চারটে শর্ত পূরণ করা না হলে ডুরান্ড কাপে অংশ নেবে না মোহনবাগান। এই মর্মে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে ডুরান্ড কমিটিকে। চিঠির উত্তর ইতিবাচক না হলে কোনওভাবে মোহনবাগান ডুরান্ড কাপে অংশ নেবে না।
শুক্রবার স্বয়ং রাষ্ট্রপতি দৌপদী মুর্মূ নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে ডুরান্ড কাপ উন্মোচন করেন। সংগঠকদের পক্ষ থেকে ক্রীড়াসূচী প্রকাশ করা হয়। জানানো হয়, ২৩ জুলাই থেকে ডুরান্ড কাপ শুরু হবে। ফাইনাল হবে ২৩ আগস্ট। কোন কোন দল যোগ দেবে তারও নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। তারমধ্যে ছিল মোহনবাগান। অথচ সবুজ-মেরুনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, চারটে শর্ত না মানলে কোনও ভাবে মোহনবাগান অংশ নেবে না। চারটে শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ১৪ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে রায়দান। ফুটবল ফেডারেশনের মামলা বর্তমান চলছে সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে রায়দানের উপর নির্ভর করবে আদৌ আইএসএল হবে কিনা। যদি আইএসএলের উপর অন্ধকার নেমে আসে তাহলে ডুরান্ড কাপে খেলতে ইচ্ছুক নয় মোহনবাগান। এই কারণেই এবার আইএসএলে খেলা মাত্র ৬টা দল ডুরান্ডে যোগ দিচ্ছে। তারমধ্যে মোহনবাগানের খেলা নিশ্চিত নয়। যদি মোহনবাগান না খেলে তাহলে সংখ্যাটা নেমে আসবে পঁাচে।

ডুরান্ড কাপে কি আদৌ দেখা যাবে মোহনবাগানকে খেলতে?
বাকি দুটো শর্ত হল, টিকিট বন্টন ও প্র্যাকটিশ মাঠের ব্যবস্থা করে দেওয়া। টিকিট বন্টন নিয়ে মোহনবাগানের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। গতবার ডুরান্ড ফাইনালের টিকিট মোহনবাগান ক্লাবে পাঠিয়ে দিয়েছিল ডুরান্ড কমিটি। কিন্তু মোহনবাগান ক্লাব আর মোহনবাগান ফুটবল দল এক নয়। টেকনিক্যালি দিকটা ডুরান্ড সংগঠকদের পক্ষ থেকে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে মোহনবাগান এসজি টিকিট না পাওয়ায় দারুন সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল। টিকিট বন্টনের উপর এবার জোর দিতে চাইছে মোহনবাগান এসজি কর্তারা। ফুটবল টিম ম্যানেজমেন্টের দাবি, যাবতীয় টিকিট তঁাদের কাছে পাঠাতে হবে। ক্লাবে দিতে চাইলে তা যেন আলাদাভাবে দেওয়া হয়। কখনও এক করে দেওয়া চলবে না। তার উপর প্র্যাকটিশ মাঠ সব নিয়ে ফেলেছে ডুরান্ড কমিটি। নিজেদের মাঠে সংস্কারের কাজ চলছে বলে মোহনবাগান সেখানে প্র্যাকটিশ করতে পারে না। ফেডারেশনের মাঠে প্র্যাকটিশ করতে হয়। সেই মাঠের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। তাই মোহনবাগান চাইছে, যুবভারতী সংলগ্ন মাঠে তাদের প্র্যাকটিশ করতে দিতে হবে। নইলে তাদের পক্ষে ডুরান্ড খেলা সম্ভব হবে না।
মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্টের এক গুরুত্বপূর্ন সদস্য বলছিলেন, “ডুরান্ড কমিটি দু-দিন আগে আমাদের কাছে একটা চিঠি দিয়েছিল। সেই চিঠিতে তারা অনুরোধ করে যাতে আমরা খেলি। আমরা তার প্রত্যুত্তরে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি, খেলতে আমাদের আপত্তি নেই। চারটে শর্ত মানলে নিশ্চয় আমরা খেলব। এখন আমরা সেইসব শর্ত জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন তাদের উত্তরের অপেক্ষায় থাকা ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনও পথ খোলা নেই। ইতিবাচক উত্তর এলে তবেই আমরা খেলব। তার আগে নয়।”







