্রো টি-২০ টুর্নামেন্টের আগেই। সেই চুক্তি আর নবীকরণ না করা হলে তাতে নিয়মে বাধা নেই। তবে বাংলার ক্রিকেটের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কর্তা থেকে শুরু করে প্রাক্তন ক্রিকেটার – একটা বিষয়ে সকলেই কার্যত একমত। কোচত্রয়ীর বিদায় আরও একটু সম্মানের হতে পারত।







