বিশ্ব ফুটবলে মর্মান্তিক ঘটনা। অকালে চলে গেলেন দিয়েগো জোটা। পর্তুগালের ফরোয়ার্ড গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান। বৃহস্পতিবার লিভারপুল ফুটবলারের মৃত্যুর খবর শুনে স্তম্ভিত হয়ে যায় বিশ্ব ফুটবল মহল। পর্তুগাল জাতীয় দল ইনস্টাগ্রামে এক বিবৃতির মাধ্যমে স্বীকার করে নিয়েছে।
২৮ বছরের ফুটবলার তঁার ভাই আন্দ্রে সিলভারকে নিয়ে গাড়িতে যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন তঁার স্ত্রী ও তিন সন্তান। ঘটনাটি ঘটে স্পেনের জামোরা শহরের এ ৫২ জাতীয় রোডে। জোটা ও তঁার ভাই মারা গেলেও বেঁচে গিয়েছেন দু সপ্তাহ আগে বিয়ে করা স্ত্রী ও তঁার তিন সন্তান। জামোরার প্রাদেশিক পরিষদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কবলে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়িতে আগুন লেগে যায়। পাশের গাছপালাতে সেই আগুন মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মৃত দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের বয়স ছিল ২৮ বছর, অন্যজনের ২৬। পোর্তোতে জন্ম নেওয়া জোটা পাকোস ডি ফেরেরার যুব দলে তঁার ফুটবল জীবন শুরু করেন। ২০১৪ সালে যোগ দেওয়ার পর সেখান থেকে তিনি চলে যান অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে। ২০১৬ সালে তিনি সেখানে যোগ দেন। কোন ম্যাচ খেলতে পারেননি। সেখান থেকে লিয়েনে যান পোর্তোতে। পরে চলে এসেছিলেন প্রিমিয়ার লিগে খেলা ক্লাব উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সে। পোর্তো এক্স-এ এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, দিয়েগো জোটা ও তঁার ভাই আন্দ্রে সিলভার পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছে।

দাপিয়ে খেলে বেড়ানো দিয়েগো জোটা আর নেই।
গভীর শোক প্রকাশ করেছে লিভারপুলও। তারাও জানিয়েছে, অকল্পনীয় ক্ষতি মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। গত প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুল জয়ী হয়। সেই দলে অন্যতম ফুটবলার ছিলেন জোটা। তাছাড়া তিনি ২০২১-২২ মরশুমে এফএ কাপ জেতেন। নেশনস লিগ জিতেছেন পর্তুগালের হয়ে দুবার। ২০১৯ সালের পর চলতি মরশুমে। ৪ কোটি ১০ লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে লিভারপুলে যোগ দেন। ৬৫ গোল করেন ১৮২ ম্যাচে। পর্তুগালের জার্সিতে তঁার অভিষেক ঘটেছিল ২০১৯ সালে। তাও আবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর পরিবর্ত হিসেবে। গত বিশ্বকাপে চোটের কারণে তিনি জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারেননি। পর্তুগালের হয়ে তিনি মোট ৪৯ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন। ফুটবল খেলার পাশাপাশি তিনি ভালো গেমার ছিলেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফিফা ২১ ভিডিও গেমের আয়োজন করেছিল। সেখানে তিনি বিশ্বের শীর্ষস্থান দখল করেন। সেই জোটা অকালে চলে গেলেন চিরনিদ্রায়।







