মোহনবাগান-২ (সন্দীপ মালিক,শিবম মুন্ডা) রেলওয়ে এফসি-০
দল জিতল। কিন্তু মন ভরল না। গত ম্যাচে কালিঘাট স্পোর্টস লাভার্সকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ছিল মোহনবাগান। সকলে আশা করেছিলেন, সোমবার নিশ্চয় আরও জমাট পারফরম্য়ান্স তুলে ধরবে সবুজ-মেরুন শিবির। ব্যারাকপুর মাঠে তেমন কিছুই চোখে পড়ল না। মোহনবাগান সমর্থকরা একদিক দিয়ে খুশি, তিন পয়েন্ট নিয়ে তঁাদের প্রিয় দল মাঠ ছাড়তে পেরেছে।
এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। রেলওয়ে এফসি এবার মোটেই সুবিধে করতে পারছে না। এবারের লিগে একটাও ম্যাচ তারা জেতেনি। কেউ তেমন নজরকাড়া পারফরম্যান্সও দেখাচ্ছেন না। সোমবার দেখা গেল, আক্রমণ বলে এই দলের কিছুই নেই। কোনও রকম রক্ষণভাগ জমাট বেঁধে খেলে যাওয়া। ফলে মাঝমাঠ-ডিফেন্স-ফরোয়ার্ডের মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য চোখে পড়েনি। না আছে উইং প্লে, না আছে মাঝখান দিয়ে আক্রমণে ওঠা। তবু সেই দলের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধতার ছাপ রাখতে ব্যর্থ মোহনবাগান। বৃষ্টি-কাদা মাঠে খেলায় অনেক সমস্যা থাকে। তাই বলে তিনটে পাশ একসঙ্গে খেলতে পারবে না বড় দল তাতো মেনে নেওয়া যায়না। মন্দ আবহাওয়ার দিন খেলা হলে সাধারণত লং পাশে খেলতে হয়। সেই খেলাও মোহনবাগানের মধ্যে দেখা গেল না। খুব যে সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব তাও নয়। বিক্ষিপ্ত লগ্নে সুযোগ এসেছে। কখনও তাকে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছেন পাশাং দরজি, কখনও মহম্মদ বিশাল আবার কখনও শিবম মুন্ডা। অথচ খেলার শুরুতে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অধিনায়ক সন্দীপ মালিক। বঁা দিক থেকে সালাউদ্দিনের ক্রশে চলন্ত বলের উপর হাফ ভলিতে গোল করে যান। শুরুতে যদি মোহনবাগানের মতো বড় দল গোল পেয়ে যায় তখন ছোট দলগুলোর মনোবলে চিড় খেতে বাধ্য। ক্রমাগত ভুল তখন করতে থাকে। সেই ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে একাধিক গোল খেয়ে বসে। সোমবার দিন সেসব চোখেই পড়ল না। মাঝমাঠ-ফরোয়ার্ড লাইনের মধ্যে সংযোগের অভাব বড্ড বেশি প্রকট হয়ে উঠছিল। তাহলে আর গোলটা হবে কী করে। তবে মোহনবাগান দ্বিতীয় গোল পেল একদম খেলার শেষ লগ্নে। সেই গোল করে গেলেন শিবম মুন্ডা। রেলের ডিফেন্ডাররা অফসাইডের ফঁাদে ফেলতে গিয়ে শিবমকে ফঁাকা ছেড়ে রেখে ছিলেন। যখন তঁার কাছে বল আসে তখন তিনি অফসাইডে নেই। যদিও রেলের তরফ থেকে অফসাইডের দাবি তোলা হয়েছিল। ততক্ষণে রেফারি লম্বা বঁাশি বাজিয়ে গোলের সঙ্কেত দিয়ে দিয়েছেন।

জয়ের পর এভাবেই উচ্ছ্বাসে মাতলেন মোহনবাগানিরা। ফাইল চিত্র।
রেফারি বিমলেন্দু মন্ডল এদিন অন্তত সাহসিকতার পরিচয় দিলেন। বড় দলের ফুটবলাররা অন্যায় করলে কলকাতা লিগে দেখা যায় সাধারণত রেফারিরা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান। রেলের বিরুদ্ধে সেই দৃষ্টান্ত থেকে তিনি বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ৬৫ মিনিটের খেলা চলছে। সেই সময় মোহনবাগানের একজনকে আঘাত করে বসেন রেলের ফুটবলার। মাটিতে সতীর্থকে পড়ে থাকতে দেখে সালাউদ্দিন ছুটে এসে সংশ্লিষ্ট রেলের ফুটবলারকে ধাক্কা দিয়ে বসেন। এবার দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়ে যায় খন্ডযুদ্ধ। সেই খন্ডযুদ্ধ থামতেই রেফারি আলোচনা করে এক এক করে লালকার্ড দেখান মোহনবাগানের সালাউদ্দিন, সাহিল ইমানদারকে। অনেক আগেই সাহিলকে পরিবর্তন করা হয়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে রেলের কার্ড দেখেন গোলকিপার সুদীপ্ত ব্যানার্জি ও তঁাদের এক অফিসিয়াল। পরবর্তী সময়ে দুটো দল দশজন করে খেলে। রেফারি বিমলেন্দু মন্ডলকে দেখা যাচ্ছিল বড্ড বেশি ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলতে। রেফারি হয়ে ফুটবলারদের মতামতকে গুরুত্ব দিলে অনেক সময় বুমেরাং হয়ে যায়।
কলকাতা লিগের অন্যান্য খেলায় সুরুচি সংঘ ৬-০ গোলে মেসারার্সকে হারিয়েছে।







