যশপ্রীত বুমরার জায়গায় যখন আকাশদীপকে নিয়ে ভাবা হল তখন নিজেই কেমন যেন একটু অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। ভাবছিলেন, যা শুনছেন তা কি সত্যি! বিস্ময়ের ঘোর কাটল তখন যখন কোচ গৌতম গম্ভীর তঁার সঙ্গে কথা বললেন। বোঝালেন তঁার কাছ থেকে ঠিক কী চাইছেন। তখন নিশ্চিত হয়েছিলেন, কোচের তালিকায় তিনি ঢুকে পড়েছেন। এজবাস্টনে খেলাও নিশ্চিত। খেলতে নেমে তা প্রমাণও করে দিয়েছেন। মহম্মদ সিরাজ যখন ৬ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ধ্বস নামাচ্ছেন তখন অন্যপ্রান্তে আকাশদীপ বিপ্লব ঘটাচ্ছেন নিঃশব্দে। নীরবে। প্রথম ইনিংসয়ের শেষে তঁার নামের পাশে উঠে গিয়েছে চারটে উইকেট। দুজনের সৌজন্যে ভারত প্রথম ইনিংসে ১৮০ রানে এগিয়ে থাকে। এরজন্য বাংলার আকাশদীপ কৃতজ্ঞ থাকতে চান কোচের কাছে।
“একজন খেলোয়াড় তখনই আত্মবিশ্বাস পায় যখন তাকে কোচ ভরসা জোগায়। তার উপর আস্থা রাখে। তাই বলতে দ্বিধা করব না, একজন কোচের কাছ থেকে যা যা প্রয়োজন ছিল তাই তিনি আমাকে দিয়েছেন। কী করতে হবে, তিনি কী চাইছেন, সবকিছু আমাকে প্রথমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। তঁার সমর্থন আমাকে ভাল খেলতে আস্থা জুগিয়েছে। ভরসা পেয়েছি।” এজবাস্টনে চার উইকেট নেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কথাগুলো বলেন আকাশদীপ। সেই সঙ্গে আকাশদীপ আরও যোগ করেন, “কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানিয়ে ছিলেন, আমার মধ্যে কী আছে তিনি তা জানতে চান না। আমার দক্ষতা নিয়েও তিনি কিছু বলতে চান না। এই কথাগুলো আমাকে মোটিভেট করে তোলে। তিনি ও মর্নি মর্কেল আমার কতটা ক্ষমতা আছে তা বারবার উল্লেখ করতে থাকেন। জানিয়ে দেন, আমার দ্বারা ভাল খেলা সম্ভব।”

এভাবেই একের পর এক উইকেট নিয়ে উদযাপন করেছেন আকাশদীপ।
যশপ্রীত বুমরার জায়গায় আকাশদীপ খেলতে নেমে দ্বিতীয় দিনেই দেখিয়ে দেন তঁার বোলিং ক্ষমতা। পরপর ডেলিভারিতে তুলে নিয়েছিলেন বেন ডাকেট ও আলি পোপের উইকেট। সবচেয়ে বড় ব্যাপার ছিল হ্যারি ব্রুককে ফেরানো। জেমি স্মিথের সঙ্গে জুটি বেঁধে তঁারা খাদের কিনারায় চলে যাওয়া ইংল্যান্ডকে টেনে তোলেন। দুজনে মিলে তোলেন ৩০৩ রান। এই জুটি না ভাঙলে আরও ভালো জায়গায় চলে যেত ইংল্যান্ড। আকাশদীপ মনে করছেন, ইংল্যান্ডের মাটিতে ফ্ল্যাট উইকেট তৈরি করা হয়। এই ধরনের পিচে বোলারদের সামনে এসে যায় মস্তবড় চ্যালেঞ্জ। একটা উইকেট নেওয়ার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলা ছাড়া উপায় থাকে না। “ইংল্যান্ডের উইকেট এবং ব্যাটিং একজন বোলারকে চ্যালেঞ্জের সামনে দঁাড় করিয়ে দেয়। তখন বোলারকে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে বল করা ছাড়া উপায় থাকে না। নির্দিষ্ট পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এগোতে হয়। কোন জায়গায় বল ফেললে সফল হওয়া যাবে তা নিয়ে ভাবতে হবে। সোজা কথা একজন বোলার তখন সফল হতে পারে যদি সে পরিকল্পনা মাথায় রেখে ঠিকমতো তাকে কার্যকরী করে। তাহলে সেই বোলার সফল হতে বাধ্য। সবসময় যে পরিকল্পনা অনুযায়ী সফল হবেন তার কোনও মানে নেই। অনেক সময় অসফল হতেই পারেন। কিন্তু পরিকল্পনাকে সামনে রেখে এগোতে হবে। এলোমেলো চিন্তা-ভাবনা করে এগোলে চলবে না।”
ইংল্যান্ডের দুই ব্যাটসম্যান ব্রুক ও স্মিথ যখন পিচে জমে গিয়েছেন তখনই নতুন বলে বল করার সুযোগ পেয়ে যায় ভারত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসে ধ্বস নামিয়ে দেন ভারতের দুই পেসার। সিরাজের সঙ্গে নতুন বল আসার পর কী কথা বলেছেন সেই প্রসঙ্গে আকাশদীপ বলছিলেন,“আমরা দুজনে মিলে কথা বলে ঠিক করছিলাম, কী করব, কোনটা করব না। আমরা দুজনে দুজনকে বলছিলাম, ইংল্যান্ডকে চাপে রাখা জরুরী। কোনও ভাবে এই চাপ আলগা করা চলবে না। এমন কী কোন জায়গায় বল করব তাও কথা বলে ঠিক করছিলাম। রান দেওয়া চলবে না, এই কথাগুলো আমরা দুজনে পরস্পরকে বলে গিয়েছি। লক্ষ্য ছিল আমার আক্রমণ শানানো। অন্যদিকে সিরাজ রান আটকাচ্ছিল। স্বাধীনভাবে বল করলে কী মজা থাকে তার দৃষ্টান্ত আমি তৃতীয় দিনে তুলে ধরতে পেরেছি। বলতে পারেন চার উইকেট নেওয়ার পেছনে এটাই হল আসল রহস্য।” বলেন ভারতীয় পেসার।







